তদন্তে নতুনত্ব চাই

Send
মাহমুদুর রহমান
প্রকাশিত : ১৩:০৪, মে ০৬, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৪৮, মে ০৬, ২০১৬

মাহমুদুর রহমানচুয়ান্ন ধারাকে প্রায়ই 'কালো আইন' বলে অভিহিত করা হয়। আপাতদৃষ্টে ওটা তাই। বিনা অজুহাতে, শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা নাগরিকদের আটক করতে পারে। তবে আইনের শাসন প্রয়োজন, হাজার আপত্তি থাকলেও উপেক্ষা করার উপায় নেই।
বাদী পক্ষ ভালো করেই জানেন, প্রমাণের অভাবে কত আসামি পার পেয়ে গেছে। আর সবক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রমাণ পাওয়া যায় না। অনুসন্ধানের জন্য এই আইন প্রয়োজনীয়। প্রায় প্রতিটি দেশে একই রকমের আইন রয়েছে।
নয়-এগারোর পরবর্তী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্যাটরিয়োট আইনের আওতায় বিনা অজুহাতে যে কাউকে শুধু অন্তরীণ নয়, গুম করে ফেলা যায়। উপরন্তু এর বিরুদ্ধে কোনও আদালতে মামলা করা যায় না।
বাংলাদেশে এই আইনের বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ- রাজনৈতিক বিরোধীদের দমনে এটাকে ব্যবহার করে সরকার ও পুলিশ প্রশাসন। স্পষ্ট স্বীকারোক্তি না পাওয়া গেলেও বিভিন্ন আইনের বিধান অনুযায়ী প্রমাণাদি ব্যক্তির দখলে দেখিয়ে হয়রানি করা হয়ে থাকে দেশে ও বিদেশে। এ কারণে বছরের পর বছর আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতায় অনেকেই অন্তরীণ আছেন।

আরও পড়তে পারেন: আন্তর্জাতিক জঙ্গিরা স্থানীয় জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে

আলামতের সংগ্রহের ক্ষেত্রে ঢিলেমি, উপস্থাপনের দুর্বলতা এবং কিছু ক্ষেত্রে আলামত নষ্ট হওয়া বা করে ফেলার কারণে অনেক প্রভাবশালী পার পেয়ে যান। তনু হত্যায় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মাথার পেছনে আঘাতের চিহ্ন তনুর বাবা দেখতে পেলেও পুলিশের রিপোর্টে তার উল্লেখ ছিল না। ময়নাতদন্তেও এরকম কিছু অথবা ধর্ষণের আলামতের কোনও কিছু উল্লেখ ছিল না। পরের ময়নাতদন্তের ফল পাওয়া না গেলেও ডিএনএ পরীক্ষার কথা বলা হচ্ছে।
এত পরে ধর্ষণের চিহ্ন খুঁজে পাওয়ার কথা নয়। হই চই-এর পর ‘ভালুক আক্রমণ’ তত্ত্বকে আপাতত ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে। প্রতিবার যেন এক জায়গায় এসে সবকিছু থমকে দাঁড়াচ্ছে। আবার ময়নাতদন্ত এক ধরনের ফ্যাশনে দাঁড়িয়ে গেছে। প্রয়োজনে তা হবে, কিন্তু এক্ষেত্রে প্রথম তদন্তের অসম্পূর্ণতার দায়-দায়িত্ব বা বিচারের কী হবে? ডিএনএ নমুনা প্রথমেই কেন সংগ্রহ হচ্ছে না? কর দাতার টাকায় এত প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা কী নিয়ে ফিরছেন যে এখনও বিদেশের পরীক্ষাগারে সাগর-রুনির ডিএনএ টেস্ট বন্দী হয়ে আছে?

আরও পড়তে পারেন: ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের রায় অবৈধ: সংসদে আইনমন্ত্রী

তদন্তে নতুনত্ব আনতে হবে। প্রয়োজনে, শুরুতেই আইনজ্ঞের উপস্থিতিতেই অনুসন্ধান চালাতে হবে। চুয়ান্ন ধারায় আটককৃতদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই মামলা আনতে হবে, তা না হলে আংশিক কালো আইনের ন্যায়-নীতির কোনও শুভ্রতা রইবে না।

লেখক: কমিউনিকেশন বিশেষজ্ঞ

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

লাইভ

টপ