বার্লিন আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা, বাংলাদেশ কী করছে?

Send
দাউদ হায়দার
প্রকাশিত : ১৩:৩৪, মার্চ ১১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৪০, মার্চ ১১, ২০১৯

দাউদ হায়দাররবিবার (১০ মার্চ ২০১৯) শেষ হলো বার্লিন আইটিবি (আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা। বিশ্বের প্রায় সবক’টি (গোটা কুড়ি বাদে) দেশই অংশ নিয়েছে। বাংলাদেশও। বাংলাদেশ প্রসঙ্গে পরে আসছি।
বিশ্বের বৃহত্তম পর্যটন মেলা বার্লিনেই, বলা হয়, বার্লিনের পর্যটন মেলায় যে-দেশ অংশ নেয় না, সেই দেশের পর্যটন-বাণিজ্য বৈশ্বিক নয়। বিশ্ব পর্যটন-ব্যবসায় পিছিয়ে, ‘নিজেকে হারায় ক্ষণে-ক্ষণে।’
বিশ্বের সবচেয়ে বড়ো বাণিজ্য-ব্যবসা পর্যটন। গোটা পৃথিবীজুড়ে তিনশ’ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা। এই ব্যবসায় কোন দেশ কতটা নিজেকে উন্মুক্ত করবে, কী ধরনের সংস্কৃতি তুলে ধরবে, কোন দেশ মৌলবাদ ও সন্ত্রাসমুক্ত, কোন দেশ শান্তির, কোন দেশে পর্যটক আনন্দ-ফুর্তিতে দিনকাল কাটাবে, নিশ্চয় বিবেচ্য। অর্থাৎ গ্যারান্টি তথা নিশ্চয়তা না পেলে কোন পর্যটক গাঁটের কড়ি খরচ করে মরতে যাবে?

আফ্রিকা-মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশই বলে, যে-সব দেশে সারাক্ষণই গোলমাল, পর্যটকদের জন্য ‘সবরকম নিরাপত্তা নিশ্চিত।’ বহুরকম প্রলোভনও। আলজেরিয়ায় এখন বিস্তর ঝামেলা, নাইজেরিয়া- ঘানা-উগান্ডায় জীবন বিপন্ন, এমন কী কেনিয়ায়, কিন্তু পর্যটন মেলায়, এইসব দেশের স্টলে গেলে, স্টলের সাজসজ্জা দেখলে, স্টলের লোকদের কথা শুনলে মনে হবে ‘স্বর্গ’।

ঠিক যে, স্বর্গের প্রচারণাই পর্যটক আকর্ষণ। পর্যটনের ব্যবসা। ক্যারিবিয়েন দীপপুঞ্জের দেশে, দক্ষিণ আমেরিকায় ‘ইসলামিক টেররিস্টের চিহ্ন নেই’, এই মর্মে যে– প্রচারণা পর্যটন মেলার কয়েকটি দেশের, মেলা কর্তৃপক্ষ কিছু বলছে না, টুরিস্টরা বেছে নেয় দেশগুলো, সঙ্গত কারণেই।

টুরিস্টের জন্যে ‘পূর্ণ নিরাপত্তা চায়’ বার্লিন আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলার কর্তৃপক্ষ। পূর্ণ নিরাপত্তা বলতে কোনও জীবননাশ নয়, সার্বিক নিরাপত্তা। থাকা, চলাফেরা, স্বাধীনতা সব।

এবারের আইটিবি’র গেস্ট কান্ট্রি মালয়েশিয়া। ৫ তারিখে সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়ার পর্যটন-বাণিজ্য মন্ত্রী বললেন, ‘বিদেশি পর্যটকের জন্যে আমরা পুলিশি ব্যবস্থা করি, প্রয়োজনে। অন্য কোনও দেশ করে কিনা অজানা। এ বছর থেকে টুরিস্টদের জন্যে আরও সুযোগ সুবিধা। বিমানবন্দরেই একমাসের ভিসা পাবেন।’

তিনি জানান, ‘গত বছর (২০১৮) থেকে টুরিস্ট ভিসার রেটও কমানো হয়েছে। গত বছর ১ লাখ ৩ হাজার ৪শ ৫৭-জন টুরিস্ট গিয়েছেন মালয়েশিয়া’।

যেহেতু এবার গেস্ট কান্ট্রি আইটিবি-তে, আশা করছেন আরও বেশি পর্যটক যাবেন। তার জন্য মালয়েশিয়ার প্যাভিলিয়ন এমনই সুসজ্জিত, ট্যুর অপারেটরদের আপ্যায়ন অবাক মানি।

মালয়েশিয়ার মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, জৈন সব ধর্মীয় মানুষ, মালয়েশিয়ার প্যাভিলিয়নেও একাকার। একজন, তিনি বাংলাদেশের, কুয়ালালামপুরে বাস, বললেন, ভাইজান, আমি ঢাকার, মালয়েশিয়ার নাগরিক, দেশটি ইসলামিক হলেও সেক্যুলার, টু’পাইস ইনকাম করছি পর্যটন ব্যবসায়, অবশ্য আমার ব্যবসা বাংলাদেশ, ভারত নিয়ে। গত বছর থেকে নজর ইউরোপে, পর্যটক পাচ্ছি বিস্তর।

মনে পড়ছে, ১৬ বছর আগে, আইটিবি’র মেলায় প্রথম যোগ দেয় ভুটান, ৬ ফুট বাই ১০ ফুট স্টল নিয়ে। আর এখন? রীতিমতন চোখ ধাঁধানো প্যাভিলিয়ন। ত্রিশটির ট্যুর অপারেটরের অংশগ্রহণ। সেই তুলনায় বাংলাদেশ? বলতে লজ্জা হয়। বলেন একজন ট্যুর অপারেটর, ‘অন্যান্য দেশের স্টল যতটা জাঁকজমক, যতটা আকর্ষণীয়, দেখুন বাংলাদেশের স্টল; কী আছে এখানে? কেন পর্যটক উৎসাহী হবে?’

মিথ্যে অভিযোগ নয়। আইটিবি-তে যোগ দিতে হয় বলেই যোগ দেয়, অর্থ খরচ করে না। বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রণালয় অতিরিক্ত টাকা দেবে না, এই অভিযোগ পুরোনো।

বাণিজ্য ও পর্যটন মন্ত্রণালয় একীভূত, প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলি, বার্লিনের আইটিবি-তে এসে মুগ্ধ, কিন্তু না জানেন ব্যবসা, না জানেন বাণিজ্য, না জানেন পর্যটন। সস্ত্রীক ঘুরে বেড়ান (আচ্ছা, স্ত্রীর ভ্রমণের টাকাও কী সরকারি?), বাজার সওদা করেন, কাজের কাজ না করে ফিরে যান, গিয়ে বড়ো বড়ো কথা বলেন, ব্যস হয়ে গেল ‘পর্যটন ব্যবসা।’  বছর শেষে মন্ত্রীর ভ্রমণে কতজন পর্যটক বাংলাদেশে গিয়েছেন? যাবেন কী আদৌ?- না।

বাংলাদেশে পর্যটন শিল্পে বিপুল সম্ভাবনা, সরকার বোধ হয় খতিয়ে দেখছেন না, দেখতে কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। কী পদক্ষেপ, বেশি বলে লাভ নেই। পাঠক বুঝবেন, কী বলতে চাই।

লেখক: কবি ও সাংবাদিক

/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

লাইভ

টপ