মুখ্য হলো শিক্ষা, পাস নয়

Send
মাহমুদুর রহমান
প্রকাশিত : ১২:৫৫, মে ২৭, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:৫৭, মে ২৭, ২০১৬

মাহমুদুর রহমানমাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের উল্লাস সব সময় আনন্দ ও ভালো লাগার উদ্রেক করে। কিন্তু দুজন সম্মানিত শিক্ষক এবং এতো জাঁদরেল অর্থনীতিবিদের সাম্প্রতিক বক্তব্যে প্রতীয়মান হয় যে- শিক্ষার্থীরা পাস করলেও তাদের প্রাপ্ত শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সৃজনশীল পদ্ধতির পাঠ ও প্রশ্ন নিয়ে বক্তব্যে অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ অনেকের মনের কথা বলেছেন। তিনি শিক্ষামন্ত্রীর উপস্থিতিতেই বলেছেন- ‘বেশির ভাগ শিক্ষকই এই পদ্ধতি ভালো করে বোঝেন না।’ এমসিকিউ নিয়ে তো তিনি রীতিমতো ক্ষিপ্ত। নম্বর কমানোর কথাই তিনি বলেছেন, বাদ দিতে পারলে আরও ভালো। ড. জাফর ইকবাল তো বলেই ফেললেন- নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বই তিনি নিজেই বুঝতে বেগ পান, তাহলে ছাত্রছাত্রীদের তা বোঝা আরও কঠিন। আর এ বি এম মির্জা আজিজুল ইসলামের মতে- অদক্ষ জনপ্রশাসন দিয়ে উচ্চাভিলাষী বাজেট বাস্তবায়নে সম্ভব নয়।
তিন জনের বক্তব্য সরাসরি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি তির্যক সমালোচনা। ড. জাফর ইকবাল যথার্থই বলেছেন- প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে একই রকমের গ্রেডিংয়ের প্রয়োজন। শিক্ষাব্যবস্থা নোটবই আর কোচিং ব্যবসার কাছে জিম্মি হবে কখনই তা গ্রহণযোগ্য নয়। মফস্বল বিদ্যালয়ের ফলাফলের বিপর্যয়ও দুঃখজনক। শিক্ষাদানে ম্যানেজিং কমিটির অযাচিত হস্তক্ষেপ নিয়ে অধ্যাপক আবু সাঈদ এতটাই রুষ্ট যে তিনি বলেই ফেললেন- সব বিদ্যালয়ে ক্যাডেট কলেজ ব্যবস্থা চালু করাই ভালো।
এর মধ্যে অবশ্য দক্ষিণা হাওয়া বইছে। Under privileged Children’s Education Programme বা ইউসেপ প্রমাণ করেছে যে- সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত, দরিদ্র ছাত্ররা কোচিং আর নোটবই ছাড়াই এই হযবরল ব্যবস্থায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হতে পারে। তাহলে বড় বড় হর্তাকর্তারা ইউসেপ এর কাছ থেকে সাফল্যের মন্ত্রটি জেনে নিতে পারেন। পাশাপাশি এই উকুনগুলো বেছে শিক্ষকদের পরামর্শে ব্যবস্থাপকরা তা ঢেলে সাজাতে পারেন।
সৃজনশীল ব্যবস্থা বহু আগে থেকে এসএটি (SAT) পরীক্ষার একটি অংশ এবং এমসিকিউ কিন্তু এক লাইনের লেখা নয়, একটি অনুচ্ছেদ এর ওপর প্রশ্ন হয়। বলা বাহুল্য এই পরীক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের জন্য। মুখস্ত বিদ্যার বেড়াজাল থেকে বেরুতে গিয়ে মাকড়সার জালে পড়েছে শিক্ষা। কাগজে-কলমে শিক্ষার বাইরেও প্রতিযোগিতামূলক জীবনের জন্য তাদের তৈরি করতে হবে। পরিবর্তিত সমাজে ভূমিকার জন্য তাদের হতে হবে প্রস্তুত। এই দিকগুলোর অভাব জনপ্রশাসনকে করেছে স্থবির। মির্জা আজিজুল ইসলামের বক্তব্যে তা প্রকাশ পায়। প্রতিবছরই উচ্চাভিলাষী বাজেট পেশ করা হয়, উদ্বৃত্ত দেখানো হয়। প্রতিবছরই ঘাটতি হয় আর বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা কাঁচির খপ্পরে পড়ে। দক্ষতার উন্নতি আসবে গোড়া মজবুত হলে, যুৎসুই প্রশিক্ষণ এবং প্রশিক্ষণ লব্ধ জ্ঞান কাজে লাগালে।

আরও পড়তে পারেন: সাবিরারাই কি সমাজের তারুণ্য?

বাল্যশিক্ষার হরফ দেখলে চলবে না। ‘লেখাপড়া করে যে গাড়ি-ঘোড়া চড়ে সে’ উদ্দীপনমূলক বাক্য, আক্ষরিক অর্থে নয়। সময় আর প্রেক্ষিত ছিল ভিন্ন, যেমন ছিল অভিলাষ। হয়তো সমাজ চলছে অন্য দিকে। শিক্ষিতদের চাইতে অন্যরা ভালো আছে। এর দোষ শিক্ষার নয়, সমাজের, সামাজিক ন্যায়-নীতির এবং সর্বোপরি মূল্যবোধের অবক্ষয়।

লেখক: কমিউনিকেশন বিশেষজ্ঞ

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

লাইভ

টপ