আমি বেকার, আপনি কী করেন?

Send
ফয়েজ রেজা
প্রকাশিত : ১৫:৪৯, সেপ্টেম্বর ০৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৫১, সেপ্টেম্বর ০৭, ২০১৯

ফয়েজ রেজাবিশ্বের তৃতীয় ‘দূষিত শহর’ আর পঞ্চম ‘অনিরাপদ শহর’ ঢাকায় বাস করে ১ কোটি ৭০ লাখ মানুষ। ব্যাংক, বিমাসহ সব ধরনের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঢাকায়। শহরের মধ্যে আশপাশে গড়ে ওঠা শিল্প-কারখানা ঢাকাকে বাণিজ্যিক শহরের চেহারা দিয়েছে। পাকা রাস্তাঘাট, অত্যাধুনিক লঞ্চ, দ্রুতগতির ট্রেন, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস, দেশের সেরা সব স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় সারাদেশের মানুষকে টেনে আনছে ঢাকায়। এই শহরে বাসার সামনে বা গলির মোড়ে বসে জুতো সেলাই করেন যে মুচি, দিনে তিনি হাজার বারশ’ টাকা কমপক্ষে তো আয় করেন। সেলুনে চুল ছেঁটে দেন যিনি, তারও দিনে আয় রোজগার হাজার টাকার কম নয়। প্রতিদিন ভ্যানে করে সবজি বিক্রি করেন যিনি, প্যাডেল মেরে যিনি রিকশা চালান, ট্যাক্সি ড্রাইভার, বাসের হেলপার, পাড়ার মুদি দোকানদার, সবার আয় রোজগার আছে। আয় রোজগার নেই শুধু এমএ পাস, আইএ, বিএ পাস শিক্ষিত বেকারদের। পাঠ্যপুস্তকে শেখা ‘বেকার জীবন অভিশপ্ত জীবন’। বেকারত্বের এই অভিশাপে নিপতিত তারুণ্যের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

আইএলও  তথ্য দিচ্ছে—বর্তমান বাংলাদেশে কর্মোপযোগী মানুষের সংখ্যা ১০ কোটি ৯১ লাখ। এর মধ্যে কর্মে নিয়োজিত ৬ কোটি ৮ লাখ মানুষ। বাকি ৪ কোটি ৮২ লাখ ৮০ হাজার মানুষ কর্মক্ষম, তবে শ্রমশক্তির বাইরে। এর মধ্যে শিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত ও অশিক্ষিত নারী-পুরুষ রয়েছে। বেকারের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার দায়িত্ব রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রকদের। রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রকদের অনেকের মুখে প্রায়ই শোনা যায়, বাংলাদেশে এখন বেকার নেই। স্বাভাবিক রীতিতে কাউকে যদি প্রশ্ন করা হয়, আপনি কী করেন? আত্মসম্মানে উদ্দীপ্ত তরুণদের কেউ কিন্তু বলে না—আমি বেকার, আপনি কী করেন? প্রত্যেকেই কোনও না কোনও একটা কাজে যুক্ত থাকার কথা বলেন। কেউ বলেন ঠিকাদারির কথা, কেউ বলেন ব্যবসা করছি। কারও কারও উত্তর হয়—পড়ালেখা শেষ, ভাবছি কী করবো। ভাবতে ভাবতে শিক্ষিত বেকার তরুণরা যুক্ত হয়ে যান নগরে নতুন রাইড সার্ভিস কিংবা অ্যাপসভিত্তিক খাবার সরবরাহে।  

বাংলাদেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা যে বাড়ছে, তার একটি হিসাব দিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সূত্র দিয়ে তার দেওয়া তথ্যমতে, বাংলাদেশে বেকারের সংখ্যা মাত্র ২৬ লাখ ৭৭ হাজার। তার মধ্যে শিক্ষিত ও স্বল্প শিক্ষিত বেকার ২৩ লাখ ৭৭ হাজার, আর নিরক্ষর বেকারের সংখ্যা ৩ লাখ জন। শিক্ষিত ও অশিক্ষিতদের মধ্যে নারী বেকার ১৩ লাখ ৩০৯ এবং বেকার পুরুষ ১৩ লাখ ৪৭ হাজার জন। নিরক্ষর ৩ লাখ বেকারের মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ২৭ হাজার এবং নারী ১ লাখ ৭৩ হাজার। প্রাথমিক পাস বেকারের সংখ্যা ৪ লাখ ২৮ হাজার। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ২ হাজার, নারী ২ লাখ ২৬ হাজার। মাধ্যমিক পাস ৮ লাখ ৯৭ হাজার বেকারের মধ্যে পুরুষ লাখ ২২ হাজার এবং নারী ৪ লাখ ৭৪ হাজার। উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের বেকার ৬ লাখ ৩৮ হাজার। এর মধ্যে পুরুষ ৩ লাখ ৫৩ হাজার ও নারী ১ লাখ ৭১ হাজার। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ৪ লাখ ৫ হাজার বেকারের মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৩৪ হাজার ও নারী ১ লাখ ৭১ হাজার। (তথ্যসূত্র: জাতীয় সংসদে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ানের বক্তব্য)।

প্রধানমন্ত্রী আশা দিয়েছেন—২০৩০ সাল নাগাদ ৩ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যে বরাদ্দ ব্যয় হবে শিক্ষা, প্রযুক্তি, কারিগরি ও ভোকেশনাল প্রশিক্ষণে। এ বছর (১৪ জুন) বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রস্তাবিত বাজেট বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন-উত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এখন ধান কাটার লোক পাওয়া যায় না। এত বেশি বেকার যদি থাকে, তাহলে তো ধান কাটলেও চার-পাঁচশ’ টাকা পাওয়া যাবে। প্লাস দুই বেলা খাবার বাড়িতে। সেই লোক কেন পাওয়া যাচ্ছে না, বিবেচনা করেছেন। কর্মসংস্থানের সুযোগ আছে বলেই ধান কাটার লোক নেই।

কারও অনিষ্ট বা ক্ষতি করার জন্য প্রবাদ-প্রবচনে আছে—পাকা ধানে মই দেওয়া’র কথা। বর্তমানে দেশের বাজারে ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়ার কারণে কৃষক নিজেই পাকা ধানে আগুন দিয়েছেন। দেশের কোনও কোনও জায়গায় কৃষকের ধান কেটে দিয়েছেন জেলা প্রশাসক, উপজেলা প্রশাসক, রাজনৈতিককর্মী। কৃষকের সঙ্গে ‘মশকরার’ নমুনা হিসেবে ধান কেটে দেওয়ার সেসব দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বারবার এসেছে। এখন বলা হচ্ছে বাংলাদেশে বেকার লোক নেই, তাই ধান কাটার লোক পাওয়া যাচ্ছে না।

আইএলও’র তথ্যমতে—বর্তমান বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার সবচেয়ে বেশি। অথচ, সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশের তরুণরা সবচেয়ে অগ্রসর ছিলেন একাত্তরে। যুদ্ধে যারা গিয়েছিলেন, তাদের বেশিরভাগই ছিলেন তরুণ বীর। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালের নির্বাচনের আগে প্রায় ৪০ লাখ তরুণ ভোটাধিকার অর্জন করেছিলেন। এই ভোটাধিকারপ্রাপ্ত তরুণদের সমাজতান্ত্রিক গণআন্দোলন ও নির্মাণ কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার অংশ হিসেবে নতুন প্রশাসনিক নিয়োগের ক্ষেত্রে তরুণদের উৎসাহ দিয়েছিল তৎকালীন সরকার। সোনার বাংলা গড়ার জন্য সোনার মানুষ চেয়েছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। নির্বাচন শেষে নবাগতদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছিল বঙ্গবন্ধু সরকারের  পাঁচসালা পরিকল্পনায়।

১৯৭৪ সালে দেশের মোট শ্রমশক্তির ৩০ ভাগ বেকার বা অর্ধ বেকার ছিল। শ্রম ও সমাজ কল্যাণ দফতরের প্রতিমন্ত্রী বেগম নূরজাহান মুর্শেদ জাতীয় সংসদে মোহাম্মদ আলী আশরাফের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, সরকার প্রথম পাঁচসালা পরিকল্পনাকালে ৪১ লাখ অতিরিক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে কৃষি ক্ষেত্রে ৩১ লাখ এবং শিল্প পূর্ত কার্যক্রম ও অন্যান্য ক্ষেত্রে আর ১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা ছিল। (সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক, ১১ জুন ১৯৭৪)  

চারপাশে যখন এতো বেকারের হাহাকার, তার বিপরীতে বাংলাদেশে কোটিপতি লোকের সংখ্যাও বাড়ছে। ব্যাংকগুলোতে তাদের আমানতের পরিমাণ বাড়ছে। কোটিপতিদের ঋণগ্রহণের সুযোগ-সুবিধা ও ঋণ মওকুফের ঘটনাও বাড়ছে। দিনে দিনে অর্থনীতির আকারও বড় হচ্ছে। ১৯৭৫ সালে সমগ্র বেসরকারি খাতে ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ছিল মাত্র ১৭ কোটি টাকা। এখন জনগণের ২ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে মেরে দিলেও কর্ণপাত করেন না কেউ। ফলে সমাজের একটা ক্ষুদ্র অংশ সম্পদশালী হচ্ছে, বৃহৎ অংশ হচ্ছে ক্রমশ সম্পদহীন। স্বাভাবিকভাবেই সম্পদশালীরা তাদের সম্পদ আরও বাড়ানোর জন্য কিংবা সম্পদ পাহারা দেওয়ার জন্য বিদেশি প্রযুক্তি ও কর্মীদের ওপর নির্ভর করছে। নতুন নুতন প্রযুক্তির সঙ্গে গড়ে তুলছে সুসম্পর্ক। কেউ কেউ বিনিয়োগ করছে বিদেশেও। ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশে কোটিপতির সংখ্যা ছিল মাত্র ৫ জন। ব্যাংকে তাদের জমা রাখা অর্থের পরিমাণ ছিল ১২ কোটি টাকা। ১৯৮১ সালে দেখা গেছে কোটিপতি ২৭ জন। তাদের জমার পরিমাণ ছিল ৫৪ কোটি টাকা। ১৯৮৫ সালের শেষে কোটিপতির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৫০ জন। তাদের জমা রাখা অর্থের পরিমাণ ছিল ৩২৭ কোটি টাকা। ১৯৯০-এর শেষের দিকে কোটিপতির সংখ্যা ছিল ২২৫ জন। জমা রাখা অর্থের পরিমাণ ৭৩০ কোটি টাকা। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে কোটিপতির সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ২১২ জন। জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ৪ হাজার ৪৫৫ কোটি টাকা। ১৯৯৯ শেষে কোটিপতির সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ৮০৪ জন। জমা রাখা অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫ হাজার ৯৮ কোটি টাকা। (সূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ,  ৭ জুন, ২০০০)।

বর্তমানে বাংলাদেশে কোটিপতির সংখ্যা ৭৫ হাজার ৫৬৩ জন। (সূত্র: আমাদের সময়, ১৩ জুলাই, ২০১৯) (ব্যাংকে কোটি টাকার বেশি জমা রেখেছেন এমন আমানতকারীর সংখ্যা ধরে নির্ধারণ করা হয়েছে কোটিপতির এই সংখ্যা।)   

প্রাচুর্যের মধ্যে বেড়ে ওঠেন সম্পদশালীরা, দুঃখ আর দুর্দশার অন্তহীন পথ পাড়ি দিচ্ছেন শিক্ষিত বেকার যুবকরা। বেকার ছেলের পায়ের জুতোটি পলিশ করা আর চকচকে থাকা চাই। যেমনটি দেখতে চান সম্পদশালীরা। গায়ের জামাটি হতে হবে নিভাঁজ, ইস্ত্রি করা। তা না হলেই ছেলে আনস্মার্ট। স্টাইল বোঝে না মেয়ে। গায়ে হালকা পারফিউম না থাকলে কটু গন্ধ আসতে পারে শরীর থেকে।

এই শহরে বড় অফিসারদের সঙ্গে বেকার যুবকদের সরাসরি দেখা-সাক্ষাৎ হয় কম। কোনও অফিসে গিয়ে সরাসরি দেখা করার নিয়ম তো আর এখন নেই। অফিসাররা সবাই ব্যস্ত থাকেন যার যার কাজে। বেকারের তো ভিজিটিং কার্ড নেই। এই শহরে একজন অফিসারের সঙ্গে দেখা করার জন্য আগে পাঠাতে হয় ভিজিটিং কার্ড। হাতে লিখে স্লিপ পাঠালেই অফিসের কর্তাব্যক্তিরা বোঝেন চাকরি চাইতে এসেছে বেকার। তাই ফেরত আসে সে স্লিপ। স্যার আজ  বড় ব্যস্ত। পরিচিত, অপরিচিত, স্বজন, জিপিও বক্স নম্বরে সুদীর্ঘ গুণাবলির বিবরণ উল্লেখ করে বহু বায়োডাটা পাঠায় বেকার।  ক’জন পড়ে দেখেছে বা ক’জনের পড়ে দেখার সময় হয়েছে, তা জানা সম্ভব হয় না বেকারের। কালে-ভদ্রে চাকরি যাও দু’একজনের জোটে, মাসে বেতন মাত্র ১৫ হাজার টাকা। পড়াশোনার সময় মাসে যা খরচ হয় কিংবা একজন রিকশাওয়ালা বা ট্যাক্সি ড্রাইভার সারা মাসে যা আয় করেন, তার অর্ধেক।

বেকার জীবন যেন বোকা জীবন। বাংলাদেশে খুব বেশি জানাটা অন্যায়, অপরাধ। কম জানা লোকরা ভালো। তারা সহজে প্রভুদের বশ্যতা মেনে চলতে পারে। কাজ খুব বেশি জানাটা আরেক ধরনের অপরাধ।

এই শহরে বেকারের কেউ থাকে না। বেকার একা বেকার। বেকার লোকদের বেঁচে থাকতে হয় নিজের বুদ্ধি দিয়ে। একটু চালাকি করে। নিজের পথ তৈরি করতে হয় নিজেকে। এগিয়ে যেতে হয় সামনে। জীবনের কোনও আনন্দ আয়োজনে আমন্ত্রণ পায় না বেকার। 

দুপুরে ঢাকার রাস্তা যখন টগবগ করে ফোটে, একজন বেকার লোককে ছুটে যেতে হয় অফিসে অফিসে। ‘ইন্টারভিউ’তে ঠিক সময়ে উপস্থিত থাকতে না পারলে তো সময় জ্ঞান থাকে না। যার সময় জ্ঞান নেই, তার ‘জব’ হবে কেন? কে দেবে ‘জব’। দ্রুত হাঁটতে গিয়ে, দ্রুত ছুটতে গিয়ে গায়ের জামাটি যদি ভিজে ছোপ ছোপ হয়ে যায়, বিপত্তি তাতেও। যার গায়ের জামা ঠিক নেই, সে কী করে অফিস করবে? 

বেকারের ঢাকায় চলতে ফিরতে পয়সা একটু বেশি খরচ হয়। বেকারের চোখে-মুখে অনেকে আগুন দেখতে পায়। শুধু জ্বলে ওঠা বাকি।

ঢাকায় যদি নতুন কেউ আসে, শুরুতেই চমকে ওঠে। এ শহরে সব মানুষ ব্যস্ত। সবাই ছুটছে। সবাই বুঝি কাজ করে। না। কথাটি ঠিক নয়। কাজ খোঁজে কেউ কেউ। কেউ কেউ না। অনেকেই কাজ খোঁজে। এই যে ধরুন—মতিঝিল, ফার্মগেট, মহাখালী, বাড্ডা, মোহাম্মদপুর বা ঢাকার যে প্রান্তের কথাই বলুন না কেন, প্রতিদিন সারাদিন যে ব্যস্ত মানুষের মুখ দেখা যায়? সবাই কি ব্যস্ত কাজে। না কাজের সন্ধানে। এমনও তো মানুষ আছে ব্যস্ততা দেখানোর জন্য ব্যস্ত। ব্যস্ত থাকার জন্য ছুটে চলা। পথের মোড়ে মোড়ে বা গলির ভেতরে চা-বিড়ির দোকানে যে এত মানুষের ভিড় দেখা যায় প্রতিদিন সকাল থেকে মধ্যরাত অবধি, ভিড়ের সব মানুষ কি কাজে ব্যস্ত নাকি কাজের সন্ধানে? শহরের চাকচিক্য, ঐশ্বর্য আর উন্নয়নের ডামাডোলে বেকারের আত্মকষ্ট উপলব্ধি করতে পারে, এমন মানুষ কই।

হাঁটার পথে এই শহরে একজন বেকার যখন একটা বাড়ি দেখে, মনে মনে হয়তো ভাবে, একদিন তারও একটা বাড়ি হবে। যখন একটা গাড়ি দেখে, তখন ভাবে, একদিন তারও একটা গাড়ি হবে। অফিস হবে। চেয়ার টেবিল হবে। হবে হবে—স্বপ্ন দেখে একজন বেকার সারাটি রাত পার করেন।

ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত পড়ে বিদেশে চলে গিয়েছিল যে বন্ধুটি, সে আজ একটি বাড়ির মালিক। তার ঘরে আছে একজন সুন্দরী বউ, একজন বা দু’জন বাচ্চার বাবাও সে বন্ধুটি। শিক্ষিত বেকার যুবকদের জীবনটাই যেন ব্যর্থ। কপালে বউ নেই। প্রেম নেই। স্বপ্ন নেই।

লেখক: ছড়াকার ও তথ্যচিত্র নির্মাতা

 

 

/এমএনএইচ/এমএমজে/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

লাইভ

টপ