সংসদীয় গণতন্ত্রের ট্রেন

Send
আমীন আল রশীদ
প্রকাশিত : ১৬:৫৬, জানুয়ারি ১৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৫৭, জানুয়ারি ১৫, ২০১৯

আমীন আল রশীদসংসদ ছাড়াও একটি দেশ চলতে পারে। কিন্তু চরম স্বৈরতান্ত্রিক বা একনায়কতান্ত্রিক দেশেও সংসদ থাকে। কারণ, স্বৈরাচার সরকারকেও তার কাজের বৈধতা এবং নিজের সুবিধা মতো আইন প্রণয়ন করতে হয় এই সংসদেই। কিন্তু সংসদের কাজ শুধু আইন প্রণয়ন নয়।
১৯৯১ সাল থেকে বাংলাদেশে যে সংসদীয় গণতন্ত্রের যে ট্রেন যাত্রা শুরু করেছিল—সেই ট্রেন এখনও কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে তো পৌঁছায়নি, বরং মাঝেমধ্যেই তার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়; বগি খুলে পড়ে; রেল লাইন বন্ধ হয়ে যায়। আবার কার্যকর গণতন্ত্রের জন্য অন্যতম প্রধান যে শর্ত একটি অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন—সেটি নিশ্চিত না হওয়ায় সংসদীয় গণতন্ত্রের ট্রেন কবে নাগাদ কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছাবে, তা নিয়েও সংশয় আছে।
সংসদের প্রধান কাজ নিঃসন্দেহে আইন প্রণয়ন। যে কারণে সংসদ সদস্যদের বলা হয় আইনপ্রণেতা। কিন্তু আইনপ্রণেতা হওয়ার জন্য একজন নাগরিকের কী কী যোগ্যতা থাকতে হবে, তার ন্যূনতম কতটুকু পড়াশোনা জানতে হবে, মানুষের সঙ্গে তার সম্পর্ক ও যোগাযোগ এবং দেশ ও দেশের জনগণের প্রতি তার কমিটমেন্ট কী থাকতে হবে—তার সুস্পষ্ট কোনও রূপরেখা আমাদের সংবিধানে যেমন নেই, তেমনি এ সম্পর্কিত কোনও নীতিমালাও নেই। যে কারণে কোনও দিন স্কুলের বারান্দায় হাঁটেননি, এমন লোকও আইনপ্রণেতা হতে পারছেন। সঙ্গত কারণেই আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় তার ‘হ্যাঁ’ ‘না’ বলা ছাড়া কিছু করার থাকে না।

কিন্তু অতীতের দশটি সংসদের মতো আগামী ৩০ জানুয়ারি যে একাদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হচ্ছে, সেই সংসদেও কি আমরা আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় খুব ব্যতিক্রম ছাড়া এমন ‘হ্যাঁ’ ‘না’ এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের যেকোনও সিদ্ধান্তে টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানানোর দৃশ্যই দেখবো?

বলা হয়, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংসদ সদস্যদের স্বাধীন মতামত প্রকাশে বাধা। যে কারণে এমপিরা সদস্যপদ হারানোর ভয়ে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দেন না। কিন্তু এখানে একটি জুজুর ভয় বছরের পর বছর ধরেই দেখানো হচ্ছে। বাস্তবতা হলো, কেবল সংসদে অনাস্থা ভোটের বেলায় সদস্যদের নিজ দলের পক্ষে ভোট দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আছে ৭০ অনুচ্ছেদে। সেখানে স্পষ্টই বলা আছে, কোনও নির্বাচনে কোনও রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোনও ব্যক্তি সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি-(ক) উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহা হইলে সংসদে তাঁহার আসন শূন্য হইবে। কিন্তু কোনও বিলের বিপক্ষে ভোট দেয়া যেহেতু সরাসরি দলের বিপক্ষে ভোট দেয়া নয়, সুতরাং তার সদস্যপদ যাবে না। কিন্তু তারপরও স্রেফ ভয়ে কোনও বিলের বিপক্ষে সরকারি দলের এমপিরা ভোট দেন না বা সংশোধনী দেন না। এর আরেকটি কারণ হুইপিং। জাতীয় সংসদে সরকারি দলের হুইপরা বিলের বিপক্ষে না যেতে এমপিদের প্রভাবিত করেন। হুইপ হিসেবে তিনি এই কাজটি করবেন। কিন্তু একজন এমপিকেও তার স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার দিতে হবে এবং স্বাধীন মত প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি যদি কোনও বিলকে গণবিরোধী বা সমাজ ও রাষ্ট্রের কোনও একটি অংশের জন্য ক্ষতিকর বিবেচনা করে এর বিরুদ্ধে সংশোধনী দিয়ে বক্তব্য দেন, তাতে ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার সদস্যপদ বাতিল হওয়ার কথা নয়। কিন্তু আমাদের এমপিরা কোনও অবস্থাতেই নিজ দলের বিপক্ষে যায় এমন কিছু করেন না।

এমন প্রত্যাশা কি খুব বেশি চাওয়া যে, একাদশ সংসদে সরকারি দলের কোনও একজন এমপি কোনও একটি বিলের বিপক্ষে জোরালো অবস্থান নেবেন এবং তার ফলে যদি তার সদস্যপদ চলে যায় তাহলে তিনি উচ্চ আদালতে যাবেন। এ কথা হলফ করে বলা যায়, উচ্চ আদালত ওই এমপির সদস্যপদ বাতিল অবৈধ ঘোষণা করবেন। কারণ, কেবল দলের বিপক্ষে অনাস্থা ভোট ছাড়া ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কারও সদস্যপদ বাতিল হওয়ার সুযোগ নেই। সুতরাং আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, একাদশ সংসদে এমন অন্তত একটি ঘটনা ঘটুক। একজন সাহসী এমপি অন্তত দেখান যে, ৭০ অনুচ্ছেদ তার হাত-পা বেঁধে দেয়নি।

২.

সংসদের দ্বিতীয় প্রধান কাজ বাজেট পাস। প্রতি বছরের জুনের প্রথমে অর্থমন্ত্রী বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং তার ওপর দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার পরে জুনের শেষ নাগাদ সেটি পাস হয়। এই দীর্ঘ আলাপে সংসদ সদস্যরা আসলে কী করেন? অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, কোনও এমপিকে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনার জন্য স্পিকার ২০ মিনিট সময় দিলে তিনি প্রথম ৫ মিনিট দলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধানমন্ত্রীর স্তুতি করেন; পরবর্তী ৫ মিনিট বিরোধী পক্ষকে গালাগাল করেন; পরবর্তী ৫ মিনিট সাম্প্রতিক রাজনৈতিক নানা বিষয়ে আলোচনা করেন এবং শেষের ৫ মিনিট নিজের এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও চাহিদা সম্পর্কে বিভিন্ন মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। শেষদিকে এসে সম্ভব হলে অর্থমন্ত্রীকে একটা ধন্যবাদ দেন। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটের কোনও কোনও বিষয় অধিকাংশ মানুষকে প্রভাবিত করবে, এমনকি তার নিজের সংসদীয় এলাকার মানুষের ওপর কোনও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কিনা, ফেললে তার বিকল্প কী প্রস্তাব থাকতে পারে, বাজেটের ভালো দিকগুলো কী ইত্যাদি বিষয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করেন হাতেগোনা কয়েকজন। এর কারণ অর্থমন্ত্রী যে বিশাল বাজেট পেশ  করেন, সেটি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ার যে সময় ও ধৈর্যের প্রয়োজন, তা অনেক সময় থাকে না। কারণ, তারা শুধুই এমপি নন। এমপি পদ তাদের আর দশটা কাজের বাইরে অতিরিক্ত। সংসদে এসে বা সংসদের লাইব্রেরিতে বসে তারা কোনও একটা বিষয়ে দীর্ঘ সময়ে পড়াশোনা করবেন, জানাবোঝার চেষ্টা করবেন, সেটি অধিকাংশের ভাবনার মধ্যেই থাকে না, আবার অনেক সময় সেই সময়টাও বের করতে পারেন না। কারণ, তাদের আরও হাজারটা বিষয় নিয়ে ব্যস্ত থাকেতে হয়। ফলে বাজেটের মতো বিশাল ডকুমেন্ট তো দূরে থাক, ছোটখাটো বিল নিয়েও তারা কোনও ধরনের পড়াশোনায় সময় দিতে পারেন না। বিরোধী দলের কিছু সদস্য নিয়ম রক্ষার তাগিদে তথা বিলে সংশোধনী দিতে হবে বলে কিছু পড়াশোনা করেন। কিন্তু বাজেট ও বিলের যে চুলচেলা বিশ্লেষণ করার কথা, সেটি অতীতে খুব সামান্য সংখ্যক এমপির কাছ থেকেই পাওয়া গেছে। এমপিরা বরং নিজেদের এলাকার রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্টসহ বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যাপারে বেশি আগ্রহী। যদিও স্থানীয় উন্নয়ন কমর্কাণ্ড করার দায়িত্ব তাদের নয়। এর জন্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান রয়েছে, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় রয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আইন প্রণেতাদের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়াতেই সবচেয়ে কম আগ্রহ বলে মনে হয়। একাদশ সংসদে এই প্রবণতার যদি কিছুটা হলেও উন্নতি হয়, তাও বলা যাবে যে আমাদের সংসদীয় গণতন্ত্রের ট্রেনটি একেবারে থেমে নেই; বরং ধীরে হলেও চলছে।

৩.

সংসদের অন্যতম প্রধান কাজ সরকারকে জবাবদিহির মধ্যে রাখা। এজন্য রয়েছে বিভিন্ন সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম তদারকি করা তথা তাদের ওপর ওয়াচডগের ভূমিকা পালনের জন্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি রয়েছে। সেসব কমিটির সভাপতি ও সদস্য হন এমপিরাই। আর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা থাকেন কমিটির সদস্য। অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে অনেক কমিটির বৈঠক খুবই অনিয়মিত। কখনও কখনও বৈঠকে কোরাম সংকটও দেখা যায়।

সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিতে স্পষ্ট বলা আছে, (বিধি ১৮৭(২), এমন কোনও সদস্য কমিটিতে নিযুক্ত হইবেন না, যাহার ব্যক্তিগত, আর্থিক ও প্রত্যক্ষ স্বার্থ কমিটিতে বিবেচিত হইতে পারে এমন বিষয়ের সহিত সংশ্লিষ্টতা আছে। যেমন, যার পরিবহন ব্যবসা আছে, তিনি সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হতে পারবেন না। যার নৌযান ব্যবসা আছে তিনি নৌ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে থাকতে পারবেন না। যার আবাসন ব্যবসা আছে, তিনি নিশ্চয়ই গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে থাকবেন না। কিন্তু অতীতে বিভিন্ন স্থায়ী কমিটিতে সদস্য তো বটেই, এমনকি সভাপতি পদেও এমন লোকদের দেখা গেছে, যাদের ওই মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত ব্যবসা রয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সমালোচনাও হয়েছে। কিন্তু এবার একাদশ জাতীয় সংসদেও কতটি স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সদস্যপদে এরকম স্বার্থের দ্বন্দ্ব হতে পারেন, এমন সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত হন, সেদিকেও দেশবাসীর নজর থাকবে।

নবম ও দশম সংসদেও বিরোধী দলের একাধিক সদস্যকে সংসদীয় কমিটির সভাপতি করা হয়েছিল। এটি একটি ভালো দৃষ্টান্ত। এবারও সেই ধারা বজায় থাকুক। বিশেষ করে সরকারি হিসাব সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি পদে বিরোধী দলের কাউকে নিয়োগের দাবি আছে বহুদিন ধরে। এতে করে একদিকে সরকারের জবাবদিহি যেমন বাড়বে, তেমনি সংসদীয় গণতন্ত্রের ট্রেনও গতিশীল হবে।

৪.

দশম সংসদে যারা প্রধান বিরোধী দল ছিল, অর্থাৎ জাতীয় পার্টি একইসঙ্গে সরকারে ও বিরোধী দলে থাকায় নৈতিক কারণেই তারা প্রকৃত বিরোধী দল হয়ে উঠতে পারেনি। বরং রসিকতা করে তাদের ‘সরকারি বিরোধী দল’ বলে ডাকা হতো। তবে গত ৫ বছরে সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে মারমুখী আচরণ ও গালাগালের পরিমাণ নবম সংসদের তুলনায় অনেক কম ছিল। কারণ, দশম সংসদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি ছিল না। নবম সংসদে প্রধান বিরোধী দল ছিল বিএনপি এবং সমসাময়িক নানা ইস্যুতে প্রধান দুই দলের এমপিদের বক্তব্য অনেক সময় খিস্তি-খেউড়ে পরিণত হয়; যে কারণে তৎকালীন স্পিকার এবং বর্তমানে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদকে এই খিস্তি বন্ধে রুলিংও দিতে হয়েছিল।

সংসদে সদস্যদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হবে। কথার লড়াই হবে, কিন্তু তা হবে যুক্তিপূর্ণ, বুদ্ধিদীপ্ত। বিরোধিতা মানে জাতীয় নেতাদের বিষোদ্গার নয়। বিরোধিতা মানে কোনও নেতার সমস্ত অবদান অস্বীকার করে তাকে নো বডি বানিয়ে ফেলা নয়। আমাদের সংসদেই বুদ্ধিদীপ্ত এবং যুক্তিপূর্ণ কথার লড়াইয়ের অনেক উদাহরণ আছে। এ মুহূর্তে একটি ঘটনা উল্লেখ করা যায়। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুজন সিনিয়র নেতার (দুজনই এখন প্রয়াত) ওই ঘটনাটি সংসদের গ্যালারিতে বসেই দেখেছিলাম। কোনও একটি ইস্যুতে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেছিলেন, মাননীয় স্পিকার বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। জবাবে আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা ও পার্লামেন্টারিয়ান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, মাননীয় স্পিকার, কে কখন কী স্পর্শ করলে কাতর হয় তা বলা মুশকিল।...এ সময় সংসদে হাসির রোল ওঠে। খোদ স্পিকারও মুচকি হেসে দেন। এটাই সংসদীয় গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। সেই সৌন্দর্য একাদশ সংসদে ফিরে আসুক।

তবে সমস্যা হলো এরকম বুদ্ধিদীপ্ত ও পাণ্ডিত্যপূর্ণ রসিকতার জন্য যোগ্যতা লাগে। কারা আমাদের সংসদ সদস্য হচ্ছেন তার ওপর নির্ভর করে তাদের কাছ থেকে আমরা কী ধরনের সংসদীয় রীতি-নীতি শিখবো। বেসরকারি সংগঠন সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের হিসাব বলছে, একাদশ জাতীয় সংসদে ৬১ শতাংশ সদস্যই ব্যবসায়ী, আর আইনজীবী ১২ শতাংশ। সুজনের তথ্য অনুযায়ী, এই সংসদে ৮০ শতাংশ সদস্যেরই শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক অথবা স্নাতকোত্তোর। ফলে যখন এমপিদের অধিকাংশই ব্যবসায়ী, স্বভাবতই তারা নিজেদের ব্যবসা বাণিজ্যের স্বার্থই বেশি দেখবেন। এমন কোনও আইন তারা করবেন বা করতে দেবেন না, যা তাদের ব্যবসার ক্ষতির কারণ হয়। সংসদে ব্যবসায়ীদের এই আধিক্যের কারণে জাতীয় সংসদকে অনেকে ‘ব্যবসায়ীদের ক্লাব’ বলেও মন্তব্য করেন। একাদশ সংসদেও সেই ব্যবসায়ীদের আধিক্য থাকলেও তারা সংসদ সদস্য হিসেবে ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে থাকবেন বলে যে শপথ নিয়েছেন, সে কথার সম্মান রাখবেন-জনগণের প্রত্যাশা এটুকুই।

৫.

শক্তিশালী বিরোধী দল ছাড়া সংসদীয় গণতন্ত্র বিকশিত হয় না। বরং সংসদে ও রাষ্ট্রে একটি ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য শক্তিশালী বিরোধী দল থাকতে হয়, যারা একইসঙ্গে সংসদে ও সংসদের বাইরে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করবে; গণবিরোধী ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলবে। সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করবে এবং পাশাপাশি নিজেদের বিকল্প ভাবনাও মানুষকে জানাবে।

একটি আদর্শিক বিরোধী দল শুধু হ্যাঁ-না ভোটের মধ্যেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখে না কিংবা বিরোধিতার খাতিরে শুধুই খিস্তি-খেউড় করে না। কিন্তু দশম সংসদে জাতীয় পার্টির কর্মকাণ্ড বস্তুত সরকারি দলেরই অনুরূপ ছিল। কালেভদ্রে তারা দুয়েকবার ওয়াকআউট করলেও সেগুলোকে অনেকেই লোক দেখানো বলে মনে করেন।

এবার জাতীয় পার্টির নেতারা অবশ্য বারবারই বলছেন তারা আর ‘সরকারি বিরোধী দল’ হয়ে থাকবেন না। বরং দেশের স্বার্থে একটি কার্যকর ও শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করবেন। ফলে মাত্র ৮টি আসন পাওয়া বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের সদস্যরা সংসদে যোগ না দিলেও জাতীয় পার্টি এবার আর সরকারি বিরোধী দল নয়, বরং সত্যিকারের বিরোধী দল হয়ে উঠুক, একাদশ সংসদে তারা গণতন্ত্রের ট্রেনকে গতিশীল করুক– এই প্রত্যাশা।

লেখক: সাংবাদিক।

 

/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

লাইভ

টপ