কী বিপদ হতে পারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিয়ে?

Send
ফজলুল বারী
প্রকাশিত : ১৫:৩৬, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৫৬, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৭

ফজলুল বারীরোহিঙ্গা শরণার্থী ইস্যু বাংলাদেশের জাতীয় আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নানামুখী স্পর্শকাতর অবস্থার সৃষ্টি করেছে। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের যাতে কেউ বাড়িভাড়া দেওয়া না হয়, শরণার্থীরা যাতে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়তে না পারে,  পরিবহনে যাতে তারা চড়তে না পারে এমনসব নির্দেশনা জারি করেছে পুলিশ। একটা দেশ তার নিরাপত্তার স্বার্থে এমন সিদ্ধান্ত নিতেই পারে। কিন্তু গোসাই কিল মারবেন ঠিক আছে কেন শরণার্থীরা ছড়িয়ে পড়ছে তা দেখবেনতো আগে। মনে রাখবেন এই শরণার্থীদের আমরা দাওয়াত করে আনিনি। তারা শখে নিজেদের বাড়িঘর-সম্পদ ফেলে আমাদের দেশে বেড়াতেও আসেননি। ঝড়-সাইক্লোন যখন আসে তখন কোনও সীমান্ত মানে না। আর রোহিঙ্গা সংকটের নিকট সীমান্ততো বাংলাদেশ। যেমন লেবাননের বিপদ সীমান্তের নাম ইসরায়েল। প্রাণ হাতে যারা বাঁচার আশায় বাংলাদেশে এসে উঠেছে তাদের বেশিরভাগতো এখনও খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন। ত্রাণ ব্যবস্থায় এখনও শৃঙ্খলা আসেনি। কারণ একটা সাইক্লোনের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলার যে সব প্রস্তুতি শুরু হয় এবারের রোহিঙ্গা শরণার্থী সাইক্লোন মোকাবিলার কোনও প্রস্তুতি আমাদের ছিল না অথবা এর প্রচণ্ড রূপ সম্পর্কে আমাদের কোনও ধারণাও ছিল না।
বাংলাদেশে ঢোকার আগে শরণার্থীদের বাড়িঘর মাথার ওপর আচ্ছাদন ছিল। খাবার ছিল ঘরে। পেছনে বন্দুকের তাড়া মাড়িয়ে কাটিয়ে ক্লান্ত-বিধ্বস্ত মানুষগুলোকে আমাদের অভ্যর্থনা করার পরিকল্পনা ছিল না। আমাদের প্রথম তাদের বাধা দেওয়ার নিয়ত ছিল। কারণ আগে থেকে আমাদের এখানে অনেক শরণার্থী ছিল। আমরা নীতিগতভাবে আর নতুন শরণার্থী নিতে চাইনি। কেউ তার দেশে আরেক দেশের শরণার্থী নিতে চায় না। কিন্তু ভীতসন্ত্রস্ত শরণার্থীরা যখন বানের লাহান এসে ঢুকতে শুরু করেছে তখন আর বাধা দেওয়ার অবস্থা ছিল না। এ পর্যায়ে সুযোগ সন্ধানীরা জনপ্রতি ২ হাজার বা এরও বেশি টাকা নৌকাভাড়া গুনে নেওয়া ছাড়াও মেয়েদের নাকফুল খুলে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

কিন্তু এপারে পৌঁছে শরণার্থীরা আরেক বেদিশা অবস্থার মধ্যে পড়েন। মাথা গোজার ঠাঁই নেই। এত নিরাশ্রয় মানুষকে একসঙ্গে আশ্রয় দেওয়ার অবস্থা-সঙ্গতি আমাদের ছিল না। তা সম্ভবও নয়। আগতদের অনেকে বার্মিজ বাহিনীর নৃশংসতায় আহত অবস্থায় এসেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন আগত রোহিঙ্গা নারী শরণার্থীদের নব্বইভাগ ধর্ষিতা! কিন্তু আজও তাদের ডাক্তারি পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আগতদের অনেকে ট্রমাক্রান্ত। দীর্ঘ পথ হেঁটে এসে এখানে আবার মাথাগোঁজার ঠাঁই না পেয়ে তাদের অনেকে এরমাঝে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের জরুরি সেনিটেশন ব্যবস্থায় নেওয়া সম্ভব না হওয়ায় এরমাঝে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন অনেকে। টেলিভিশনে তাদের উদ্দেশে ট্রাক থেকে ত্রাণ ছুঁড়ে দেওয়া, ত্রাণ নিয়ে কাড়াকাড়ির ছবি দেখে চোখে পানি এসেছে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে, সেনাবাহিনীর মাধ্যমে পরিকল্পিত ত্রাণ বিলির অনুরোধ করে লিখেছিলাম ফেসবুকে। আমাকে একাধিকজন  জানিয়েছেন- ভাইরে এভাবে বেসরকারি উদ্যোগে ত্রাণ দেওয়া না হলে ক্ষুধার কষ্টে অনেকে হয়তো এরমাঝে মারাও যেতো। কারণ সরকারি সবকিছুতেই সিটিং দিয়ে মিটিং, ফাইল চালাচালি আগে। এসব সিটিং-মিটিং করতে করতেইতো অনেকের প্রাণ যায়। আর কক্সবাজার প্রশাসনের অত জনবল নেই। যুক্তিগুলো ফেলনা মনে হয়নি।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের নেতৃত্বে সুশৃঙ্খল ত্রাণ বিতরণ ব্যবস্থা গড়তেই হবে এবং তা হবে। প্রধানমন্ত্রী সংসদে ত্রাণ কার্যক্রমে সেনাবাহিনীকে কাজে লাগানো হবে বলেছিলেন। কিন্তু সেটি শুরু হয়েছে কী? হলে কবে নাগাদ শুরু হবে? এত লোকের মাথা গোঁজার ঠাঁই, শৌচাগার, খাবার-পানির ব্যবস্থা চাট্টিখানি কথা নয়। কাজেই বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের পর কেউ যদি ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনায় থাকার ব্যবস্থা করতে পারেন তাতে আমি অসুবিধা দেখি না। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও বিপুলসংখ্যক শরণার্থী ভারতে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে অথবা ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনায় ছিলেন। একাত্তরে ভারতে শরণার্থী ক্যাম্পগুলোর অবস্থাপনা, জীবনমান ব্যবস্থাপনার অপ্রতুলতার কারণে তখন ডায়রিয়া-কলেরায় অনেক শরণার্থীর মৃত্যু ঘটে। তেমন মৃত্যুর চাইতে জীবন বাঁচানো অনেক বড়। আমাদের নিজস্ব অনেক সমস্যা থাকা স্বত্ত্বেও এত শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে আমরা যে মহানুভবতা দেখিয়েছি এর প্রশংসা করছে মানবিক বিশ্ব। বিশ্বের নানা দেশ থেকে তাদের জন্যে ত্রাণ সামগ্রী আসছে। সারা বাংলাদেশ জুড়ে শরণার্থীদের সহায়তার নানা মানবিক আয়োজন চলছে।

সিলেটের এক স্কুল শিক্ষক আমাকে জানিয়েছেন শরণার্থীদের জন্যে তারা স্কুল থেকেই ২ লক্ষ টাকা সহায়তা তুলেছেন! এমন আয়োজন-উদ্যোগ চলছে সারাদেশে। সিডনিতে সোমবার এক সুহৃদের সঙ্গে দেখা হতেই শরণার্থীদের জন্য সহায়তা চাইলেন। তাকে উৎসাহ দিয়ে বলেছি এই সহায়তা যেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসনের তহবিলে পাঠানো হয়। কারণ এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হবে। প্রশাসনিকভাবেই অনেক দায়িত্ব কার্যকর করে যেতে হবে। আজ অনেকে যে সহায়তা করতে চাইছেন সামনে আরেকটি ইস্যু চলে আসলে খুব স্বাভাবিক লোকজন নতুন ইস্যু নিয়েই ব্যস্ত হয়ে যাবে। আরেকটি বিষয় অনেকের জানা নেই। শরণার্থীদের জন্যে প্রতিষ্ঠিত জরুরি এবং দীর্ঘ মেয়াদী ক্যাম্পগুলোর অনেক খরচ চালায় জাতিসংঘের উদ্বাস্তু বিষয়ক হাইকমিশন। অক্সফামের মতো প্রতিষ্ঠান দুই লাখ শরণার্থীর খাবার, মাথার ওপর আচ্ছাদন, সেনিটেশন ব্যবস্থা তৈরির কাজ শুরু করেছে। জাতিসংঘের মতো প্রতিষ্ঠান কিন্তু সরকারি ব্যবস্থার পাশাপাশি অক্সফাম, সেভ দ্য চিলড্রেন্সের মতো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ চালাতে চায়। সেভ দ্য চিলড্রেন্স এরমাঝে শরণার্থী শিশুদের নিয়ে কাজ শুরু করেছে। শরণার্থী ইস্যুতে যত প্রতিবাদ-মানববন্ধন হচ্ছে, অং সান সুচির কুশপুত্তলিকা দাহ হচ্ছে, মিয়ানমার যুদ্ধে যেতে চাইছেন, মিয়ানমার দূতাবাস ঘেরাও’এ যাওয়া হচ্ছে এর চাইতে শরণার্থীদের জন্যে ত্রাণ সংগ্রহ করে জেলা প্রশাসনের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করুন। আগে বিপন্ন মানুষগুলো বাঁচান। মিয়ানমার আমাদের ওপর এক ধরনের যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে। আমরা কোনও যুদ্ধে জড়াতে চাই না। আমাদের আরও অনেক কাজ আছে।

বর্তমান পরিস্থিতি জানাতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে গেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সারা পৃথিবী এবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য আগ্রহ নিয়ে শুনবে। বাংলাদেশের সরকার প্রধানের জাতিসংঘ বক্তৃতা এর আগে কখনও দুনিয়া জুড়ে এতোটা আগ্রহের সৃষ্টি করেনি। কারণ কিন্তু এই জটিল রোহিঙ্গা শরণার্থী ইস্যু। যেটি সাম্প্রতিককালের সবচেয়ে ট্র্যাজিক মানবিক বিপর্যয়ের নাম। কাজেই পুরো বিষয়টি নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্তরা প্রতিটা পদক্ষেপ-বক্তব্যে সাবধান। প্রতিটা কাজ করতে হবে কথা বলতে হবে সতর্কতার সঙ্গে। কারণ এরসঙ্গে এখন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সম্মান ভাবমূর্তি জড়িত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মান-ভাবমূর্তি জড়িত। শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেঁদেছেন। বিবিসির সাংবাদিককে বলেছেন শরণার্থী হওয়ার কষ্ট আমরা জানি-বুঝি। যতক্ষণ মিয়ানমার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হবে ততোদিন আমরা তাদেরকে সেখানে ঠেলে দিতে পারি না। কারণ তারা মানুষ। আমরা মানুষ। জাতীয়  সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- প্রয়োজনে আমাদের খাবার তাদের সঙ্গে ভাগ করে খাবো। প্রধানমন্ত্রীর এ কথাগুলোই হোক শরণার্থী পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশের গাইডলাইন। এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের ওপর অনেক রকমের সামাজিক অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করবে। পাহাড় বনায়ন সহ নানা সম্পদের অপূরণীয় ক্ষতি হবে। সাইক্লোন এলে সবকিছু লণ্ডভণ্ড করে দেয়। আমরা মনুষ্য সৃষ্ট একটি সাইক্লোনের শিকার। শরণার্থীদের অতজন এইডস ভাইরাসরাহী! ৭০ হাজার শরণার্থী নারী অন্তঃস্বত্ত্বা। এসব তথ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখে অনেকে ভয় ছড়াচ্ছেন! দয়া করে এসব ছড়িয়ে বাংলাদেশের মানবিক দিকগুলোকে খাটো করবেন না। এইডস ভাইরাসবাহী হতে শরণার্থী হওয়া লাগে না।

মিয়ানমার সামরিক নেতৃত্বে তথাকথিত গণতান্ত্রিক সরকারের নিষ্ঠুরতার শিকার সেদেশের লাখ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পলায়ন, বাংলাদেশের আশ্রয়গ্রহণের বিষয়টি এই মুহূর্তের প্রধান আন্তর্জাতিক খবর। দূর্ভাগ্যজনকভাবে চীন-রাশিয়া-ভারত এই নিষ্ঠুরতার পক্ষ নিয়েছে। কিন্তু বিশ্ব জনমত এখন এই নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী আর তাদের বিপদে পাশে দাঁড়ানো বাংলাদেশের পক্ষে। সে কারণে বিবিসি-সিএনএন থেকে শুরু করে সব প্রধান বিশ্ব মিডিয়া নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী আর বাংলাদেশের পক্ষে পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। জাতিসংঘ-ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংস্থাও স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে নিপীড়িতের পক্ষে। ভেটো ক্ষমতার অধিকারী চীন-রাশিয়া মানুষের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছো? চীনের তাবেদার হয়েছে ভারতের নরেন্দ্র মোদির সরকার? নিষ্ঠুরের পতন অবশ্যম্ভবী। এদেরও হবে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে এক রাশিয়া ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ আর কেউতো বাংলাদেশের পক্ষে ছিল না। কিন্তু এরপরও বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। কথা আবার একটাই, নিষ্ঠুরের পতন অবশ্যম্ভবী। চোরকে চুরি করতে গৃহস্থকে চোর ধরতে বলা নরেন্দ্র মোদির ইমেজ বাংলাদেশে শেষ। ভারতেও তার শুধু এ ইস্যুতে অবস্থা টালমাতাল হবে-হচ্ছে। ভারতের পত্রপত্রিকাগুলো এর প্রমাণ। রোহিঙ্গা মুসলিম নির্যাতনকারীর মিয়ানমার পক্ষ নেওয়ায় ভারত-চীন-রাশিয়া যে এখন জঙ্গিদের টার্গেট হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বিপদগুলো তারাই তৈরি করছে।

শরণার্থী সংকট বাংলাদেশের অনেক বিপদ তৈরি করবে। একাত্তরে বাংলাদেশের প্রায় এক কোটি শরণার্থী নিয়েও অনেক বিপদ সামাল দিয়েছে ভারতের ইন্দিরা গান্ধীর সরকার। শরণার্থী চাপে তাদের অর্থনীতি ভেঙে পড়ছিলো। নকশাল আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ছিলো ভারতের বিভিন্ন এলাকায়। তারা সে সব পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে। বাংলাদেশও পারবে। বাংলাদেশ অনেক কিছু পারে। অনেক দূর্যোগ সামাল দিয়ে অভ্যস্ত বাংলাদেশ। কোনও এলোমেলো অবিবেচক মন্তব্যে যেন আমরা আমাদের অর্জনগুলো, মানবিক ভূমিকাটি খাটো না করি। সেই আশির দশক থেকে বাংলাদেশে যত শরণার্থী এসেছেন তাদের সিংহভাগ কিন্তু বাংলাদেশে নেই। শরণার্থী মর্যাদায় থাকার দেশ বাংলাদেশ না। আমাদের অনেকে ঢালাও বলে বেড়ান রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশে গেছে! আরে বাবা কোথাও, এমনকি ভারতে যেতেওতো পাসপোর্ট লাগে। আপনি টাকা খেয়ে পাসপোর্ট দিয়েছেন আপনার বিমান বন্দর দিয়ে তারা বেরিয়ে গেছেন সেটি দোষের না তারা বেরিয়ে গেছে সেটি দোষের! তারা এখানে থাকুক তা আপনি চান না, বেরিয়ে গেলেও কথা বলেন, এ কেমন স্ববিরোধিতা? বিদেশে তারা অপরাধ করছে! বিদেশে অপরাধ করতে কি রোহিঙ্গা হওয়া লাগে? অপরাধতো যে কেউ করতে পারে। আর ইউরোপ-আমেরিকায় যত রোহিঙ্গা গেছে আশ্রয় পেয়েছে তাদের সঙ্গে পাসপোর্ট নেই বলেইতো আশ্রয় পেয়েছে। তারা তারা জেনুইন রিফ্যুজি। তাদের কোনও দেশ নেই। তাদের জন্মভূমি তাদের স্বীকার করে না। এই রোহিঙ্গা শরণার্থীদের যেহেতু মিয়ানমার আশ্রয় দেবে না তাই তারা যাতে সুবিধামতো অন্য কোথাও চলে যেতে পারে সে ব্যাপারেও বাংলাদেশের মনোযোগ দেওয়া উচিত। মালয়েশিয়া এরমাঝে ঘোষণা দিয়ে বলেছে আরও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কেউ মালয়েশিয়া এসে পৌঁছলে তারা তাদের আশ্রয় দেবে।

লেখক: অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী সাংবাদিক

এসএএস

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

লাইভ

টপ