টাকার বিপরীতে ডলার শক্তিশালী করার উদ্যোগ

Send
গোলাম মওলা
প্রকাশিত : ১৫:১৬, অক্টোবর ০৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:১৮, অক্টোবর ০৯, ২০১৯




ডলার

দীর্ঘদিন পর টাকার বিপরীতে ডলার শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আর্ন্তজাতিক বাজারের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার পাশাপাশি রফতানিতে চলমান বিপর্যয় উত্তরণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রফতানিকারক ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দেরিতে হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা একে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমানো জরুরি ছিল। কারণ, আমাদের যারা প্রতিযোগী, যেমন চীন, ভারত ও ভিয়েতনাম বেশ কয়েকবার তাদের মুদ্রার মান কমিয়েছে। ভারত সম্প্রতি কমিয়েছে। আর গত শনিবার চীন তাদের মুদ্রার মান কমিয়েছে।’

তিনি বলেন, এই মুহূর্তে নগদ সহায়তার পরিবর্তে টাকার বিপরীতে ডলার শক্তিশালী করা দরকার। আর এতে রফতানিকারকরা এমনিতেই সুবিধা পাবেন।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী গত তিন মাস ধরে অব্যাহতভাবে রফতানি আয় কমছে। গত সেপ্টেম্বরে রফতানি আয় হয়েছে ২৯১ কোটি ৫৮ লাখ ডালার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ কম। আর গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় কমেছে ৭ দশমিক ৩০ শতাংশ।
ইপিবি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম তিন মাস (জুলাই-সেপ্টেম্বর) গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রফতানি আয় কমেছে ২ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

এর আগে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমাতে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) পক্ষ থেকে সরকারকে পরামর্শ দেওয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে সিপিডি’র গবেষক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘ডলারের বিপরীতে টাকার মান পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি আমরা অনেকদিন ধরেই বলে আসছি। ডলারের বিপরীতে টাকার মান কিছুটা কমলে আর্ন্তজাতিক বাজারে রফতানিকারকদের প্রতিযোগিতা করা সহজ হবে।’

এছাড়া, গত ১২ সেপ্টেম্বর প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় টাকার শক্তিশালী অবস্থানের কারণ উল্লেখ করে গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমানকে চিঠি দেন।

এরই মধ্যে প্রতি ডলারে ১৫ পয়সা পর্যন্ত কমিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে সোমবার (৭ অক্টোবর) প্রতি ডলার কিনতে খরচ করতে হয়েছে ৮৪ টাকা ৬৫ পয়সা। গত সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) ১ ডলারের জন্য দিতে হয়েছে ৮৪ টাকা ৫০ পয়সা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, এক বছর আগে ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলারের দর ছিল ৮৩ টাকা ৮০ পয়সা। ২০১৯ সালের এপ্রিলে এটি ৮৪ টাকা ৫০ পয়সায় ঠেকে। এরপর থেকে টানা ৬ মাস টাকার বিপরীতে ডলারের বিনিময় হার ৮৪ টাকা ৫০ টাকায় স্থির থাকে।


এদিকে ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকার বিপরীতে ডলার শক্তিশালী করার উদ্যোগে খোলাবাজারে (কার্ব মার্কেট) টাকার বিপরীতে ডলারের দামও বেড়ে গেছে। সোমবার (৭ অক্টোবর) প্রতি ডলার ৮৭ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী,  ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ব্যাংকগুলোর কাছে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজার দরে ৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

 

/এইচআই/

লাইভ

টপ