উপ-কমিটির মেয়াদ কতদিন?

Send
সারওয়ার-উল-ইসলাম
প্রকাশিত : ২২:৫৮, অক্টোবর ২২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:০০, অক্টোবর ২২, ২০১৯







সারওয়ার-উল-ইসলামনায়ক, উপ-নায়ক। প্রধান, উপ-প্রধান। সেভাবেই কমিটি, উপ-কমিটি। যখন কোনও দলে বা সংগঠনে বড় ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম চলে, তখন এই উপ-কমিটি গঠন করার প্রয়োজন হয়ে পড়ে অনুষ্ঠানকে বা আয়োজনকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে।



কিন্তু এই উপ-কমিটি নিয়ে যত সমস্যার সৃষ্টি হয়, আয়োজনের পরেও যখন কমিটি বিলুপ্ত না করা হয়। প্রশ্ন থেকে যায়, এই উপ-কমিটির অনুমোদন নিয়েও। আদৌ কোনও অনুমোদন পেয়েছিল কিনা, নাকি মৌখিকভাবে অনুমোদন পেয়েই চলছে এই উপ-কমিটির কার্যক্রম!
সেরকম প্রশ্নের মুখে বর্তমানে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সংগঠনের অনেক উপ-কমিটি। কেন এই উপ-কমিটি অনুমোদনহীনভাবে গড়ে ওঠে? কী ‘মধু’ এই উপ-কমিটিতে ঢুকলে?
আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের টানা তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বছর চলছে। দলের ভেতর যারা বেশ শক্ত অবস্থানে আছে, তাদের কেউ কেউ অনেক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন। এটা বাংলাদেশের রাজনীতির একটা সংস্কৃতিই হয়ে গেছে। কিছু দলীয় নেতাকর্মী পদে থেকে এই সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে থাকে। কেউ কেউ এই সুযোগ-সুবিধাকে তাদের ‘অধিকার’ হিসেবেও ধরে নেয়। আর যারা সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারেন না, তারা দূর থেকে হা-হুতাশ করে বা সুযোগ গ্রহণ করার জন্য দলের পদ পেতে মরিয়া হয়ে ওঠে।
এভাবেই কর্মী-সমর্থকদের দলের প্রতি অনুগত করে রাখার জন্য বড় কোনও আয়োজনের সময় বা নির্বাচনের সময় উপ-কমিটি করার সিদ্ধান্ত নেয় দলের কেন্দ্রীয় কমান্ড। যেমনটা আওয়ামী লীগেও করা হয়েছিল। তখন ‘বানের জলের মতো ভেসে এসে’ অনেকেই ঠাঁই পেয়েছিলেন এই উপ-কমিটিতে।
কার কী যোগ্যতা, কে কতটুকু সাংগঠনিকভাবে যোগ্য, সেটা অনেকের ক্ষেত্রেই না ভেবে অনুমোদন দেওয়া হয় বলে আমি মনে করি। অভিযোগ আছে, এই উপ-কমিটিতে তখন এমন অনেককেই রাখা হয়েছে, যাদের অতীত ইতিহাস খুব একটা ভালো নয়। কিন্তু নানাভাবে ঢুকে পড়েছে উপ-কমিটিতে। টাকা-পয়সা লেনদেনের মাধ্যমে জায়গা পেয়েছে কেউ কেউ।
এখন সেই উপ-কমিটিগুলোর কী অবস্থা? যাদের জায়গা করে দেওয়া হয়েছিল দলকে আরও সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার জন্য, তারা কতটুকু পারলো দলকে এগিয়ে নিতে, সেটার কোনও হিসাব নেই। তারা দলের চেয়ে নিজেদের বেশি শক্তিশালী করে ফেলেছে প্রভাব প্রতিপত্তির দিক থেকে, পাশাপাশি অর্থকড়ির ব্যাপারেও।
উপ-কমিটি হয়েছে আওয়ামী লীগে, যুবলীগে, স্বেচ্ছাসেবক লীগে এবং ছাত্রলীগেও। উপ-কমিটির নেতাকর্মীরা নিজ নিজ এলাকায় সরকারি জায়গা বা যেসব জায়গায় ঝামেলা আছে, সেখানে দোকানপাট বসিয়ে, ঘর বানিয়ে, বস্তি তৈরি করে ভাড়া খাচ্ছে, মাসের পর মাস নিজেদের অধিকার নিয়েই। যেন তাদের উপ-কমিটিতে রেখেই ওই অবৈধ কাজটা করার অধিকার দেওয়া হয়েছে আর কী।
মানুষের মনে সরকারের প্রতি বিতৃষ্ণা জাগানোর যতগুলো উপায় বা পন্থা আছে, সবই তারা করছে বেশ দাপটের সঙ্গেই। কারও কিছু বলার নেই। কারণ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা সংসদ সদস্যরা তাদের ছাতা হিসেবে আছেন।
যদিও সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, কারা কোন ছাতার তলায় আছে, সেই ছাতা খোঁজা হচ্ছে। অর্থাৎ কোন কোন ওয়ার্ড কাউন্সিলর অবৈধ উপায়ে টাকা কামাচ্ছে কোন কোন ছাতার নিচে বসে, তাদের ব্যাপারে দুদককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ওবায়দুল কাদেরের এই কথা আশাব্যঞ্জক।
আওয়ামী লীগসহ সরকারের সব অঙ্গ-সংগঠনের ব্যাপারে সময় এসেছে খোঁজ নেওয়ার। জেলা উপজেলা পর্যায়ে সংগঠনগুলোর কী অবস্থা? আর উপ-কমিটিগুলো রাখার কোনও প্রয়োজন আছে কিনা? কারণ উপ-কমিটি একটা বিশেষ সময়ের চাহিদামাত্র। কিন্তু সেই উপ-কমিটি সব সময় থাকবে, এটা কতটুকু গ্রহণযোগ্য, সেই ব্যাপারেও সরকারের ভেবে দেখার সময় এসেছে।
কারণ মূল দলকে বা এর অঙ্গ-সংগঠনকে যখন সামলানো যাচ্ছে না বা সামলাতে গিয়ে সরকারকে হিমশিম খেতে হচ্ছে, তখন অনুমোদনপ্রাপ্ত বা অনুমোদনহীন উপ-কমিটিকে সামলানো আরও কঠিন। তাদের অনেকের ব্যাপারে নানা অভিযোগ রয়েছে। কারণ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করার লক্ষ্যেই তাদের তৈরি করেছিল। যাদের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর জানার তো কথাই না। কেন্দ্রীয় পর্যায়ের অনেক নেতারও জানা নেই। কিন্তু দিনের পর দিন চলে আসছে এই অনুমোদনহীন উপ-কমিটির তৎপরতা– দোকানপাট বসিয়ে আর পরিবহন থেকে চাঁদাবাজি করেই যাদের দিন চলে যায়। দলের সাংগঠনিক ব্যাপারে তারা ভাববে কখন?
এই উপ-কমিটির ব্যাপারে সরকারি দলের নীতিনির্ধারকদের এখনই সচেতন হতে হবে। নিতে হবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। নইলে জনরোষ ঠেকানো সম্ভব হবে না আগামীতে।
খুঁজে বের করতে হবে কারা এই অনুমোদনহীন উপ-কমিটি করে দিয়েছিল? কাদের স্বাক্ষরে চলছে উপ-কমিটিগুলো?
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে ওই ছাতা খোঁজার পাশাপাশি উপ-কমিটি বিলুপ্ত করার কথাও ভাবতে হবে। নাহলে শুদ্ধি অভিযানের এই সময়টায় দুষ্টচক্র একদম ভদ্র হয়ে হাত-পা গুটিয়ে থাকলেও, একটু ভাটা পড়লেই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে যাবে। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই উপকমিটি বিলুপ্ত করুন। নইলে আওয়ামী লীগকে তারা ধ্বংস করে ছাড়বে।
লেখক: ছড়াকার ও সাংবাদিক

/এমএমজে/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

লাইভ

টপ