এই বৈশাখ হোক প্রতিবাদের

Send
রেজানুর রহমান
প্রকাশিত : ১৪:৩৬, এপ্রিল ১৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:৪০, এপ্রিল ১৪, ২০১৯

 

রেজানুর রহমানসোবহান সাহেবের মন খারাপ। লজ্জায় কারও সামনে চোখ তুলে তাকাতে সাহস পাচ্ছেন না। কেন লজ্জা পাচ্ছেন তার কারণটাও স্পষ্ট নয়। তবে তিনি লজ্জা পাচ্ছেন। পরিবারের যার দিকেই তাকান মনে হয় এই বুঝি প্রসঙ্গটা ওঠে আসবে। সোবহান সাহেব কোনোভাবেই চান না প্রসঙ্গটা উঠে আসুক। এ ধরনের লজ্জাতুর প্রসঙ্গ পরিবারের মধ্যে না ওঠাই ভালো। ড্রয়িংরুমে পারিবারিক মিটিং বসেছে। পহেলা বৈশাখ পালনের মিটিং। এক সপ্তাহ আগে কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকায় বড় ছেলের বাসায় এসেছেন সোবহান সাহেব। সিদ্ধান্তটা ছিল এরকম– বড় জোর ৩/৪ দিন ঢাকায় থাকবেন। নাতি-নাতনিদের সাথে সময় কাটিয়ে আবার কুড়িগ্রামে নিজের বাড়িতে চলে যাবেন। কিন্তু ঢাকায় আসার পর সিদ্ধান্তটা পাল্টে গেল। বড় বউমার আবদার, বাবা আর কয়েকটা দিন থেকে যান। আমাদের সাথে পহেলা বৈশাখটা পালন করেন। পহেলা বৈশাখে এবার খুব মজা হবে বাবা। খবর শুনেছেন নিশ্চয়ই? ভুটানের প্রধানমন্ত্রী এবার আমাদের পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের আঙিনায় চ্যানেল আই ও সুরের ধারা আয়োজিত হাজার কণ্ঠে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন। এবার নববর্ষে অনেক আনন্দ হবে বাবা। আপনি আর কয়েকটা দিন থেকে যান প্লিজ...।

বড় বউমার কথার রেশ ধরে নাতি-নাতনিরা সোবহান সাহেবকে জেঁকে ধরলো– দাদু যেও না। এবার আমাদের সঙ্গে ঢাকায় থাকো। জানো, পহেলা বৈশাখে আমাদের ঢাকায় অনেক মজা হয়। এবার আমাদের বিল্ডিংয়ের ছাদে বিরাট অনুষ্ঠানে হবে। ৫০০ মানুষের খাওয়া-দাওয়া... মুড়ি, মুড়কি বাতাসা তো আছেই। সঙ্গে থাকবে ইলিশ পান্তার আয়োজন। রাতে থাকবে গানের আসর। তুমি থেকে যাও দাদু!

বড় ছেলের তিনটি সন্তান। বড়টা মেয়ে। ভিকারুননিসা নূন স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী। মেজটা ছেলে। মতিঝিল মডেল হাইস্কুলে ৭ম শ্রেণিতে পড়ে। সবার ছোটটাও মেয়ে। সেও ভিকারুননিসার ছাত্রী। ক্লাস ফাইভে পড়ে। তিন নাতি-নাতনির কথা ফেলতে পারলেন না সোবহান সাহেব। পহেলা বৈশাখ দেখার জন্য ঢাকায় থেকে গেলেন। প্রথম কয়েকটা দিন ভালো কেটেছে। একা ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেছেন। শহরটা অনেক বদলে গেছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় মেট্রোরেলের নির্মাণকাজ চলছে। কিছুদিন পর এই শহরে মাথার ওপর দিয়ে রেলগাড়ি চলবে। একদিন হাঁটতে হাঁটতে মহাখালী পার হয়ে বিমানবন্দর সড়কের মাঝামাঝি চলে গিয়েছিলেন। হঠাৎ দেখলেন একটি লোক আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে।

ভাই ঘটনা কী? এভাবে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন কেন? সোবহান সাহেবের প্রশ্ন শুনে লোকটি অবাক কণ্ঠে উত্তর দিয়েছিল– সবকিছু ভাই স্বপ্নের মতো মনে হইতেছে। ধরেন এই যে জায়গাটায় খাড়ায়া আছি, আর কিছুদিন পর একটা মজার ঘটনা ঘটবে। আকাশ দিয়ে উড়ে যাবে উড়োজাহাজ। মাথার ওপর দিয়ে যাবে রেলগাড়ি। সড়কে চলবে মোটরগাড়ি। রেলপথে ঝিকঝিক শব্দ করে ছুটে যাবে রেলগাড়ি। ক্যামেরায় ফ্রেমে দৃশ্যটা কল্পনা করতেছি। ভাই ফাটাফাটি একটা ব্যাপার হবে।

ড্রয়িংরুমে পহেলা বৈশাখ পালনের মিটিং চলছে। বড় বউমা সোবহান সাহেবকে ডাক দিলো– বাবা, একটু আসেন না। জরুরি একটা ব্যাপারে আলাপ করবো। মায়ের কথার রেশ ধরে বড় নাতনি ছুটে এলো– দাদু ড্রয়িং রুমে চলো। তোমার সাথে একটা ব্যাপারে ডিসকাস করতে হবে। আহ্‌হা চলো না। নাতনির মুখের দিকে চোখ তুলে তাকাতে পারছেন না সোবহান সাহেব। কেন পারছেন না সেটা তার কাছে স্পষ্ট নয়। কিন্তু তার দিকে তাকাতে গেলেই অস্থির লাগছে। তবুও নাতনির পিছু পিছু ড্রয়িংরুমের দিকে পা বাড়ালেন।

আলোচনা চলছিল পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান নিয়ে। বড় ছেলের এই ফ্ল্যাট বাড়িতে মোট ৫৪টি পরিবারের বসবাস। পহেলা বৈশাখে সারা দিন বাড়ির বিরাট ছাদে খাওয়া-দাওয়ার পাশাপাশি সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। ওই অনুষ্ঠানে এই ফ্ল্যাটবাড়ির বাছাই করা ১০টি পরিবার পৃথকভাবে অনুষ্ঠান করে দেখাবে। সেরা পরিবারের জন্য রয়েছে আকর্ষণীয় পুরস্কার। প্রতিটি পরিবারের অনুষ্ঠানের সময়সীমা মাত্র ১০ মিনিট। এই দশ মিনিটে কি করা সম্ভব তা নিয়ে এতক্ষণ আলোচনা চলছিল। সোবহান সাহেবকে কাছে পেয়ে বড় বউমা হৈ হৈ করে উঠলো। ওই যে বাবা এসে পড়েছেন। বাবার কাছ থেকেই আমরা আইডিয়াটা নিই। বাবা বলেন না আমরা পহেলা বৈশাখে পারিবারিকভাবে কী করতে পারি? ১০ মিনিটের পরিবেশনা... নাটকও হতে পারে... আপনি তো একসময় মঞ্চে নাটকে অভিনয় করতেন...।

বড় বউমার কথা শুনে তাৎক্ষণিকভাবে একটা আইডিয়ার কথা মনে পড়ে গেলো সোবহান সাহেবের। কিন্তু তিনি আইডিয়াটা তুলে ধরার সাহস পাচ্ছেন না। তার কেন যেন লজ্জা হচ্ছে। লজ্জায় মুখ তুলে তাকাতে পারছেন না। বড় নাতনি সোবহান সাহেবের পাশে এসে দাঁড়ালো। দাদু একটা আইডিয়া দাও না। আচ্ছা তোমাদের ছোটবেলায় পহেলা বৈশাখ কেমন ছিল? আজকের দিনের মতো এতো আনন্দ হইচই হতো?

নাতনির কথায় মৃদু হেসে সোবহান সাহেব বললেন, আমাদের ছোটবেলায় পহেলা বৈশাখের আনন্দ ছিল অন্যরকম। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো বছর শেষে হালখাতার আয়োজন করতো। নদীর ধারে অথবা গ্রামের কোনও বাজারের পাশে বসতো গ্রামীণমেলা। সার্কাস আর যাত্রাপালার আয়োজনও থাকতো। পহেলা বৈশাখ নিয়ে শহরে তেমন কোনও আয়োজন থাকতো না। এখন সময় পাল্টেছে। গ্রামের চেয়ে শহরেই যেন পহেলা বৈশাখের আনন্দ বেশি।

ড্রয়িংরুমের বৈঠকে পহেলা বৈশাখ নিয়ে অনেক কথা হলো। কিন্তু পারিবারিক অনুষ্ঠানের ধারণাটা দিতে পারলেন না সোবহান সাহেব। একটা ধারণা তার মাথায় সারাক্ষণই ঘুরপাক খাচ্ছে। কিন্তু তিনি বলার সাহস পাচ্ছেন না। সিদ্ধান্ত হলো এ বিষয়ে আবারও বৈঠক হবে।

বড় ছেলের বাসার সামনে ফুটপাতে ঘেঁষে একটি চায়ের দোকান আছে। ওই দোকানে নানা পেশার মানুষ চা খেতে আসে। চা খেতে খেতে আড্ডা দেয়। এই ক’দিনে চা দোকানদার আবুল হোসেনের সঙ্গে সখ্য গড়ে উঠেছে সোবহান সাহেবের। বাসা থেকে বেরিয়ে চায়ের দোকানের সামনে এসে দাঁড়ালেন সোবহান সাহেব। দোকানদার আবুল হোসেন লম্বা সালাম দিলো সোবহান সাহেবকে। স্যার আসসালামু আলাইকুম... বসেন স্যার। এক কাপ চা দিমু...।

দোকানের সামনে ডান-বামে মুখোমুখি লম্বা বেঞ্চির ওপর জনা সাতেক মানুষ বসে চা খাচ্ছে আর গল্প করছে। তাদের মাঝখানে কোনোমতে বেঞ্চের ওপর বসলেন সোবহান সাহেব। পারিবারিক অনুষ্ঠানের আইডিয়াটা তার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। কিন্তু গুছিয়ে তুলতে পারছেন না। হঠাৎ সামনের বেঞ্চিতে বসা একজন বয়স্ক লোক পাশের জনকে জিজ্ঞেস করলো– কী মিয়া, পহেলা বৈশাখের প্ল্যান প্রোগ্রাম কী? মধ্যবয়স্ক লোকটি সুরুত সুরুত শব্দ করে চায়ের কাপে ফুঁ দিয়ে চা খেতে খেতে বলল, রমনার বটমূলে যাবো। ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান দেখবো। পাশেই বসা একজন বললো, আমি বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রে যাবো। ওখানে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী আসবেন। বুঝতে না পেরে সামনের বেঞ্চিতে বসা অন্য একজন প্রশ্ন করলো– কার কথা বললেন? ভুটানের প্রধানমন্ত্রী? সাথে সাথে আগের জন বললো, হ্যাঁ, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী তো এখন ঢাকায়। আমাদের পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান দেখতে তিনি বাংলাদেশে এসেছেন। পাশ থেকে একজন গর্বভরে বললো, আপনারা কি জানেন ভুটানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আমাদের ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র ছিলেন? সাথে সাথে বেশ কয়েকজন আনন্দের সাথে বিস্ময় প্রকাশ করে বললো– তাই নাকি? এটা তো ভাই গর্বের বিষয়।

চায়ের দোকানে পহেলা বৈশাখ নিয়েই আলোচনা জমে উঠলো। পান্তা ইলিশের জমজমাট আয়োজনের পাশাপাশি বিভিন্ন হোটেল, রেস্টুরেন্ট, বাসাবাড়ির ছাদে পহেলা বৈশাখের আয়োজনে যে করপোরেট কালচারে ঢুকে গেছে তাও এদের আলোচনায় উঠে এলো। একসময় আলোচনা ঢুকে গেলো রাজনীতির ময়দানে। ওঠে এলো মন খারাপ করা সেই প্রসঙ্গ। যার জন্য কোথাও মাথা তুলে তাকাতে সাহস পাচ্ছেন না সোবহান সাহেব। কেন পারছেন না তা তিনি জানেন না। সোবহান সাহেব নিঃশব্দে চায়ের দোকান থেকে বেরিয়ে পথে নামলেন।

মোবাইল ফোন বাজছে। সোবহান সাহেব ফোন রিসিভ করেই বুঝে ফেললেন কুড়িগ্রাম থেকে একাব্বর ফোন করেছে। একাব্বর এলাকার একজন নিবেদিতপ্রাণ সংস্কৃতিকর্মী। তার গানের দল আছে। প্রতি বছর পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে এলাকার প্রাথমিক স্কুলের মাঠে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এবারও নিশ্চয়ই করবে। একাব্বর ফোনে সালাম দিল সোবহান সাহেবকে– চাচা আসসালামুয়ালাইকুম...।

সালামের জবাব দিলেন সোবহান সাহেব। একাব্বর জানতে চাইল– চাচা এই মুহূর্তে আপনি কোথায়?

আমি তো বাবা ঢাকায়?

সোবহান সাহেবের কথা শুনে একাব্বর অবাক হয়ে বললো,  আপনি ঢাকায়? কুড়িগ্রামে কবে ফিরবেন? সোবহান সাহেব বললো, পহেলা বৈশাখটা এবার ঢাকায় পালন করবো ভাবতেছি। তারপর কুড়িগ্রামে আসবো। সোবহান সাহেবের কথা শুনে একাব্বর বলল, তার মানে আমরা এবার পহেলা বৈশাখে আপনাকে পাইতেছি না?

না। এবার ঢাকায় বৈশাখ উদযাপন করবো ভাবতেছি। সোবহান সাহেবের কথা শুনে একাব্বর বলল, ঢাকায় তো এবার ব্যাপক প্রোগ্রাম হবে। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী আমাদের পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান দেখতে আসছেন... আয়োজনটা ভালোই হবে।

সোবহান সাহেব বললেন, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ঢাকায় তো সাজ সাজ রব পড়ে গেছে। ভাবতেছি রমনার বটমূলে ছায়ানটের অনুষ্ঠান দেখতে যাবো। চারুকলার মিছিলটা স্বচক্ষে দেখবো। আচ্ছা তোমরা এবার কি করতেছো? শুধুই কী গান? নাকি আরও কিছু...।

একাব্বর বলল, গান তো থাকবেই চাচা। এবার গানের পাশাপাশি থাকবে প্রতিবাদ। একাব্বর প্রতিবাদের কথাগুলো বলেই যাচ্ছে। সোবহান সাহেব লজ্জায় মাথা তুলে তাকাতে পারছেন না। কেন পারছেন না সেটা নিজেও জানেন না।

একটু রাতে বড় ছেলের বাসায় ফিরলেন সোবহান সাহেব। কাজের মেয়েটি বিরস মুখে দরজা খুলে দিলো। তাকে দেখে মনে হলো বাসায় কিছু একটা হয়েছে। বাসার থমথমে পরিবেশ সেটাই বলছে। কিন্তু কী ঘটতে পারে? সকাল হলেই নতুন বছর শুরু হবে। বাংলা ১৪২৬। নতুন বছরের প্রথম দিন। নতুন করে স্বপ্ন দেখা শুরু। কিন্তু বাসার পরিবেশ তো তা বলছে না। সোবহান সাহেব ভেবেছিলেন তিনি দেরিতে বাসায় ফিরেছেন বলে বাসার সবাই আতঙ্ক দেখিয়ে বেরিয়ে আসবে। কিন্তু কারও কোনও রিঅ্যাকশন নেই। সবাই কি ঘুমিয়ে গেছে? তা কি করে হয়? নববর্ষের প্রথম প্রহর শুরু হবে একটু পরেই। বাজি ফুটবে। হইচই হবে। কিন্তু এই বাসায় হলোটা কি? হঠাৎ বাসার ভিতরে একটা করুণ মিউজিক ভেসে উঠলো। মনে হলো কেউ সুরটা বাজাচ্ছে অথবা শব্দযন্ত্রে সুরটা বাজছে। সুরটা স্পষ্ট হচ্ছে। হঠাৎ বাসার সব রুমের আলো নিভে গেল। ভয়ার্ত একটা পরিবেশ সৃষ্টি হলো। সোবহান সাহেব মৃদু চিৎকার দিলেন– আলো নিভালো কে? করুণ মিউজিকটা আরও করুণভাবে বাজছে। সোবহান সাহেব মোমের আলো হাতে একটি মেয়েকে আসতে দেখলেন। কালো ওড়নায় তার মুখ ঢাকা। হাতে মোমের আলো। মেয়েটি ধীরে ধীরে সোবহান সাহেবের সামনে এগিয়ে আসছে। তার পেছনে একজন মহিলা ও একজন পুরুষ। মেয়েটি দীপ্ত পায়ে সোবহান সাহেবের সামনে এসে দাঁড়াল। করুণ মিউজিক থেমে গেছে। মেয়েটির মুখ দেখতে পারছেন না সোবহান সাহেব। তবে তার দীঘর্শ্বাস শুনতে পাচ্ছেন। কিছু বুঝে উঠতে না পেরে সোবহান সাহেব ক্ষীণকণ্ঠে প্রশ্ন করলেন– কে তুমি? কে তোমরা? মেয়েটি আস্তে করে তার মুখের কালো ওড়নাটা সরালো। এবং দৃঢ় ভঙ্গিমায় শুধু একটা কথাই বললো- জীবনের শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত আমি লড়ে যাবো।

কী আশ্চার্য! মেয়েটির এই অসীম শক্তিময় বক্তব্য শুনে সোবহান সাহেব প্রতিবাদী হয়ে উঠলেন। এখন আর চোখ তুলে তাকাতে লজ্জা পাচ্ছেন না। হঠাৎ চিৎকার দিয়ে বললেন, নুসরাত মা আমার... হ্যাঁ আমরা শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত তার লড়াইটা চালিয়ে যাবো। পরপারে তুই ভালো থাকিস মা...।

প্রিয় পাঠক, পহেলা বৈশাখের আনন্দ দিনে এই লেখাটি কতটা প্রাসঙ্গিক হলো জানি না। ভালো থাকবেন সবাই। নতুন বছরে সবার জন্য রইলো অফুরান শুভেচ্ছা।

লেখক: কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, সম্পাদক- আনন্দ আলো

 

/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

লাইভ

টপ