বিএনপির তিনকাল

Send
আহসান কবির
প্রকাশিত : ১৭:৫১, জানুয়ারি ১৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:১০, জানুয়ারি ১৪, ২০১৯

আহসান কবিরবিএনপিকে নিয়ে সমর্থকদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। বিএনপি কী করবে এখন? খালেদা জিয়া কি জেলেই থাকবেন? তারেক জিয়াকে কি শেখ হাসিনার সরকার দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে? বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্টের যে আটজন নির্বাচিত হয়েছেন তারা কি ৯০ দিনের মধ্যে শপথ নেবেন নাকি নেবেন না? বিএনপির কার্যক্রম কি শুধু প্রেস কনফারেন্স আর বিবৃতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে? বিএনপির পরিণতি কি মুসলিম লীগের মতো হবে? এসব প্রশ্নের উত্তর হয়তো সময়ই বলে দেবে। তবু কেমন ছিল বিএনপি শুরুতে? আর কেমন ছিল গত ১৫ বছর?
এক. গোয়েন্দা সংস্থার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সামরিক বাহিনীর উদরে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশের প্রথম দল বিএনপি। প্রথমে এই দলের নাম ছিল জাগদল তথা ‘জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল’। পরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপি নামেই এটি নিবন্ধিত হয় এবং পরিচিতি পায়। প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক থাকাকালে জেনারেল জিয়া এই দলের প্রধান হন। দল গঠনের আগে এটা নিয়ে কোনও সেমিনার সিম্পোজিয়াম হয়নি এবং ছিল না বছরের পর বছর ধরে রাজনৈতিক ধারাবাহিতায় গড়ে ওঠা কোনও সংস্কৃতি বা দলের চর্চা। হাজার বছরের বাঙালি জাতি ও সংস্কৃতির ইতিহাসকে মুছে দিয়ে কথিত বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে সামনে নিয়ে আসা হয় এবং এই জাতীয়তাবাদী ফর্মুলার সঙ্গে ধর্মের মিশেল দেওয়া হয় স্থূলভাবে। সে সময় থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত তাত্ত্বিকভাবে কোনও নেতাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি, যিনি কথিত বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে সূক্ষ্ম ও সুচারুভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরতে পারেন। পাকিস্তানি জেনারেলদের মতো দলের জন্ম দিয়ে জেনারেল জিয়াউর রহমান স্মল আর্মস ট্রেনিং-এর মতো জাতীয়তাবাদের ওপর ক্লাস নেওয়া শুরু করেন এবং এক পরীক্ষার আয়োজন করেন। যে পরীক্ষায় জিয়াউর রহমানের প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজ (ভদ্রলোক আপাদমস্তক রাজাকার ছিলেন এবং জাতিসংঘে গিয়ে বাংলাদেশ জন্মের বিরোধিতা করেছিলেন!)শূন্য পেয়েছিলেন। আসলে সে সময়ে প্রয়োজন ছিল সামরিক বাহিনীর তত্ত্বাবধানে গড়ে ওঠা দলের একটা বেসামরিক রূপদান এবং সে কারণেই বিএনপির জন্ম হয়েছিল।

দুই. আওয়ামী লীগবিরোধী সব দল ও মতকে জিয়াউর রহমান এক প্ল্যাটফর্মে আনতে চেয়েছিলেন। যারা স্বাধীনতার সরাসরি বিরোধিতা করেছিলেন বঙ্গবন্ধুর আমলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল এবং তাদের বিচার চলছিল। জিয়াউর রহমান এসে দালাল আইন রদ করেন এবং যারা বিচারাধীন ও কারাবন্দি ছিলেন তারা মুক্ত হন।

মাওলানা ভাসানীর অনুগত মশিউর রহমান যাদু মিঞাকে দল গঠনের একেবারে শুরুতে জিয়াউর রহমান সিনিয়র মন্ত্রী নিযুক্ত করেছিলেন। দালাল আইনে এই ভদ্রলোক অভিযুক্ত হয়েছিলেন। এছাড়া শাহ আজিজ, আবদুল আলীম (যিনি মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান),জুলমত আলী-সহ মুসলিম লীগ,নেজামী ইসলামী ও জামায়াতের অনেক নেতা ক্ষমতার হালুয়া রুটির লোভে বিএনপিতে যোগদান করেছিলেন, যারা আগাগোড়া স্বাধীনতাবিরোধী ছিলেন। জিয়াউর রহমানের জীবদ্দশায় বিএনপির মুক্তিযোদ্ধা অংশ (এরা দলকে প্রভাবিত করতে পারেনি তেমন) স্বাধীনতাবিরোধীদের দলে আসা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং চট্টগ্রাম বিএনপিতে বিভাজন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিভাজন ঠেকাতে ও রাষ্ট্রীয় কাজে জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম যাওয়ার পর সেখানে নিহত হন (মে,১৯৮১)। স্বাভাবিকভাবেই জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর দলটি প্রথম সীমাহীন সমস্যায় পড়ে। জিয়াউর রহমানের মতো জেনারেল এরশাদ ক্ষমতায় থেকে দল গঠনের পর বিএনপির নামকরা নেতাদের অনেকেই (মওদুদ আহমদ,কাজী জাফর,ওবায়দুর রহমান,আবুল হাসনাত-সহ অনেকেই) জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন।

তিন. ১৯৮৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঘর ছেড়ে রাজনীতির পথে নামেন খালেদা জিয়া। অনেকটাই সঙ্গীহীন, সিনিয়র নেতারা তখন তার পাশে ছিলেন না। বি.চৌধুরীর মতো নেতাকে নিয়েও খানিকটা বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এই পথচলায় খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন। ছাত্রদল আর যুবদলের কিছু নিষ্ঠাবান কর্মী ছিল তার সঙ্গে। ১৯৮৬ সালে এরশাদের অধীনে নির্বাচনে অংশ না নেওয়া,এরশাদ বিরোধিতায় আপসহীনতা,দেশের প্রত্যেকটি অঞ্চলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে মানুষকে সম্পৃক্ত করার পরীক্ষায় উতরে যান খালেদা জিয়া। যে বিএনপি টিকে যায় মানুষের কাছে সেটি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার উদরে জন্ম নেওয়া বিএনপি নয়, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বেসামরিক বিএনপি। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে ক্ষমতায় আসে বিএনপি,খালেদা জিয়া বেছে নেন সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারা। জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত প্রেসিডেন্সিয়াল পদ্ধতির পথে আর কখনোই হাঁটেনি বিএনপি। জন্ম হোক যথা তথা,কর্ম হোক ভালোর সবচেয়ে বড় উদাহরণ সম্ভবত এটি।

চার. ক্ষমতায় এসে সিদ্বান্তহীন হয়ে পড়ে বিএনপি। আওয়ামী লীগের তুমুল আন্দোলনে এবং খালেদা জিয়ার ‘আপসহীন’ নীরবতায় সবকিছুতেই এক ধরনের স্থবিরতা নেমে আসে। ১৯৯৫-৯৬ সাল থেকে তারেক রহমান ব্যবসা এবং রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়তে শুরু করেন। ১৯৯৬-এর ফেব্রুয়ারিতে বিতর্কিত এক নির্বাচনের পর জুন মাসের নির্বাচনে ক্ষমতা হারায় বিএনপি। খালেদা জিয়ার সমান্তরালে এ সময়ে ক্রমশ শক্তিমান হয়ে ওঠেন তারেক রহমান। ২০০১ সালে বিএনপি বিশাল বিজয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় ফিরে আসে। ২০০১ সালের অক্টোবরের নির্বাচনে জেতার পর তারেক রহমানের প্রশংসায় অনেকেই পঞ্চমুখ হয়ে ওঠেন। বিএনপির তৃণমূলে তিনি তার প্রভাব বাড়াতে সচেষ্ট হন।

এমনই ছিল বিএনপির অগ্রযাত্রার প্রথম পঁচিশ বছর। বাংলাদেশে পাকিস্তানপন্থী রাজনীতির গোড়াপত্তন করলেও বিএনপি এক বাস্তবতার নাম। অনেকেই বলেন আওয়ামী লীগের ব্যর্থতার ভেতরেই লুকিয়ে থাকে বিএনপি তথা অ্যান্টি আওয়ামী লীগ। ২০০১ সালে ক্ষমতায় যাওয়ার পরই ভেতরে বাইরে বদলে যেতে থাকে বিএনপি। যেমন–

এক. দলের ভেতর নতুন ক্ষমতাবান তারেক রহমান রাজনীতিকে ‘হাওয়া ভবন’ কেন্দ্রিক গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। সিনিয়র নেতাদের সমান্তরালে অপেক্ষাকৃত নবীন ও উচ্চাভিলাষীদের নিয়ে তার এই ‘কোটারি স্বার্থ’ তাকে এবং দলকে বিতর্কিত করে তোলে। সিএনজি কেনা,খাম্বা দুর্নীতি,বিদ্যুৎহীনতা ছাড়াও গ্রেনেড হামলা,সারাদেশে বোমা হামলা,দশ ট্রাক অস্ত্র ধরা পড়া,গোলাবারুদ উদ্ধার,স্বাধীনতাবিরোধীদের মন্ত্রী বানানো এসব কারণে অজনপ্রিয় হয়ে পড়ে খালেদা জিয়ার বিএনপি। জিয়াউর রহমানের কথিত সৎ ইমেজের সঙ্গে তারেক রহমানের ইমেজ প্রশ্নবিদ্ধ হয়,একই সঙ্গে দলগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয় বিএনপির ইমেজ। তারেক রহমান এখনও সেই ইমেজ ভেঙে নিজেকে ‘পরিষ্কার’ করতে পেরেছেন কিনা সেই বিচারের ভার বিএনপির অগণিত সমর্থকরাই করুক।

দুই. জিয়াউর রহমানের মৃত্যু ও এরশাদ আমলের পর (১৯৮২-১৯৯০) ২০০৭-২০০৮ সালে বিএনপি আরেক দফা বিপদে পড়ে এবং ক্রমশ টালমাটাল হতে থাকে। সম্ভবত এখনও সেই সিনড্রোম কাটাতে পারেনি বিএনপি। ইয়াজউদ্দীন আহমেদকে রাষ্ট্রপতি তথা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করেও বিএনপি সামাল দিতে পারেনি। মঞ্চে আসেন বিএনপির মনোনীত সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দিন আহমেদ। মইনুদ্দীন ফখরুদ্দীনের মাইনাস টু ফর্মুলায় আওয়ামী লীগের চেয়ে বিএনপি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিএনপির সিনিয়র নেতাদের (মান্নান ভুইয়া, সাইফুর রহমান,সাবেক সেনাপ্রধান মাহবুব, এমনকি সাদেক হোসেন খোকার মতো নেতারাও তখন নিষ্ক্রিয় কিংবা কথিত সংস্কারের দিকে ঝুঁকে পড়েন) অনেকেই দল থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। তারেক রহমান জেল থেকে বেরিয়ে বিদেশে চলে যেতে বাধ্য হন। বৈরী পরিবেশে ২০০৮-এর ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবি হয়। এরপর খালেদা জিয়া চেষ্টা করেও বিভাজন রুখতে সফল হননি। বিএনপির সিনিয়র নেতারা খালেদা জিয়ার ওপর আস্থাশীল কিন্তু তারেকের অনুগতদের আরেকটা বলয় রয়েছে বিএনপিতে। খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার পর এই বিভাজন আরও প্রকট হয়েছে।

তিন. নতুন করে আরও একটা বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিএনপির কেউ কেউ বলছেন ২০১৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি জামায়াতে ইসলামীর পরামর্শে। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। তাদের অভিযোগ, ২০১৪ সালে যেভাবে নির্বাচন হয়েছিল ২০১৮ সালের ডিসেম্বরেও তা-ই হয়েছে। অন্যপক্ষ বলছেন, ২০১৪-এর নির্বাচনে অংশ নিলে ২০১৮-এর ডিসেম্বরের নির্বাচনে এমন ভরাডুবি হতো না। দল সাংগঠনিকভাবে ভালো থাকতো। এই বিতর্ক বোধকরি শেষ হবে না। তবে বিএনপি তথা ঐক্যজোট থেকে নির্বাচিতরা যদি শপথ না নেন তাহলে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দলগতভাবে বিএনপি ও এর আন্দোলনের চরিত্র কী হবে সেটা এখন পর্যন্ত আদৌ পরিষ্কার নয়।

তাহলে কী করবে বিএনপি? ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে তাদের নির্বাচনি জোট করা কি ঠিক হয়েছিল? কী হতে পারে তাদের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম?

এক. তারেক রহমানের যে কোনও একটা পথ বেছে নিতে হবে। তার মা আদালতের রায় মেনে নিয়ে জেলে আছেন। তারেক রহমান দূরদেশে থেকে কীভাবে দল চালাবেন? পৃথিবীর আর কোনও দেশে কি এমন রেওয়াজ আছে? নেতৃত্ব বদলের কোনও সম্ভাবনা না থাকলে বিএনপি আরও বেশি সমস্যায় পড়বে,আরও বেশি কর্মীহীন হয়ে পড়ার সম্ভাবনা বাড়বে। সম্ভবত এ কারণেই বিএনপি ড.কামাল হোসেন-মান্না-আ স ম আব্দুর রব সাহেবদের নেতৃত্ব মেনে নিয়ে ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে মিলে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। দলগত অবস্থানটা ফিরে পেতে সারাদেশে বিএনপির গণসংযোগ,যোগাযোগ,কর্মী সভা, মিছিল মিটিং অর্থাৎ ‘দলের’ চর্চাটা বাড়ানো জরুরি।

দুই. মুক্তিযুদ্ধের একজন সেক্টর কমান্ডার স্বাধীনতা বিরোধীদের দলে টানবেন, এটা মেনে নেওয়া সম্ভব না।খালেদা জিয়ার বিএনপি যেমন জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রপতি শাসিত শাসন পদ্ধতির দিকে যায়নি তেমনি জামায়াত-সহ স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে পারে বিএনপি। জঙ্গিবাদের মদত,গ্রেনেড হামলা ও দশ ট্রাক অস্ত্র উদ্ধারের মতো খারাপ ঘটনাগুলো থেকেও তারা ঘোষণা দিয়ে সরে দাঁড়াতে পারে। বহির্বিশ্বের কাছে এটা প্রমাণ করা জরুরি যে বিএনপি সন্ত্রাসী দল নয়।

তিন. বিএনপি নেতারা অসংখ্যবার বলেছেন হামলা ও মামলার জালে অসহায় হয়ে পড়েছে কর্মীরা। অনেকে নিখোঁজ আছেন এমন অভিযোগও করেন তারা। এসব কর্মীর পাশে দাঁড়ানো জরুরি। স্বৈরাচার এরশাদের আমলে সারাদেশে যেভাবে গণসংযোগ করেছিলেন খালেদা জিয়া,যেভাবে সাধারণ মানুষের মন জয় করতে পেরেছিলেন, তেমনি কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে হবে,উদ্বুদ্ধ করতে হবে তাদের।

কিন্তু কে করবেন এসব? কে দেবে কর্মীদের আশা ভরসা? বিদেশ থেকে তারেক রহমান? মির্জা ফখরুল? রুহুল কবীর রিজভী? কে?

লেখক: রম্যলেখক

 

 

/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

লাইভ

টপ