অসহযোগিতার কারণে ট্যানারি স্থানান্তরে অগ্রগতি হয়নি: শাজাহান খান

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৭:১৬, মার্চ ২৩, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:২৬, মার্চ ২৩, ২০১৬

শাজাহান খানট্যানারি মালিকদের অসহযোগিতার কারণে হাজারীবাগ থেকে ট্যানারিশিল্প সাভারে স্থানান্তর কার্যক্রমের কোনও অগ্রগতি হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। তিনি বলেন, হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি স্থানান্তরে অগ্রগতি তেমন নেই, এ জন্য ট্যানারি শিল্প মালিকদের অনাগ্রহই দায়ী।  ট্যানারি সরাতে সরকার অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকারিভাবে ট্যানারি স্থানান্তরে যা করা দরকার, তার প্রায় সব করেছে সরকার। বুধবার সচিবালয়ে  নদীর নাব্যতা ও স্বাভাবিক গতি প্রবাহ অব্যাহত রাখা সংক্রান্ত টাস্কফোর্সের সভা শেষে তিনি এসব কথা বলেন।  
শাজাহান খান বলেন, পরিবেশ দূষণ বিবেচনায় নিয়ে ১৯৯৩ সালে হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি শিল্পকে সাভার ও কেরানীগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলঝড়া ও হজরতপুর ইউনিয়নের হরিণধরা এলাকায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। কিন্তু ট্যানারি মালিকদের অসহযোগিতার কারণে দীর্ঘদিনেও স্থানান্তর কার্যক্রমের কোনও অগ্রগতি হয়নি। সরকার বার বার সময় বেঁধে দিলেও মালিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তা আবার পেছানো হয়েছে।
নৌমন্ত্রী বলেন, আমরা ১৫৫টি শিল্প ইউনিটের সংখ্যা নির্ধারণ করেছিলাম, এরমধ্যে ১৫৪টির লে-আইট প্ল্যান পর্যন্ত অনুমোদন করেছিলাম, একটির মামলা রয়েছে। ইতোমধ্যে ১৪৩টি তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। এরমধ্যে ৪২টির মতো কারখানা পঞ্চমতলা পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন করেছে। ১০১টির বেইজমেন্ট, পাইলিংসহ বিভিন্ন কাজ চলছে। আশা করি, তারা শিগগিরই কাজ সম্পন্ন করবে।

নৌমন্ত্রী বলেন, আগামী ৩১ মার্চের পর কোনওক্রমেই কাঁচা চামড়া হাজারীবাগে ঢুকতে দেব না বলে তবে আমরা সময়  নির্ধারণ করে দিয়েছি।  নদীর দখল রোধে ঢাকার চারপাশের নদীগুলো সীমানা নির্ধারণ করে স্থাপন করা ১১ হাজার ৮৮৪টি পিলারের  ৩ হাজার ১৪০টি পিলার সঠিক স্থানে স্থাপিত হয়নি বলে জানিয়েছেন শাজাহান খান।

বালু, তুরাগ, বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা নদীর সীমানা চিহ্নিতকরণে স্থাপিত পিলার নিয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে জানিয়ে নৌমন্ত্রী বলেন, ঢাকায় ৬ হাজার ৮৪৩টি পিলার স্থাপন করার কথা থাকলেও স্থাপন করা হয়েছে ৪ হাজার ৬৩টি পিলার। এরমধ্যে ৯৪২টি পিলার সঠিক স্থানে স্থাপিত হয়নি। নারায়ণগঞ্জে ৫ হাজার ৪১টি পিলার স্থাপন করার কথা থাকলেও ৫ হাজার ১১টি পিলার স্থাপন করা হয়েছে। এরমধ্যে ২ হাজার ১৯৮টি পিলার নিয়ে আপত্তি রয়েছে। গাজীপুরে বেশির ভাগ পিলার সঠিক আছে বলেও জানান নৌমন্ত্রী।

শাজাহান খান বলেন, বড়াল নদীর তীরে স্থানীয়দের বিনোদনের জন্য কোথাও কোথাও ইকোপার্ক প্রতিষ্ঠা করা হবে। বড়াল নদী ভরাট করে তিনটি রাস্তা করা হয়েছে। এ রাস্তাগুলো অপসারণ করে নদীর গতিপ্রবাহ সৃষ্টির কাজ শুরু হয়েছে। ওখানে ব্রিজ নির্মাণ করা হবে।

আদি বুড়িগঙ্গা এমন সব প্রভাবশালী লোকেরা ভরাট করে দখল করেছে,এ দখল উচ্ছেদ করতেই হবে। বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেল শুধু উদ্ধারই নয়, হাতিরঝিলের মতো সৌন্দর্যবর্ধণের কাজ করবে। এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র পক্ষ থেকে একটি প্রেজেন্টেশন দেওয়া হয়েছে।

আদি বুড়িগঙ্গা দখল করে ম্যাটাডোর কোম্পানি মসজিদ করেছে জানিয়ে শাজাহান খান বলেন, এ কাজগুলো যারা করেছে অমানুষের মতো কাজ করেছে। আমরা জায়গাগুলো চিহ্নিত করছি। যারা এগুলো করেছে তারা বাধা সৃষ্টি করছে।

সভায় নৌপরিবহন সচিব অশোক মাধব রায়, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব জাফর আহমেদ খান, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান আতাহারুল ইসলাম, বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান এম মোজাম্মেল হকসহ টাস্কফোর্স সংশ্লিষ্টরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

 /এসআই/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ