পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিনের দাম কমছে ১০ টাকা করে

Send
শফিকুল ইসলাম
প্রকাশিত : ১৯:২৪, এপ্রিল ০৪, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:২৪, এপ্রিল ০৪, ২০১৬

জ্বালানি তেলঅবশেষে সরকার সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। গত সপ্তাহে ফার্নেস অয়েলের দাম কমানোর পর এবার ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কয়েক ধাপে এ দাম কমানো হতে পারে। প্রথম ধাপে প্রতি লিটার ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের দাম ১০ টাকা হারে কমবে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে এ সব জ্বালনি তেলের দাম আরও কমানো হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।  
জানা গেছে, সোমবার মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত বৈঠকে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর বিষয় নিয়ে অনির্ধারিত আলোচনা হয়। ওই আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এই মুহূর্তে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর বিপক্ষে কিছু যুক্তি তুলে ধরেন। কিন্তু সেসব যুক্তি প্রত্যাখান করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের দাম এক সঙ্গে না কমিয়ে পর্যায়ক্রমে কয়েকধাপে কমানোর পরামর্শ দেন। প্রধানমন্ত্রীর এই পরামর্শের ভিত্তিতেই প্রথম দফায় প্রতিলিটারে ১০ থেকে ১৫ টাকা করে দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী।  সোমবার (৪ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে যোগদান শেষে সচিবালয়ে নিজ দফতরে এসে কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান।
আগামী সপ্তাহে জ্বালানি তেলের দাম কমানো সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে সরকার ফার্নেস অয়েলের দাম প্রতিলিটারে ১৮ টাকা কমায়।  গত ৩ জানুয়ারি এক বৈঠকে ব্যবসায়ী নেতারা অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর জন্য চাপ দেন। তখন অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার তেলের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এ জন্য একটি নীতিমালা করা হবে। এরপরই অর্থমন্ত্রী জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর কাছে তেলের দাম কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে চিঠি পাঠান। চিঠিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) অবশিষ্ট দেনার দায় অর্থ মন্ত্রণালয় বহন করবে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। তবে দাম কমানোর এ সিদ্ধান্তটি তিনি বাজেটের পরে নিতে চেয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ ও রাজনীতিকদের পক্ষ থেকে অনেক আগে থেকেই জ্বালানি তেলের দাম কমানোর দাবি ওঠে।  এর পরিপ্রেক্ষিতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের তেলের দর বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশের বাজারদর না কমানোয় সরকারের মুনাফা ও সম্ভাব্য নতুন মূল্যের একটি প্রস্তাব অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে আগেই পাঠিয়েছিল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। ওই প্রস্তাব পর্যালোচনা করে জ্বালানি তেলের নতুন দাম নির্ধারণ করার কথা জানায় অর্থ মন্ত্রণালয়।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দর কমেছে। সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখে দাম সমন্বয় করা উচিৎ। বাংলাদেশে দর না কমানোর কারণে এ পর্যন্ত ১০ হাজার কোটি টাকা মুনাফা করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, গত অর্থবছর জ্বালানি তেলে পাঁচ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা এবং চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) এ খাত থেকে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা বিপিসি মুনাফা করেছে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১২২ ডলার হয়। তখন থেকেই বাংলাদেশে তেলের দাম বাড়িয়ে প্রতি লিটার অকটেন ৯৯ টাকা, পেট্রোল ৯৬ টাকা, কেরোসিন ও ডিজেল ৬৮ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। তারপর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দর ক্রমান্বয়ে কমছে। এখন ব্যারেলপ্রতি দর ৩০ ডলারেরও নিচে। আগামী দিনগুলোয় জ্বালানি তেলের দর ২০ ডলারে নেমে আসার পূর্বাভাস দিচ্ছেন আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকরা। কিন্তু বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম কমানো হয়নি।

/এসআই/এফএস/

লাইভ

টপ