behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

ফিলিপাইনের তৎপরতায় বেজায় খুশি বাংলাদেশ ব্যাংক

গোলাম মওলা০৩:১৪, মার্চ ১১, ২০১৬

জুয়া খেলে উড়ানো টাকা ফেরত পাওয়ার এখনও আশা করে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। শুধু তাই নয়, ফিলিপাইনের মুদ্রাপাচার প্রতিরোধ কর্তৃপক্ষই এই টাকা উদ্ধারের ব্যাপারে কোনও নিশ্চয়তা না পেলেও বাংলাদেশ ব্যাংক আশা ছাড়ছে না। বরং ফিলিপাইনের মুদ্রাপাচার প্রতিরোধ কর্তৃপক্ষের তৎপরতাকে টাকা ফেরত পাওয়ার কাছাকাছি বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা বলেন, যে অর্থ ওখানে (ফিলিপাইনে) গেছে তার পুরো অংশই আমরা ফেরত আনতে পারব। ফিলিপাইনের আদালতও যে রায় দিয়েছে তা টাকা আদায়ের পক্ষে। আমাদের তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন, সে কাজের ধারাবাহিকতারও অগ্রগতি আছে। এ বিষয়ে আমাদের অনুসন্ধানের যে অগ্রগতি হচ্ছে তা অব্যাহত আছে।  তিনি বলেন, ফিলিপাইনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে যথেষ্ট তৎপর রয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ফিলিপাইনের ৩টি জুয়ার আসরে একাধিক মানুষের হাতবদল হয়ে প্রায় ৬শ কোটি টাকা হংকংয়ে পাচার করা হয়েছে। অবশ্য এর পক্ষে কোনও দালিলিক প্রমাণ এখন পর্যন্ত ফিলিপাইনের তদন্তকারীদের হাতে আসেনি।
জুয়ার আসরে খরচ হওয়া এই অর্থ উদ্ধারের জন্য টানা একমাস ধরে চেষ্টা করে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চীনা হ্যাকারদের একটি গ্রুপ চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে ১০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ চুরি করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কোড ব্যবহার করেই এই অর্থ চুরি করা হয়। এর মধ্যে শ্রীলঙ্কায় পাচার করা হয় ২০ মিলিয়ন ডলার। বাকি সাড়ে ৭ কোটি ডলার বা প্রায় ৬০০ কোটি টাকা খরচ করা হয় ফিলিপাইনের সবচেয়ে বড় ‘সোলেয়ার রিসোর্ট অ্যান্ড ক্যাসিনো ও সিটি অব ড্রিমস অ্যান্ড মাইডাস’ নামের জুয়ার আসরে (ক্যাসিনোতে)।  জুয়ার আসরে এই অর্থগুলোকে জুয়ার চিপস (বাজির কয়েন) হিসেবে রূপান্তরিত করে বাজি ধরার উপযোগী করা হয়। প্রায় এক মাস এই অর্থগুলো বিভিন্ন জুয়ার আসরে শত শত মানুষের হাতবদল হয়। তবে শেষ পর্যন্ত সেই চিপসগুলোকে নগদ অর্থে রূপান্তরিত করে হংকংয়ের একটি অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ফিলিপাইনের আইন অনুযায়ী ক্যাসিনোতে জুয়ায় জেতা অর্থ থেকে নির্ধারিত ট্যাক্স দিলে তা বৈধ আয় বিবেচিত হয়। শুধু তাই নয়, ক্যাসিনো (জুয়ার আসর) অ্যান্টি মানি লন্ডারিং আইনের আওতায় না থাকায় প্রায় ৮১ মিলিয়ন ডলার কীভাবে আদায় হবে তা এখনও নিশ্চিত হয়নি। এছাড়া যেভাবে হাতবদলের পর ওই অর্থ ফিলিপাইন থেকে বাইরে নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও সেগুলো আবার বিদ্রেশি মুদ্রায় রূপান্তর এবং অন্য কোনও দেশে যাওয়ার পক্ষে কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে দেশটির পত্রিকা ইনকোয়ারারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

দৈনিক ইনকোয়ারারের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে চুরি করা এই অর্থগুলো প্রথমে চীনা বংশোদ্ভূত ফিলিপাইনের এক ব্যবসায়ীর নামে রাখা হয়েছিল। আর সেখান থেকেই স্থানীয় ওই ক্যাসিনোগুলোতে (জুয়ার আসরে) পাঠানো হয়। জুয়ার আসরে পাঠানোর আগে ৩৭০ কোটি ফিলিপাইনি মুদ্রা সমমানের সেই অর্থ একটি ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারের কাছে পাঠানো হয়েছিল। ইনকোয়ারারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে হ্যাকারদের চুরি করা ৮৭০ মিলিয়ন ডলার (৮৭ কোটি ডলার) মূল্যের তহবিল ফিলিপাইনের ব্যাংকিং সিস্টেমের মাধ্যমে পাচারের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে সে দেশের কর্তৃপক্ষ।

এ প্রসঙ্গে শুভঙ্কর সাহা বলেন, ঘটনা সত্য। তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকে অনেকগুলো ভুল নির্দেশনা গিয়েছিল। তার মধ্যে কয়েকটি নির্দেশনায় টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে গিয়েছিল। আর বাকিগুলো তাদের যে অ্যান্টি-মানি লন্ডারিং সংকেত তার মাধ্যমে তারা যখন বুঝতে পারে তখন অর্থ স্থনান্তর বন্ধ করে দেয়। তাই এটা নিয়ে বিভ্রান্তির কিছু নেই।

এদিকে এই ঘটনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংককে দায়ী করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই ঘটনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকই দায়ী। অবশ্য গত মঙ্গলবার ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের তরফ থেকে দাবি করা হয়- এ ঘটনায় তাদের দায় থাকার কোনও প্রমাণ নেই। তাদের কোনও পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণে এমনটা ঘটেনি। ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের তরফ থেকে বলা হয়- বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ স্থানান্তরের আদেশ গ্রহণের ক্ষেত্রে তারা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া মেনেই কাজটি করেছেন। সুইফট (এক ব্যাংক থেকে আরেক ব্যাংকে অর্থ স্থানান্তরে ব্যবহৃত সঙ্কেতলিপি) প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এই অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে, তাই ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের এ ঘটনায় কোনও দায় নেই।

/এপিএইচ/এএইচ/

/আপ-এএ/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ