প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর: জনমনে ‘ইলিশ-পেঁয়াজ-পানি-কাশ্মির-এনআরসি’

Send
মাসুদা ভাট্টি
প্রকাশিত : ১৪:৩৭, অক্টোবর ০৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:০১, অক্টোবর ০৩, ২০১৯

মাসুদা ভাট্টিভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে দ্বিপক্ষীয় সফরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ দিল্লি পৌঁছেছেন। ২০০৮ সালে শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর যতগুলো সফর ও বৈঠক দুই দেশে হয়েছে, তার মধ্যে এবারের শেখ হাসিনার সফরটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিনা তা নিয়ে আলোচনা চললেও কিছু বিষয় উল্লেখপূর্বক এই সফরের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনার জন্যই এই লেখা।
কাশ্মির: পরিস্থিতিটি আসলে জটিল
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নেওয়ার পর থেকে নরেন্দ্র মোদির সরকার দেশের ভেতরে ও বাইরে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে কাশ্মিরকে তার স্বায়ত্তশাসন থেকে বের করে কেন্দ্র-শাসনের আওতায় নিয়ে আসার পর। এ ব্যাপারে নরেন্দ্র মোদি দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দল তো দূরের কথা, কাশ্মিরের জনগণের সঙ্গেও কোনও প্রকার আলোচনা করেননি। এমনকি এতো বড় একটি পদক্ষেপকে অত্যন্ত সফলভাবে মিডিয়ার কাছে তো বটেই, নিজ দলের সংসদ সদস্যদের কাছেও বিষয়টি গোপন রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। আন্তর্জাতিকভাবেও বিষয়টি জানাজানি হয় তখনই, যখন ঘটনাটি ঘটে যায়। তারপর থেকে সব মহলে কাশ্মির ইস্যুটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচিত বিষয়। একেবারে সম্প্রতি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিয়ে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জনপ্রিয় ক্রিকেট খেলোয়াড় ইমরান খান কাশ্মির ইস্যুকে কেন্দ্র করে যেকোনও মুহূর্তে যে দুই প্রতিবেশী কিন্তু চিরবৈরী এবং পারমাণবিক শক্তিধর রাজ্যের মধ্যে আরেকটি যুদ্ধের দিকেও ঠেলে নিতে পারেন, সে ইঙ্গিতও দিয়ে রেখেছেন। জাতিসংঘের পোডিয়ামকে পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকির প্ল্যাটফরম হিসেবে ব্যবহার করেছেন কিনা সে প্রশ্ন তুলে একপক্ষ যখন ইমরান খানকে সমালোচনায় তুলোধুনো করছেন, আরেকপক্ষ তখন ইমরান খানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ, কারণ তারা মনে করছেন, কাশ্মিরিদের পক্ষে এর চেয়ে জোরালো বক্তব্য আর কেউ কখনও কোথাও রাখতে পারেননি। যদিও এ প্রশ্ন এখন আরো জোরালো, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের জনগণের অবস্থা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান কিছু বলেননি কেন? কেনইবা তিনি চীনের হাতে নির্যাতিত উইঘুর মুসলিমদের কথাও তার আলোচনায় আনলেন না, যদি তিনি নির্যাতিত মুসলিমদের নিয়েই চিন্তিত হবেন? প্রশ্ন অনেক হলেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের এই কঠিন বাস্তবতায় উপমহাদেশের বাকি প্রতিবেশীদের ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত?

বাংলাদেশ তার কূটনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রেখে প্রথম থেকেই বলে আসছে, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের টানাপড়েনে বাংলাদেশ কোনও পক্ষই নেবে না। কাশ্মির ইস্যুটিও ভারতের অভ্যন্তরীণ ইস্যু—বাংলাদেশ তার আক্ষরিক অবস্থান হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। এমতাবস্থায় দুই জুজুধান প্রতিবেশীর হুমকি ও পাল্টা হুমকির মধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যখন ভারত সফরে যাচ্ছেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই এই প্রশ্ন উত্থাপিত হবে, এই সফরে কি কাশ্মির ইস্যুটি নিয়ে কোনও আলোচনা হবে? আমরা ধরে নিতে পারি, বাংলাদেশ তার ঘোষিত নিরপেক্ষ এবং ‘ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার’ অবস্থান থেকে সরে আসবে না—এই সফরে তাই কাশ্মির ইস্যুটি কোনও প্রভাব ফেলবে না।

এনআরসি: দুই দেশের সম্পর্কের বিষকাঁটা

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে রাজনৈতিক পক্ষটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন, সে দলটি ভারতের হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক দল হিসেবে বহুকাল ধরেই সুপরিচিত। উগ্র জাতীয়তাবাদ, ধর্মভিত্তিক ভারতীয়ত্ব এবং আন্তর্জাতিকভাবে ভারতকে শক্তিশালী করার যে প্রত্যয় নিয়ে নরেন্দ্র মোদি এই পক্ষটির নেতৃত্ব দেন, তারা কোনোরকম রাখঢাক ছাড়াই ভারতকে তাদের ‘নিজস্ব জনগণের’ আবাসভূমি হিসেবে প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়ে রাজনীতি করেন। এনআরসি আসলে এই রাজনীতিরই প্রত্যক্ষ প্রয়োগ। আসামে ইতোমধ্যে এবং পশ্চিমবঙ্গসহ অন্যান্য রাজ্যে যে ‘অ-ভারতীয়দের’ তালিকা তৈরির হুঙ্কার মোদিজি’র দলের নেতৃস্থানীয়রা দিচ্ছেন এবং কথায় কথায় তাদের ‘বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার’ যে ঘোষণা প্রতিনিয়তই আসছে, তাতে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে যে এনআরসি ‘বিষকাঁটা’, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। যদিও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যোগ দিয়ে এক দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী একে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করলেও বিষয়টি যে আর ভারতের অভ্যন্তরীণ নয়, সেটাও সবাই বোঝেন। এমন অবস্থায় দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সরকারের মধ্যে সম্পর্ক যতই ‘ভালো’ হোক না কেন, জনগণের পর্যায়ে যে সম্পর্ক ক্রমশ অবনতির দিকে যাবে, সেটা বলাই বাহুল্য। বাংলাদেশের জনগণের যে অংশটি এদেশে চলমান ‘ভারতবিরোধী রাজনীতির’ সমর্থক, তারা তো এই ‘বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার’ হুঙ্কারের সঙ্গে কাশ্মিরে কেন্দ্রশাসন জারিকে মিলিয়ে দেখবেই, কিন্তু যারা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের উন্নতি চান, তাদের পক্ষেও কিন্তু এই এনআরসিকে কেন্দ্র করে বিজেপি নেতাদের উল্লম্ফনকে মেনে নেওয়া সম্ভবপর হবে না। সম্পর্কের ‘বিষকাঁটা’-কে রাজনীতির ধারালো অস্ত্র বানিয়ে যেকোনও মুহূর্তে এদেশে ভারতবিরোধী রাজনীতির নতুন ফ্রন্ট মাঠে নামতে পারে, এতদিন ধরে যে পক্ষটি চাইলেও বড় কোনও ইস্যু হাতে পায়নি ভারতবিরোধী রাজনীতিকে উত্তপ্ত করার। এমতাবস্থায় শেখ হাসিনার ভারত সফরকে কেন্দ্র করে এই এনআরসি’র ‘বিষকাঁটা’ও চরম আলোচিত একটি বিষয়। যদিও এটা কেউই আশা করছেন না, এবারের সফরেই শেখ হাসিনা ভারতের ক্ষমতাসীন দলের মুখ্য রাজনৈতিক ইস্যু এনআরসি ও ‘বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া’র বিষয়টি সুরাহা করে ফেলবেন, এটাও কূটনীতি এবং দুই দেশের সম্পর্কের দেওয়া-নেওয়ার দর কষাকষির ভেতর আরও কয়েক বছর যাবৎ থাকবে বলেই বিশ্লেষকরা মনে করেন।

ঞ্চলিক নিরাপত্তা: দুই দেশেরই সমান আগ্রহের বিষয়

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই ভারতীয় বিশ্লেষকদের কট্টরপন্থী অংশটি একথা দ্ব্যর্থহীন ভাষায়ই উল্লেখ করে এসেছে, ভারতের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ‘এক পাকিস্তানের’ জায়গায় ‘দুই পাকিস্তান’ গঠিত হয়েছে এবং বাংলাদেশের কাছ থেকে ভারতের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে বলে তারা মনে করেন। বাংলাদেশেও একদল বিশ্লেষক সবসময় দুই দেশের সম্পর্ক বিশ্লেষণে ভারতকে একটি ‘জুজু’ হিসেবে বর্ণনা করতে পছন্দ করেন এবং বাংলাদেশের যেকোনও সরকারই ভারতকে ‘সবকিছু’ দিয়ে দিচ্ছে বলে প্রচার করে থাকেন, তবে এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগকে তারা একচেটিয়ে দোষারোপ করেন। কিন্তু দুই দেশের সম্পর্কের সমীকরণ যে মোটেও সহজ নয় এবং দেনা-পাওনার হিসাব-নিকাশও যে সরল নয়, সেটা মাথায় রেখেই একথা বলা কোনোভাবেই অন্যায় হবে না, ২০০৮ সালের পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কের ও দেনা-পাওনার হিসেবে ভারসাম্য ফিরে আসার লক্ষণ স্পষ্ট হয়েছে। এর মধ্যে একটি বিশেষ লক্ষণীয় ব্যাপার হলো, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে মুখ্যত দুই দেশই এটা বুঝেছে, কেউ কারো নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করে দিলে দেনা-পাওনার সম্পর্কেও চির ধরবে। বৃহৎ ও ফেডারেল কাঠামোর রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের এই উপলব্ধি আরও জোরালো হয়েছে ২০০৮ সালের পর থেকে বাংলাদেশর ভূখণ্ডকে কোনোভাবেই ভারতবিরোধী তৎপরতায় ব্যবহারে শেখ হাসিনার সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কারণে। এদিকে বাংলাদেশে প্রায় দশ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে নির্যাতিত হয়ে আশ্রয় গ্রহণের পর যে নিরাপত্তা-শঙ্কা তৈরি হয়েছে, সেখানে অবশ্যম্ভাবীভাবে রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের অবস্থান বদলানোর সময় এসেছে। কাশ্মির ইস্যুতে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের যুদ্ধাবস্থায় বাংলাদেশকে যদি ভারত পাশে চায় তাহলে বাংলাদেশও আশা করবে, রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত বাংলাদেশের পাশে থাকবে। এসবই আসে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্নে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরের আগে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরকালে এ সংক্রান্ত একটি ইঙ্গিত আমরা পাই, এবার হয়তো রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত অন্তত ‘আঞ্চলিক নিরাপত্তা’ নিশ্চিত করার খাতিরে হলেও একটি জোরালো ভূমিকায় আগ্রহী হবে।

দুর্গোৎসব-নবরাত্রি-গান্ধিজয়ন্তী এবং পেঁয়াজ-পানি

দুই দেশেই এখন শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি চলছে। হিন্দি বলয়ে চলছে নবরাত্রির উদ্যোগ এবং গোটা বিশ্বে গান্ধীজয়ন্তীর আয়োজন। বাংলাদেশে পুজোমণ্ডপের সংখ্যা অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। শেখ হাসিনার সরকার অত্যন্ত চমৎকার এক কূটনৈতিক শিষ্টাচার দেখিয়ে এই উৎসবে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন ভারতে ইলিশ রফতানির ঘোষণা দিয়ে। নিন্দুকেরা বলছেন, ভারত ঠিক এই সময়ে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের ঘোষণা দিয়ে শেখ হাসিনার কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পাল্টা কোনও সৌজন্যবোধ দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশ তার বন্ধুরাষ্ট্রের কাছ থেকে পেঁয়াজ না পেয়ে প্রায় শত্রুরাষ্ট্র মিয়ানমারের কাছ থেকে পেঁয়াজ আনাচ্ছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফরের আগে এই পেঁয়াজ বন্ধ নীতি নিঃসন্দেহে কষ্টদায়ক ঘটনা। মজার ব্যাপার হলো, বাংলাদেশ পেঁয়াজ চাইলে মিশর থেকেও আনতে পারবে, কিন্তু ভারত চাইলেও পদ্মার ইলিশ বাংলাদেশ ছাড়া অন্য কোথাও থেকে আনতে পারবে না—বাংলাদেশের এই শিষ্টাচারের তাই নিঃসন্দেহে বড় ধরনের সৌজন্য ভারতের কাছে পাওনা হয়েই রইলো। ওদিকে ফারাক্কার দরজা খুলে বাংলাদেশ ভাসিয়ে দেওয়ার খবরটিও কোনোভাবেই ইতিবাচক নয়। ভারত অবশ্য বলছে, বিহারসহ উত্তরের রাজ্যে বন্যার কারণে ফারাক্কার দরজা না খুলে উপায় ছিল না। কিন্তু এখানেও সেই একই কথা, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের প্রাক্কালে একের পর এক অঘটন নিঃসন্দেহে নিন্দুকের হাতেই একাধিক অস্ত্র তুলে দিচ্ছে। কিন্তু আশাবাদীরা এটাও বলছেন, যেকোনও ঘটনাতেই ‘আগে তিতা পরে মিঠা’ উত্তম। উৎসবের এই লগনে ভারতও তার নিকটতম বন্ধুকে ‘বৈ-মুখ’ করবে, এমন প্রতিবেশী ভারত নয়, একথা ভারতের বিশ্লেষকরাও মনে করেন।

এ লেখা এখানেই শেষ নয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর এবং সফর পরবর্তী বিষয়াদি নিয়ে আরও একটি লেখা লেখার ইচ্ছে রইলো। বলাই বাহুল্য, আমি আশাবাদী মানুষের দলে এবং দুই দেশের সম্পর্কের দেনা-পাওনার স্বচ্ছ ও যৌক্তিক হিসাব-নিকাশের পক্ষে। দুই দেশ এই মুহূর্তে বৈশ্বিক রাজনীতিতে যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই দুই নেতাও যথেষ্ট পরিপক্ব রাজনীতিবিদ—আশাবাদ সে কারণে একটু বেশিই।

লেখক: দৈনিক আমাদের নতুন সময়ের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক।

masuda.bhatti@gmail.com

/এসএএস/এমএমজে/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

লাইভ

টপ