behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

৬৫ বছরেও স্থলবন্দরে রূপ পায়নি বাল্লা শুল্ক স্টেশন

শফিকুল ইসলাম০৮:৪৫, এপ্রিল ০৭, ২০১৬

বাল্লা-স্থলবন্দরঅর্থনৈতিকভাবে সম্ভাবনাময় হওয়ার পরও ৬৫ বছরে স্থলবন্দর হলো না হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার বাল্লা শুল্ক স্টেশন। জেলার সীমান্তে এই শুল্ক স্টেশনটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫১ সালে। স্থাপনের পর এই শুল্ক স্টেশনটিকে স্থলবন্দরে রূপান্তরিত করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও নানা কারণে তা চূড়ান্ত রূপ পায়নি। নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আবারও এই শুল্ক স্টেশনটি স্থল বন্দরে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বাল্লা শুল্ক স্টেশন পরিদর্শন করেছেন। স্টেশনটিকে স্থলবন্দরে রূপান্তরের সম্ভাব্যতা যাচাই করে দেখা হচ্ছে।
হবিগঞ্জ সীমান্তের বাল্লা শুল্ক স্টেশনটি ১৯৫১ সালে ৪ দশমিক ৩৭ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের বাল্লা সীমান্তের পশ্চিমে কেদারাকোট দিয়ে বর্তমানে দু’দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য চলছে। এখানে চেকপোস্টসহ সীমান্ত ঘাঁটি রয়েছে। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ব্যবসায়ীদের একটি দল বাল্লা শুল্ক স্টেশনের ২ কিলোমিটার পশ্চিমে কেদারাকোটে স্থলবন্দর স্থাপনের চেষ্টা করেন। ২০১২ সালের ১১ জুন কেদারাকোটে স্থলবন্দর নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে জন্য বাংলাদেশ ও ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি যৌথ প্রতিনিধি দল সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করে। বাংলাদেশের পক্ষে ৫ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন তখনকার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোকাব্বির হোসেন। ভারতের পক্ষে ৫ সদস্যের নেতৃত্ব দেন সে দেশের কমার্স ডিপার্টমেন্টের পরিচালক ইন্দিরা মারাঠি। পরিদর্শন শেষে উভয় দেশের প্রতিনিধি দল সাংবাদিকদের বলেন, দু’দেশের সরকার ত্রিপুরা দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারে আগ্রহী। তাই বাল্লা সীমান্তের কেদারাকোটে স্থলবন্দর স্থাপন করা যায় কি-না তার সম্ভাব্যতা সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে। ভারতীয় দল ওই জায়গায় স্থলবন্দর নিয়ে ইতিবাচক মনোভাবও প্রদর্শন করে।

এর আগে ২০১১ সালের ৩০ জুলাই বাংলাদেশ রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর তৎকালীন ভাইস চেয়ারম্যানও কেদারাকোট পরিদর্শন করেন এবং স্থলবন্দর স্থাপনের গুরুত্ব অনুধাবন করে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন। এতো কিছুর পরেও বাল্লায় পুরোপুরি স্থলবন্দর করা হয়নি।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অর্থনৈতিক দিক থেকে সম্ভাবনাময় হওয়ার পরেও বাল্লা শুল্ক স্টেশনকে আধুনিকায়ন করার কোনও কার্যাকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দফায় দফায় আশ্বাস আর পরিদর্শনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল এই স্টেশনের আধুনিকায়নের কাজ। অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় শ্রমিকরা পায়ে হেঁটে নদী পার হয়ে আমদানি রফতানির কাজ চালাচ্ছেন।

বর্ষাকালে এই আমদানি-রফতানির কাজে বেশি বিঘ্ন ঘটে। ফলে পণ্য পরিবহনের খরচও বাড়ে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এই স্টেশনের আধুনিকায়নের দাবি জানিয়ে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে।

সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারি মাসে ত্রিপুরায় অনুষ্ঠিত সীমান্ত সম্মেলনে বাল্লা শুল্ক স্টেশনকে স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠায় ঐক্যমত পোষণ করা হয়। এর কিছুদিন পরই স্থান নির্ধারণের জন্য বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ প্রতিনিধিদল ফের স্থানটি পরিদর্শন করে। বর্তমান স্থানে শুল্ক স্টেশনটি আধুনিকায়নের সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভারত খোয়াই নদীতে ব্রিজ তৈরি করবে এবং তাদের অংশের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করবে। বাংলাদেশও তার অংশের রাস্তা সংস্কার এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ করবে।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর শুল্ক স্টেশনটি ১৯৯১ সালে পুনরায় চালু হয়। চালু হওয়ার পর এ বন্দর দিয়ে সিমেন্ট, ইটপাথর, শুঁটকিসহ বিভিন্ন প্রকারের মাছ রফতানি হচ্ছে। বিনিময়ে ভারত থেকে বিভিন্ন কাঁচামাল, ফলমুল, বাঁশ, চকলেট, ক্যান্ডি ইত্যাদি পণ্য আমদানি হচ্ছে। এছাড়া এ স্টেশন দিয়ে লোকজনও বৈধভাবে পারাপার হচ্ছেন।

নৌ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সূচনা লগ্নে ১২টি শুল্ক স্টেশনকে বন্দর ঘোষণা করে এর উন্নয়ন ও পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে ন্যস্ত করা হয়। পরে বিবিরবাজার, বিলোনিয়া, নাকুগাঁও ও রামগড় শুল্ক স্টেশনকে স্থলবন্দর ঘোষণা করে এগুলোর দায়িত্ব স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের উপর দেওয়া হয়। একই সঙ্গে থেগামুখ শুল্ক স্টেশনকে স্থলবন্দরে রূপান্তরের প্রক্রিয়া চললেও বাল্লা শুল্ক স্টেশনকে স্থলবন্দরে রূপান্তর করা হয়নি।

বাংলাদেশে বর্তমানে ১৮টি স্থলবন্দর রয়েছে সেগুলো হচ্ছে- বেনাপোল, সোনামসজিদ, হিলি, বুড়িমারি, আখাউড়া, টেকনাফ, বিবিরবাজার, বাংলাবান্ধা, ভোমরা, বিরল, তামাবিল, গোবড়াকরা, করইতলী, নাকুগাঁও, দর্শনা (প্রস্তাবিত জীবননগর), রামগড়, বিলোনিয়া ও থেবামুখ (প্রস্তাবিত)।

বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় ভোমরা স্থলবন্দরের উন্নয়ন চলছে। নকুগাঁও স্থলবন্দর উন্নয়নকল্পে ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। থেগামুখ ও রামগড় স্থলবন্দর উন্নয়নের জন্য একটি ডিপিপি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তামাবিল ও হালুয়াঘাটের গোবরাকুড়া, কড়াইতলী ও বিলোনিয়া স্থলবন্দর উন্নয়নের জন্য ডিপিপি প্রণয়নের কাজ চলছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, দীর্ঘদিন ধরে বাল্লায় বন্দরের কাজকর্ম চলছে। কিন্তু স্থলবন্দর হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়নি। সরকারের পরিকল্পনা আছে বাল্লাকে স্থলবন্দর হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার। এ লক্ষ্যে কাজ চলছে। আমি নিজে স্থানটি পরিদর্শন করেছি। এটি একটি সম্ভাবনাময় স্থলবন্দর।

উল্লেখ্য, প্রতিবেশি দেশ ভারত, ভুটান, নেপাল ও মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের অধিকাংশ পণ্য আমদানি, রফতানি হয় মূলত স্থল পথেই। স্থলপথে পণ্য আমদানি রফতানি কার্যক্রম সহজতর করতে সরকার বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ আইন ২০০১ জারি মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ (বাস্থবক) প্রতিষ্ঠা করে। বর্তমানে একজন চেয়ারম্যান ও ছয়জন সদস্যের সমন্বয়ে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ বোর্ড গঠিত। সরকার কর্তৃক নিয়োগ করা চেয়ারম্যান স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। সরকারের নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ পরিচালিত হয়।    

/এসআই/এমএসএম/ আপ- এপিএইচ/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ