শিক্ষক ও শিক্ষার মান

Send
শান্তনু চৌধুরী
প্রকাশিত : ১৫:০১, মে ০৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:০২, মে ০৩, ২০১৯

শান্তনু চৌধুরীঅতি শ্রুত একটি কৌতুক দিয়ে শুরু করি। স্কুলে পরিদর্শক ক্লাস ক্যাপ্টেনের কাছে জানতে চাইলেন, সোমনাথ মন্দির কে ভেঙেছে?

ক্লাস ক্যাপ্টেন: ‘স্যার, আমি ভাঙিনি।’

পরিদর্শক এবার রেগে গেলেন। তিনি ক্লাসের সবাইকে উদ্দেশ করে বললেন, ‘কেউ কি বলতে পারো সোমনাথ মন্দির কে ভেঙেছে?’

পাশে ইতিহাসের শিক্ষক ছিলেন। তিনি বললেন, ‘স্যার, এরা একটু দুষ্টু হতে পারে, কিন্তু এরা কেউ সোমনাথ মন্দির ভাঙেনি।’

পরিদর্শক এবার অবাক হলেন। পরে প্রধান শিক্ষককে বললেন, ‘আপনাদের স্কুলের শিক্ষকরা ভালো পড়াতে পারেন না। কারণ, এরা কেউ বলতে পারছেন না যে সোমনাথ মন্দির কে ভেঙেছে।’

প্রধান শিক্ষক বললেন, ‘এদের সবাইকে এতো করে বলি ছাত্রদের ওপর নজর রাখতে, তারপরও এরা জানে না সোমনাথ মন্দির কে ভেঙেছে।’

প্রাইমারি বা মাধ্যমিক পর্যায়ে বেশিরভাগ শিক্ষকের বিশেষ করে গ্রামপর্যায়ে অবস্থা এমনই। জাতিসংঘ শিক্ষকদের মান বা শিক্ষা দেওয়ার এই সংকটকে তুলনা করেছে ‘শিক্ষণ সংকট’ হিসেবে। কৌতুকটি যে প্রসঙ্গে অবতারণা করা হয়েছে তার কারণ সম্প্রতি ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশনের নবম শ্রেণির বাংলা প্রথমপত্রের এমসিকিউ অংশের ৮ নম্বর প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়, ‘আম আটির ভেঁপু’ কার রচিত? এর চারটি সম্ভাব্য উত্তরের একটিতে সানি লিওনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ২১ নম্বর প্রশ্নে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতার নাম কী? এখানে চারটি সম্ভাব্য উত্তরের একটিতে দেখা যায় মিয়া খলিফার নাম। সেখানে আরও একটি নাম দেওয়া হয় শফিউল চন্দ্র নামে। যেটিও আপত্তিকর। শুধু তা-ই নয়, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত কিশোর উপন্যাস ‘আম আটির ভেঁপু’র প্রশ্নে ‘আঁটি’ বানানে চন্দ্রবিন্দু নেই। ওই প্রশ্নপত্রে রয়েছে এমন আরও অদ্ভুত বিষয়। চতুর্থ প্রশ্নটিতে প্রমথ চৌধুরীর পৈতৃক নিবাস  কোথায়? এমন প্রশ্নের সম্ভাব্য উত্তরে রাখা হয়েছে রাজধানীর বলধা গার্ডেনের নাম। তবে নামের বানানটি ভুল করে লেখা হয়েছে ‘বলদা গার্ডেন’। এ নিয়ে রীতিমতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে সমালোচনার ঝড়। ক্ষোভ,নিন্দা আর ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ তো রয়েছেই। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এমন পর্নো তারকাদের সঙ্গে পরিচয় ঘটানোর কারণ কী। আর সম্ভাব্য উত্তর হিসেবে এই নামগুলোইবা কেন আসবে। বা শিক্ষার্থীরা যখন বাড়িতে অভিভাবকদের কাছে জানতে চাইবেন তখন কী উত্তর দেবেন। আরও খোলাসা করে বললে, রামকৃষ্ণ মিশন স্কুলটির সঙ্গে ধর্মীয় আবহও রয়েছে। সেখানে কেন এমনটা হলো? বা সামগ্রিকভাবে কেন এমনটা হচ্ছে? এটা কি নতুন বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। উত্তর, মোটেই না। সামগ্রিক যে অবক্ষয়, চারদিকে অদক্ষদের যে জয়জয়কার, তারই প্রতিফলন এটি। গেলো কয়েক বছরের কয়েকটি উদাহরণের দিকে চোখ ফেললেই এসব ঘটনা যে ঘটছে এবং তার কোনও প্রতিকার যে হচ্ছে না সেটা বোঝা যায়। 

চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনের বাংলা প্রথমপত্রের এমসিকিউ দেওয়া হয় ২০১৮ সালের সিলেবাসের ওপরে। জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় ইংরেজি ভার্সনের প্রশ্নপত্রে অসংখ্য বানান ভুল এবং বাক্যগঠনে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। ৩৮তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি টেস্টের প্রশ্নপত্রে ৪টি সেটেই ৪টি প্রশ্নে ভিন্ন ভিন্ন ভুল ছিল। যেমন, একটি প্রশ্নে শুদ্ধ বানান চেয়েছে অথচ অপশনগুলোতে কোনও শুদ্ধ বানানই নেই। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যু সাল লেখা হয়েছিল ভুল। একবার নবম শ্রেণির অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষায় ‘বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়’ বিষয়ের সৃজনশীল প্রশ্নে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে বাঁশখালী গণ্ডামারা ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান লিয়াকত আলীকে তুলনা করে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হয়। ওই প্রশ্নপত্রে দক্ষিণ চট্টগ্রামের ছয়টি উপজেলার ৯৭টি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া হয়। বাগেরহাট সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা হয়েছে কোচিং সেন্টারে মডেল টেস্ট নেওয়া প্রশ্নপত্রেই। কারণ, প্রশ্নকারী ছিলেন ওই কোচিং সেন্টারের শিক্ষক। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘আই’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন নিয়ে তো তোলপড়া হয়েছিল। দুই নম্বর সেট কোডের একটি প্রশ্নে ছিল, ‘পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থের নাম কী?’ এর চারটি বিকল্প উত্তর হিসেবে লেখা ছিল পবিত্র কোরআন শরিফ, পবিত্র বাইবেল, পবিত্র ইঞ্জিল ও গিতা। গিতার আগে ‘পবিত্র’ও লেখা হয়নি। শুধু তা-ই নয়, ‘মুসলমান  রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা সশস্ত্র হামলা চালায় কত তারিখে?’ আরেকটি প্রশ্ন ছিল এমন। উদাহরণ ভূরি ভূরি। কেন এমন প্রশ্ন হয় বা এমন সমস্যাগুলো তৈরি হয়।

আমাদের দেশে শিক্ষার্থীদের মেধাবী করে তোলার জন্য প্রণয়ন করা হয়েছিল সৃজনশীল পরীক্ষা পদ্ধতি। কিন্তু এই পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্র করতে গেলে যে মেধা প্রয়োজন সেটা শিক্ষকদের নেই। তাদের মেধা আটকে আছে সানি লিওন, মিয়া খলিফার মাঝে। আমাদের যোগ্য শিক্ষকের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। যার ফলে এ ধরনের প্রশ্ন হচ্ছে। ব্যতিক্রম বাদে সৃজনশীল পদ্ধতির জন্য শিক্ষকরা এখনও উপযুক্ত হয়ে উঠতে পারেননি। তারা উপযুক্ত হলে শিক্ষার্থীদের উপকৃত হওয়ার কথা ছিল। মুখস্থবিদ্যা ও গতানুগতিকতার বাইরে তারা যেতে পারেন না। তাই প্রশ্ন করাই একটি বড় যোগ্যতার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সৃজনশীল পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে সবার আগে প্রয়োজন শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ। আমাদের এখানে হয়তো প্রশিক্ষণ হয়েছে, কিন্তু কার্যকর প্রশিক্ষণ হয়নি। গাইড বা কোচিং সেন্টার থেকে কেউ মুক্ত হতে পারছেন না। শিক্ষকরাও এখন গাইড বই দেখে দেখে প্রশ্ন করছেন।

২৪ এপ্রিল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর বিবৃতির মাধ্যমে নির্দেশনা দিয়েছেন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে এবং শিক্ষার্থীদের সামনে পান,জর্দা ও গুল গ্রহণ না করতে। একইসঙ্গে বিদ্যালয়ের ভেতরে এবং বাইরে শিক্ষার্থীদের সামনে ধূমপান না করারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তার মানে মাউশি জানে শিক্ষকরা এসব কাজের সঙ্গে জড়িত।

মাউশির এক পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছিল ৪০ শতাংশেরও বেশি শিক্ষক সৃজনশীল পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্র তৈরি করতে পারেন না। সম্প্রতি মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকের হার কিছুটা বাড়লেও ২৯ শতাংশ শিক্ষক প্রশিক্ষণের বাইরে রয়ে গেছেন। পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তন হলেও সে ব্যাপারে শিক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ নেই। আমরা ছুটছি কোচিংয়ের পেছনে, ছুটছি জিপিএ ফাইভের পেছনে। জিপিএ-৫-এর পেছনে না দৌড়ে শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষিত হিসাবে গড়ে তুলতে গেলে প্রয়োজন মানসম্মত শিক্ষকও। ভালো শিক্ষক এখন বিরল। সম্প্রতি শিক্ষার জাতীয় প্রমিতমান নির্ধারণে দেশের শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের নিয়ন্ত্রকারী সংস্থা হিসেবে ‘জাতীয় শিক্ষক শিক্ষা কাউন্সিল’ গঠন করতে যাচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে আইনের খসড়া প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, টিচার্স ট্রেনিং কলেজ ও মাদ্রাসা শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে শিক্ষক ও শিক্ষা কার্যক্রমের জাতীয় প্রমিতমান (ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড) নিশ্চিত করবে এ কাউন্সিল। এটি ভালো উদ্যোগ,তবে শুধু আইনে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। প্রয়োগেও সচেষ্ট থাকতে হবে। আমাদের দেশে অধিকাংশ উদ্যোগ ভেস্তে যায় শুধু প্রায়োগিক সীমাবদ্ধতার কারণে। জাতিকে বাঁচাতে শিক্ষার গুণগত মান উৎকর্ষে শিক্ষকদের মান বাড়ানোর উদ্যোগটি যেন ভেস্তে না যায়। দেশের ব্যাংকগুলো থেকে লুটপাট হচ্ছে, নানা উন্নয়নের নামে লুটপাট হচ্ছে। অথচ দেশের শিক্ষা, গবেষণা বা জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রয়োজনে অর্থ খরচ সামান্যই। একটা দেশে এমনি এমনি মেধাবী তৈরি হয় না। সেটার জন্য প্রয়োজন পরিচর্যা। যেটা আমরা করি না। কিন্তু চীন বা ভারত তাদের জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করেছে। আর আমরা যদি পরিচর্যা করতাম,শিক্ষার বা শিক্ষাদাতাদের মানোন্নয়ন ঘটাতাম, তবে ১৬ কোটি মানুষের এই দেশে ১৬ হাজার জগৎসেরা মেধাবী বেরিয়ে আসতেন। এসব থেকে উত্তরণের পথ আমাদের দেশে গবেষণাকে আরও বেশি প্রাধান্য দিতে হবে। আমাদের দেশে সবচেয়ে কম ব্যয় হয় গবেষণার ক্ষেত্রে। পরিচিতজন যারা বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা করছেন, তারাই বলছেন গবেষণা যে একটি বিষয় হতে পারে সেটিই ভাবতে পারেন না এ দেশের অনেকেই। ইউনেস্কো ইনস্টিটিউট অব স্ট্যাটিসটিকসের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়, বিশ্বের প্রতি ১০ জন স্কুলশিশুর মধ্যে ছয়জন কার্যত কিছুই শিখছে না। ওই গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাতশ কোটি মানুষের এই পৃথিবীতে ৬০ কোটির বেশি স্কুলপড়ুয়া শিশু সাধারণ গাণিতিক সমস্যার সমাধান, এমনকি ঠিকমতো পড়তে পাড়ার দক্ষতাও অর্জন করতে পারছে না। ওই প্রতিবেদনে কিন্তু বাংলাদেশের নামও রয়েছে। যাদের মস্তিষ্কের গঠন ও বিকাশের ক্ষেত্রেও তারতম্য দেখতে পেয়েছেন গবেষকরা।

কোনও একটি বিষয়ে আলোচনা শুরু হলে আমরা সরব হই। কথা বলি আলাদা আলাদাভাবে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় যে সমস্যা রয়েছে তা নিয়ে শিক্ষাবিদরা সোচ্চার নন। আমাদের শিক্ষার প্রসার হয়েছে। কিন্তু মানের প্রসার হয়নি। হয়েছে অবনতি এবং অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে আমরা সেটা মেনে নিয়েই এগুচ্ছি। আর একটা বিষয় হচ্ছে, এখন কারা শিক্ষক হচ্ছেন। শিক্ষকদের আগের সেই নৈতিকতা বা মূল্যবোধ নেই। রাজনীতি করার অধিকার তাদের রয়েছে কিন্তু লেজুড় হয়ে যাওয়ার কারণেই ঘটছে অধঃপতন। যেটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে দুঃখ করে বলেছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদও। যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি উদাহরণ দেন দশ টাকায় চা-সিঙ্গারা খাওয়ার। এতেই বোঝা যায় রুচির বিষয়টি। শিক্ষক নিয়োগে এখন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপই প্রধান। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে মেধায় স্বর্ণপদক পাওয়ার পর এমদাদুল হক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক হতে পারেননি। কারণ, ছাত্রলীগ তাকে পরীক্ষাই দিতে দেয়নি। আর উপাচার্য বলেছেন, পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ নেই। এই হলো আমাদের দেশে মেধার মূল্যায়ন। সম্প্রতি দুদকের অনুসন্ধানেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতির কথা বলা হয়েছে। একটি উদাহরণ দেই, ২০১৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার ইনস্টিটিউট ফর কারিকুলাম অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশনের পরীক্ষা প্রধান কিম সাং-হুন পদত্যাগ করেছিলেন। তার পরপরই দেশটির শিক্ষামন্ত্রী জাতির কাছে ক্ষমা চান। কারণ, সেখানকার কলেজ স্কলাস্টিক অ্যাবিলিটি টেস্ট-এ ইংরেজি ও জীববিজ্ঞান অংশের দু’টি প্রশ্নে ভুল ছিল। এ রকম দায় নিয়ে বাংলাদেশে কেউ পদত্যাগ বা ক্ষমা চেয়েছেন বলে এখনও শোনা যায়নি। অথচ এ দেশে প্রশ্নপত্রে ভুলের ছড়াছড়ি। কিন্তু কর্তাব্যক্তিদের সেই এক কথা, ‘তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ আর কে না জানে সেই তদন্ত আর আলোর মুখ দেখে না। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র কোনও একজন শিক্ষক করেন না। সেটার একটা কমিটি থাকে। অনেক হাত ঘুরে সেটা ছাত্রদের কাছে যায়। কারো চোখেই যদি সেটা ধরা না পড়ে তাহলে বুঝতে হবে গোড়াতেই গলদ রয়েছে। এমনিতে ছাপা বইয়ে অসংখ্য ভুল,প্রশ্নফাঁসে আমরা জর্জরিত। এরমধ্যে প্রশ্নপত্রের ভুল বা অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দ প্রয়োগ কতটা ভয়াবহতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে শিক্ষাজীবন তা হয়তো আঁচই করতে পারছেন না কর্তৃপক্ষ। এর থেকে দ্রুত উত্তরণ প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণ হলে নিশ্চিত করতে হবে শাস্তি। মেধার কাজে যেন রাজনীতি ঢুকে না পড়ে সে কারণে শিক্ষক নিয়োগেও থাকতে হবে স্বচ্ছতা। একটি জাতির মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে হলে তার শিক্ষা ব্যবস্থা তছনছ করে দিতে হয়। সেই পথেই হাঁটতে চেয়েছিল পাকিস্তানিরা আমাদের নিয়ে। তারা পারেনি। কিন্তু এখন আমরাই শিক্ষা ব্যবস্থার পরিচর্যার দিকে মনোযোগী নই। ফলে তৈরি হচ্ছে মেধাহীন জাতি। আর এরাই একসময় হয়ে উঠবে ধর্ষক শিক্ষক, গুল, জর্দা বা ড্রাগ এডিকটেড শিক্ষক, দলকানা শিক্ষক, অর্থের জন্য উন্মুখ হয়ে থাকা শিক্ষক। এরাই দেশকে উপহার দেবে মেধাহীন সন্তান। একটি জাতি পিছিয়ে পড়তে আর কী লাগে!

লেখক: সাংবাদিক ও সাহিত্যিক

/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

লাইভ

টপ