Vision  ad on bangla Tribune

জঙ্গিবাদ ও ব্রিটেনে মুসলমানদের গন্তব্য

মুনজের আহমদ চৌধুরী১৬:৩৫, জুন ২০, ২০১৭

মুনজের আহমদ চৌধুরীমরছে মানুষ। কিন্তু দৃষ্টি ভঙ্গির কারণে অনেকে সেটি দেখেন মুসলমান, খ্রিস্টান, ইহুদি হিসেবে। চোখের দৃষ্টিও সব ক্ষেত্রে যে সত্যি বলে, সেটিও তো নয়।
রবিবার রাতে লন্ডনের ফিনসবারি পার্ক মসজিদের অদূরে মুসল্লিদের ওপর হামলার ঘটনা ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সব মানুষের চোখ অশ্রুসজল করে তুলেছে। সরে যেতে শুরু করেছে মুসলমানদের প্রতি সাম্প্রদায়িকদেরও সন্দেহের দেয়াল।
সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর অস্ত্রবাজ দুনিয়ার অধিপতিদের একটি শত্রু পক্ষের দরকার অনিবার্য হয়ে ওঠে। আজকের ইসলামের নামে সন্ত্রাসের উৎস যে, সেই আগুন নিয়ে খেলা; তার আক্ষরিক-দালিলিক প্রমাণ হয়তো নেই। সাম্রাজ্যবাদ তার স্বার্থেই আইএস, আল-কায়েদা, কখনও তালেবান কিংবা কখনও জেএমবি নামে জঙ্গি বা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সৃষ্টি করে। আবার প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে নির্মূলে ব্যস্ত হয়। মাঝখানে রয়ে যায় মতবাদ নামের ভুলের বিষফোঁড়া।
এ খেলা থেকে বেরুবার কথা ব্রিটেনে জেরেমি করবিনের মতো নেতারা বলছেন। যদিও ব্রিটেন বিশ্বে এখনও অন্যতম অস্ত্রবিক্রেতা রাষ্ট্র।
সিরিয়া, আফগানিস্তানে মানুষ মরে, যুদ্ধবাজেরা দেখে সন্ত্রাসি মুসলমান হিসেবে। ব্রিটেন বা আমেরিকায় যখন আইএস হামলা চালায়, তখনও কারও কারও মনে নীরব সমর্থন থাকে যেন সেটি আগের গণহত্যারই পাল্টা মোক্ষম জবাব। প্রকৃত অর্থে আসলে মরছে মানুষ।

রবিবার থেকে ফিনসবারি পার্ক মসজিদে হামলার পর এক ঘণ্টার ভেতরে মুসলিম কাউন্সিলের বিবৃতি এসেছে। ঠিক এখন মুসলমানরা এখানে আসলেই আক্রান্ত।

কিন্তু কেবল বিবৃতি আর কথার মালার কি সাধ্য আছে ভয়াল পাশবিকতা রুখে দেওয়ার?

এখন শক্ত বিবৃতির পাশাপাশি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমাদের সামর্থের সবটুকু দিয়ে সর্বোচ্চ শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদটাও দরকার। জানান দেওয়া দরকার, ধর্মের নাম ভাঙানো এ সন্ত্রাস মুসলমানরা কোনোভাবেই সমর্থন করেন না। যে প্রতিবাদের প্রতিধ্বনি, ব্রিটেনের সব মানুষকে নাড়িয়ে দিতে পারে। স্লোগানের, জাগরণের শক্তি, ইসলামের সহনশীলতার শিক্ষা যাতে ভীত মাড়িয়ে দেয় ঘৃণা আর সব বিদ্বেষের। সময় অনেক গড়িয়েছে। ব্রিটেনের পথে-ঘাটে, টিউব স্টেশনে এখন আশঙ্কাজনক ভাবে হামলা আর বিদ্বেষের শিকার হচ্ছেন মুসলমানরা। হেইট ক্রাইম তুলে দিয়েছে সহনশীলতার অতীতে ঘৃণার দেয়াল। চক্রান্তকারীরা ইসলামের পবিত্র নামটির অপব্যাখ্যা সুকৌশলে ছড়িয়ে দিয়েছে ইংলিশদের মাঝে। ইসলামকে অপব্যাখ্যা করে মুসলিম মানেই প্রশ্নবোধকটির সঠিক জবাবটি তাদের পাইয়ে দেওয়ার এখনই সময়।

এদেশে আমাদের সন্তান, প্রজন্মের জন্য বর্ণবাদের ঘৃণ্য বর্ণ মুছবার সংগ্রামে আর কোনো এথনিক কমিউনিটি অগ্রণী ছিল না। লন্ডনে কৃষ্ণাঙ্গদের ব্রিকস্টন রায়টের পর বাংলাদেশিরাই ছিলেন অগ্রণী। পূর্ব লন্ডনের আলতাব আলী পার্ক বর্ণবাদের বিরুদ্ধে শহীদ আলতাব আলীদের ত্যাগের শহীদ মিনারময় আমাদের অর্জনের স্তম্ভ। ফিনসবারি পার্কেও রবিবার রাতে প্রাণ দিয়েছেন বাংলাদেশের সন্তান, প্রবীণ মকররম আলী।

ইডিএলের মতো বর্ণবাদীদের পূর্ব লন্ডনের মুসলমানরা ঐক্যবদ্ধভাবে অতীতে বিতাড়ন করেছেন। সেভাবে এখন যদি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মুসল্লিরা জুম্মার পর অথবা যে কোনও পরিকল্পিত শান্তিপূর্ণ পথে সংহতভাবে মাঠে নামার সময়।

তাহলে ইসলামের অপব্যাখ্যা বা মুসলমানদের সম্পর্কে ব্রিটিশ ইংলিশদের ভুল ধারণার পুরোপুরি অবসান নাই হোক, অন্তত আমাদের বক্তব্যটি, শান্তির শাশ্বত বার্তাটি তো তাদের কাছে তো পৌঁছাবে। থামবে দূরত্ব রেখার দৌরাত্ব।

ঘৃণা আর অশান্তির পথটি ইসলামের নয়। সেটি রবিবার রাতে হামলাকারী ব্যক্তিটিকে মারতে নিবৃত্ত করে ফিনসবারি পার্ক মসজিদের ইমাম ব্রিটেনকে আবারো সহিংসার বিপরীতে অহিংসার শ্রুত অক্ষরে জানিয়ে দিয়েছেন। মোহাম্মদ মাহমুদ নামের ইমাম আমাদের শুরুর পথটি দেখিয়ে দিয়েছেন।

অনেকে বলবেন, এখানকার স্বীকৃত আর অস্বীকৃত বর্ণবাদের কষাঘাতের কথা। রবিবার রাতেও তো ফিনসবারি পার্কের ঘটনার প্রথম দুঘণ্টা বিবিসি তো আংশিক খবর প্রচার করেছে। গ্রিনফেল পার্কের আগুনেও ঘুরে ফিরে সেই কজন ভিকটিমের স্বজনদের বক্তব্যই শুধু শুনিয়েছে মূল ধারার বহু মিডিয়া। ব্রিটেনের ভিসা থেকে শুরু করে সর্বত্রই অন্যায্য আচরণের নজীর।

তবুও বলি, ব্রিটেনে জঙ্গিবাদের পরিকল্পিত দেয়ালটি ভাঙতে আমাদের সন্তানরাই পারবেন। অতীতের উদাহরণ পথটি তাই বলে।

লেখক: যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাংবাদিক

 

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

samsung ad on Bangla Tribune

লাইভ

টপ