তিন কন্যার জয় এবং ধর্মীয় উগ্রপন্থীদের পরাজয়

Send
আফরিন নুসরাত
প্রকাশিত : ১২:৫৯, মে ০৯, ২০১৫ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৫২, মার্চ ১৮, ২০১৭

আফরিন নুসরাতগত ৭ মে পুরো পৃথিবীর এক সময়ের শাসক এবং অন্যতম পরাশক্তি গ্রেট বৃটেনে হয়ে গেল ৫৬তম জাতীয় নির্বাচন। এই নির্বাচনে বাংলাদেশের তিনকন্যা রুশনারা আলী, রূপা হক এবং বঙ্গবন্ধুর নাতি টিউলিপ সিদ্দীক বিজয় অর্জন করেছেন। আজ পুরো জাতি এই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় ছিল! এই বিজয় পুরো জাতির বিজয়, এই বিজয় বাঙালি জাতিস্বত্তার বিজয়।
তিন বঙ্গকন্যাই লেবার দলের প্রার্থী ছিলেন। টিউলিপ সিদ্দীক ও রূপা হক প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হলেও টানা দ্বিতীয়বার এমপি নির্বাচিত হলেন সিলেটি কন্যা রুশনারা আলী। বেথনেল গ্রিন ও বো থেকে দলের পক্ষে ৩২ হাজার ৮৮৭ ভোটে জয় পেয়েছেন রুশনারা আলী। তার পক্ষে ভোট পড়েছে ৬১ শতাংশ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ পার্টির ম্যাথিউ স্মিথ পেয়েছেন ৮ হাজার ৭০ ভোট।
লন্ডনের ইলিং সেন্ট্রাল ও একটনের প্রার্থী রূপা হক জয় পেয়েছেন। ২২ হাজার ৭শ’ ভোট পেয়ে নির্বাচিত রূপা তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী টোরি দলীয় প্রার্থীর চেয়ে প্রায় ‌১ হাজার ভোট বেশি পেয়েছেন।
অপরদিকে টিউলিপের নির্বাচনি এলাকা ছিল লন্ডনের হামস্টেড ও কিলবার্ন। টিউলিপ মোট ২৩ হাজার ৯৭৭ ভোট পেয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী টোরি দলীয় (কনজারভেটিভ দল) প্রার্থী সায়মন মারকাসের চেয়ে ১ হাজার ১৩৮ ভোটের ব্যবধানে এমপি নির্বাচিত হন। এর আগে এই আসনে যিনি এমপি নির্বাচিত হয়েছিল তিনি মাত্র ৪২ ভোট বেশি পেয়ে এমপি নির্বাচিত হয়েছিল। এই আসনটি বরাবর মার্জিনার আসন হিসেবে পরিচিত সবার কাছে এবং তার সঙ্গে এবার আরও বেশি উপমা যুক্ত হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর নাতি টিউলিপ সিদ্দীক নির্বাচন করায়! স্থানীয় প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার পাশাপাশি জাতীয় মিডিয়ায় অন্যতম শিরোনাম হয়ে উঠে আসে লন্ডনের হামস্টেড ও কিলবার্নের নির্বাচনি খুঁটিনাটির খবর।
৮ মে স্থানীয় সময় ভোর ৫টায় লন্ডনের কেমডেন ভোট গণনা কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসার টিউলিপকে এমপি হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।

এই জয় বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে সারাবিশ্বে বাঙালি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী সব নাগরিকদের বিশ্ব দরবারে নতুন পজেটিভ ইমেজে পরিচিত করিয়ে দেবে। যেই প্ল্যাটফর্ম তারা তৈরি করেছে সেটা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আশীর্বাদ হয়ে থাকবে। ৭ মে বৃটেনে বাংলাদেশিদের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। এই যাত্রা অব্যাহত থাকলে হয়তো বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী পদও দখলে নিয়ে নেবে বাঙালি কন্যারা।

এখন একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি। সুশীল সমাজের একটি অংশ প্রলাপ বকছেন 'বঙ্গবন্ধু দৌহিত্র টিউলিপ কেন নিজের দেশ ছেড়ে পরদেশে নির্বাচন করলেন!' এই প্রশ্ন করে যারা এই ঐতিহাসিক বিজয়কে জর্জরিত করতে চাচ্ছেন তাদের উদ্দেশেই বলি, বঙ্গবন্ধু এবং তার পরিবার বাঙালি জাতির জন্য যে ত্যাগ এবং সেবা প্রদান করেছেন সেটার যথাযথ মূল্য দিন। দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য প্রতিনিয়ত তারা সেবা নিশ্চিত করে যাচ্ছেন। আজ  তারা স্বমহিমায় বিশ্ব দরবারে উজ্জল ভূমিকা রেখে চলেছেন।আমি তাদের এই অগ্রযাত্রাকে বাহবা দেই। বঙ্গবন্ধু আমাদের লাল সবুজের একটি পতাকা এনে দিয়েছিলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা সেই পতাকাকে স্বাবলম্বী করেছেন আর বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্রীরা বিশ্বে সেই পতাকা উঁচিয়ে রেখেছেন।

ইতোপূর্বে শেখ হাসিনা কন্যা অটিজম নিয়ে কাজ করে জাতিসংঘে অটিজম বিষয়ক শুভেচ্ছা দূত হয়েছেন, সজীব ওয়াজেদ জয় আইটি সেক্টরের উন্নয়নে যে অভূতপূর্ব সাফল্য দেখিয়েছেন তা আমাদের কারও অজানা নয়। রেদোয়ান সিদ্দীক ববি ইয়াং বাংলার প্লাটফর্মের মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের গ্লোবাল ভিলেজে প্রতিযোগিতা করার সুযোগ করে দিচ্ছেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী, ধর্মীয় উগ্রচিন্তার ধারকদের একটি অন্যতম ঘাটি ছিল গ্রেট বৃটেন। বৃটেনের জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলে সেই সব ষড়যন্ত্রকারীদের মুখে ঝাঁটা পড়েছে। তারা শুরু থেকেই নানান ছল-ছাতুরি এবং প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে এই ত্রিরত্নের বিরোধিতা করে আসছিলেন এবং এই জয়ের মাধ্যমে তাদের কুচক্রের পরাজয় ঘটলো। জামায়াতের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক বা বড়-বড় বুদ্ধিজীবী নেতা তাদের যে ঘাটি গড়েছিলেন, সেই ঘাঁটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে সুনামি আঘাত আনলো টিউলিপসহ রুশনারা ও রূপার জয়ের মাধ্যমে।

টিএসসি'তে যারা সংঘবদ্ধভাবে নারীর ওপর যৌন নিপীড়ন চালিয়ে নারীর অগ্রযাত্রাকে প্রতিহত করতে চেয়েছিল, তাদের জন্য এই জয় কফিনে পেরেক মারার মতোই হয়েছে। বাংলাদেশের নারীরা আজ  শুধু দেশে নয় স্বমহিমায় দেশের বাহিরেও উজ্জ্বল নক্ষত্র!

সর্বোপরি এই জয় নারীর অগ্রযাত্রাকে আরও মজবুত করেছে এবং শফী হজুরের তেঁতুল ত্বত্ত্বকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে।

জয়তু নারী!

জয়তু ত্রিরত্ন!

লেখক:  সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী সাংসদ

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

লাইভ

টপ