প্রাক বাজেট আলোচনা বাংলাদেশ ব্যাংকে নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ গণমাধ্যম সম্পাদকদের

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৬:৪৭, এপ্রিল ২৪, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৪৩, এপ্রিল ২৪, ২০১৬

প্রাক বাজেট আলোচনাসরকারকে বাংলাদেশ ব্যাংকে নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন দেশের সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম সম্পাদকরা।
রবিবার দুপুরে সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণলায়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক প্রাক বাজেট আলোচনায় সম্পাদকরা এ পরামর্শ দেন।
আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও অসুস্থতার কারছে তিনি উপস্থিত হতে না পারায় অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান আলোচনায় নেতৃত্ব দেন।
আলোচনায় সম্পাদকরা বলেন, আজও ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরেনি। রিজার্ভ হ্যাকিংয়ের ঘটনায়  বাংলাদেশ ব্যাংক যে ব্যর্থতা দেখিয়েছে তাতে প্রতিষ্ঠানটিকে একটি অডিটের আওতায় আনার সময় হয়েছে। তাই অর্থ মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি ভেবে দেখে, এদিকে নজর দেওয়া উচিৎ।
বিচার বিভাগকে শক্তিশালী করতে বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে সম্পাদকরা বলেন, প্রতিবছর কালো টাকার পরিমাণ বাড়ছে। এবারের বাজেটে আর কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া ঠিক হবে না। বাজেটে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য নীতিমালা করারও পরামর্শ দেন সম্পাদকরা।
সম্পাদকরা বলেন, বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন আছে। জনগণের করের টাকায় সরকারি ব্যাংকের তহবিল পুনর্গঠন শুভকর নয়। বাজেটের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যবহার করতে না পারা অথবা টাকা ফেরত আসা অযোগ্যতা। ২ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করার সক্ষমতা এনবিআরের নেই বলেও মন্তব্য করেন তারা।
এছাড়া আসন্ন বাজেটে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টে আলাদা বরাদ্দ রাখারও দাবিও জানান সম্পাদকরা। তারা বলেন, সংবাদপত্রের প্রচার সংখ্যার উপর ভিত্তি করে বিজ্ঞাপন দেওয়া-নেওয়াকে কেন্দ্র করে সরকারি অর্থ হরিলুট হয়। এর বিহিত করা প্রয়োজন।
আলোচনায় অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বলেন, ‘পত্রিকার বিজ্ঞাপনের বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আগের তুলনায় এনবিআরের সক্ষমতা বেড়েছে। মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়ে কাজ করার সুযোগ হচ্ছে। এছাড়া এনবিআর খাতওয়ারিও কাজ শুরু করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘করদাতাদের উৎসাহিত করতে এনবিআরের পক্ষ থেকে তিনটি তালিকা প্রকাশ করা হবে। প্রথমটিতে সারাদেশের ১০১ জন, দ্বিতীয়টিতে সারাদেশের ১০১ জন নারী এবং তৃতীয়টিতে ১০১ জন তরুণ সব্বোর্চ করদাতার তালিকা প্রকাশ করা হবে।’
অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, ‘এবার ৩ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার বাজেট হবে, যা উচ্চভিলাষী নয়। বাজেটের আকার আরও বাড়ানো প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এবার বাজেটে ঘাটতি ৫ শতাংশের মধ্যে রেখেছি, যা বাস্তবায়নযোগ্য। সরকারের লক্ষ্য জনগণের জীবনমান উন্নয়ন। এজন্য প্রয়োজন মাথাপিছু আয়ের পাশাপাশি জিডিপিও বাড়ানো দরকার। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আমাদের জিডিপির মোট আকার হয়েছে ১৭ লাখ ১৭ হাজার কোটি টাকা।’
অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘আপনাদের (সম্পাদকদের) সুপারিশগুলো অর্থমন্ত্রীর কাছে পেশ করা হবে। সরকারি ব্যাংকগুলো নিয়ে আমাদেরও অনেক টেনশন আছে। ব্যাংকগুলোর বিধিবিধান অনেক পুরনো এবং জট পাকানো থাকায় একটু সমস্যা হচ্ছে। তবে আগের তুলনায় মনিটরিং বেড়েছে।’
আলোচনায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মেজবাহ উদ্দীন আহমেদ, ব্যাংক ও অর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মোহাম্মদ ইউনূসুর রহমান।
এছাড়া সম্পাদকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- নিউজ টুডের রিয়াজউদ্দীন আহমেদ, বাংলাদেশ প্রতিদিনের নইম নিজাম, আমাদের অর্থনীতির নাঈমুল ইসলাম খান, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের মোয়াজ্জেম হোসেন, প্রথম আলোর উপ সম্পাদক আবদুল কাইয়ূম মুকুল, চ্যানেল ২৪ এর মালিক ও সমকালের প্রকাশক এ কে আজাদ, এটিএন বাংলার উপদেষ্টা মোতাহের হোসেন প্রমুখ।
/এসআই/এমও/এসএনএইচ/

লাইভ

টপ