ডিজিটাল বাংলাদেশের অ্যানালগ প্রেস উইং!

Send
তানভীর আহমেদ
প্রকাশিত : ১২:৪৪, মে ২৩, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:১০, মে ২৪, ২০১৬

তানভীর আহমেদসামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এবং প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের প্রোফাইল ভিজিট করলে সহজেই বাংলাদেশ তথ্য প্রযুক্তিতে কতোটা এগিয়ে গেছে, সে সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা পাওয়া যায়। কিন্তু তথ্য প্রযুক্তির এই উৎকর্ষতাকে কাজে লাগিয়ে গণমাধ্যমকে কতটুকু প্রযুক্তি সেবার আওতায় নিয়ে আসা গেছে, সেই হিসাব তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর পেইজে পাওয়া যায় না।
দেশের প্রেস উইংকে কতটুকু ডিজিটাল করা গেছে সেই বিষয়ে কিছু নমুনা হাজির করতে চাই। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ব্যক্তির রাষ্ট্রীয় সফর দিয়েই শুরু করি। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়াতে গ্লোবাল ওমেন্স ফোরামের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে দেশে ফিরেছেন। ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দীক -এর মেয়ে আজলিয়াকে দেখতে প্রধানমন্ত্রী বুলগেরিয়া যাবার পথে লন্ডনে দুই দিনের যাত্রা বিরতি করেছিলেন। দলীয় নেতাকর্মী কিংবা গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাতের পূর্ব নির্ধারিত কোনও কর্মসূচি না থাকায় আমাদেরও তেমন কোনও বাড়তি পরিকল্পনা ছিলো না এই সফর নিয়ে। কারণ প্রেস উইং থেকে বারবার বলা হয়েছে, কোনও মিটিং হবে না, গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনও বৈঠকও হবে না। প্রধানমন্ত্রী তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সময় কাটাবেন। তবে প্রধানমন্ত্রী বলে কথা, ব্যক্তিগত সফর হলেও সংবাদ হবে। সরকারি সফর হলেও সংবাদ হবে। তাই আমাদের সব ধরনের সফরেই চোখ কান খোলা রাখতে হয়। প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে বিমানে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই লন্ডনে আমাদের অপেক্ষা শুরু হয়, হিথ্রো বিমান বন্দরে নামা থেকেই শুরু হয় সংবাদ। হোটেলে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের যেমন গুরুত্ব রয়েছে, তেমনি হোটেলের বাইরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সংবাদও গুরুত্বপূর্ণ। লন্ডনে চিকিৎসারত লেখক সৈয়দ শামসুল হকের স্বাস্থ্যের খবর নিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সংবাদের যেমন গুরুত্ব রয়েছে, তেমনি প্রথমবারের মতো বঙ্গবন্ধুর নাতনি টিউলিপের নবজাতককে কোলে নেওয়ার ছবির প্রতিও রয়েছে সাধারণ মানুষের আগ্রহ। আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্র থেকে বলা হলো, প্রধানমন্ত্রী কোনও পাবলিক মিটিং-এ বক্তব্য রাখবেন না। লন্ডনের প্রেস উইং বলছে, যেহেতু লন্ডনে প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগত সফর করছেন তাই তেমন কোনও সংবাদ নেই। নাদীম কাদির ভাই (লন্ডনের মিনিস্টার প্রেস) প্রেস রিলিজ দেবেন যথা সময়ে।

আরও পড়তে পারেন: ‘আমি জানি না’

কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লন্ডনে এসেছেন আর দলের নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠক না করে চলে গেছেন, এমন নজির খুব কম। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি, ১৭মে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগের একটি মতবিনিময় সভায় যোগ দিলেন। সেখানেও তাৎক্ষণিকভাবে লন্ডনের ডজন খানেক সাংবাদিককে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলো। অনেক দর্শনার্থীকে হতাশ করে তাজ হোটেলের ছোট্ট একটি হল রুমে দেড় শতাধিক নেতাকর্মীকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের অনুষ্ঠান করলেন। যদিও প্রধানমন্ত্রী এই অল্প সংখ্যক নেতাকর্মীর মাধ্যমে বাকি সবাইকে শুভেচ্ছা পৌঁছে দিতে বলেছেন, কারণ তাৎক্ষণিকভাবে বড় হল ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে লন্ডনে গণমাধ্যমের সমন্বয় নিয়ে পূর্ব প্রস্তুতি না থাকায় গণমাধ্যম কর্মীদের প্রায় তিন ঘণ্টা তাজ হোটেলের সামনে অপেক্ষা করতে হয়েছে। লন্ডনের ব্যস্ত রাস্তায় যেখানে দাঁড়িয়ে থাকাটাই অনেক বড় চ্যালেঞ্জ, সেখানে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা শেষে আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মীদের ভিড়ের মধ্যে রাস্তায়ও দাঁড়াবার জায়গা না পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভা ত্যাগ করে বাড়ি ফিরে যাবার সিদ্ধান্ত নিলেন। তখন প্রেস মিনিস্টার নাদীম কাদিরের চেষ্টায় গণমাধ্যম কর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে প্রবেশ করার সুযোগ পেলেন। হোটেলে প্রবেশ করতে গিয়ে দ্বিতীয় দফায় স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের বাড়াবাড়ির মুখে পড়লেন সাংবাদিকরা। এসএসএফ সদস্যরা গণমাধ্যম কর্মীদের দেখামাত্রই এমন দৃষ্টিতে তাকালেন, যেন প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার চেয়ে দৃষ্টি দিয়ে সাংবাদিকদের অপদস্থ করাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য। কিন্তু এসএসএফ-এর কাছে যদি গণমাধ্যম কর্মীদের তালিকা থাকতো তাহলে গণমাধ্যম কর্মীরা আইডি কার্ড দেখিয়ে সভাস্থলে প্রবেশ করতে পারতেন। তালিকা না থাকায় মিনিস্টার প্রেস নাদীম কাদিরকে মাথা গুনে গুনে সাংবাদিক চিনিয়ে দিতে হলো। এসএসএফ সিদ্ধান্ত দিচ্ছিল কে প্রবেশ করবে কে করবে না! গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে এসএসএফ-এর আচরণ কেমন হবে, তার কোনও নীতিমালা বা প্রশিক্ষণ না থাকায়, বছরের পর বছর ধরে এমন আচরণ গণমাধ্যম কর্মীরা স্বাভাবিকভাবে মেনে নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানের পরবর্তী সংবাদ সংগ্রহ নিষিদ্ধ হবার আশংকায় অধিকাংশ গণমাধ্যম কর্মী এমন অপমান ও তাচ্ছিল্য সহ্য করে আসছেন। ব্রিটিশ পুলিশ সাধারণ নাগরিকদের যেখানে স্যার বলে সম্বোধন করে, আমাদের এসএসএফ সাংবাদিকদের শুধু গলা ধাক্কা দেওয়া ছাড়া বাকি সবই করে! দুর্ব্যবহার কখনও নিরাপত্তার অজুহাত হতে পারে না। স্ক্যানিং মেশিন দিয়ে প্রবেশ করিয়ে পূর্ণাঙ্গ দেহ তল্লাশির পর আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে এমন আচরণ সরকারের বিশেষ এই বাহিনীর প্রতি শ্রদ্ধা নষ্ট করে দেয়। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মনে রাখা উচিত, তাদের কাজ প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা দেওয়া, আর গণামাধ্যম কর্মীর কাজ প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ পরিবেশন করা। এসএসএফ প্রধামন্ত্রীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত এলিট ফোর্স আর গণমাধ্যম কর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রিত অতিথি। প্রত্যেকেরই নিজস্ব মর্যাদা বজায় রেখে কাজ করার সুযোগ থাকা উচিত।

আরও পড়তে পারেন: কে হচ্ছেন তালেবানের নতুন নেতা?

প্রসঙ্গে ফিরে আসি, এসএসএফ বললো, কোনও মোবাইল নেওয়া যাবে না, ব্যাগ নেওয়া ও ট্রাইপড (ক্যামেরার স্ট্যান্ড) নেওয়া যাবে না। টিভি সাংবাদিক প্রবেশের অনুমতি থাকলে তার সঙ্গে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নেওয়ারও অনুমতি থাকাটাই স্বাভাবিক। ব্যাগ নিতে না দিলে ক্যামেরার প্রয়োজনীয় চার্জার, ক্যামেরার লাইট, ব্যাক আপ ব্যাটারি, বাড়তি ক্যাবল, বুম বা রেকর্ডিং কিট একজন ক্যামেরাপারসন কীভাবে বহন করবেন? নিরাপত্তার খাতিরে মোবাইল ফোন ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা থাকাটা হয়তো যৌক্তিক, কিন্তু নির্দিষ্ট দূরত্বে থেকে মোবাইল দিয়ে ভিডিও কিংবা অডিও ধারণ এখন স্মার্ট জার্নালিজমের অংশ। ব্রিটিশ সাংবাদিকরা এখন মোবাইল দিয়ে লাইভ নিউজ কভার করেন, স্কাইপ করেন, মাইক্রো ব্লগিং করেন, টুইট করেন, ফেসবুকে ছবি আপলোড করেন। এখনকার ডিজিটাল যুগে সাংবাদিককে মোবাইল ছাড়া প্রবেশ করতে দেওয়া, আর হাত পা বেঁধে বসিয়ে রাখা একই কথা। টেলিভিশন সাংবাদিকদের ছবি ধারণ করার জন্য ক্যামেরা স্ট্যান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম। ১৭মে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ৪৫ মিনিট বক্তব্য দিয়েছিলেন, একজন ক্যামেরাপারসনের পক্ষে ৪৫ মিনিট ক্যামেরা হাত দিয়ে ধরে রাখা প্রায় অসম্ভব একটা কাজ। স্ট্যান্ড ছাড়া রেকর্ডিং করে ক্যামেরার কাজের মান বজায় রাখা দুরূহ ব্যাপার। মজার ব্যাপার হলো লন্ডনে আমাদের এসএসএফ ক্যামেরা স্ট্যান্ড ব্যবহার করতে দিলো না বটে, কিন্তু বুলগেরিয়াতে গিয়ে ঠিকই বিদেশি সাংবাদিকদের ক্যামেরা স্ট্যান্ড ব্যবহারে বাধা দেয়নি এসএসএফ! লন্ডনে ট্রাইপড ব্যবহারের অনুমতি ছিলো শুধু বিটিভি’র! এখানেও বৈষম্যমূলক আচরণ ছিলো স্পষ্ট। যদিও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে ট্রাইপড ব্যবহারে কোনও বাধা নেই, যদি হলে পর্যাপ্ত জায়গা থাকে।
নিরাপত্তার কারণে যদি সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া না হয়, তাহলে সেটি আগে থেকে জানিয়ে দেওয়া উচিত। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং সংবাদ, ছবি কিংবা ভিডিও সরবরাহ করবেন। কিন্তু বাস্তবে চিত্র ছিলো ভিন্ন! ১৫মে, প্রধানমন্ত্রী লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে নামলেন বিকাল চারটা ১৫ মিনিটে। প্রেস উইং-এর মাধ্যমে আমরা পিআইডির তোলা ছবি পেলাম রাত ৮ টা ২১ মিনিটে। ডিজিটাল এই যুগে লন্ডনে বসে একজন গণমাধ্যম কর্মী হিসেবে ৪ ঘণ্টা পরে ছবি পেয়ে আমি মোটেও সন্তুষ্ট হতে পারিনি। বিমানবন্দর থেকেই তো প্রধানমন্ত্রীর ওয়েবসাইটে ছবি আপলোড হয়ে যেতে পারতো। গণমাধ্যম কর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে ছবি সংগ্রহ করতে পারতেন। বিদেশ সফরের সময় প্রেস টিমে প্রযুক্তিজ্ঞান সম্পন্ন দক্ষ লোকবল থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে এই কাজগুলো করা সম্ভব। লন্ডন প্রেস উইং-এ এত কম জনবল দিয়ে মোটেও প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে গণমাধ্যমকে সামলানো সম্ভব নয়, যেখানে অনলাইন সংবাদ মাধ্যম ও সংবাদভিত্তিক টিভি চ্যানেলগুলোর রয়েছে তাৎক্ষণিক সংবাদ পরিবেশনের ব্যাপক চাহিদা।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকালে আমরা দেখেছি, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর প্রেস টিম বাংলায় স্ট্যাটাস দিয়েছেন, প্রতি ঘণ্টায় মোদির সফর নিয়ে টুইটারে তার ছবি আপলোড করেছে প্রেস টিম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মোদির বাংলাদেশ সফর সম্পর্কে জেনেছে পুরো বিশ্ব! কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে বিদেশ সফর নিয়ে নেই কোনও প্রেস নোট নেই কোনও ফটোফিচার! প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওয়েবসাইটটি প্রধানমন্ত্রীর প্রেস টিমের নিয়ন্ত্রণে নয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে টিমের সঙ্গে যদি প্রধানমন্ত্রীর প্রেস টিমের একটা সমন্বয় করা যায়, তাহলে সহজেই প্রধানমনত্রীর সকল সফরসূচি ও প্রেস নোট ওয়েবসাইট থেকে পেতে পারে গণমাধ্যম কর্মীরা।
২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লন্ডন সফরের সময় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে একটি বৈঠক হয়েছিলো। এ্যালিস্টার ক্যাম্পবেল তখন ১০নং ডাউনিং স্ট্রিটের প্রেস কর্মকতা, এ্যালিস্টার ঠিকই বৈঠকের আগের দিন ই-মেইল করে আমাকে জানিয়ে দিয়েছিলেন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ও শেখ হাসিনার আলোচনার বিষয়বস্তু কী এবং সেখানে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য কী হবে। এ্যালিস্টার অবশ্য এই সংবাদ প্রচারের একটা নিষেধাজ্ঞা দিয়ে দিয়েছিলেন, বৈঠক শেষ হবার আগে এটি প্রচার করা যাবে না। গণমাধ্যম কর্মী হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর ওই সফর সম্পর্কে একটু রিসার্চ করার সময় আমরা পেয়েছিলাম। অন্যদিকে বাংলাদেশ হাই কমিশন একই সফরে নিরাপত্তার অজুহাতে প্রধানমন্ত্রী কখন ডাউনিং স্ট্রিটে যাবেন, সে বিষয়ে গণমাধ্যমকে ঘুম পাড়িয়ে রেখেছিলো! সেই সফরে ঢাকা থেকে আসা একাধিক গণমাধ্যম কর্মী ডাউনিং স্ট্রিটে প্রবেশ করতে পারেননি আগে থেকে নাম নিবন্ধন না করার কারণে। ঢাকা থেকে লন্ডনে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সংগ্রহ করতে এসে বেসরকারি টিভি চ্যানেলের সাংবাদিকদের বিটিভির ফুটেজ শেয়ার করে নিউজ করতে হয়েছিলো।
বিগত ছয় বছরে ডাউনিং স্ট্রিট এগিয়েছে অনেক দূর, এখন ডাউনিং স্ট্রিটের প্রেস কর্মকতারা সপ্তাহখানেক আগেই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর রমজান ও ঈদ শুভেচ্ছার ভিডিও বার্তা পাঠিয়ে দেন। কিন্তু বিগত এক দশকে ডিজিটাল বাংলাদেশের শ্লোগান যতটা পরিচিতি পেয়েছে, গণমাধ্যমের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগের পদ্ধতি রয়ে গেছে অ্যানালগ। গত নভেম্বরে লন্ডনে ই-কর্মাস ফেয়ারে যোগ দিতে এসে আমার একটি টকশোতে হাইটেক পার্কের সচিব ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের একাধিক উচ্চ পর্যায়ের কর্মকতা এসেছিলেন। তাদের সঙ্গে পরিচিত হতে গিয়ে তাদের ভিজিটিং কার্ডে খেয়াল করলাম এখনও তারা সরকারি কাজে ইয়াহু ইমেইল এ্যাড্রেস ব্যবহার করেন! প্রযুক্তির এমন অগ্রগতি নিয়ে ই-কর্মাস ফেয়ারে আসার যৌক্তিকতা জানতে চাইলে সচিব মহোদয় হেসে জবাব দিলেন, এই কথাটা নাকি তাদেরকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ও বলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলার পরও তারা নিজস্ব অফিসিয়াল ইমেইল ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারেন নি! সত্যি সেলুকাস! ডিজিটাল বাংলাদেশের হাইটেক পার্কের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে লন্ডনের প্রেস উইং এখনও ইয়াহু ইমেইল আইডি ব্যবহার করেন!

অনলাইনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফোকাস বাংলার ফটোগ্রাফার ইয়াসির কবির জয়কে সাধুবাদ না দিয়ে পারছিনা, তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে তার নিজস্ব ফেসবুক পেজে যথাসাধ্য চেষ্টা করেন প্রয়োজনীয় ছবি আপলোড করতে। অথচ এমন আপডেট থাকা প্রয়োজন ছিলো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে। লন্ডনের মূলধারার কোনও সাংবাদিক যদি প্রধানমন্ত্রীর লন্ডন ও বুলগেরিয়া সফর সম্পর্কে কিছু জানতে চান তিনি প্রথমেই গুগলে সার্চ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রবেশ করবেন, অথবা বাংলাদেশ হাই কমিশন লন্ডনের ওয়েবসাইটে যাবেন। প্রধানমন্ত্রীর ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে দেখবেন প্রধামন্ত্রীর লন্ডন কিংবা বুলগেরিয়া সফরের কোনও তথ্যই নেই! গ্লোবাল ওমেন্স লিডার্স ফোরামে প্রধান বক্তা হিসেবে প্রধানমনন্ত্রী কী বলেছেন এ বিষয়েও নেই কোনও টুইট! কারণ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কোনও ফেসবুক ও টুইটার আইডি নেই!

লেখক: সাংবাদিক ও গবেষক, বাংলা ট্রিবিউনের বিশেষ প্রতিনিধি ও একাত্তর টেলিভিশনের লন্ডন প্রতিনিধি

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

লাইভ

টপ