গল্প নয় অনুধাবন...

Send
ফাহমিদা নবী
প্রকাশিত : ১৪:৫৪, মার্চ ২৩, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৫৮, মার্চ ৩১, ২০১৮

ফাহমিদা নবীমানুষের প্রতিদিনের চাহিদার জায়গা এমনভাবে বাড়ছে যে অনেক কিছুই প্রাপ্তির নিরেট সুখটাকে ছুঁতে পারছে না। কী চাই আর কী পছন্দ হচ্ছে না, মহা অস্থির সময় তাতেই পার করছি আমরা। পুরো বিশ্ব এখন অস্থিতায় ডানা মেলে উড়তে চায়, এতে করে মানসিক চাপ বাড়ছেই শুধু।
খুব বেশি ‘চাই’ শব্দটা আমাদের পেয়ে বসেছে। কতটুকু পেলে পাওয়া হবে, সেটা আর ভাবনাতে নেই। কারো কথা শুনবার, কথা বুঝবার, বোধের কোনও বার্তাই আর কাজ করছে না।
যে অল্পতেই খুশি হতে জানে,
তার গল্প এখন হাসির খোরাক।
অল্প আবার কী? বাড়ছে আত্মদাম্ভিকতা, আমিই বড়, আমিই সব জানি, আমিতেই একাকার! প্রশংসা ছাড়া কোনও সমালোচনা বা উপদেশ সেটাও হাস্যকর, ব্যঙ্গাত্মক বক্তব্য। সেকেলে বার্তা। কেন উপদেশ দিতে হবে?
আমি তো সব জানি।
ওর এটা আছে, ওটা আছে!
আমার কেন থাকবে না?
আমার সেটা লাগবেই, আরও বেশি কিছু থাকতেই হবে। ধারণ করতে পারি বা না পারি, থাকতেই হবে! সবার সব থাকে না, সবার সব করতে হয় না, সবার সব প্রয়োজন নাই।
এটা এখন আর নাই, ভীষণ বিপদ, সবাই সব চায়! যার কারণে প্রতিযোগিতা এখন মানদণ্ডের সৌন্দর্যে নয়, প্রতিযোগিতাটা আসলে অসহযোগিতার, ঈর্ষার, আত্ম-অহমিকায়, দাম্ভিকতায়!
কেউ কেউ পিছিয়ে পড়ে। কারণ, এ খেলা সবার জন্য নয়, যারা বোঝে, তারা সংখ্যায় কম, অল্পই তাদের জন্য সন্তষ্টির, শিক্ষা সেখানে মূল্যবোধের! চাওয়া পাওয়া থাকবেই কিন্তু ততটা নয়, যা প্রয়োজনের অতিরিক্ত।
এসবের কারণে মানসিক চাপ, রক্তচাপ বাড়ছে, অসুখ বাড়ছে, খরচ বাড়ছে সবচেয়ে বেশি!
আর তা সামাল দিতে গিয়ে, বিবেক, বুদ্ধি, মানসিক শিক্ষা, সরলতা, ভালোবাসা বন্দি। বাড়ছেই শুধু না পাওয়ার অকারণ হতাশা। হায় হতাশা মানুষের ক্লান্তি বাড়াচ্ছে। একাকিত্ব বাড়াচ্ছে। ভরসার সুন্দর সম্পর্ক তা আর ভরসার মাত্রা খুঁজে পায় না। হিসেবের খাতা এখন মুঠোয়, মুঠোয়!
কী যে হবে সামনে জানি না...
অনেক অকাল মৃত্যু, মনে করিয়ে দিচ্ছে, একটু থামো! একটু অল্প, পরিমিতির মধ্যে জীবনকে উপভোগ করতে শেখো! আনন্দ, সুখ অনেক কিছু হয়ে ‘গেছি’র কৃত্রিমতায় নয়, বরং কতটা অল্পের মধ্যে সুখী হতে পারি, এটাই হয়তো বিধাতা বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন!
যা বিবেচনা জ্ঞানে, ধ্যানে আনতে ভুলে যাচ্ছি! যার জন্য যা বরাদ্দ তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে চেষ্টাই আসলে সফলতা। সুখ সেখানে থাকে, যেখানে অনেক বড় ঘর তা বিষয় নয়, বিষয় হলো সে ঘরে ভালোবাসার আলোটা কতটা প্রাণবন্ত তা ভোগ করার মতো আত্মতৃপ্তি খোঁজ করা, ভালো থাকা, সকাল থেকে রাত অবধি প্রতিটা দিন, সবার মধ্যে সবাইকে ভালোবাসার আঁচলে বেঁধে রাখার, সম্মান করার চেষ্টাটা করা। সবার স্বস্তি থাকুক, অস্বস্তিতে বেঁচে থাকা বড়ই বিবেচনাহীন জীবনযাপন...।
তা এড়িয়ে চলাই সবার জন্য মঙ্গলময়।
যে যে ক্ষেত্রে কাজ করছি সেখানে প্রতিযোগিতার প্রবণতা বাদ দিয়ে বরং প্রগতিশীল মনোভাব নিয়ে আমরা যদি কাজ করে যাই তাহলে সবার মধ্যে একটা বন্ধুত্বের সবুজ গাছ বুনন হবে আর ভেঙে যাবে ঈর্ষার দেয়াল। বিশ্বায়নের যুগে সবার জন্য সবার মানবিক মন আরো প্রশস্ত হোক—এই প্রত্যাশা।
লেখক: সংগীতশিল্পী

/ওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

লাইভ

টপ