বিএনপি তারেক জিয়ার পার্টি না ‘প্রোপার্টি’?

Send
আনিস আলমগীর
প্রকাশিত : ১৫:৫১, এপ্রিল ৩০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:০৯, এপ্রিল ৩০, ২০১৯

আনিস আলমগীরহঠাৎ তারেক রহমান এই সিদ্ধান্ত দিলেন কেন? সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার ‘অপরাধে’ স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকে দলীয় একজন এমপিকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার দু’দিনের মাথায় কী এমন ঘটলো যে তারেক রহমান একক সিদ্ধান্তে বাকিদেরকেও শপথ নেওয়ার অনুমতি দিলেন? ঠাকুরগাঁও-৩ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির জাহিদুর রহমান ২৫ এপ্রিল শপথ নিয়েছিলেন। ২৭ এপ্রিল তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয় এবং বাকিরা শপথ নিলে একই হাল হবে বলে স্থায়ী কমিটি হুংকার দেয়। সে বৈঠকে লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও স্কাইপের মাধ্যমে অংশ নিয়েছেন বলে মিডিয়ায় ছবিসহ সংবাদ এসেছে।
বিএনপি যখন শপথ প্রশ্নে ‘কঠোর’ অবস্থানের বার্তা দিচ্ছিল; বলছিল, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে দলের স্থায়ী কমিটির নেতারা যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন, তা নির্বাচিত সব এমপি মেনে নেবেন; যখন খবর বেরোল ‘শপথ না নেওয়ার ওয়াদা করলেন বিএনপির নির্বাচিত ২ জন’—সবকিছুকে তামাশা বানিয়ে ২৯ এপ্রিল সোমবার হঠাৎ এমপি হিসেবে শপথ নেন নির্বাচিত চারজন। তারা হচ্ছেন— চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের আমিনুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের হারুন অর রশীদ, বগুড়া-৪ আসনের মোশাররফ হোসেন ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের উকিল আব্দুস সাত্তার ভুঁইয়া। তাদের শপথ নেওয়ায় মাধ্যমে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির যে ছয়জন নির্বাচিত হয়েছিলেন তাদের মধ্যে দলটির মহাসচিব ছাড়া বাকি সবার শপথ নেওয়া শেষ হয়েছে। তারা সংসদে যোগও দিয়েছেন।

অথচ সোমবার দুপুরেও যখন বিএনপির চারজন সংসদ সদস্যের শপথ নেওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল, তখনও দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সংবাদ সম্মেলন ডেকে আগের সিদ্ধান্তের কথাই বলছিলেন। এমনকি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সভায় বলেছিলেন, ‘এখন যে সরকার আছে, এই সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার নয়।’ তারপর বিকালে যখন শপথ নিয়ে হারুনুর রশীদ দাবি করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্মতিতেই শপথ নিয়েছেন তারা, তখন শুরু হয় নতুন বুলি। রাতে জরুরি এক সংবাদ সম্মেলনে এসে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম নিশ্চিত করেন, তারেক রহমানের নির্দেশেই সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন।

সিদ্ধান্তটা যদি দলেরই হয় ফখরুল কখন শপথ নিচ্ছেন- সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সময়মতোই আপনারা জানতে পারবেন।’ ধরে নিচ্ছি সংসদের স্পিকারের কাছে বিশেষ কোনও কারণ দেখিয়ে তিনি শপথের সময় বাড়িয়ে নেবেন এবং সেটা দেওয়ার ক্ষমতাও স্পিকারের রয়েছে। শপথের জন্য ফখরুলেরও বাড়তি সময় পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। বর্তমান সংসদের প্রথম অধিবেশন বসেছিলো গত ৩০ জানুয়ারি এবং সে হিসাবে ২৯ এপ্রিল নির্বাচিতদের শপথগ্রহণের সময়সীমা উত্তীর্ণ হওয়ার কথা ছিল।

এর আগে মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচিত সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহম্মেদ ৭ মার্চ ২০১৯ শপথ নিয়ে সংসদে যোগ দেন। তাকে অনুসরণ করে গণফোরামের প্রতীক উদীয়মান সূর্য নিয়ে সিলেট-২ আসন থেকে নির্বাচিত দলটির আরেক নেতা মোকাব্বির খান গত ২ এপ্রিল শপথ নেন। সবাই তারা বিএনপির নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ছিলেন। নির্বাচনের পরপরই একাদশ সংসদ নির্বাচনে ‘ভোট ডাকাতি’র অভিযোগ তুলে সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্তই নিয়েছিল বিএনপি। ভোটে ব্যাপক অনিয়ম এবং কারচুপির অভিযোগ তুলে তা প্রত্যাখ্যান করে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টও। পুনর্নির্বাচনের দাবি জানানোর পাশাপাশি তারা শপথ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ড. কামাল হোসেনসহ ঐক্যফন্টের সব নেতাই সংসদে যাওয়ার বিরোধী ছিলেন। জোটভুক্ত  ড. কামালের দল গণফোরামের দু’জন শপথ নেওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ করেছিল বিএনপি। ড. কামাল এখন কী প্রতিক্রিয়া জানান অনেকেই জানতে আগ্রহী।

যাক, সংসদে যাওয়ার কাজটি সবাই ভালো চোখে দেখছেন। কাজটি তাদের অনেক আগেই করা উচিত ছিল। কিন্তু অনেক জল ঘোলা করে, একদিন এক কথা, ফাঁকা বুলি, উল্টা-পাল্টা সিদ্ধান্তের পর তারেক জিয়া এককভাবে স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত বাতিল করে শপথ নেওয়ার সুমতি দান করাতে এর পেছনের রহস্য খুঁজছেন অনেকে। এ নিয়ে চলছে নানা মুখরোচক আলোচনা। বিএনপি আদৌ একটি গণতান্ত্রিক দল কিনা, সরকারি দলের ওপর বিরক্ত হয়ে বিকল্প হিসেবে আদৌ বিএনপিকে জনগণের সমর্থন করার যুক্তি আছে কিনা- সে প্রশ্ন তো আগে থেকেই চলে আসছে। এবারের আলোচনায় প্রধানত সামনে আসছে চাঁদাবাজির বিষয়টাই। জনমনে এখন প্রশ্ন উঠতে পারে- বিএনপি আসলে একটি পলিটিক্যাল পার্টি নাকি খালেদা জিয়া-তারেক রহমানের ফ্যামিলি প্রোপার্টি? শোনা যাচ্ছে দলের ‘কঠোর সিদ্ধান্ত’ রাতারাতি বদল করে এই চারজনকে সংসদে যোগ দেওয়ার অনুমতির বিনিময়ে ‘ভাইয়াকে’ তাদের দিতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের অর্থ।

এটি মোটেও কারও কাছে অবিশ্বাস্য নয়। গত নির্বাচনে বিএনপি আজান দিয়ে মনোনয়ন বাণিজ্য করেছে। এক আসনে একাধিক ব্যক্তিকে টিকিট ধরিয়ে দফা-রফার মাধ্যমে একজনকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। ধামরাইয়ে আতাউর রহমান সাহেবের ছেলে ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান খান, সোনারগাঁওয়ে অধ্যক্ষ রেজাউল করিম এবং নারায়ণগঞ্জে তৈমূর আলম  খন্দকারসহ অনেকের মনোনয়ন বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল। রেজাউল করিমের আসন বিক্রি হয়েছে পাঁচ কোটি টাকা। এক বালু ব্যবসায়ী তা কিনে নিয়েছে বলে অভিযোগ ছিল।

সরকারের দুর্নীতি নিয়ে বিএনপি কোন মুখে কথা বলবে যেখানে নিজেরাই দুর্নীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত। এবারের নির্বাচনে মনোনয়ন বাণিজ্যে তারেক রহমান, ড. মোশাররফ, নজরুল ইসলাম খান উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে দলের ইনসাইডারদের অভিযোগ। কেউ কেউ মহাসচিবের নামও নিতে চান এই কাতারে, কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে সেটা অবিশ্বাস্য মনে হয়। তবে এটা তো বলতেই হবে, একটা রাজনৈতিক দলের নেতাদের মাঝে শস্য পরিমাণ সততা না থাকলে, দলে ন্যূনতম গণতন্ত্র না থাকলে- এই দল চলবে কীভাবে? শুধু সমালোচকদের সরকারি দালাল, মিডিয়া সরকারের নিয়ন্ত্রণে বললেই হবে! ধরে নিচ্ছি যেহেতু বিএনপি এখন ক্ষমতায় নেই, লেখক-সমালোচকদের সরকারের ব্যর্থতা নিয়েই বেশি কথা বলা উচিত। কিন্তু বিএনপি সরকারি দল হিসেবে যেমন ব্যর্থ ছিল বিরোধী দল হিসেবেও কি নিজের দায়িত্বটুকু পালন করেছে? এই সরকারের বিকল্প তাহলে কে? এই প্রশ্ন কে তুলবে?

অতীত বলে বিএনপি কখনও কোনও রাজনৈতিক আচরণ করেনি। বিএনপি দীর্ঘ দশ বছর পার্লামেন্টে বিরোধী দলের দায়িত্ব পালন করেছে, কিন্তু কখনও পার্লামেন্টে উপস্থিত থেকে পার্লামেন্টের কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেনি। সিট বণ্টনের মতো ঠুনকো অজুহাতেও তারা দিনের পর দিন পার্লামেন্টে অনুপস্থিত থেকেছে। তারা কখনও রাজনীতিকে রাজনীতি দিয়ে মোকাবিলা করেনি। বিএনপির ভাগ্য ভালো, এই দেশে একটা জনগোষ্ঠী আছে তারা দায়েমি-কায়েমিভাবে আওয়ামীবিরোধী। তাদের কারণেই বিএনপি এখনও টিকে আছে। না হয় বহুদিন আগে তাদের জানাজা হয়ে যেত। বিএনপি রাজনীতি মানেই বুঝে– শুধু ক্ষমতা আর টাকা।

আওয়ামী লীগ ছাড়া বিগত সংসদ নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে কেউ খুশি না। আবার দেখেন শুধু আমাদের দেশ কেন, এখন দেশে দেশে অনুষ্ঠিত নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। এক বন্ধু তার লেখায় উল্লেখ করেছেন নিউইয়র্ক টাইমস বাংলাদেশের গত নির্বাচনকে প্রহসন বলেছে। জুনিয়র বুশকে তো শেষবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আর এবারের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তো রাশিয়ার প্রত্যক্ষ সাহায্য পেয়েছিলন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এখন ভারতে লোকসভা নির্বাচন হচ্ছে, নির্বাচন এখনও শেষ হয়নি অথচ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছেন নির্বাচন কমিশন এতো লম্বা সময়ব্যাপী নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছেন সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় আসতে সাহায্য করার জন্য। ভারতের লোকসভা নির্বাচন হয়তো ইভিএমের জন্য এবার বিতর্কের সম্মুখীন হবে। যন্ত্রে ভোট প্রদানের বিরোধিতা নির্বাচনের আগে থেকেই চলে আসছে।

বলা যায়, মুষ্টিমেয় কয়েকটি দেশ ছাড়া এখন বিশ্বে সর্বত্রই নির্বাচন স্বচ্ছ হচ্ছে না। সামান্য ত্রুটি বিচ্যুতির জন্য পদ্ধতিটাকে আবার কেউ রহিতও করে দিচ্ছে না। ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলো। ৩৯ আসনে জিতে ছিল। কারচুপি করে বড় বড় নেতাকে পরাজিত করেছিলেন জিয়াউর রহমান। আবার এরশাদের সময় ১৯৮৬ সালের নির্বাচনের ফলাফল গণনায় আওয়ামী লীগ যখন সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেতে যাচ্ছে তখন ‘মিডিয়া ক্যু’র মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে আসন দেওয়া হয়েছিলো ৭৬টি। কী জিয়ার সময় কী এরশাদের সময়- আওয়ামী লীগ কারচুপির অভিযোগ উত্থাপন করলেও কখনও সংসদ ত্যাগ করেনি।

যা হোক, আমি পূর্বেও বিএনপিকে পরামার্শ দিয়েছি, এখনও বলি তাদের ঐক্যজোটের আটজন সদস্য সংসদে সক্রিয় থাকাই উত্তম হবে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটা পার্লামেন্টারি গ্রুপ গঠন করে পার্লামেন্টের কার্যক্রম অংশগ্রহণ করলে সংসদে তারাই আসল বিরোধী দল হিসেবে গণ্য হবে, যদিও কাগজে-কলমে জাতীয় পার্টিই বিরোধী দল। পার্লামেন্টকে প্রাণবন্ত করতে ডজন ডজন পার্লামেন্ট মেম্বারের প্রয়োজন হয় না। ১৯৪৭ থেকে ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত ভারতীয় লোকসভায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিরোধীদলীয় সদস্য ছিলেন না। যারা ছিলেন তাদের মাঝে শ্যামা প্রসাদ মুখার্জী, রাম মনোহর লোহিয়া আর অটল বিহারী বাজপেয়ীর আক্রমণেই জওহর লাল নেহরু পলায়নপর থাকতেন।

সম্প্রতি খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির কথা শোনা যাচ্ছে। প্যারোলে মুক্তি না স্বাভাবিক জামিনে মুক্তি- এটা নিয়ে বিতর্ক চলছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও সেদিন সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, প্যারোলে মুক্তির কোনও আবেদন সরকার পায়নি। চিকিৎসার প্রয়োজনে যদি খালেদা জিয়াকে বিদেশ যেতে হয় আমরা সরকারকে অনুরোধ করবো সে ব্যবস্থা নিতে। তার মামলা জামিনযোগ্য হলে তাকে যেন জামিনে মুক্তির সুযোগ দেয়। প্রধানমন্ত্রীও সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বিদেশে চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন। অবশ্য তখন তিনি শুধু অভিযুক্ত আসামি ছিলেন, খালেদা জিয়া বর্তমানে যেমনটা দণ্ডিত তেমন ছিলেন না।

সব শেষে বলবো, মানুষ ভুলত্রুটি-ক্ষতিক্লেশের মধ্য দিয়েই পূর্ণতার পথে অগ্রসর হয়। আশা করি বিএনপিও তার ভুলত্রুটি সংশোধন করে নেবে। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে সংসদের ভেতরে-বাইরে জনগণের হয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট। ইরাক ও আফগান যুদ্ধ-সংবাদ সংগ্রহের জন্য খ্যাত।

anisalamgir@gmail.com

 

/এসএএস/এমএমজে/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

লাইভ

টপ