অনলাইনে গরু, মিলছে না বাড়ি ফেরার টিকিট!

Send
তানভীর আহমেদ
প্রকাশিত : ১২:১৬, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:২৬, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০১৬

তানভীর আহমেদশুরুতেই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলককে একটু ধন্যবাদ দিতে চাই। গেল বছর লন্ডনে ই-কমার্স ফেয়ারে মন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে দেখা হওয়ার সময় সরকারি কর্মকর্তাদের অফিসিয়াল ই-মেইল ব্যবহারের ব্যাপারে তিনি দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনে ইতিপূর্বে আমার একটি কলামে আমি অফিসিয়াল ইমেইল ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলাম। বিলেতে এর আগে অনেক মন্ত্রী অনেক কথা দিয়েছিলেন তবে এক বছরের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি আমরা লক্ষ্য করেছি তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের সাম্প্রতিক ঘোষণার মধ্য দিয়ে। তিনি সরকারি কর্মচারিদের অফিসিয়াল ই-মেইল ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছেন। নিঃসন্দেহে এটি ডিজিটাল বাংলাদেশের দৃশ্যমান অগ্রগতি। এজন্য মন্ত্রী মহোদয় সাধুবাদ পেতেই পারেন।
তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মতো রেলমন্ত্রী ও যোগাযোগ মন্ত্রীদেরও সাধুবাদ দিতে চাই যদি তারা পরিবহনের টিকিট পদ্ধতিকে অনলাইন করেন। প্রতি ঈদের মতো এবারও শংকা রয়েছে নগরবাসীর সবাই ঈদে বাড়ি ফেরার টিকিট পাবে তো? রেলমন্ত্রী ও যোগাযোগ মন্ত্রী মহোদয়ের পক্ষ থেকে নানা নিশ্চয়তার পরও আমরা দেখি প্রতি বছর ঈদে বাড়ি ফিরতে নগরবাসীর সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। প্রতি ঈদের আগে কমলাপুর রেল স্টেশনে নগরের মানুষ রীতিমতো কাঁথা বালিশ নিয়ে হাজির হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজেও কেউ টিকিট নামক সোনার হরিণের দেখা পায় কেউবা খালি হাতে বাড়ি ফেরে। অতিরিক্ত দামে কালো বাজারিদের হাত থেকে টিকিট পাওয়ার খবরও নতুন নয়।
রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এবার ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে ২ লাখ ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহন করবে বাংলাদেশ রেলওয়ে। যাত্রীদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে ১৯ টি ইঞ্জিন মেরামত করে সচল করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রতিদিন ৫০ হাজার যাত্রী পরিবহনের ক্ষমতা রয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ের। এই ২ লাখ ৬০ হাজার টিকিট পেতে নিশ্চয়ই কয়েক গুণ যাত্রী ঘণ্টার পর ঘণ্টা কমলাপুর স্টেশনে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকবেন। যদিও চাঁদ দেখা যাওয়ার ওপর নির্ভর করে শেষ মুহূর্তের টিকিটের তারিখ নির্ধারণ তবুও অনলাইনের টিকিট বিক্রি পদ্ধতি কিছুটা হলেও নাগরিক দুর্ভোগ কমাতে সহায়তা করবে, তেমনি কালো বাজারি বা দুর্নীতি কমাতে সহায়তা করবে।
পরিবহন সংগঠন ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্য মতে প্রতি ঈদে কম বেশি ৫০ থেকে ৭০ লাখ নগরবাসী ঈদের ছুটিতে ঢাকা ছাড়েন। এদের মধ্যে অধিকাংশই সড়ক, নৌ ও রেলপথে ভ্রমণ করেন। কিন্তু দূরপাল্লার এই টিকিট অনলাইনে কেনার সুবিধা করে দেওয়া এখন সময়ের দাবি।

ইংল্যান্ডে অধিকাংশ ট্রেনই এখন প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে। মোট ২৮ টি রেলওয়ে প্রতিষ্ঠান ও ন্যাশনাল এক্সপ্রেস বাস তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে টিকিট বিক্রি করে থাকে। বড়দিনের ছুটি কিংবা সামার হলিডের অধিকাংশ টিকিটই বিক্রি হয় অনলাইনে। শুধু তাই নয় বেসরকারি উদ্যোগে দ্য ট্রেন লাইন ডট কম (www.thetrainline.com) নামে একটি ওয়েবসাইট আছে যারা দেড় পাউন্ডের বিনিময়ে যেকোনও ট্রেনের টিকিট ব্যবস্থা করে দেবে। ব্যক্তিগত কাজে আমাকে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন শহরে ট্রেনে যাতায়াত করতে হয়। আমি আমার মোবাইলে দ্য ট্রেন লাইনের একটা অ্যাপস ডাউনলোড করে রেখেছি। ইংল্যান্ডের যেকোনও স্থানে ট্রেনের টিকিট কাটতে আমার সময় লাগে ৫ থেকে ১০ মিনিট।

আমি বলছি না বাংলাদেশ আজ, কাল কিংবা পরশু‘র মধ্যেই ব্রিটেনের মতো এতো শক্তিশালী অনলাইন টিকিটিং পদ্ধতির সেবা চালু করতে পারবে। কিন্তু এই ভাবনা আমাদের শুরু করতে বাধা কোথায়? রেল মন্ত্রণালয়, যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে যদি সমন্বয় সাধন করা যায় তাহলে অনলাইন টিকিট পদ্ধতি চালু করা বাংলাদেশের জন্য অসম্ভব নয়। যেখানে দেশের ৩ কোটি নাগরিক ইন্টারনেট ব্যবহার করেন এই ৩ কোটি নাগরিক অন্তত অনলাইনে টিকেট সংগ্রহ করার পক্ষেই তাদের মতামত দেবেন, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু যাত্রী হিসেবে আমি অর্থের বিনিময়ে যে সেবাটি কিনতে চাই, সেই সেবা যদি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান দিতে না পারে তাহলে সেই অর্থ ফেরত দেওয়া বা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধানও চালু হওয়া দরকার। বিমান পথে যাত্রীদের ক্ষতিপূরণের বিধান থাকলেও এখনও সড়ক, রেল ও নৌ পথে প্রতিশ্রুত সেবা না পেলে যাত্রীদের ক্ষতিপূরণের বিষয়টি বাংলাদেশে এখনও স্বপ্ন। সেই অর্থে পিক, অফপিক আর সেমিপিক টাইমে পর্যায়ক্রমে কম দামে টিকিট বিক্রি করার কথা ভাবাতো রীতিমতো দিবা স্বপ্নের মতো।

তবে ডিজিটাল বাংলাদেশের বেসরকারি খাত যে একেবারে এগোয়নি সেকথা বলা যাবে না। বিশ্ববিখ্যাত ই-কমার্স সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন, আলিবাবা কিংবা ই-বে-তে খুঁজলে গরু পাওয়া যাবে না কিন্তু বাংলাদেশের বিক্রয়.কমে সার্চ দিলে কোরবানির গরু পাওয়া যাবে। কিন্তু হতাশার জায়গাটা হলো অনলাইনে কোরবানির গরু, খাসি কিংবা উট পাওয়া গেলেও বাড়ি ফেরার আগাম টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না!

লেখক: বাংলা ট্রিবিউনের বিশেষ প্রতিনিধি ও একাত্তর টেলিভিশনের যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি

আরও খবর: ফেসবুকে হয়রানি: প্রতিকার মিলবে যেভাবে

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

লাইভ

টপ