ধর্মীয় অনুভূতির করাত

Send
আমীন আল রশীদ
প্রকাশিত : ১৫:৪৮, মে ১৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৫৪, মে ১৮, ২০১৯

আমীন আল রশীদপরপর দু’জন পরিচিত মুখের গ্রেফতার নিয়ে ফের আলোচনায় আসে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং অধুনালুপ্ত তথ্যপ্রযুক্তি আইনের বিতর্কিত ৫৭ ধারা। সেইসঙ্গে আলোচনায় আসে কথিত ধর্মীয় অনুভূতির প্রসঙ্গও। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় হেনরী স্বপনকে তার বরিশালের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয় ১৪ মে দুপুরে। এর পরদিনই রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় লেখক ও আইনজীবী ইমতিয়াজ মাহমুদকে। তাকে গ্রেফতার করা হয় ২০১৭ সালে দায়ের করা তথ্যপ্রযুক্তি আইনের বিতর্কিত ৫৭ ধারায় দায়ের করা একটি মামলায়, যে মামলায় তিনি জামিনে ছিলেন। খাগড়াছড়িতে জনৈক শফিকুল মামলাটি করেছিলেন। অভিযোগ ছিল ইমতিয়াজ মাহমুদ ফেসবুকে সাম্প্রদায়িক উসকানি দিয়েছেন।
প্রশ্ন উঠতে পারে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন হওয়ার পরে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা যেহেতু বাতিল হয়ে গেছে, তাই ওই আইনে ইমতিয়াজ মাহমুদকে কীভাবে গ্রেফতার করা হলো? এখানে আইনের ফাঁক হলো, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৬১ ধারায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে,আগের আইনের বিলুপ্ত ধারাসমূহের অধীন ট্রাইব্যুনালে সূচিত বা গৃহীত কোনও কার্যধারা (proceedings) বা কোনও মামলা যেকোনও পর্যায়ে বিচারাধীন থাকলে সেগুলো এমনভাবে চলমান থাকবে যেন উক্ত ধারাসমূহ বিলুপ্ত হয় নাই।

বরিশালে কবি হেনরী স্বপনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলায়ও অভিযোগ ছিল এই কথিত ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত তথা সাম্প্রদায়িক উসকানি। ২৩ এপ্রিল তিনি ফেসবুকে লিখেছিলেন, ‘রোম যখন পুড়ছিল তখন সম্রাট নিরো নাকি বাঁশি বাজাচ্ছিলো। শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর গির্জায় আত্মঘাতী হামলায় শত শত মানুষ নিহতের আকস্মিকতায় যখন শোকস্তব্ধ বিশ্ববাসী, তখন বরিশাল ক্যাথলিক ডাইওসিসের বিশপ লরেন্স সুব্রত হাওলাদার চার্চ চত্বরে করছেন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।’

এই ঘটনা যদি সত্যি হয়, অর্থাৎ শ্রীলঙ্কার চার্চে বোমা হামলার সময়ে যদি বরিশালের চার্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়ে থাকে, তাহলে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে হেনরী স্বপন কী অপরাধ করলেন? এখানে কোন বাক্যটির দ্বারা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতপ্রাপ্ত হলো? ধর্মীয় অনুভূতি এতই ঠুনকো? এখানে অভিযোগ তো কোনও ধর্মের বিরুদ্ধে নয়। অভিযোগ একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ বা পর্যবেক্ষণের দ্বারা ধর্মীয় অনুভূতি কী করে আঘাতপ্রাপ্ত হয় বা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কী করে বিনষ্ট হয়? পুলিশই বা কী করে এই মামলা গ্রহণ করলো এবং এরকম একটি ধোঁয়াশা অভিযোগে হেনরী স্বপনের মতো একজন সম্মানিত মানুষকে গ্রেফতার করলো?

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাসের প্রাক্কালে সম্পাদক পরিষদ এই প্রস্তাবিত আইনের বিভিন্ন ধারা নিয়ে তাদের উদ্বেগ জানিয়ে যে বিবৃতি দিয়েছিল সেখানেও এই কথিত ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহারের শঙ্কা প্রকাশ করেছিল। বিশেষ করে এই আইন সাংবাদিকদের জন্য কতটা বিপজ্জনক তা উল্লেখ করতে গিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ধর্মীয় মূল্যবোধ’ একটি অস্পষ্ট পরিভাষা। একজন সাংবাদিক কীভাবে জানবেন কখন ও কীভাবে ধর্মীয় মূল্যবোধ আহত হয়েছে? এই পরিভাষা বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা যায় এবং কোনও সাংবাদিকই এ ধরনের বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরি করতে স্বস্তিবোধ করবেন না। এটি সমাজের বড় একটি অংশে সাংবাদিকতার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নিরীক্ষণ বাধাগ্রস্ত করবে। বহির্বিশ্বে ক্যাথলিক ধর্মযাজকদের যৌন হয়রানির অভিযোগ নিয়ে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলো প্রকাশ করা সম্ভব হতো না, যদি ওইসব দেশে ধর্মীয় অনুভূতিতে ‘আঘাত’ করে, এমন সংবাদ প্রকাশ রুখতে আইন থাকত। বেআইনি ফতোয়া ও সম্পত্তিতে নারীর অধিকার নিয়ে আলোচনা করাও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি ‘আঘাত’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হতে পারে। এই ধারা সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের হয়রানি করতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতে পারে।

দেখা যাচ্ছে, একটি গির্জার একজন চার্চের ব্যাপারে কিছু মন্তব্য করায় হেনরী স্বপনের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে মামলা করার সুযোগ খোদ রাষ্ট্রই তৈরি করে রেখেছে। অর্থাৎ কোনও বিষয়ে প্রশ্ন করা, নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ কিংবা মতামত প্রকাশকে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিরুৎসাহিত করতে এ জাতীয় আইন করা হয় যা বস্তুত একটি মুক্ত ও সহিষ্ণু সমাজ গঠনের পথে বিরাট অন্তরায়।

ব্যক্তিজীবনে মানুষ ধর্মের অনুশাসনগুলো ঠিকমতো পালন না করলেও নিজ ধর্মের কোনও বিষয়ে ভিন্ন মত শুনলেই তাদের অনুভূতিতে আঘাত লাগে। নিজে অন্যায় করে, ঘুষ খায়, মানুষ ঠকায়—অথচ কেউ যখন কোনও ধর্মীয় নেতা বা ধর্মের কোনও বিষয় নিয়ে সমালোচনা, তার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে পড়ে। অনুভূতিতে আঘাতের মামলা করে। মুরতাদ ঘোষণা করে ফাঁসির দাবিও জানায়। অথচ ব্যক্তি জীবনে সে নিজে ধর্মকর্মের ধারেকাছেও নেই।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে যে সংবিধান প্রণয়ন করা হয় সেখানে রাষ্ট্রধর্ম বলে কিছু ছিল না। সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ১৯৮৮ সালে সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী এনে তাতে রাষ্ট্রধর্ম যুক্ত করেন। অজুহাত হিসেবে বলা হয়, এদেশের ৯০ ভাগ মানুষ মুসলমান, তাদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এই বিধান করা হয়েছে। প্রশ্ন হলো রাষ্ট্রধর্ম করার আগে এ দেশের মানুষ কি কম মুসলমান ছিলেন বা সংবিধানে রাষ্ট্রধর্মের স্বীকৃতি দেওয়ার পরে এ দেশের মানুষ কি অধিকতর ঈমানদার হয়েছে?
দণ্ডবিধির ২৯৫ থেকে ২৯৮ ধারায় মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, উপাসনালয় ভাঙচুরের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া আছে এবং শাস্তির বিধান উল্লেখ থাকলেও কী কী কারণে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ আনা যেতে পারে তা বলা নেই। ধর্মীয় অনুভূতির সংজ্ঞা কী হবে সে বিষয়েও স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। ধর্মীয় অনুভূতির কোনও সংজ্ঞা এখনও দেশের প্রচলিত আইনে অস্পষ্ট। এমনকি অধুনালুপ্ত আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা এবং হালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৮ ধারায়ও বিষয়টি স্পষ্ট নয়।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৮ ধারায় বলা হয়েছে, ‘যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে বা জ্ঞাতসারে ধর্মীয় মূল্যবোধ বা অনুভূতিতে আঘাত করিবার বা উসকানি প্রদানের অভিপ্রায়ে ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা প্রচার করেন বা করান, যাহা ধর্মীয় অনুভূতি বা ধর্মীয় মূল্যবোধের উপর আঘাত করে, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ।’

আর এই অপরাধের শাস্তি অনধিক পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ড। কিন্তু ধর্মীয় অনুভূতির সংজ্ঞা এই আইনে নেই। যে কারণে একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগকেও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত বলে চালিয়ে দেওয়া যাচ্ছে এবং মামলাও করা যাচ্ছে। তার মানে আইনে এই দুর্বলতা রাখাই হয়েছে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার সুযোগ দিতে। সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘ধর্মীয় অনুভূতি কোনও সস্তা বিষয় নয় যে কারও কথাতে সেখানে আঘাত লাগবে। আর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত কনসেপ্টটাই ‘ব্যাকওয়ার্ড কনসেপশন’ বলে মনে হয়। একটি গ্রুপই থাকে যারা কনফ্লিক্ট অথবা অরাজকতার জন্য বাহানা খোঁজে। তারা মুসলিম, হিন্দু কিংবা সেক্যুলার সব দেশে গিয়েই একই কাজ করবে, আমাদের দেশেও সেই একই কাজ হচ্ছে, এটা কোনও ইস্যুই না।’

এখন প্রশ্ন হলো, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মামলায় কবি হেনরী স্বপন না হয় মুক্তি পেলেন; আইনজীবী ইমতিয়াজ মাহমুদও মুক্তি পেয়েছেন; কিন্তু এখানেই কি সব শেষ? এরপরে কে? এ যাবৎ যত মানুষ আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের গ্যাঁড়াকলে ফেঁসেছেন, তাদের মধ্যে সবাই কি অপরাধী? যেসব নিরপরাধ মানুষ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মতো একটি বায়বীয় অভিযোগে পুলিশি হয়রানির শিকার হলেন, জেল খাটলেন, সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হলেন, অনেকে মামলা চালাতে গিয়ে সহায়-সম্বল বিক্রি করলেন, রাষ্ট্র কি তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে বা দাঁড়াবে? রাষ্ট্র কি এই মানুষগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেবে? আইনে সেরকম কোনও বিধান নেই।

আমাদের দেশে অনেক আইন করাই হয় নাগরিকের কোমরে দড়ি বেঁধে নিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু সেই দড়িটা নিরপরাধ মানুষের কোমরে বাঁধা হলেও তার কিছু করার নেই। আবার প্রতিটি আইনের আইন প্রয়োগকারীদের সরল বিশ্বাসে কৃত অপরাধের যে সুরক্ষা দেওয়া হয়,তাতেও কোনও ভিকটিমের পক্ষে বিশেষ কিছু করার থাকে না। যেমন এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনেরও ৫৭ ধারায় বলা হয়েছে, ‘এই আইনের অধীন দায়িত্ব পালনকালে সরল বিশ্বাসে কৃত কোনো কার্যের ফলে কোনো ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হইবার সম্ভাবনা থাকিলে, তজ্জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কর্মচারী বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা বা অন্য কোনো আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা যাইবে না।’ অর্থাৎ বায়বীয় অভিযোগে পুলিশ যে মামলা নিলো এবং কবি হেনরী স্বপন বা আইনজীবী ইমতিয়াজ মাহমুদের মতো লোকদের গ্রেফতার করে সামাজিক, শারীরিক ও মানসিকভাবে তাদের বিপর্যস্ত করলো, তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কিছুই বলা যাবে না। কারণ রাষ্ট্রই তাকে সুরক্ষা দেয়। অথচ রাষ্ট্রের প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে তার সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া।

যুগে যুগে সারা পৃথিবীতে যত আন্দোলন-সংগ্রাম হয়েছে তার একটা বড় কারণ বাকস্বাধীনতা হরণ। যে কারণে রাষ্ট্রচিন্তাবিদরাও এ বিষয়টিকে এতটাই গুরুত্ব দিয়েছেন, তাদের কেউ কেউ এমনটিও বলেন, যদি প্রচলিত মতামত সম্পূর্ণ সত্যও হয়ে থাকে, তারপরও এটি অনিবার্যভাবে অন্ধবিশ্বাসে পরিণত হবে যদি এটি নিয়ে অবাধ আলোচনার সুযোগ না থাকে। এখানে অবাধ আলোচনা মানে যেকোনও বিষয় নিয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক তর্ক- সেটি ধর্মীয় হোক কিংবা রাজনৈতিক। কিন্তু রাষ্ট্র যদি কোনও বিষয়ের ব্যাপারে নাগরিকের কথা বলার সীমারেখা টেনে দেয় এবং যদি সেখানে এই অবাধ আলোচনার সুযোগ না থাকে, তখন অনেক রাজনৈতিক বিষয়ও ধর্মীয় বিষয়ের মতো অন্ধ বিশ্বাসে পরিণত হতে বাধ্য।

বলা হয়, যদি একজন ছাড়া সমগ্র মানবজাতিও কোনও একটি বিষয়ে একমত পোষণ করে, তাহলেও ওই ব্যক্তির কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করে দেওয়া যাবে না। বরং তার বক্তব্যটিও শুনতে হবে। নাগরিক হিসেবে তারও ভিন্ন মত পোষণের অধিকার রয়েছে। কেননা, অপরের মতামত প্রকাশের পথ বন্ধ করা হলে সমাজ এমন ভাবধারার সঙ্গে পরিচিতি লাভের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারে, যা সম্ভবত সত্য। আবার যে মতামতকে স্তব্ধ করে দেওয়া হলো, সেটি পুরোপুরি না হলেও অংশত সত্য হতে পারে এবং যদি তাকে মতামত প্রকাশের সুযোগ না দেওয়া হয়, তাহলে মানবজাতি সেই আংশিক সত্য সম্পর্কে কোনোদিনই জানতে পারবে না।

ফলে রাষ্ট্রের যেখানে উচিত নাগরিকের মতামত/ভাবনা/অনুভূতির স্বাধীন প্রকাশে আইনি সুরক্ষা দেওয়া—সেখানে রাষ্ট্র যখন নিজেই এমন সব আইন করে যা উল্টো নাগরিকের মনে ভীতি সঞ্চার করে; নিজের মত প্রকাশে সে ভয় পায় এবং আইনি মারপ্যাঁচে হয়রানির শিকার হতে পারে বলে তার মনে আতঙ্ক তৈরি হয়, তখন সেই রাষ্ট্রের পক্ষে বেশিদূর এগোনো কঠিন। হয়তো দারিদ্র্য বিমোচন, মাথাপিছু আয়, জিডিপির প্রবৃদ্ধি আর দৃশ্যমান অবকাঠামো উন্নয়নের মধ্য দিয়ে উন্নয়নের সূচক খাড়া করা যায়, কিন্তু তাতে দেশের অগ্রগতি হয় না। সেই রাষ্ট্র নানাভাবে পিছিয়ে পড়ে। পিছিয়ে পড়ে চিন্তায়, মননে। মানবিক মূল্যবোধ আর একটি পরমতসহিষ্ণু সমাজ গঠনের প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং ভীতিকর আইনের প্রয়োগে সেই সমাজ ও রাষ্ট্রে নাগরিকের মানসিক বিকাশের ব্যাপারটাই উচ্চারিত হয় না।

লেখক: বার্তা সম্পাদক, চ্যানেল টোয়েন্টিফোর

 

/এসএএস/এমএমজে/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

লাইভ

টপ