তথ্য গোপন করে ৭০০ কোটি টাকার ঋণ নিয়েছে পিপলস লিজিং

Send
বাংলা ট্র্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৩:৪২, ডিসেম্বর ২১, ২০১৫ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:০৮, ডিসেম্বর ২১, ২০১৫

nonameতথ্য গোপন করে নামে-বেনামে বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি) থেকে ৭০০ কোটি টাকার ঋণের অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। এই অভিযোগে আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিংয়ের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
প্রতিষ্ঠানটির সাবেক চেয়ারম্যান তার স্ত্রী, মেয়ে, প্রতিষ্ঠানের মনোনীত ব্যক্তি ও প্রতিনিধিদের মাধ্যমে ৭০০ কোটি টাকা অনিয়ম করে উত্তোলন করায় এ ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে নতুন করে পর্ষদ গঠন করার জন্য পিপলস লিজিং কতৃপক্ষকে চিঠিও দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এই অনিয়মের কারণে বিআইএফসির বর্তমান পর্ষদকে আগামী মেয়াদে দায়িত্বপালনের অনুমতি দেয়নি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ পর্ষদে রয়েছেন অভিযুক্ত বিআইএফসির চেয়ারম্যান কুলসুম মান্নান, মেয়ে তানজীলা মান্নানসহ আরও ছয় পরিচালক।
বিআইএফসির উদ্যোক্তা পরিচালকদের অন্যতম ছিলেন বিকল্প ধারার মহাসচিব মেজর (অবঃ) এম এ মান্নান। তিনি কয়েক দফায় এ কোম্পানির চেয়ারম্যানও ছিলেন। বর্তমানে লোকসানি এ প্রতিষ্ঠানের বড় অংশের মালিকানা মূল উদ্যোক্তা হিসেবে তার ও পরিবারের সদস্য এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে রয়েছে। অন্যদিকে ৫০ শতাংশের মালিকানা তিনটি বিদেশি কোম্পানির কাছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের এক পরিদর্শনে এই অনিয়মের ঘটনা ধরা পড়ার পর এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

রবিবার দেশে কার্যরত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান নিজেই এ তথ্য উপস্থাপন করেন।

ওই বৈঠকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান নির্বাহীদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী, নাজনীন সুলতানা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের জিএম শাহ আলমসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, কোনও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালকের নিজের নামে বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনও প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ঋণ নিতে হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমতি নিতে হয়। কিন্তু কোনও ধরনের অনুমোদন ছাড়াই তথ্য গোপন করে বিআইএফসি থেকে বিপুল পরিমাণের ঋণ নেয় পিপলস লিজিং কর্তৃপক্ষ।

বৈঠকে গভর্নর বলেন, আর্থিক খাতে সুশাসনের সার্বিক উন্নয়ন ঘটলেও কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিশেষ পরিদর্শন চালিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক গুরুতর এ অনিয়মের তথ্য উদঘাটন করেছে, যা আর্থিক খাতের সুশাসনের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ওই প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন চেয়ারম্যান নিজ নামে এবং স্ত্রী, কন্যা, তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মনোনীত ব্যক্তি ও প্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করেছেন। যার বর্তমান স্থিতি ৭০০ কোটি টাকার বেশি।

এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কতিপয় ঋণ হিসাবকে সিএল বিবরণীতে অন্তর্ভুক্ত না করা, বিরূপ শ্রেণীকৃত ঋণকে অশ্রেণীকৃত হিসেবে দেখানো, উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে অনেক ঋণ হিসাবকে সিআইবিতে রিপোর্ট না করা, বিভিন্ন গ্রাহকের অগোচরে তাদের ঋণ হিসাবের বিপরীতে শ্যাডো অ্যাকাউন্ট (ছদ্ম হিসাব) ব্যবহার করে পরিচালকদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে অর্থ উত্তোলনের মতো গুরুতর অনিয়ম উদঘাটিত হয়েছে বলে বৈঠকে গভর্নর জানান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, খেলাপি হওয়ার পরও কিছু ঋণ হিসাবকে খেলাপি না দেখানো, বিরূপ শ্রেণীকৃত ঋণকে নিয়মিত দেখানো এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অনেক ঋণ হিসাবকে সিআইবিতে রিপোর্ট না করার ঘটনাও পরিদর্শনে উঠে এসেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শক দল বিভিন্ন গ্রাহকের অগোচরে তাদের ঋণ হিসাবের বিপরীতে শ্যাডো এাকাউন্ট ব্যবহার করে পরিচালকদের অবৈধভাবে অর্থ উত্তোলনের ঘটনাও খুঁজে পেয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, পিপলস লিজিংয়ে ইতিমধ্যে একজন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। আর সুশাসনের অভাবে বাংলাদেশ ইন্ড্রাষ্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদেও পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

/এসআই/এফএইচ/

লাইভ

টপ