ব্রডব্যান্ড নীতিমালার কী হলো?

Send
রেজা সেলিম
প্রকাশিত : ১৩:৪০, মার্চ ২৪, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৪৯, মার্চ ২৪, ২০১৮

রেজা সেলিমসিঙ্গাপুর থেকে বঙ্গোপসাগর, ভারত মহাসাগর ও আরব সাগরের তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন ক্যাবল লাইনে ইউরোপ পর্যন্ত টেনে নেওয়া উচ্চ গতির ইন্টারনেট প্রকল্প সি-মি-উই চতুর্থ পর্যায়ে এসে বাংলাদেশ সংযোগ নেয় ২০০৬ সালের ২০ মে। এর আগে ২০০০ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার এই সংযোগের জন্যে উদ্যোগ নেয়। কথা ছিল বঙ্গোপসাগর থেকে বাংলাদেশ সংযোগ নিজের খরচে টেনে নেবে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কাছাকাছি উপকূলের ‘সলিমপুর’ গ্রামে যা শহরের কাছাকাছি। পরে জোট সরকার এসে এই ল্যান্ডিং স্টেশন চট্টগ্রাম থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে কক্সবাজারের ঝিলংঝায় নিয়ে যায়। এতে প্রকল্পের খরচ ও ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঝুঁকি বাড়ার অন্যতম কারণ হলো কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত রাস্তার পাশ দিয়ে মাটি খুঁড়ে এই সংযোগ টেনে নিতে হয়েছে যা প্রায়ই কাটা পড়ে। বিশেষ করে ব্রিজগুলোর উপরে নিচে তার ঝুলে থেকে কাটা পড়ার ঝুঁকিকে বাড়িয়েছে বেশি।
এই সংযোগ নেওয়ার অনেক আগে থেকেই দেশে ইন্টারনেট বিতরণ নীতিমালা তৈরি করে নিতে জোর দাবি চলছিল। কোথায় কোথায় ইন্টারনেট কী পরিমাণ প্রয়োজন হবে তার জন্যে একটি সর্বজনীন নীতি গ্রহণের দাবিও উঠেছিল, বিশেষ করে ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্যে দাম নির্ধারণ জরুরি বলে সর্বত্র তার আলোচনা চলছিল। সে সময়ে ইন্টারনেট আনতে দেশে সরকারের উদ্যোগে একটি নতুন কোম্পানি তৈরির চিন্তা করা হলো, কিন্তু হলো না। সরকারি টেলিফোন বিতরণ প্রতিষ্ঠান বিটিসিএল-এর একটি প্রকল্প হিসেবে আইডিবি (ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাঙ্ক) থেকে ঋণ নিয়ে বাংলাদেশ এই সংযোগের জন্যে কন্সোর্টিয়ামের সদস্য হয়ে এই সংযোগ নিয়ে এলো। দেশে ইন্টারনেট এলো কিন্তু এর কোনও বিতরণের পরিকল্পনাই নাই! কে কী পাবে, কে কী করবে, কতটুকু নেবে, দাম কত হবে কোনও পরিকল্পনা ছাড়াই বিটিসিএল ইচ্ছামতো দামে দেশে ইন্টারনেট চালু হলো। শেষমেশ জুলাই ২০০৮ সালে এসে বাংলাদেশ সরকার একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করলো যেটি ‘বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি’ নামে পরিচিত। এই কোম্পানিই এখন পাইকারি দরে ইন্টারনেট বিক্রি করে আর দেশে বিশেষ চাহিদা নেই এরকম বলে সরকারকে বিদেশে ইন্টারনেট বিক্রি করে দিতে বুদ্ধি পরামর্শ দেয়।

তত্ত্বাবধায়ক আমলে ২০০৮ সালের ৩০ নভেম্বর দেশে ইন্টারনেট বিতরণের একটি নীতিমালা ঘোষণা করা হয় যা ‘ন্যাশনাল ব্রডব্যান্ড পলিসি ২০০৮’ নামে পরিচিত। এই নীতিমালায় ২০১৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশের জনগণ ও গ্রামাঞ্চলের ৩০ ভাগে উচ্চগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। একটি সরকারি অর্ডিন্যান্স বা আদেশের মাধমে এটি ঘোষণা করা হয়, যা পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার এসে এন্ডোর্স করে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ২০০৯ সালে এই ব্রডব্যান্ড নীতিমালা তথ্য প্রযুক্তি নীতিমালার সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন করে ঢেলে সাজানো হয় যা বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। এই নীতিমালার ৩টি স্তর স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় যেগুলো অর্জিত হবে ২০১৫ সালের মধ্যে। সেগুলো হলো-

 ক) ব্রডব্যান্ড পেনিট্রেশন লক্ষ্যমাত্রা, যেখানে স্বল্পমেয়াদী লক্ষ্যসমূহ ঠিক করা হয় ২০১০ সাল নাগাদ অর্জিত হবে। বলা আছে-

অ. সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের সকল বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল ও প্রকৌশল কলেজ এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানসমূহে ব্রডব্যান্ড সংযোগ নিশ্চিতকরণ।

আ. সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংযুক্ত ডিপার্টমেন্ট, বোর্ড করপোরেশন, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, কমিশন, সংবিধিবদ্ধ সংস্থাকে ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্কের আওতায় আনয়ন।

ই. সকল সরকারি লাইব্রেরিকে ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্কের যুক্তকরণ।

ঈ. জেলা সদর দফতরে অবস্থিত সকল উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্রডব্যান্ড সংযোগ নিশ্চিতকরণ ।

উ. জেলা সদর দফতরে অবস্থিত ৫০% মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং ২৫% উপজেলা সদর দফতরে অবস্থিত মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্রডব্যান্ড সংযোগ প্রদান।

ঊ. জেলা পর্যায়ের সকল স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান সমূহকে (যেমন সিটি করপোরেশন, মিউনিসিপ্যালিটি/ পৌরসভা) ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্কের আওতায় আনয়ন।

এ. প্রত্যেকটি বিভাগীয় সদর দফতরে অন্যান্য ন্যাশনাল ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জ সমূহের আন্তঃ সংযোগ থাকবে এমন অন্তত একটি ন্যাশনাল ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জ স্থাপন।

ঐ. সকল আইএসপি-কে যে কোনও একটি ন্যাশনাল ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জ-এর সাথে সংযুক্তকরণ।

ও. উপযুক্ত উদ্দেশ্যসমূহ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইউনিভার্সাল সার্ভিস ফান্ড এর মতো ইনসেন্টিভ স্কিম চালুকরণ।

খ. মধ্যমেয়াদী লক্ষ্যসমূহ:  অর্জিত হবে ২০১২ সাল নাগাদ যেখানে বলা আছে-

অ. উপজেলা সদর দফতরে অবস্থিত সকল উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্রডব্যান্ড সংযোগ নিশ্চিতকরণ।

আ. জেলা সদর দফতরে অবস্থিত ৫০% মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং ৫০% উপজেলা সদর দফতরে অবস্থিত মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্রডব্যান্ড সংযোগ প্রদান।

ই. ১০% গ্রামকে ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্কের আওতায় আনয়ন।

ঈ. উপজেলা পর্যায়ের সকল স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান (পৌরসভা/মিউনিসিপ্যালিটি) কে ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্কের আওতায় আনয়ন।

গ. দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যসমূহঃ ২০১৫ সাল নাগাদ, উল্লেখ রয়েছে-

অ. কমিউনিটি একসেস পয়েন্ট এর মাধ্যমে দেশের সকল গ্রামকে ব্রডব্যান্ড সংযোগের আওতাভুক্তকরণ।

আ. দেশের সকল উচ্চ মাধ্যমিক, মাধ্যমিক এবং সরকারি ও এমপিওভুক্ত প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্কের আওতায় আনয়ন।

ই. সকল সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, যাদুঘর, ডাকঘর, এবং আর্কাইভকে ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্কের আওতায় আনয়ন।

ঈ. সকল ইউনিয়ন পরিষদ ভবনকে ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্কের আওতায় আনয়ন।

উ. সকল কৃষি বাজারকে নেটওয়ার্কের আওতায় আনয়ন।  

ভালো করে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাবে এই নীতিমালার অনেকগুলোই অর্জিত হয়নি বা অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। এর মধ্যে কেটে গেছে আরও দু-আড়াই বছর, একটা মূল্যায়ন সরকার করে নিতে পারতো। ২৭ জুন ২০১৭ তারিখের কাগজে দেখেছিলাম সরকার জাতীয় টেলিযোগাযোগ নীতিমালা মন্ত্রীসভায় অনুমোদন করেছে যা ১৯৯৮ সালের এই নীতিমালার প্রতিস্থাপন হবে। মন্ত্রীসভার শেষে ব্রিফিং-এ ক্যাবিনেট সচিব ব্যাখ্যা দিতে যেয়ে উল্লেখ করেছিলেন, টেলিযোগাযোগ নীতিমালা ১৯৯৮, জাতীয় আইসিটি নীতিমালা ২০১৫, জাতীয় ব্রডব্যান্ড নীতিমালা ২০০৯ ও আন্তর্জাতিক দূরপাল্লার টেলিযোগাযোগ নীতিমালা ২০১০ সবগুলোকে সমন্বিত করে একটি নীতিমালা করা হয়েছে। যদি তাই-ই হয়ে থাকে সেটাও আমাদের জানা দরকার কী কী বিষয় বিবেচনায় রাখা হয়েছে যাতে দেশের মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে উচ্চগতির ইন্টারনেট পাবে আর তা কবে থেকে কার্যকর হবে।

সম্প্রতি ইন্টারনেট ফোরাম অ্যালায়েন্স ফর অ্যাফোর্ডেবল ইন্টারনেটের ‘অ্যাফোর্ডেবিলিটি রিপোর্ট ২০১৭’ শীর্ষক এক প্রতিবেদন বলছে, বিশ্বের ৫৮টি উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহার সক্ষমতায় বাংলাদেশের অবস্থান এখন ৪৬, যা আগের বছর ছিল ৩৩। এক বছরে বাংলাদেশ ১৩টি দেশের পেছনে পড়েছে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়ার কারণ হিসেবে মোবাইলফোনভিত্তিক ইন্টারনেট নির্ভরতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে এ-ও বলা হয়েছে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট নীতিমালার সঠিক বাস্তবায়নে না হবার ফলে মানুষ কম দামে দ্রুতগতির ইন্টারনেট পাচ্ছে না। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট অবকাঠামো উন্নয়নে যে ধরনের বিনিয়োগ প্রয়োজন,  সেটিও বাংলাদেশে হচ্ছে না।

বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলের ২য় ইন্টারনেট সংযোগ নিয়েছে সি-মি-উই-৫ প্রকল্পের অধীনে। এই সংযোগ নেয়া হয়েছে পটুয়াখালীর কূয়াকাটা এলাকায় যা ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেন। এই দুই সাবমেরিন সংযোগ ও স্থল-সংযোগের ফলে দেশে এখন প্রাপ্ত ইন্টারনেটের পরিমাণ আনুমানিক ৩০০ জিবি যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।

অপ্রিয় হলেও সত্য আমাদের কাছে কোনও তথ্য উপাত্ত নেই দেশে ইন্টারনেট চাহিদা কত? সাধারণত ইন্টারনেট বিতরণের জন্যে একটি চাহিদা নিরুপণ করে নেওয়া হয় যার একটি গাইডলাইন আইটিইউ করে রেখেছে যাতে দেশগুলো তা অনুসরণ করে নিজদের বিতরণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে। এ কথা সকলেই স্বীকার করবেন, আমাদের অভ্যন্তরীন ইন্টারনেট বাজার ব্যবস্থা গড়ে তুলতেও চাহিদা নিরুপণ জরুরি। বাংলাদেশ আজও পর্যন্ত এই কাজটি করেনি। ফলে কোন বিশ্ববিদ্যালয় কতটুকু পাবে বা পাওয়া উচিত বা মেডিকেল কলেজ বা হাসপাতালে, উপজেলা চিকিৎসা কেন্দ্রে কতটুকু ইন্টারনেট দরকার আমাদের জানা নেই। এমন কি বাসা বাড়ির হিসাবও আমাদের কাছে নেই। কে কী কাজে কতটুকু ইন্টারনেট নেবে আর তা দিয়ে কী করবে তার কোন পরিকল্পনা না থাকায় এর যথেচ্ছ ব্যাবহার হচ্ছে। মাঝে মধ্যে কেউ কেউ ইন্টারনেট কন্টেন্ট নিয়ে কথা বলেন, কিন্তু এটা দেখভাল কার দায়িত্বে পরে তা নিয়ে কোনও পরিকল্পনা নেই। ফলে ফেসবুক বা সামাজিক মাধ্যমে বা কোন কোন অনলাইনে যখন কেউ ভাব প্রকাশের কাজ করে এদের অনেকে আইনের প্যাঁচে পড়েন বা নানারকম গালাগালির শিকার হন। এমনকি ইন্টারনেট ব্যাবহারের সাথে যে তথ্য প্রযুক্তি আইনের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ সে কথাটি পুলিশ এসে ধরে নিয়ে যাবার আগ পর্যন্ত অনেক মানুষই জানতে পারেন না।

ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটকে সর্বজনীন বা ইউনিভার্সাল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে প্রায় সব দেশেই। আমাদের ২০০৯ সালের নীতিমালায় আমরা নির্ধারণ করেছিলেম (৫.২.১) প্রতিযোগিতামূলক বাজার নির্ধারণ করা যার ফলে ব্রডব্যান্ড নীতিমালার উদ্দেশ্য সফল হবে। কিন্তু আমরা ইন্টারনেট বাজার প্রায় একপ্রকার ছেড়েই দিয়েছি মোবাইল কোম্পানিগুলোর উপরে যাদের কাজ ছিল ফোনের মাধ্যমে ভ্যালু আডেড সার্ভিস হিসেবে ভয়েসের পাশাপাশি ইন্টারনেট দেবে আর তা গ্রাহকের নিত্য প্রয়োজনের ইন্টারনেট চাহিদা মিটাবে। কিন্তু আমরা যে ৩-জি বা ৪-জি দিয়েছি মোবাইল ফোন কোম্পানিকে কি বলেছি সে কত গতির ইন্টারনেট নিশ্চিত করবে? এরও একটা সংজ্ঞা আছে, আর তা-ও নির্ধারন করেছে আইটিইউ। সারা দুনিয়ার এই মোবাইল ইন্টারনেট চলেছে আইটিইউর নীতি অনুযায়ী আর একমাত্র ব্যাতিক্রম আমাদের দেশ!

জিজ্ঞেস করলে বলবে, বেশি গতির ইন্টারনেট মানুষের কোন কাজে লাগবে না বা দাম পরে যাবে বেশি! আমাদের প্রশ্ন সেটাই, আমার কি কাজে আসবে তা তো ফোনের লোক বলে দেবে না আর দাম কত হবে সেটাও তো সে ঠিক করবে না। কারণ দেশে একটা নীতি আছে, সেই নীতি সবাই মেনে চলতে বাধ্য। সব মেনে চলার দায় কি শুধু গ্রাহকের? প্রতি বছর যে কর্মক্ষম জনশক্তি (ইউএনডিপির মতে যাদের বয়স ১৯ থেকে ২৪, এদের বলা হয় ব্যাপক সম্ভাবনার শক্তি) মূল কর্মশক্তির সঙ্গে সঙ্গে যোগ হচ্ছে আমাদের পরিসংখ্যান ব্যুরোর মতে তার ৭০ভাগ তরুন ও বেকার! এমন কি আমাদের পরিসংখ্যান ব্যুরো-ই বলছে গত কয়েক বছরে গড়ে আমাদের নতুন কর্ম-সৃজন হচ্ছে বছরে মাত্র ২ লাখ যা নিদেনপক্ষে হওয়া উচিত ২৭-২৮ লাখের মতো।

শোনা যায়, ইনফো সরকারের ৩টি প্রকল্পের মাধ্যমে ধাপে ধাপে ব্রডব্যান্ড সুবিধা ইউনিয়ন – উপজেলা পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়েছে। তার মানে গ্রামে গ্রামে ব্রডব্যান্ড সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু সে পর্যায়ে মোবাইল ফোনের নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে যদি ব্রডব্যান্ড বা উচ্চ গতির ইন্টারনেট সেবা দেয়া হয়, আমাদের বিশ্বাস কর্মক্ষম তরুন সমাজ এর সর্বোচ্চ ব্যাবহার নিশ্চিত করতে পারবে। রেমিটেন্স বিনিময়, পাড়ায় পাড়ায় হটস্পট আর দূরস্বাস্থ্য সেবা শুধু এই তিনটি সেবাও যদি কেউ নিশ্চিতে দিতে পারে সেই গ্রামে ডিজিটাল বিপ্লব ঘটবে, আমাদের সেই সদিচ্ছা কবে হবে?

লেখক: পরিচালক, আমাদের গ্রাম উন্নয়নের জন্যে তথ্য-প্রযুক্তি প্রকল্প 

e-mail: rezasalimag@gmail.com

/এফএএন/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

লাইভ

টপ