মমতার প্রত্যাশা: কিন্তু প্রত্যাশায় ‘মমতা’ কোথায়?

Send
নজরুল কবীর
প্রকাশিত : ১৫:৪৮, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:২৯, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮

নজরুল কবীরপশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ভালো থাকলে পশ্চিমবঙ্গও ভালো থাকবে।’ সোমবার (১০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ও ভারতের দু’টি প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে কলকাতা থেকে যুক্ত হন তিনি। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তাকে ঢাকা সফরের আমন্ত্রণের জবাবে তিনি আরও বলেন, ‘আপনি জিতুন, আবার আসবো।’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের অনেক মানুষেরই ভিন্নমত রয়েছে। কিন্তু সহজ-সরল চলন-বলনের জন্য তাকে পছন্দ করার মানুষের সংখ্যাও নেহাত কম নয়! তবে, এবার মমতার উচ্চারিত কথায় সত্যতা থাকলেও অতীতের অভিজ্ঞতার কারণে বাংলাদেশের সচেতন মানুষের কাছে তার এ বক্তব্য ‘কথার কথা’ হিসেবে বিবেচিত হবে।
কারণ, এই মমতা আসবেন বলেও আসেননি। ওই সময়ের ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বাংলাদেশ সফরে আসার সময় মমতারও আসার কথা ছিল। কথা ছিল, তিস্তায় বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা পাওয়ার। কিন্তু শুধু মমতা রাজি হননি বলেই তা আটকে যায়। ‘তিস্তা চুক্তি’ সে-ই যে গ্যাঁড়াকলে আটকালো, সেই গিঁট আর ছুটলো না!
মনমোহন গেলেন, মোদি এলেন, কিন্তু তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা এলো না। মমতা বললেন, বাংলাদেশ ভালো থাকলে পশ্চিমবঙ্গ ভালো থাকে। কিন্তু তিস্তা পাড়ের মানুষই জানে, ভালো থাকা কারে বলে! তিস্তার দু’পারে মরুভূমির মতো খাঁ-খাঁ করে যখন বিস্তীর্ণ ভূমি, তখন সেখানকার ভূমিপুত্র-কন্যারা কেমন থাকে, তা দেখতে অবশ্য ‘মমতা দিদি’কে সে সময় আমন্ত্রণ জানাতেই পারেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী।

আরও একটি কথা মনে হলো, বাংলাদেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারতের ‘সেভেন সিস্টার’-এর বিচ্ছিন্নতাবাদীদের এই দেশে অবৈধভাবে বসবাসের রাস্তা বন্ধ হয়েছে! সমূলে উৎপাটিত হয়েছে ‘উলফা’র আস্তানা। এমনকি অনুপ চেটিয়াও হস্তান্তর হয়েছে। অনেকটাই ‘শান্তি’তে আছে কেন্দ্রীয় সরকার ‘সেভেন সিস্টার’-এর চাপ থেকে। ‘বাংলাদেশে যখন দেয়, অকৃপণভাবেই দেয়’– এ উচ্চারণ খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। আর তার প্রমাণ দৃশ্যমান।

কিন্তু ‘মমতা দিদি’র কথা আর কর্মের ফারাকটা দেখুন। বাংলাদেশ জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়ছে। সাধারণ সচেতন মানুষ আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চাপে জেএমবি, হরকাতুল জেহাদের মতো জঙ্গি সংগঠন যখন প্রচণ্ড চাপে, তখন এদের আশ্রয় হয়ে উঠছে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ, বর্ধমানের মতো সীমান্তবর্তী জেলাগুলো। আর তৃণমূল কংগ্রেসের প্রশ্রয়ে মোহাম্মদ ইমরানের মতো সদস্যরা এই জেএমবি’র নতুন ভরসাস্থল হয়ে উঠছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া কুখ্যাত জঙ্গি মিজানুর রহমান ওরফে ‘বোমা মিজান’ ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের বলেছে সে পশ্চিমবঙ্গে কোথায়, কাদের আশ্রয়ে প্রথমে ছিল। এমনকি কোনোভাবেই যেন তাকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে দেওয়া না হয়, সে কথাও বলেছে। কারণ, বাংলাদেশ জঙ্গিদের ব্যাপার কঠোর, অনমনীয়।

এখন কথা হলো, যে বাংলাদেশ জঙ্গি নিয়ে ভালো থাকে না, সে-ই বাংলাদেশের জঙ্গিদের আশ্রয় দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ কি ভালো থাকে? যখন বাংলাদেশ তিস্তার পানি ছাড়া ভালো থাকে না, তখন পশ্চিমবঙ্গ কি ভালো থাকে? এসব প্রশ্নের জবাবের মাঝেই পাওয়া যাবে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত্যাশায় ‘মমতা’র উত্তাপ।
সবশেষে বলি, ছেলেবেলায় আদর্শলিপিতে পড়া একটি বাক্য— ‘দুষ্ট লোকের মিষ্ট কথায় ভুলিও না।’

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক

/এসএএস/এমএনএইচ/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

লাইভ

টপ