সংলাপ সফল হোক, বাংলাদেশ এগিয়ে চলুক

Send
মো. জাকির হোসেন
প্রকাশিত : ১৭:২৪, অক্টোবর ৩১, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:২৬, অক্টোবর ৩১, ২০১৮

মো. জাকির হোসেনরাজনীতির নতুন জোট—জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপ ও নৈশভোজের দিন-ক্ষণ, ভেন্যু ও মেন্যু ঠিক করা হয়েছে। আমাদের প্রতিহিংসা, প্রতিশোধ আর চরম বৈরিতার রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এটি কেবল একটুখানি আলোর ঝলকানি নয়, অনেক বড় সুখবরও। ইতোমধ্যে খবর বেরিয়েছে, রাজনীতিতে সরকারি ও বিরোধী দলগুলোর সম্ভাব্য সংলাপের প্রভাব পড়েছে দেশের পুঁজিবাজারেও। সংলাপ আয়োজনে স্বস্তিতে ফিরেছে পুঁজিবাজার। নির্বাচনকে ঘিরে পুঁজিবাজারে অস্থিরতা দেখা দিলেও গতকাল ৩০ অক্টোবর পুঁজিবাজারের চিত্র ছিল ঠিক উল্টো। শেয়ার কেনার চাপে সূচক ও লেনদেন উভয়ই বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ভারতসহ অনেক দেশে দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও আমাদের দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা গণতন্ত্রের জন্য আশীর্বাদ নয়, বরং অভিশাপ হিসেবে পরিণত হয়েছে। একটি সফল সংলাপ দ্বি-দলীয় অভিশাপকে পাল্টে রাজনীতি, অর্থনীতি, গণতন্ত্র—সব ক্ষেত্রে আশীর্বাদ বয়ে আনতে পারে। এ জন্য চাই, একটি সামগ্রিক অর্থবহ সংলাপ। সংলাপের সুফল পেতে চাইলে খণ্ডিত সংলাপ তথা কেবল নির্বচনকেন্দ্রিক সংলাপ কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।

প্রতিহিংসা ও সাংঘর্ষিক রাজনীতিকে পেছনে ফেলে সম্ভাবনার বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে একটি অর্থবহ সংলাপের শুরুতে যে দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো–এক. কেন সংলাপ? দুই. কোন বাংলাদেশের জন্য সংলাপ?

কেবল একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্যই যদি সংলাপ হয়, সে সংলাপ সাময়িক স্বস্তি বয়ে আনলেও আখেরে বাংলাদেশের কোনও লাভ হবে না, প্রতিহিংসার রাজনীতির কোনও পরিবর্তন হবে না। কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সামান্য অগ্রগতিও হবে না। এটি নিশ্চিত করেই বলা যায়। ১৯৯১ সনে বিচারপতি শাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার থেকে ২০০৯ সনের ফখরুদ্দিনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার পর্যন্ত চারটি নির্বাচন হয়েছে। ২০১৪ সনের ৫ জানুয়ারির নির্বাচিত সরকারের সময়টুকু বাদ দিলে ৮০ শতাংশের বেশি সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় ছিল। তাতে রাজনৈতিক সংস্কৃতির কোনও পরিবর্তন হয়েছে কি? প্রতিহিংসা, প্রতিশোধ আর বৈরিতা, তিক্ততার অবসান দূরে থাক, সামান্যতমও তা কমেছে কি? ৪৬ বছরের বাংলাদেশে বেশ কয়েকবারই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় ছিল। ফলাফল কী? শত্রুতা-তিক্ততা আর প্রতিশোধের রাজনীতির কলেবর বহুগুণ বেড়েছে। একে অন্যকে নিঃশেষ করে ফেলার লক্ষ্যে গ্রেনেড হামলা, নিরীহ মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করা, নজিরবিহীন সম্পদ ধ্বংস, আগের চেয়ে অনেকগুণ বেশি রাজনৈতিক মামলা দায়ের, বিরোধীদল দমন-পীড়ন ও বিরোধীদলের সভা-সমাবেশের ওপর ঘোষিত-অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা ক্রমবর্ধমান হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সেবন করা তত্ত্বাবধায়ক দাওয়াই রাজনীতি ও গণতন্ত্রের রোগ নিরাময়ে কার্যকর দাওয়াই হয়ে উঠতে পারেনি কোনও অর্থেই, বরং এ দাওয়াই এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় সরকারের একটি অঙ্গ প্রায় বিকলাঙ্গ হতে বসেছিল। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সঙ্গে সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতিদের সম্পৃক্ত করে বিচার বিভাগের বিকলাঙ্গতার প্রক্রিয়ার শুরু হয়েছিল। তত্ত্বাধায়ক সরকার সংক্রান্ত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী অনুসারে নির্বাচিত সরকারের মেয়াদান্তে অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি কিংবা আপিল বিভাগের বিচারপতির নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের বিধান ছিল। বড় রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের পছন্দের বিচারপতিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার এক ধ্বংসাত্মক প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছিল। এর ফলে প্রধান দু’টি রাজনৈতিক দল দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারিক চরিত্র পাল্টে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার এক ভয়ানক প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছিল। আমি মনে করি, দেশের উচ্চ আদালতকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাব বিস্তারের কলা-কৌশল শুরু করেছিল প্রধান দুই দলই। ক্যানসার আক্রান্ত রোগীর ক্যানসার নিরাময়ের চিকিৎসা বাদ দিয়ে কেবল ব্যথানাশক ওষুধ প্রয়োগ করলে রোগীর সাময়িক স্বস্তি হবে হয়তো, কিন্তু ক্যানসারের কী হবে? সংলাপে অংশগ্রহণকারীদের অনুধাবন করতে হবে—একাত্তরে কিছু স্বাধীনতাবিরোধী ছাড়া সব বাঙালি একাট্টা, এক প্রাণ, এক স্বপ্নে বিভোর ছিল। জাত-ধর্ম ভেদ ভুলে একে অন্যের জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়েছে। এক পাতে খেয়েছে। এক বিছানায় ঘুমিয়েছে। সেই একাট্টা বাঙালি আজ  ভয়ানকভাবে বিভক্ত। অফিসের বড় কর্তা থেকে পিয়ন, শ্রমিক, কৃষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, রাজনীতি না বোঝা অবোধ শিশু আর দুনিয়া থেকে চূড়ান্ত অবসর গ্রহণের জন্য অপেক্ষারত বয়োঃবৃদ্ধ—সবাই বিভক্তি-বিরোধের শিকার। আমাদের রাজনীতিতে ভয়ঙ্কর অসুখ বাসা বেঁধেছে। এ পরিস্থিতিতে কেবল একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের সংলাপ ক্ষমতার পালা-বদলের প্রচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। বিভক্তি-বিরোধের কারণ চিহ্নিত করে তা অবসানের লক্ষ্যে সংলাপ পরিচালনা করতে হবে। রোগের ডায়াগনসিস ভুল হলে, চিকিৎসা ভুল হতে বাধ্য। আর চিকিৎসা ভুল হলে অসুখ তো সারবেই না, বরং তা রোগীর মৃত্যুকে ত্বরান্বিত করবে।

একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য যে সংলাপের আয়োজন, সে সংলাপের ভিত্তিতে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে যে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে, কেমন হবে সে বাংলাদেশ? কোন আদর্শের বাংলাদেশ হবে সেটি? এ প্রশ্নটি সংলাপে ঠাঁই না পেলে সংলাপ হবে ঠিকই, কিন্তু সে সংলাপ রাজনীতি ও গণতন্ত্রের কোনও গুণগত পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে না। সমাজে শান্তি, স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সংলাপ কোনও ভূমিকা রাখতে পারবে না। ১৯৯৪ সালে তৎকালীন জাতিসংঘ মহাসচিব বুট্রোস বুট্রোস ঘালি তার এজেন্ডা ফর ডেভেলপমেন্ট প্রতিবেদনে উন্নয়নের যে কটি অপরিহার্য উপাদানের কথা উল্লেখ করেছেন, তার মধ্যে অন্যতম দুটি হলো শান্তি ও গণতন্ত্র। রাষ্ট্রে শান্তি বিরাজ করলে উন্নয়নের সর্বোচ্চ ফল পাওয়া যায়। অন্যদিকে, শান্তি-স্থিতিশীলতা না থাকলে অস্ত্র, গোলা-বারুদ, সাউন্ড গ্রেনেড, পিপার স্প্রে, কাদানে গ্যাসসহ নানা রকমের পীড়নাস্ত্র ও সমরাস্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যায়। জীবন ও সম্পদহানি ঘটে। শুধু নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে সংলাপ ও এ বিষয়ে ঐকমত্য গণতন্ত্র দূরে থাক, ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্রের পথেও দেশকে নিয়ে যেতে পারবে না। বড়জোর হাইব্রিড শাসনকে দীর্ঘায়িত করবে। হাইব্রিড থেকে একনায়কতান্ত্রিক, কর্তৃত্ববাদী সরকারে রূপান্তরের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আওয়ামী লীগ ও তার নেতৃত্বাধীন মহাজোট যে বাংলাদেশে বিশ্বাস করে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান মিত্র বিএনপি ও তার ২০ দলীয় জোটের কেউই সে বাংলাদেশে বিশ্বাস করে না। বরং দলটির নেত্রী খালেদা জিয়ার দাবি হলো—‘জিয়ার ঘোষণা রেডিওতে প্রচার হওয়ার পরই মানুষ মুক্তিযুদ্ধের জন্য অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছে’। খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন। শহীদদের সংখ্যা ৩০ লাখ কিনা, এ বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে তার। ২০১৪ সালের ২৭ মার্চ রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘মুক্তিযুদ্ধের শ্রেষ্ঠ অহঙ্কার স্বাধীনতার ঘোষক জিয়া’ শীর্ষক আলোচনা সভায় জিয়াউর রহমানকে প্রথম রাষ্ট্রপতি দাবি করেছেন খালেদা জিয়া। আওয়ামী লীগ মুক্তিযোদ্ধাদের দল বা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি নয় দাবি করে বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, ‘তাদের অবদানও আমরা ছোট করে দেখি না। তারা মুক্তিযুদ্ধে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।’

অন্যদিকে, আওয়ামীলীগ ও তার মিত্ররা বিশ্বাস করে ভাষা আন্দোলন, ৬৬-র ৬-দফা, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০ এর নির্বাচন, ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ, ২৬ মার্চের বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা, ১০ এপ্রিলের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র, ১৭ এপ্রিলের মুজিবনগর সরকার ও ৯ মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের অভ্যূদয়। আওয়ামীলীগ ও তার মিত্ররা মনে করে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ অভিন্ন। বাংলা ও বাঙালির প্রাণভোমরা বঙ্গবন্ধু। আওয়ামী লীগ মনে করে জিয়া মুক্তিযুদ্ধ করলেও ৭৫ এ বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে জড়িত হয়ে, সংবিধান লঙ্ঘন করে বাঙালিকে বাংলাদেশি বানিয়ে, স্বাধীনতাবিরোধীদের রাজনীতি করার সুযোগ দিয়ে, তাদের মন্ত্রী বানিয়ে, বাংলাদেশে পাকিস্তানি তাহজিব-তমুদ্দুন চালু করেছে বিএনপি। পাশাপাশি স্বাধীনতাযুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগসহ কয়েকটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিচারের জন্য ৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু গঠিত ৭৩টি ট্রাইব্যুনালে দণ্ডপ্রাপ্ত ও বিচারধীন আসামিদের ৭৫’র ৩১ ডিসেম্বর দালাল আইন বাতিলের মাধ্যমে বিচারের পথ রুদ্ধ করে দিয়ে ও বিচারাধীন ও দণ্ডপ্রাপ্তদের জেলখানা থেকে মুক্তি দিয়ে জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন।

অন্য দিকে, বিএনপি ও তার মিত্ররা বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র মানে না। যে সরকারের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকার পরিচালিত হয়েছে বিএনপি সে মুজিবনগর সরকারকে অস্বীকার করে জিয়াকে প্রথম রাষ্ট্রপতি দাবি করে। মুক্তিসংগ্রামের মাইলফলক ৭ মার্চ, যা এখন সংবিধানের অংশ বিএনপি তা প্রাসঙ্গিক মনে করে না। বিএনপির বিবেচনায় ৬৬-র ৬-দফা, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০-এর নির্বাচন মুক্তিযুদ্ধের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়। বিএনপির দৃষ্টিতে বঙ্গবন্ধু অন্য সাধারণ নাগরিকদের মতো একজন শেখ মুজিবর রহমান ছাড়া অন্য কিছু নয়। বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা স্বীকার করার প্রশ্নই আসে না বিএনপির কাছে। বরং বাকশাল প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি বঙ্গবন্ধুকে অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড় করায়। আওয়ামী লীগ সরকার যাদের মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত করে দণ্ডিত করেছে বিএনপি ও তার মিত্ররা তাদের অপরাধী মনে করে না, বরং মানবতাবিরোধী অপরাধের এ বিচারকে তারা হত্যাকাণ্ড মনে করে।

এত মৌলিক মতবিরোধ যে বাংলাদেশ নিয়ে, স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে কোন বাংলাদেশের জন্য অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আওয়ামী লীগ ও তার মিত্রদের বিশ্বাসের বাংলাদেশ না বিএনপি ও তার মিত্রদের বাংলাদেশের জন্য। সংলাপ, সমঝোতা যদি করতে হয়, তাহলে এ মৌলিক প্রশ্নগুলোর সমাধান সবচেয়ে বেশি জরুরি। এ প্রশ্নগুলোর সমাধান খুঁজে পাওয়া গেলে, দলিল প্রমাণের ভিত্তিতে মোটামুটি ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হলে শত্রুতা বন্ধুত্বে পরিণত না হলেও শত্রুতার মাত্রাবিনাশী সংঘর্ষ থেকে বিরোধের পর্যায়ে নেমে আসবে আশা করা যায়। আর এ প্রশ্নগুলোকে এড়িয়ে কেবল তথাকথিত সুষ্ঠু নির্বাচনের সংলাপ হলে, এমনকি সংলাপে ঐক্য ফ্রন্টের ৭ দফা বিষয়ে ঐকমত্য হলেও এ সংলাপ বড়জোড় সুষ্ঠুভাবে একনায়তান্ত্রিক ও কর্তৃত্ববাদী সরকারের নির্বাচনের পথকে প্রসারিত করবে। এর বেশি কিছু নয়। নির্বাচনের পর রাজনীতির ভয়ংকর অসুখ আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে চোখ বন্ধ করে বলে দেওয়া যায়।

ফরাসি সম্রাট একাদশ লুইয়ের শাসনামলে এক জ্যোতিষী কর্তৃক সম্রাটের এক প্রিয়তমার মৃত্যুবিষয়ক ভবিষ্যদ্বাণী ফলে গেলে সম্রাট ক্রোধে অন্ধ হয়ে জ্যোতিষীকে হত্যার উদ্দেশ্যে ডেকে পাঠান। জ্যোতিষী উপস্থিত হলে সম্রাট তাকে বললেন, ‘তুমি তো অন্যের ভাগ্য গণনা করো। এবার বলো দেখি, তোমার ভাগ্যে কী ঘটতে যাচ্ছে?’ জ্যোতিষী সম্রাটের পরিকল্পনার বিষয়টি আঁচ করতে পেরে বিচক্ষণতার সঙ্গে জবাব দিলো, ‘আমি দিব্য চোখে দেখতে পাচ্ছি, আপনার মৃত্যুর তিন দিন আগে আমি মারা যাবো’। অতপর সম্রাট নিজের জীবন বাঁচাতে সর্বশক্তি নিয়োগ করে জ্যোতিষীর জীবন রক্ষার দায়িত্ব নিয়ে ছিলেন। বাংলাদেশকে বাঁচাতে, বাংলাদেশের অব্যাহত অগ্রগতি ও উন্নয়নের স্বার্থে, গণতন্ত্র রক্ষার্থে, অর্থবহ সংলাপ সফল করতে রাজনীতিবিদরাও সর্বশক্তি নিয়োগ করবেন এমনটিই আশা আমজনতার তরফ থেকে।

লেখক: অধ্যাপক, আইন বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

ই-মেইল: zhossain@justice.com 

/এসএএস/এমএনএইচ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

লাইভ

টপ