behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

আইএসকে হারাতে হবে

বখতিয়ার উদ্দীন চৌধুরী১৩:৫৮, নভেম্বর ১৭, ২০১৫

Bakhtiar Uddin Chowdhuryদুই মেরুর বিশ্বে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর এক মেরুর বিশ্বের একক নায়ক হলো যুক্তরাষ্ট্র। একক সিদ্ধান্তে বিশ্ব ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করলো দীর্ঘ সময়ব্যাপী। আমেরিকা কারও সঙ্গে কোনও পরামর্শ পর্যন্ত করার প্রয়োজন বোধ করেনি কখনও। পূর্বে ফ্রান্স অনেক বিষয়ে আমেরিকার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করতো কিন্তু সোভিয়েতের পতনের পর ফ্রান্স ও ব্রিটেনের মতো লেজুড়বৃত্তির পথ বেছে নিলো। একক আধিপত্য কখনও অব্যাহতভাবে চলতে পারে না। ছোট হোক, সমান হোক, বড় হোক- একটা প্রতিপক্ষ আত্মপ্রকাশ করবেই। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলো আল-কায়েদা। ২০০১ সালে টুইন টাওয়ার বিধ্বস্ত করে পেন্টাগন আক্রমণ করে তারা তাদের অস্থিত্বের কথা আমেরিকাকে জানান দিলো।

সোভিয়েতের সঙ্গে আফগান যুদ্ধের সময় আল-কায়েদার জন্ম দিয়েছিলেন ওসামা বিন লাদেন। তখন ওসামা ছিলেন আমেরিকার বন্ধু। তিনি পাকিস্তানের পেশোয়ারে বসে আমেরিকার পক্ষ নিয়ে কাজ করেছিলেন। বিন লাদেন একসময়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের সঙ্গে তেলের ব্যবসাও করেছিলেন। উভয়ে পরিচালক ছিলেন তৈল কোম্পানি স্পেকট্রামের। বিশ্বের মুসলিম প্রধান সব দেশ থেকেই যুবকেরা গিয়েছিলো আফগানিস্তানে। পাকিস্তান ভারত আর বাংলাদেশ থেকে মাদ্রাসা শিক্ষার অগণিত যুবক আফগান যুদ্ধকে ধর্মযুদ্ধ মনে করে আফগানিস্তানে গিয়ে উপস্থিত হয়েছিলো। আফগানিস্তানেই মুসলিম বিশ্বের ধর্মান্ধ মুসলিম যুব সম্প্রদায় একত্রিত হয়ে তাদের মতে ঈমানী দায়িত্ব হিসেবে আফগান থেকে সোভিয়েত রাশিয়াকে তাড়াবার দায়িত্ব পালন করেছিলো।

মুসলিম বিশ্বের ধর্মান্ধ যুবকেরা এক ও অভিন্ন সূত্রে একত্রিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলো আফগানিস্তানে। তাদের খরচ যুগিয়েছিলো আমেরিকা। আমেরিকার বিরুদ্ধে সে যুদ্ধ ঘুরে দাঁড়ানোর পর ওসামার মৃত্যু পর্যন্ত আমেরিকা নাকি তার পেছনে ব্যয় করেছে ৪০ হাজার কোটি ডলার! অথচ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আমেরিকার নাকি খরচ হয়েছিলো ৪৫ হাজার কোটি ডলার।

আইএস এর তথাকথিত খলিফা আবুবকর বাগদাদীও আল কায়দার লোক। ইরাক অভিযানের সময় আমেরিকা তাকে গ্রেফতার করেছিলো। দু’বছর বাগদাদী আমেরিকানদের হাতে বন্দি ছিল। মুক্তি পেয়ে বাগদাদী সিরিয়ায় চলে গিয়েছিলো। বাগদাদী বর্তমানে ইরাক ও সিরিয়ার বিশাল এলাকাজুড়ে তার ইসলামিক স্টেট প্রতিষ্ঠা করেছেন। দীর্ঘ ১৭ মাসব্যাপী আমেরিকা আইএস-এর ওপর বোমা নিক্ষেপ করছে, তার সঙ্গে ফ্রান্স ও ব্রিটেনও রয়েছে। মাঝে মাঝে তুরস্ক ও সৌদি আরবও বোমা হামলায় শরীক হচ্ছে। আইএস বলেছে যারাই তার ওপর হামলা চালাচ্ছে তারাই তাদের আক্রমণের শিকার হবে।

গত ১২ নভেম্বর ২০১৫ তারা বৈরুতে হিজবুল্লার ঘাঁটির ওপর আক্রমণ চালিয়েছিলো। হিজবুল্লাহ সিরিয়ার বাশার আল আসাদের সঙ্গে আইএস-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে আর ১৩ নভেম্বর  ২০১৫ তারিখে তারা ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে আক্রমণ চালিয়েছে। তাতে বহু লোক হতাহত হয়েছে। ধীরে ধীরে তারা ইউরোপের আরও বহুদেশের ওপর হামলা চালাতে পারে। তাদের হামলা খুবই সুপরিকল্পিত ও সুনিপুণ। এতে ক্ষয়ক্ষতিও হচ্ছে ব্যাপক।

ইরাক যুদ্ধ আর আফগান যুদ্ধের পর সারাবিশ্ব এখন সন্ত্রাস কবলিত। আজকের বিশ্বে সন্ত্রাসীদের হামলার দায় যেমন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এড়াতে পারবে না তেমনই আমেরিকাও এ দায় এড়াতে পারবে না। বিশ্বটাকে সন্ত্রাস কবলিত করার ব্যাপারে আমেরিকার দায় অপরিসীম। মূলত বিশ্ব ব্যবস্থাটাকেও আমেরিকা ধ্বংস করেছে।

স্থলযুদ্ধ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইসলামিক স্টেট উচ্ছেদ করা সম্ভব নয়। রাশিয়ার বিমান আক্রমণের ছত্রছায়ায় বাশার আল আসাদের সিরীয় স্থলবাহিনী এখন স্থলযুদ্ধ করছে। তারা ধীরে ধীরে কিছু হারানো ভূমিও উদ্ধার করেছে। বাশার আল আসাদের সিরীয় সৈন্যবাহিনী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া বিদ্রোহী সৈন্যদের কর্তৃত্বে এখনও কিছু কিছু এলাকা রয়েছে। বর্তমানে রাশিয়া এসব বিদ্রোহীর সঙ্গে বৈঠক করার উদ্যোগ নিয়েছে। বৈঠক সফল হলে আইএস-এর কবল থেকে সিরিয়াকে মুক্ত করা সম্ভব হবে তারা আশা প্রকাশ করছে।

আগে আমেরিকা, ফ্রান্স, ব্রিটেন, সৌদি আরব বলতো আলোচনার আগে বাশার আল আসাদকে পদত্যাগ করতে হবে। কিন্তু অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় ১৫ই নভেম্বর যে আলোচনা হয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেখানে এ ধরনের নতুন কোনও প্রস্তাব উপস্থাপন করেননি। শুধু বলেছেন দু’বছরের মাঝে সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে। আমেরিকা সুস্থ চিন্তা করার চেষ্টা করলে মধ্যপ্রাচ্য সমস্যার সমাধানের একটা সহজ পথ হয়তো বের হয়ে আসবে। রাশিয়ার ভূমিকায় আমেরিকার কিছু বোধোদয় হয়েছে বলে মনে হয়। ব্রিটেন এবং ফ্রান্স আমেরিকার লেজুড়বৃত্তি না করে কঠিনভাবে বাস্তবতার মাঝে এসে সমস্যা সমাধানের জন্য আমেরিকাকে চাপ প্রদান করলে হয়ত বিষয়টা আরও সহজ হবে।

আমেরিকা, রাশিয়া, ফ্রান্স, ব্রিটেন, জার্মানিসহ বিশ্বের সব শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোকে এখন চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আইএস, আল কায়েদা। আর তাতে বিশ্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা এ মুহুর্তে নাজুক অবস্থার মুখোমুখি। সুতরাং আইএসকে ক্ষুদ্র ভেবে উপেক্ষা করার চেষ্টা করলে তা আরও ভয়াবহরূপ নিতে পারে।Non-state power গুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার কোনও অবকাশ নেই। এ এক অদৃশ্য শক্তি। অথচ তারা আছে প্যারালাল অবস্থানে।

মধ্যপ্রাচ্যের সমস্যা হচ্ছে শিয়া, সুন্নী এবং কুর্দি। এ তিন সমস্যার সমাধান করতে হলে তুরস্ক, সৌদি-আরব ও ইরানকে এক টেবিলে বসতে হবে। আমেরিকা-রাশিয়া-চীনকেও পক্ষপাতহীনভাবে সহযোগিতা করতে হবে কারণ, এজন্য এসব দেশের সীমান্ত পুনঃবিন্যাসেরও প্রয়োজনও হতে পারে—যা সপ্তদশ ও অষ্টদশ শতাব্দীতে ইউরোপে হয়েছে।

লেখক: মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune

কলামিস্ট

টপ