behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

সম্ভাবনার নাম দীঘিপাড়া কয়লা খনি

বিপুল সরকার সানি, দিনাজপুর১৬:৫৫, মার্চ ২৭, ২০১৬

নবাবগঞ্জের দীঘিপাড়া কয়লা খনি-০১দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির পর এবার নবাবগঞ্জের দীঘিপাড়া খনি থেকে কয়লা উত্তোলনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যেই কয়লা উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আর এখন চলছে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ।

দীঘিপাড়া খনি থেকে কয়লা উত্তোলনে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডকে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাব অনুযায়ী, সম্ভবানাময় দীঘিপাড়া কয়লা খনিতে প্রায় ৮৬৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন কয়লা মজুদ আছে। যা উত্তোলন করা গেলে ১ হাজার ৫শ’ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।  

এ বিষয়ে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুজ্জামান বলেন, দীঘিপাড়া কয়লা খনি চালু করতে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। তবে সেখানের কয়লার মান পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই খনির উন্নয়ন এবং কয়লা উত্তোলনে নকশা ও পরিকল্পনা শুরু করা হবে। প্রাথমিকভাবে খনির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য ১২০ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে, এরপরই খনি উন্নয়নের কাজ।

তিনি আরও বলেন, খনি উন্নয়নে কী পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন তা সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর জানা যাবে। কারণ সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে ল্যাবরেটরি সার্ভিস, কোল্ড অ্যানালাইসিস করার জন্য পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি দেশে নেই। এজন্য আন্তর্জাতিক কোম্পানি ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করার পরিকল্পনা করছে দায়িত্বপ্রাপ্ত বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি কর্তৃপক্ষ।

এক প্রশ্নের জবাবে মো. আমিনুজ্জামান বলেন, ভূ-গর্ভস্থ (আন্ডারগ্রাউন্ড) পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করা হলে খনির পুরো কয়লা উত্তোলন করা সম্ভব হয় না। তবে দীঘিপাড়া কয়লা খনিতে যে পরিমাণ কয়লা মজুদ রয়েছে তার অর্ধেক পরিমাণ কয়লা উত্তোলন করা গেলে তা দিয়ে দেশের জ্বালানি চাহিদা পুরণে বড় ভূমিকা রাখা যাবে।

তিনি আরও বলেন, ধারণা করা হচ্ছে এই খনি থেকে বাৎসরিক ৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন কয়লা উত্তোলন করা সম্ভব যা দিয়ে ১ হাজার ৫শ’ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু রাখা যাবে।

নবাবগঞ্জের দীঘিপাড়া কয়লা খনি-০২বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির মহাব্যবস্থাপক (মাইনিং) প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহমেদ বলেন, বড়পুকুরিয়ায় যারা কাজ করেন তাদের নিজেদের অভিজ্ঞতা দিয়ে দীঘিপাড়া কয়লা খনি বাস্তবায়ন ও উৎপাদনে সাফল্য আসবে। দেশের অন্যান্য কয়লা খনির দায়িত্বপ্রাপ্ত হলে কয়লা উত্তোলনের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি ঘাটতি পূরণ করে দেশের উন্নয়নের অবদান রাখতে পারবেন তারা।
পেট্রোবাংলার হিসেব অনুযায়ী, দেশে এ পর্যন্ত ৫টি কয়লা খনিতে মোট ৩ হাজার ৫৬৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন কয়লা মজুদ রয়েছে। যার মধ্যে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়ায় ৩৯০ মিলিয়ন মেট্রিক টন ও ফুলবাড়ীয় ৫৭২ মিলিয়ন মেট্রিক টন, নবাবগঞ্জের দীঘিপাড়ায় ৮৬৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন, রংপুরের খালাসপীরে ৬৮৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন এবং জয়পুরহাটের জামালগঞ্জে ১ হাজার ৫৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন কয়লা মজুদ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ২০০৫ সালে দিনাজপুরের বড় পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে বাণিজ্যিকভাবে কয়লা উত্তোলন শুরু হয়। বাকি ৪টি খনির মধ্যে জামালগঞ্জ কয়লা খনি থেকে গ্যাস ও দীঘিপাড়া খনি থেকে কয়লা উত্তেলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
দীঘিপাড়া খনি থেকে উত্তোলিত কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হলে পাশাপাশি দু’টি জেলার শিল্প কারখানাগুলোও চালু রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 
ইতিমধ্যে কয়লা খনিগুলোতে পরিদর্শন করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম এমপি বলেন, দীঘিপাড়ায় প্রচুর কয়লা মজুদ রয়েছে যা দিয়ে দেশের জ্বালানি নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব।
/টিএন/এসএনএইচ/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ