স্বাধীনতা দিবসে কয়েকটি প্রশ্ন

Send
রেজানুর রহমান
প্রকাশিত : ১৪:১৪, মার্চ ২৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৪৩, মার্চ ২৭, ২০১৯

রেজানুর রহমানএকটি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে বসে আছি। স্কুলের তুলনায় কক্ষটি বেশ বড়। কেন কক্ষটিকে বড় বললাম বোধকরি তার একটি ব্যাখ্যা প্রয়োজন। চার দেয়ালের মাঝে প্রায় অবরুদ্ধ পরিবেশে স্কুলটির অবস্থান। আকারে দোতলা। ক্লাসরুমগুলো খুবই ছোট। প্রাণভরে নিঃশ্বাস নেওয়াও দুষ্কর। অথচ এই পরিবেশেই ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা এখানে লেখাপড়া করে। ক্লাসরুমের তুলনায় প্রধান শিক্ষকের কক্ষটি আকারে আয়তনে বেশ বড়। সেজন্যই কক্ষটিকে বড় বলেছি। কথায় কথায় প্রধান শিক্ষককে প্রশ্ন করলাম, কেমন চলছে আপনার স্কুল? উত্তরে হাসিমুখে বললেন, বেশ ভালো।
আপনার স্কুলে তো হাঁটাচলারই জায়গা নেই। অ্যাসেম্বলি হয়?
আমার প্রশ্ন শুনে তিনি যেন একটু বিব্রত হলেন।  প্রথমে না বোঝার ভান করলেন, জ্বি মানে...।
প্রশ্নটা আবার করলাম, আপনার স্কুলে নিয়মিত অ্যাসেম্বলি হয়? মানে ক্লাস শুরুর আগে কী ছেলেমেয়েরা জাতীয় সংগীত গায়?

প্রধান শিক্ষক এবার প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাওয়ার ভঙ্গিতে বললেন, না মানে... জাতীয় সংগীত গাওয়ার মতো জায়গা নেই। দেখতেছেন না... ছোট জায়গা...।

আপনার স্কুলে কি লাইব্রেরি আছে? প্রশ্ন শুনে এবার খুশি হলেন প্রধান শিক্ষক। নিজের কক্ষের বামদিকে দেয়াল ঘেঁষে রাখা একটি বইয়ের আলমারি দেখিয়ে অযথাই মুখে হাসি ছড়িয়ে বললেন, ওই যে লাইব্রেরি... আলমারিটির দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম... ওইটা লাইব্রেরি?

হ্যাঁ।

একটা আলমারিকে আপনি বইয়ের লাইব্রেরি বলছেন? প্রধান শিক্ষক যুক্তি প্রদর্শনের ভঙ্গিতে বললেন, বোঝেনই তো... ছোট জায়গা... তাই ছোট লাইব্রেরি...।

আলমারিটা একটু খোলা যাবে? প্রশ্ন করতেই প্রধান শিক্ষক অতিমাত্রায় উৎসাহী ভঙ্গিতে পিয়নকে ডাক দিলেন। পিয়ন দৌড়ে এলো– জ্বি স্যার...।

চাবি নিয়ে আসো, পিয়নকে অর্ডার করলেন প্রধান শিক্ষক। অর্ডারের ভাষা বুঝতে না পেরে পিয়ন বলল, জ্বি স্যার...?

প্রধান শিক্ষক রেগে উঠলেন। আমার কথা বুঝতে পারো নাই? বইয়ের আলমারির চাবি আনতে বলছি। যাও চাবিটা নিয়ে আসো...।

প্রধান শিক্ষকের কথা অনুযায়ী পিয়নের দৌড়ে চলে যাওয়ার কথা। কিন্তু সে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে রইলো। প্রধান শিক্ষক এবার ধমক দিলেন পিয়নকে– কী হলো? দাঁড়িয়ে আছো কেন? তোমাকে না আলমারির চাবি আনতে বললাম?

পিয়ন কাচুমাচু ভঙ্গিতে বললো, স্যার, আলমারির চাবি নাই।

চাবি নাই মানে? তুমি কী বলতেছ...? প্রধান শিক্ষক রেগে উঠলেন। পিয়ন মাথা নিচু রেখেই বললো, আলমারির চাবি তো স্যার এক বছর ধরেই নাই। আপনাকে কতবার বলেছি নতুন চাবি বানান, আলমারিটা খোলেন...। প্রধান শিক্ষক এবার হুঙ্কার দিলেন, তুমি কার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলতেছো জানো? এক বছর ধরে বইয়ের আলমারির চাবি নাই এইটা কি সত্যি কথা বললা তুমি? এই তো গত মাসেও বইয়ের আলমারিটা খোলা হয়েছিল। আর তুমি বলতেছো এক বছর ধরে চাবি পাওয়া যায় না? তুমি যাও আমার সামনে থেকে... যাও বলতেছি...।

প্রিয় পাঠক, এটি একটি সত্যি ঘটনা। ঢাকা শহরের একটি স্কুলের চিত্র। কয়েক বছর আগে দেশের একটি টেলিভিশন চ্যানেলে বিশেষ একটি প্রতিবেদন দেখেছিলাম। প্রতিবেদনটিতে কয়েকজন স্কুলগামী ছাত্রছাত্রীকে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতা সংগ্রামসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। অধিকাংশই সঠিক জবাব দিতে পারেনি। ওই সময় প্রতিবেদনটি নিয়ে বেশ বিতর্কও দেখা দিয়েছিল। সময় সুযোগ পেলেই আমি ছোট ছোট শিশুদের সঙ্গে মিশে যাই। সহজ-সরল কিছু প্রশ্ন করে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করি। উল্লেখিত স্কুলটিতে সেজন্যই গিয়েছিলাম। কিন্তু পরিস্থিতি দেখে ছাত্রছাত্রীদের প্রশ্ন করার ইচ্ছে হলো না। স্কুল থেকে বেরিয়ে সিদ্ধান্ত নিলাম রাস্তায় হাঁটাপথেই সাধারণ মানুষকে প্রশ্নগুলো জিজ্ঞেস করবো।

মগবাজার মোড় থেকে বাংলামোটরের দিকে যাচ্ছি। একজন ধোপদুরুস্ত মানুষকে দাঁড় করালাম। ভাই আপনার সঙ্গে একটু কথা বলা যাবে?

আপনি কে? সাংবাদিক?

হ্যাঁ।

কী ব্যাপারে প্রশ্ন করবেন? রাজনীতি?

না। দেশ সম্পর্কে প্রশ্ন করবো...।

দেশের কথা শুনেই তিনি হঠাৎ ব্যস্ততা দেখিয়ে চলে গেলেন।

একজন ফল বিক্রেতাকে সামনে পেয়ে জিজ্ঞেস করলাম, ভাই কেমন আছেন?

জ্বি ভালো।

আপনার সঙ্গে একটু কথা বলা যাবে? দেশ নিয়ে আপনাকে একটা প্রশ্ন করবো।

ফল বিক্রেতা অবাক হয়ে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে আছেন। ‘দ্যাশ নিয়া প্রশ্ন কইরবেন? দ্যাশের আবার কী হইছে? দ্যাশ তো ভালই চলতেছে...।’

তাকে অভয় দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, ‘আচ্ছা, স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়কার কথা আপনার মনে আছে?’

‘থাকব না ক্যা? ওই যে গণ্ডগোলের বছর...।’

ফল বিক্রেতাকে থামিয়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কী বললেন আপনি? গণ্ডগোলের বছর মানে? বলেন স্বাধীনতা সংগ্রাম। সালটা মনে আছে আপনার?’

ফল বিক্রেতা আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বললো, ‘না সালটা মনে নাই... তবে এইটা মনে আছে মিলেটারি গ্রামের পর গ্রামে আগুন দিছে, মানুষ মারছে। আমাদের মা বইনরে ধর্ষণ করছে... সেবার অনেক বড় বন্যা হইছিলো…।’

হেঁটে যাচ্ছি বাংলামোটরের দিকে। একজন তরুণের পথ আটকালাম– ‘ভাই, তোমার সাথে একটু কথা বলা যাবে?’

প্রথমে মনে হচ্ছিলো সে না বলবে। কিন্তু সে মৃদু হেসে সম্মতি জানিয়ে আমার মুখোমুখি দাঁড়াল– ‘বলেন, কী বলবেন?’

ছেলেটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কী করো ভাই?’

‘পড়ি, কলেজে...।’

দেশ নিয়ে তোমাকে কয়েকটা প্রশ্ন করতে চাই। বলা বাহুল্য এরইমধ্যে ফুটপাতের ওপর একটা ছোটখাটো জটলা দেখা দিয়েছে। কী ঘটতে যাচ্ছে তা-ই দেখার জন্য উৎসুখ সবাই। ছেলেটি বললো, ‘কঠিন প্রশ্ন করবেন?’

উত্তরে বললাম, ‘না। কয়েকটা সহজ প্রশ্ন করবো।  আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলন কত সালে হয়েছিল?’

১৯৭১।  গর্বের সাথে জবাব দিলো ছেলেটি। ২১ ফেব্রুয়ারি তারিখাটা কী জন্য বিখ্যাত? প্রশ্ন শুনে ঝটপট উত্তর দিল– শহীদ দিবস...। ১৬ ডিসেম্বর কী জন্য বিখ্যাত? প্রশ্ন শুনে ছেলেটি এবার যেন একটু বিপাকে পড়ে গেলো। ভেবে নিয়ে বললো, আমার ধারণা ১৬ ডিসেম্বর আমাদের স্বাধীনতা দিবস। ভেবে বলছেন তো? ছেলেটা একটু অপ্রস্তুত।

এবার তাকে জিজ্ঞেস করলাম- ২৬ মার্চ কী জন্য বিখ্যাত? প্রশ্ন শুনে ছেলেটি একটু ভেবে নিয়ে বললো, আমার ভুল হয়েছে... ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস। আর ১৬ ডিসেম্বর হলো বিজয় দিবস।

জটলাটা আরও বেড়ে গেছে। আমাদের কথাবার্তা মোবাইল ক্যামেরায় ধারণ করছিলো একজন তরুণ। তাকেই জিজ্ঞেস করলাম, ভাই কী করো?

সে দেশের নামকরা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বললো। এবার প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়েছে। তাকে প্রশ্ন করলাম– ‘আমাদের মহান ভাষা আন্দোলন কত সালে হয়েছিল জানো?’

ভিডিও ধারণ বন্ধ করে দিয়ে সে বললো, ‘তারিখটা আমার ঠিক মনে নাই’। পাশ থেকে আরেকজন তরুণ বলে উঠলো– আমি বলবো?

হ্যাঁ বলো।

১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি।

ঘটনাস্থলে দাঁড়ানো সবাই হাততালি দিয়ে তাকে অভিনন্দন জানালো। এবার ছেলেটিকে প্রশ্ন করলাম– ১৯৫২ সালে যারা শহীদ হয়েছিল তাদের নাম বলতে পারবে?

হ্যাঁ পারবো?

ঠিক আছে বলো।

ভাষা আন্দোলনের শহীদদের নাম বলতে গিয়ে ছেলেটি যারপরনাই বিব্রত হয়ে উঠলো। সালাম, রফিক, শফিক বলার পর অন্য দু’জনের নাম মনে করতে পারছে না। যারা ঘটনা দেখার জন্য দাঁড়িয়েছিল তারাও নিজেরা পরস্পরের মুখের দিকে তাকাচ্ছে আর একজন, দু’জন করে সরে যাচ্ছে। ছেলেটি আমার মুখের দিকে অসহায়ের মতো তাকিয়ে আছে। একপর্যায়ে বললো, ৫ জনের মধ্যে ৩ জনের নাম মনে করতে পারছি... আর দুইজনের নাম মনে পড়তেছে না। মাঝে মাঝে আমার এমন হয়। সহজ কথা মনে থাকে না।  হা… হা হা…।

মনে হলো ছেলেটি লজ্জা ঢাকার জন্য হাসছে। তাকে ছেড়ে দিলাম। বোঝা গেলো পাহাড় সমান বোঝা তার মাথা থেকে সরে গেছে। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে আমার দিকে বিরক্ত মুখে তাকিয়ে সে চলে গেলো।

আমার সামনে একটি ছোট্ট শিশু ছাড়া আর কেউ নেই। শিশুটির বয়স বড় জোর ১২ বছর। ময়লা প্যান্ট পরনে।  উদোম শরীর। কপালে একটা কাটা দাগ। ছেলেটি আমার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। জিজ্ঞেস করলাম– কিরে কিছু বলবি? সে কিছু বললো না। ডান হাত বাড়িয়ে দিয়ে বললো, দশটা ট্যাকা দেন।

এতক্ষণে বুঝে ফেলেছি সে কেন দাঁড়িয়ে আছে। একবার মনে হলো ছেলেটিকে ভিক্ষা দিবো না। ভিক্ষাবৃত্তিতে উৎসাহ দেওয়া ঠিক হবে না। কিন্তু ছেলেটির মুখের দিকে তাকিয়ে মায়া হলো। ভাবলাম ওর চাহিদা মতো ১০ টাকা দেওয়ার আগে কিছু কথাবার্তা বললে কেমন হয়? তোর নাম কী? প্রশ্ন করতেই বাইম মাছের মতো শরীর বাকিয়ে বললো, আমার নাম নাই। তয় মাইনষে ডাকে টোকাই।

তার মানে তোর বাবা-মা নাই?

আমার প্রশ্ন শুনে হ্যাঁ-না কিছুই বললো না। ভাবটা এমন, ১০ টাকা পেলেই সে দৌড় দেবে। অন্য কোথাও চলে যাবে।

ওর সঙ্গে ভাব জমানোর ইচ্ছে হলো। কাছে টেনে নিয়ে বললাম– তোকে ২০ টাকা দিবো। কিন্তু তোকে কিছু প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।

টোকাই ছেলেটি খুশি হয়ে বললো, বলেন কী প্রশ্ন?

তুই যে দেশে বাস করিস তার নাম কী? হেসে বললো, বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের রাজধানীর নাম জানিস? আমার প্রশ্ন শুনে ছেলেটি অবাক চোখে তাকাল। একবার মনে হলো প্রশ্নটা ওর জন্য কঠিন হয়ে গেছে। পরক্ষণেই মনে হলো, না প্রশ্নটা কঠিন নয়। ওর বয়সী ছেলেমেয়েদের এসব সাধারণ তথ্য তো জানার কথা।

টোকাইকে জিজ্ঞেস করলাম– আমাদের দেশে একটা যুদ্ধ হয়েছিল জানিস?

টোকাই আবারও হা করে তাকিয়ে থেকে বললো, সিনেমায় দেখছি... টিসুম টিসুম...।

বলা বাহুল্য, আমাদের চারপাশে টোকাইয়ের বয়সী আরও কয়েকজন শিশু-কিশোর এসে দাঁড়িয়েছে। তাদেরই একজন কুংফু স্টাইলে হাত-পা ছুড়ে যুদ্ধের দৃশ্য বুঝিয়ে দেওয়ার ভঙ্গি করে বললো, আমিও দেখছি। যুদ্ধের সিনেমা... হেব্বি...।

তার মানে এই শিশুদের কাছে যুদ্ধ মানেই কুংফু কারাতে...। তাহলে কি মহান মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে ওদের কাছে কোনও ধারণাই নাই। তাহলে এই যে প্রজন্মটা বেড়ে উঠছে ওদের ভবিষ্যৎ কী?

আমরা অনেকেই হয়তো স্বীকার করবো না। কিন্তু একথা সত্য, ইতিপূর্বে তরুণ প্রজন্মের মাঝে মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ সঠিকভাবে তুলে ধরা হয়নি। যদিও বর্তমান সরকার এ ব্যাপারে খুবই তৎপর, তারপরও অনেক ক্ষেত্রে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। একসময় দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রাত্যহিক পাঠদান শুরুর আগে জাতীয় সংগীত গাওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর ছাত্রছাত্রীরা হাত তুলে ওয়াদা করতো– আমি ওয়াদা করতেছি যে... সদা সত্য কথা বলিবো, সৎপথে চলিবো... এই ধরনের নীতিবাক্য আওড়ে ছাত্রছাত্রীরা প্রতিদিনের ক্লাস শুরু করতো। বর্তমান সময়ে দেশের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস শুরুর আগে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয় না। অথচ শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ ব্যাপারে সতর্ক করে দেওয়া আছে। ক্লাস শুরুর আগে জাতীয় সংগীত গাইতে হবে। সাধারণ পর্যায়ের স্কুলে এই নিয়ম মানা হলেও মাদ্রাসা পর্যায়ের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিষয়টি বছরের পর বছর ধরে উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে।

দেশের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বইয়ের লাইব্রেরি নেই। লাইব্রেরি থাকলেও সেখানে মুক্তিযুদ্ধের ওপর লেখা তেমন কোনও বই নেই। অথচ দেশের স্বাধীনতার ইতিহাস জানার প্রয়োজনে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাধীনতার ওপর লেখা বইয়ের সংগ্রহ থাকা সময়ের দাবি।

আজ ২৬ মার্চ। মহান স্বাধীনতা দিবস। আর তাই আজকের এই লেখাটির মাধ্যমে কয়েকটি প্রস্তাব রাখতে চাই। এক. শিশু-কিশোরের মাঝে মহান স্বাধীনতার ইতিহাস তুলে ধরার লক্ষ্যে প্রতিটি স্কুলে মুক্তিযুদ্ধের ওপর লেখা বইয়ের একটি লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করা হোক। সপ্তাহে একদিন অ্যাসেম্বলির টাইমে দেশের ইতিহাস তুলে ধরা হোক। ‘দেশকে জানো’ এই শিরোনামে প্রতিটি স্কুলে বছরব্যাপী একটি কর্মসূচি রাখা যেতে পারে। যার আওতায় প্রতিদিন মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাথা শিশু-কিশোরদের মাঝে তুলে ধরা যেতে পারে।

অনেকে হয়তো প্রশ্ন করতে পারেন, রাস্তার যেসব টোকাইয়ের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল তাদের ব্যাপারে তো কিছুই বললাম না। দেশ সম্পর্কে কে জানাবে ওদের? কেন, আমি আপনি আমরা সবাই ওদেরকে দেশ সম্পর্কে জানাতে পারি। কিন্তু এজন্য আমরা প্রস্তুত কিনা সেটাই বড় প্রশ্ন!

প্রিয় পাঠক, মহান স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা নিন। ভালো থাকবেন সবাই।

লেখক: কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, সম্পাদক- আনন্দ আলো

 

/এসএএস/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

লাইভ

টপ