আনুগত্য ও নিয়ন্ত্রণের গণমাধ্যম

Send
আমিনুল ইসলাম সুজন
প্রকাশিত : ১২:২৩, মে ০৩, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৫, মে ০৩, ২০১৬

আমিনুল ইসলাম সুজনআজ (৩ মে) বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস। বিশ্বব্যাপী মুক্ত গণমাধ্যম চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে বিভিন্ন দেশের সরকারকে মুক্ত ও স্বাধীন গণমাধ্যম নিশ্চিতে দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট করতে এ দিবসটির গুরুত্ব রয়েছে।
এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- 'Access to Information and Fundamental Freedoms - This Is Your Right!'
বাংলায় ভাবানুবাদ হলো, "তথ্য প্রাপ্তি ও মৌলিক স্বাধীনতা -এটা আপনার অধিকার!"
১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর ঘোষিত জাতিসংঘের সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণা এবং ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে পাস হওয়া বৈশ্বিক উন্নয়নের আগামী ১৫ বছরের রূপরেখা ‘সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলস’ বা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাসমূহের (এসডিজি) আলোকে এ বছরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠার শুরুতেই মানুষের মৌলিক স্বাধীনতা ও তথ্য অধিকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানবাধিকার। সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণার আর্টিকেল ১৯-এ বলা হয়েছে, ‘প্রত্যেক মানুষেরই মতামত পোষণ ও প্রকাশ করার অধিকার রয়েছে। স্বাধীনভাবে মতামত পোষণ করা, যে কোনও উপায়ে ও রাষ্ট্রীয় সীমানা নির্বিশেষে তথ্য ও মতামত সন্ধান করা, গ্রহণ করা ও জানার স্বাধীনতা এ অধিকারভূক্ত’। মূলত এ অধিকারকে গুরুত্ব দিয়েই ১৯৯৩ সালের বার্ষিক সাধারণ অধিবেশনে ৩ মে দিনটিকে আন্তর্জাতিক মুক্ত গণমাধ্যম দিবস ঘোষণা করে জাতিসংঘ।
এসডিজির ১৬তম লক্ষ্যমাত্রায় বলা হয়েছে, ‘টেকসই উন্নয়নে সমাজের সবাইকে অন্তর্ভূক্ত করে শান্তি প্রতিষ্ঠা, সবার জন্য ন্যায়বিচারপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা, সবক্ষেত্রে কার্যকর ও জবাবদিহিতামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা’। এ লক্ষ্যমাত্রার অধীন ১০টি উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় আইনের আলোকে তথ্যের প্রতি জনসাধারণের অভিগম্যতা ও মৌলিক স্বাধীনতার সুরক্ষা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

আরও পড়তে পারেন: বিচারহীনতায় কমেনি সাংবাদিক নির্যাতন
প্রসঙ্গত, ১৯৯১ সালে নামিবিয়ার উইন্ডহোয়েক-এ জাতিসংঘের শিক্ষা-বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সহযোগী সংস্থা ইউনেস্কোর উদ্যোগে আফ্রিকান সাংবাদিকদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে স্বাধীন গণমাধ্যমের আদর্শসমূহ ও মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের প্রস্তাব পাস করা হয়েছিল- যা উইন্ডহোয়েক ঘোষণা নামে পরিচিত। এ প্রস্তাব একই বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর ২৬তম বার্ষিক সম্মেলনে অনুমোদিত হয়। ইউনেস্কো দিবসটির প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য জাতিসংঘে পাঠালে ১৯৯৩ সালের ডিসেম্বরে সাধারণ অধিবেশনে জাতিসংঘ দিবসটির অনুমোদন করে।

ইউনেস্কো এ বছর তথ্য প্রাপ্তিকে মৌলিক স্বাধীনতা ও মানবাধিকার, গণমাধ্যমকে অযাচিত সেন্সরশিপ ও নজরদারি থেকে সুরক্ষা এবং অনলাইন ও অফলাইনে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিয়েছে। এ বছরই পৃথিবীর প্রথম তথ্য অধিকার বিষয়ক আইনের ২৫০বছর পূর্তি (নরওয়ে ও ফিনল্যান্ড), উইন্ডহোয়েক ঘোষণার ২৫ বছর পূর্তি এবং জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) প্রথম বছর- তাই এবছর দিবসটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে ইউনেস্কো।

ইউনেস্কো মনে করে, মুক্ত গণমাধ্যম, তথ্য অধিকার ও টেকসই উন্নয়নকে একীভূত করেছে মুক্ত ও স্বাধীন সাংবাদিকতা। মানুষের মৌলিক মানবাধিকার ও এসডিজি অর্জনে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অত্যন্ত জরুরি। 

এ বছরের প্রতিপাদ্যে পারস্পরিক সম্পর্কিত এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দু’রকম অধিকারের কথা রয়েছে। একটি তথ্য প্রাপ্তি, আরেকটি মৌলিক স্বাধীনতা- দুটোই ব্যক্তিজীবনে সমান গুরুত্বপূর্ণ। সব মানুষই স্বাধীনতা চায়।

স্বাধীনভাবে মতামত, অভিব্যক্তি ও তথ্য প্রকাশের অধিকার এবং চাহিদানুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে চায়। মত ও তথ্য প্রকাশের স্বাধীনতা এবং প্রাপ্তির নিশ্চয়তা সুশাসন, ন্যায়বিচার ও কার্যকর গণতন্ত্রের জন্য জরুরি। পাশাপাশি প্রান্তিক মানুষের ক্ষমতায়ন, সুষম ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করতেও সহায়ক ভূমিকা রাখে। রাষ্ট্রের সর্বস্তরে অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে, দুর্নীতির প্রভাব কমে আসবে। তাই প্রয়োজনীয় তথ্য জানা, মানুষকে সঠিক তথ্য সঠিকভাবে জানানোর গুরুত্ব রয়েছে।

কিন্তু বর্তমান বৈশ্বিক ও জাতীয় প্রেক্ষাপটে মানুষের সঠিক ও প্রয়োজনীয় তথ্য প্রাপ্তি হুমকিগ্রস্ত। একদিকে গণমাধ্যমের ওপর বিভিন্ন পক্ষের বহুমুখী নিয়ন্ত্রণ, অন্যদিকে দলীয় বিবেচনায় গণমাধ্যমের মালিক-সম্পাদক হওয়ায় সৃষ্ট আনুগত্যের গণমাধ্যম মানুষের তথ্য প্রাপ্তির অধিকারকে সঙ্কুচিত করছে।

তথ্য ও বিশ্লেষণ পছন্দ না হলে সরকার, সরকারের অনুগত বিভিন্ন সংস্থা, রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন পক্ষ শুধু সমালোচনায় মুখরিতই হয় না, আগ্রাসীও হয়ে ওঠে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর বিভিন্ন গবেষণার উদাহরণ এখানে প্রাসঙ্গিক। অধিকাংশ সময়ই সরকার ও সরকারি প্রতিষ্ঠান প্রকাশ্যে টিআইবি ও তাদের দুর্নীতির চিত্র বিষয়ক তথ্য ও গবেষণার সমালোচনা করেন। অথচ গবেষণার তথ্য মূল্যায়ন করে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায় না।

আরও পড়তে পারেন: পুলিশের পর্যালোচনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ‘ভালো’

সম্প্রতি খ্যাতিমান মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এডভোকেট সুলতানা কামালও এমন অভিযোগ করেছেন। তিনি একটি সংবাদপত্রকে বলেছেন, সরকার সমালোচনাকে দেখছে বিরোধীতা হিসেবে। সুলতানা কামালের মতো একজন গ্রহণযোগ্য ও ইতিবাচক মানুষের এই অভিমত উপেক্ষার নয়। কারণ, এটি সর্বত্রই লক্ষ্য করা যায়, সমালোচনাকে গ্রহণ করার উদার ও যৌক্তিক মানসিকতা আমাদের সমাজে বিরল।

গণমাধ্যমের বহুমুখী নিয়ন্ত্রণের মধ্যে প্রথমে সরকার কর্তৃক বিভিন্ন নীতি ও আইনের প্রসঙ্গ আসে। আইসিটি আইন হিসেবে পরিচিত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ২০০৬ (সংশোধিত ২০১৩) এর ৫৭ ধারাসহ কয়েকটি ধারা এবং জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা ২০১৪ এর কয়েকটি ধারা মুক্ত গণমাধ্যম চর্চার পরিপন্থী। যদিও প্রক্রিয়াধীন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৬ পাস হলে আইসিটিসি আইনের কয়েকটি বিতর্কিত ধারা (৫৪ থেকে ৫৭) বাতিল হবে বলে জানা গেছে। কিন্তু প্রস্তাবিত এ আইনের ৯ থেকে ১৬-এ ৮টি ধারা জামিন অযোগ্য এবং সন্দেহবশত যে কাউকে আটক রাখার বিধান থাকায় ন্যায়বিচার নিয়ে শঙ্কা, বিশেষ করে এসব ধারা অপপ্রয়োগের আশঙ্কা রয়েই গেল। এছাড়া প্রস্তাবিত সম্প্রচার আইন ২০১৬-তেও কঠোর নিয়ন্ত্রণকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

ব্রিটিশ উপনিবেশ আমলের আইনগুলো ছিল শোষণ, নিপীড়ন ও নিয়ন্ত্রণমূলক। কারণ, শাসন ব্যবস্থাকে পোক্ত করতেই ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী আইন পাস করত। পাকিস্তান আমলেও একই প্রয়োজনে স্বৈরাচারী পন্থায় নিপীড়নমূলক আইন পাসের ধারা অব্যাহত ছিল। কিন্তু স্বাধীনতার পরও ব্রিটিশ উপনিবেশ আমলের নিয়ম অনুযায়ী অধিকাংশ আইন করা হয়- যা দুর্ভাগ্যজনক। যে কারণে আইন ও নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে অনেক সময়ে মহান সংবিধানও উপেক্ষিত হয়। এসব কারণেই আইসিটি আইনসহ বিভিন্ন আইন ও নীতিমালায় মানবাধিকারপন্থী ধারা যুক্ত করা হয়। ব্রিটিশ শাসনামলে প্রণীত ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারার মতো কালো আইন বাতিল হয় না কিংবা এ ধারা রদে মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা কার্যকর হয় না।

আরও পড়তে পারেন: ১২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম স্বাধীনতায় বিশ্ব গণমাধ্যম

১৯৯৮ সালে ৫৪ ধারা মতে কাউকে আটক ও ১৬৭ ধারা মতে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন বন্ধে মানবাধিকার নিয়ে কর্মরত কয়েকটি সংস্থা আবেদন করে। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০০৩ সালের ৭ এপ্রিল মহামান্য হাইকোর্ট আটকাদেশ দেওয়ার জন্য ৫৪ ধারায় আটক নিষিদ্ধ, আটকের সময় পুলিশের পরিচয়পত্র দেখানো, আটকের তিন ঘণ্টার মধ্যে কারণ জানানো, বাসা ও কর্মস্থলব্যতিত অন্য স্থান থেকে আটক ব্যক্তির আত্মীয়কে এক ঘণ্টার মধ্যে জানানো, জিজ্ঞাসাবাদের আগে ও পরে ডাক্তারি পরীক্ষা, পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক মেডিকেল বোর্ড গঠন ও অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ী পুলিশের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৩০ ধারায় অভিযোগ ও ব্যবস্থা গ্রহণ করাসহ ৫৪ ধারায় আটক ও রিমান্ডে নেওয়ার প্রচলিত বিধান ছয় মাসের মধ্যে সংশোধনসহ ১৫টি নির্দেশনা দেন। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে লিভ টু আপিল করেছিল। সুপ্রিম কোর্ট তৎকালীন সরকারকে আপিল করার অনুমতি দিলেও হাইকোর্টের রায় বাতিল করেনি। ফলে হাইকোর্টের রায় এখনও বহাল রয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক বিবেচনায় এখনও হাইকোর্টের এ রায়ের প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায় না।

অথচ বাংলাদেশের সংবিধানে চিন্তা, বিবেক, ও বাক স্বাধীনতা নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসাবে স্বীকৃত। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ (১) অনুচ্ছেদে নাগরিকের চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং ৩৯ (২-ক) এ প্রত্যেক নাগরিকের বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। তথ্য প্রাপ্তি ও মৌলিক স্বাধীনতা অধিকারের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রণীত এবং এ আইনে তথ্য প্রাপ্তিকে অধিকার হিসাবে গণ্য করা হয়েছে। এমনকী সংবিধানে বলা হয়েছে, ‘প্রজতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ’। তথ্যের অবাধ প্রবাহ সাধারণ মানুষকে ক্ষমতায়িত করতে পারে। তথ্য জানা যেহেতু অধিকার- এই অধিকারের ইতিবাচক ব্যবহার দরকার। কারণ তথ্য জ্ঞান সৃষ্টি করে। জ্ঞান মানুষের অনেক সীমাবদ্ধতা ও সঙ্কট দূর করতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি জ্ঞানের ইতিবাচক চর্চা সমাজে কুসংস্কার, অন্যায়-অবিচার দূর করে।

অন্যদিকে শুধু সরকারই নয়, রাজনৈতিক দল ও তাদের অনুসারী, উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী, গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রদানকারী বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ও তাদের প্রতিনিধি ব্যবসায়িক গোষ্ঠীসহ বিভিন্ন পক্ষ মুক্ত ও স্বাধীন গণমাধ্যম চর্চা এবং তথ্যের অবাধ প্রবাহে বাধা দেয়। চাপাতির আঘাতে ব্লগার ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের ধারাবাহিকভাবে হত্যা কিংবা সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনীর হত্যাকাণ্ড প্রাসঙ্গিক উদাহরণ হতে পারে।

রাজনৈতিক বিবেচনায় গণমাধ্যমের নিবন্ধন এবং সাংবাদিক-আইনজীবীসহ পেশাজীবী প্রতিষ্ঠানসমূহের দলীয় আনুগত্য বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে গণমাধ্যম ও মানবাধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা। বিশেষ করে দলীয় বিবেচনায় নিবন্ধিত গণমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে একপেশে ও মিথ্যা সংবাদ পরিবেশনের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়- যা মানুষকে বিভ্রান্ত করে। এ থেকে সরকার পরিচালনাকারী রাজনৈতিক দল সাময়িকভাবে লাভবান হতে পারে, কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাষ্ট্র ও জনগণ।

আনুগত্য ও নিয়ন্ত্রণের গণমাধ্যম দ্বারা তথ্য প্রদান, প্রাপ্তি এবং মানবাধিকার বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। সুতরাং রাষ্ট্রের মূল ভিত্তিসমূহ শক্তিশালী করতে মুক্ত গণমাধ্যম ও তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। এক্ষেত্রে শুধু সরকারকে এককভাবে অভিযুক্ত না করে সবারই এগিয়ে আসা উচিত।

লেখক: সাংবাদিক

aisujon@yahoo.com,

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

লাইভ

টপ