দুর্ভাগ্যটা কার, ফখরুলের না খালেদার?

Send
প্রভাষ আমিন
প্রকাশিত : ১৬:৫০, আগস্ট ১৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৫০, আগস্ট ১৮, ২০১৯





প্রভাষ আমিনবিএনপিকে ধন্যবাদ। দেরিতে হলেও তারা সমস্যাটা ধরতে পেরেছে। এবার ১৫ আগস্ট দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে ঘটা করে কেক কাটার নির্লজ্জতাটুকু তারা করেনি। কোনও আয়োজনও ছিল না। পরদিন মানে ১৬ আগস্ট মিলাদ মাহফিলের মধ্য দিয়ে দলটি খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন করেছে। এই বুঝটা যদি তাদের আরও আগে হতো, তাহলে বাংলাদেশের রাজনীতি আজ এমন ‘পয়েন্ট অব নো রিটার্নে’ চলে যেতো না। বিএনপির আজকের দুরবস্থার জন্য বিএনপিই দায়ী।
সেই দায়ের তালিকা অনেক লম্বা। আমার তালিকায় প্রথম দু’টি কারণ হলো ১৫ আগস্ট আর ২১ আগস্ট। আদর্শিক ভিন্নতা থাকলেও দু’টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে আলোচনা হয়, সমঝোতা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে যে আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে এমন সাপে-নেউলে সম্পর্ক, তার কারণ কিন্তু বিএনপিই ঘটিয়েছে। রাজনীতির নিয়ম-কানুন ভুলে বিএনপি প্রতিহিংসা আর নির্মূলের রাজনীতিতে মেতে ওঠে। বাংলাদেশে অনেক মানুষের একাধিক জন্মদিন থাকে। একটা অরিজিনাল, আরেকটা সার্টিফিকেট। কিন্তু বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অন্তত পাঁচটি জন্মদিনের খোঁজ মেলে, যা সত্যিই বিভ্রান্তিকর। ১৫ আগস্ট কেউ জন্ম নিতে পারবে না, এমন কোনও কথা নেই। তবে ১৫ আগস্ট সত্যি সত্যি কারও জন্মদিন হলেও সেটা আয়োজন করে উদযাপনটা কুৎসিৎ রাজনীতি। তার চেয়ে বড় কথা হলো, খালেদা জিয়ার জন্ম ১৫ আগস্ট নয়। অন্তত ’৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে খালেদা জিয়া কখনও ১৫ আগস্ট জন্মদিন পালন করেছেন, এমন কোনও রেকর্ড নেই। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর রীতিমতো রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে ১৫ আগস্টকে খালেদা জিয়ার জন্মদিন বানানো হয় এবং তা ঘটা করে, কেক কেটে উদযাপন শুরু হয়। অনেকে বলছেন, ১৫ আগস্ট আসলে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জন্মদিন। ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধু নিহত হয়েছিলেন বলেই জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হতে পেরেছিলেন, তার পথ ধরেই খালেদা জিয়া হতে পেরেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তাই ১৫ আগস্ট তার কাছে উদযাপনের দিন। কিন্তু আপনি যখন ১৫ আগস্ট জন্মদিন পালন করবেন, তখন নিশ্চয়ই আওয়ামী লীগের সঙ্গে আপনার রাজনৈতিক আলোচনা-সমঝোতার সম্ভাবনাকে শেষ করে দিয়েই করবেন। আপনি যখন গ্রেনেড মেরে শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে চাইবেন, তখন নিশ্চয়ই আপনি আওয়ামী লীগের কাছ থেকে ভবিষ্যতে কোনও ছাড় আশা করবেন না। এখন বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের যে আচরণ, তা তো সেই পাপেরই প্রায়শ্চিত্ত।
তবে প্রায়শ্চিত্তটা সবচেয়ে বেশি করতে হচ্ছে খালেদা জিয়াকেই। দেড় বছরের বেশি সময় ধরে তিনি কারাগারে আছেন। সব হারিয়ে, সব খুইয়ে বিএনপি এখন বুঝতে পারছে, ১৫ আগস্ট কারও জন্মদিন পালন করা ঠিক নয়। এটা আগে বুঝলে, খালেদা জিয়াকে আজ কারাগারে থাকতে হতো না হয়তো। এতিমদের টাকা নয় ছয় করার অভিযোগে কারাভোগ করছেন খালেদা জিয়া। বিএনপি বলছে, এটি রাজনৈতিক মামলা।
কারণ এতিমদের টাকা আত্মসাৎ হয়নি, বরং বেড়েছে। আমিও বিশ্বাস করি, খালেদা জিয়া আসলে রাজনৈতিক ভুলের দায় বহন করছেন। তাই খালেদা জিয়া এতিমের টাকা আত্মসাৎ করেছেন, নাকি নয়-ছয় করেছেন—তা খতিয়ে দেখার মতো আমার কোনও আগ্রহ নেই।
খালেদা জিয়া কারাগারে আছেন ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে। দুই মামলায় তার ১৭ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। এই সময়ে তিনি পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে ছিলেন দীর্ঘদিন। চিকিৎসার জন্য এখন তিনি আছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের ৬২১ নম্বর কেবিনে। এবার ঈদটা তার সবচেয়ে ভালো কেটেছে। কারণ ঈদের দিন পরিবারের ছয় সদস্য প্রায় আড়াই ঘণ্টা হাসপাতালের কেবিনে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন। বাসা থেকে নেওয়া খাবার খেয়েছেন তিনি। তবে সবচেয়ে বড় কথা, এবার ঈদে তিনি কাছে পেয়েছিলেন তার দুই নাতনি জাহিয়া ও জাইফাকে। পত্রিকায় পড়েছি, দুই নাতনি খালেদা জিয়াকে পায়ে হাত দিয়ে সালাম করলে তিনি তাদের বুকে জড়িয়ে আদর করেন। খালেদা জিয়ার আনন্দটা বুঝতে কারোই অসুবিধা হবে না।
তবে চিকিৎসা শেষ হলেই খালেদা জিয়াকে আবার কারাগারে ফিরে যেতে হবে। কারাগারে খালেদা জিয়ার দেখভালের জন্য ফাতেমা নামে তার ব্যক্তিগত পরিচারিকাকে রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বিনা দোষে ফাতেমাও খালেদা জিয়ার সঙ্গে কারাবাস করছেন। তবে সরকারের দেওয়া এই সুযোগ নজিরবিহীনই বটে।
এই সময়ে খালেদা জিয়ার জামিনের জন্য তার আইনজীবীরা অনেক চেষ্টা করছেন, হয়নি। তারা এখন বুঝে গেছেন আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার জামিন পাওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। রায়ের সঙ্গে সঙ্গে কারাগারে নেওয়ার সময়, অনেকেরই ধারণা ছিল, দু’দিনের মধেই জামিন পেয়ে যাবেন খালেদা জিয়া। আড়াই বছর কারাগারে থাকতে হবে, এটা সেটা হয়তো তখন কেউ ভাবেনি। আমার ধারণা খালেদা জিয়ার কারাবাস দীর্ঘতর হওয়ার দায় অবশ্যই বিএনপির। খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিলে বিএনপি কী প্রতিক্রিয়া দেখায়, সেটার ওপর নির্ভর করতো তার কারাবাস। আমার বিশ্বাস যদি বিএনপি তাৎক্ষণিকভাবে প্রবল প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারতো, সরকার তার কারাবাস নিয়ে বিকল্প চিন্তা করতে বাধ্য হতো। কিন্তু প্রবল প্রতিক্রিয়া তো দূরের কথা, বিএনপি আসলে কোনও প্রতিক্রিয়াই দেখাতে পারেনি। তাই সরকার তাদের ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেওয়াটা ছিল একধরনের টেস্ট। তাতে বিএনপি ফেল করেছে। আর উতরে গিয়ে সরকার যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে খেলার সুযোগ পাচ্ছে।
তবে বিএনপি কী করতে পারবে বা কী করবে; সেটা বিবেচনায় না নিয়েও সরকার খালেদা জিয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারতো। আদালতের রায়ে খালেদা জিয়া দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তাই তার সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষতি যা হওয়ার হয়েছে। কিন্তু এখন যেভাবে কারাগারে আটকে রেখে তাকে শারীরিকভাবে কষ্ট দেওয়া হচ্ছে, তা আমার কাছে প্রতিহিংসামূলকই মনে হচ্ছে। প্রতিহিংসার বদলে প্রতিহিংসা কোনও কাজের কথা নয়। বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতি করেছে, জবাবে আওয়ামী লীগও যদি প্রতিহিংসার রাজনীতি করে; তাহলে তো সমান সমান। আওয়ামী লীগ যদি অন্তত খালেদা জিয়ার ব্যাপারে আরও মানবিক হতো, রাজনীতিতে সেটা ভালো উদাহরণ হতে পারতো। তুমি অধম, তাই বলে আমি উত্তম হইবো না কেন। সরকারি দলের নেতারা বলছেন, খালেদা জিয়ার জামিনের ব্যাপারে তাদের কিছু করার নেই।
পুরোটাই আদালতের ব্যাপার। তর্কের খাতিরে কথাটা ঠিক আছে। কিন্তু এখন বাংলাদেশের সবাই জানে, খালেদা জিয়ার জামিন আসলে আদালতের নয়, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।
জামিন না হলেও আমি আশা করেছিলাম, খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসাটিকে সাবজেল ঘোষণা করে তাকে সেখানে রাখা হবে। এটা কিন্তু নজিরবিহীন নয়। আদালতের সিদ্ধান্তে কোনও হস্তক্ষেপ ছাড়াই সরকারের নির্বাহী সিদ্ধান্তেই এটা সম্ভব ছিল। খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়েও অনেক টালবাহানা হয়েছে। এমনিতেই খালেদা জিয়ার নানা শারীরিক সমস্যা রয়েছে। আর ৭৫ বছর বয়সী একজন নারীর বয়সজনিত আরো নানা সমস্যা তৈরি হয়। তাই এ সময় তার নিবিড় পরিচর্যা দরকার। সেটা তার পছন্দের হাসপাতাল বা তার বাসায় থেকে হলে ভালো হতো। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সাবেক সেনাপ্রধানের স্ত্রী হিসেবে এটুকু অনুকম্পা তিনি পেতেই পারতেন। আমি এখনও এই দাবি জানিয়ে রাখছি।
খালেদা জিয়াকে যেন তার পছন্দের জায়গায় রাখা হয়, পছন্দের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। খালেদা জিয়ার কারাবাস নিয়ে যে বিএনপি কিছু করতে পারবে না, এটা তো প্রমাণিত। তাই এই মরা দলের সঙ্গে জিদ করে, খালেদা জিয়াকে আর কষ্ট না দিলেও পারে সরকার।
বলছিলাম, খালেদা জিয়ার কারাগারে যাওয়ার পর বিএনপির প্রতিক্রিয়া নিয়ে। আমি ভেবেছিলাম, দেশজুড়ে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া হবে। বিএনপির শেষ ভরসা খালেদা জিয়ার কারাগারে যাওয়ার পর বিএনপি সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলনে নামবে বলে আমার ধারণা ছিল। কিন্তু আমার ধারণা বড্ড ভুল ছিল। বিএনপি আাসলে কিছুই করেনি। স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনও হয়নি, পরিকল্পিত আন্দোলন হয়নি। একটা দুইটা মানববন্ধন আর এক বেলার প্রতীকী অনশন দিয়ে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা সম্ভব নয়, এটা কি বিএনপি জানে না। বিএনপি বারবার বলছে, এটি রাজনৈতিক মামলা।
তাহলে সেটা তারা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার চেষ্টা করছে না কেন? অন্তত একটা চেষ্টা তো করতেই পারতো। কিন্তু কোনও চেষ্টাই করেনি। বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, সরকারের নির্দয় দমন পীড়নের কারণে তারা মাঠে নামতে পারে না। খুব সত্যি কথা, আওয়ামী লীগ বিএনপির ওপর কঠিন দমন-পীড়ন চালাচ্ছে। দেশে কোনও গণতান্ত্রিক স্পেস নেই। গুম-খুনে তারা সন্ত্রস্ত। সবই ঠিক আছে, তাই বলে খালেদা জিয়া বছরের পর বছর কারাগারে থাকবেন, আর বিএনপির নেতাকর্মীরা হয়রানির ভয়ে ঘরে নিরাপদ থাকবেন, এটা কোনও কথা হলো। বিএনপি নেতারা কী আশা করছেন? খালেদা জিয়া মুক্তির আন্দোলন সফল করার জন্য আওয়ামী লীগ পল্টন ময়দান রেডি করে দেবে, সারাদেশ থেকে লোক জোগাড় করে দেবে? পরিকল্পিত, অপরিকল্পিত, স্বতঃস্ফূর্ত কোনও আন্দোলন না হলেও আমার ধারণা ছিল খালেদা জিয়ার কিছু ভক্ত নিয়মিত কারাগারের সামনে গিয়ে বসে থাকবেন। বা তার জন্য ফুল নিয়ে যাবেন। পুলিশ তাদের ধাওয়া দেবে। কারাগারে না হোক, অন্তত বিএসএমএমইউতে আনার পর অন্তত আমি ভেবেছিলাম, খালেদা জিয়ার তেমন কিছু পাগল ভক্ত তাকে একপলক দেখার আশায় দিনভর বিএসএমএমইউর কেবিন ব্লকের সামনে অপেক্ষা করবেন। ক’দিন আগে বিএসএমএমইউতে গিয়ে মনে মনে আমি তেমন পাগল ভক্ত খুঁজেছিও। কিন্তু পাইনি। কেউ কারাগারের সামনে বা বিএসএমএমইউর সামনে গিয়ে পুলিশের বাধা পেয়েছেন, এমন কোনও কথাও শুনিনি। দল পারুক আর না পারুক, খালেদা জিয়ার আড়াই বছরের কারাবাসকালে অন্তত ৫০ জন লোক তাকে একনজর দেখার আশায় গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন; তেমন খবর পেলেও খালেদা জিয়া সান্ত্বনা পেতে পারতেন। কিন্তু এটুকু সান্ত্বনা দেওয়ার মতো ৫০ জন লোকও দেশে নেই।
বিএনপির নেতাকর্মীরা আসলে খালেদা জিয়াকে ভুলেই গেছেন। বিএনপি বারবার বলছে, আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব নয়, আন্দোলনের মাধ্যমেই করতে হবে। কিন্তু সেই আন্দোলনটাই তারা করতে পারছে না, করার চেষ্টাও করছে না। ১৬ আগস্ট খালেদা জিয়ার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার মতো আন্দোলন করতে না পারাকে তাদের ‘দুর্ভাগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের দুর্ভাগ্য, এমন কোনও আন্দোলন করতে পারছি না, যার মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে বের করে নিয়ে আসতে পারবো। আমরা জানি আইন-আদালতের ভূমিকা কী, তারা কী করছে, আর কী করছে না। তাই সুসংগঠিত হয়ে আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে তাকে মুক্ত করা ছাড়া কোনও বিকল্প নেই।’ কিন্তু আমি বুঝতে পারছি না, দুর্ভাগ্যটা আসলে কার? মির্জা ফখরুলের না খালেদা জিয়ার। সাধারণ গৃহবধূ থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া খালেদা জিয়াই আসলেই দুর্ভাগা। তিনি সারাজীবন এমন একটি সংগঠন করলেন, এমন নেতাকর্মী তৈরি করলেন, যারা তার মুক্তির জন্য রাজপথে কার্যকর একটি আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি, চেষ্টাও করেনি। বিএনপির সবই চলছে। তারা সরকারের অধীনে নির্বাচনে গেছে, নানা নাটক করে সংসদেও গেছে। বিএনপি বলছে, সবকিছুই করা হচ্ছে খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য। সবই হচ্ছে। কিন্তু খালেদা জিয়ার মুক্তিটাই হচ্ছে না। এই যে মির্জা ফখরুল বুঝলেন, আন্দোলন ছাড়া খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার কোনো বিকল্প নেই।
এখন প্রশ্ন হলো, আন্দোলনটা করবে কে? খালেদা জিয়া নিশ্চয়ই কারাগার থেকে আন্দোলনের নির্দেশনা ও নেতৃত্ব দিতে পারবেন না। তাহলে খালেদা জিয়ার এতদিনের রাজনীতির অর্জনটা কোথায়? সত্যি বলছি, এই দুর্ভাগা, অসহায় খালেদা জিয়ার জন্য আমার মায়াই লাগছে।

লেখক: হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ

/এসএএস/এমএমজে/এমএনএইচ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

লাইভ

টপ