behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

শক্তি প্রয়োগ করে কি আইএস ধ্বংস করা যাবে?

চিররঞ্জন সরকার২০:০১, ডিসেম্বর ১১, ২০১৫

রবীন্দ্রনাথের ‘গান্ধারীর আবেদন’ কবিতায় দুর্যোধনের উক্তিকে একটু বদলে ইসলামিক স্টেট বা আইএএসের সন্ত্রাসীরা বলতে পারে: ‘জয়ী নহি তাত, আজ আমি সুখী।’ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সিরিয়া ও ইরাক থেকে আইএস’কে উৎখাত করার জন্য বহুজাতিক আক্রমণ যে মাত্রায় পৌঁছেছে এবং তার পাশাপাশি এই সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের অর্থের উৎস ও লেনদেনের সূত্রগুলোকে ধ্বংস করার যে উদ্যোগ চলছে, তার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সংশয়ের কারণ নেই। কিন্তু প্রশ্ন হলো, একটি জঙ্গি সংগঠনকে ঠেকাবার জন্য দুনিয়ার ৬৫টি দেশ একজোট হয়ে সামরিক অভিযানে নামতে

চিররঞ্জন সরকারবাধ্য হয়েছে, ওই সংগঠন এটাকে অবশ্যই গৌরবের বিষয় বলে মনে করবে। প্রকৃত সামর্থ্য যতখানি, তার থেকে অনেক বেশি গুরুত্ব অর্জন করাই আধুনিক সন্ত্রাসবাদীদের প্রধান লক্ষ্য, ‘অ্যাসিমেট্রিক’ বা অসম লড়াই চালাবার পেছনে এই লক্ষ্যের বড় ভূমিকা থাকে। নাইন-ইলেভেনে পর আলকায়েদার বিরুদ্ধে আমেরিকার লড়াই সেই ‘অ্যাসিমেট্রিক’ লড়াইয়ের অপূর্ব প্রতীক হিসেবেই চিহ্নিত হয়েছে। ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে মহাযুদ্ধপ্রতিম আন্তর্জাতিক অভিযানও ইতিমধ্যে নতুন ইতিহাস রচনা করেছে। সেই ইতিহাসও অ-পূর্ব।
আইএস-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বহু দেশের সমবেত হওয়ার যুক্তি আছে। কেবল সামরিক যুক্তি নয়, রাজনৈতিক যুক্তিও। এই ‘মহাজোটবন্ধন’ জানাচ্ছে, অন্য বহু বিষয়ে, এমনকী সাধারণভাবে সন্ত্রাসের প্রশ্নেও বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন মত ও অবস্থান থাকতে পারে, কিন্তু ইসলামিক স্টেটকে অসহনীয় বিপদ হিসেবে দেখার বিষয়ে তারা সবাই একমত। গত ১৩ নভেম্বর প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলার পর এই মতটির জোর অনেক বেশি বেড়েছে, তার প্রসারও। ব্রিটেন সিরিয়ায় আক্রমণ শুরু করেছে, জার্মানি অভিযানে সাহায্যের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এটা নিছক সমবেদনা বা সহযোগিতার তাগিদ নয়, আত্মরক্ষার তাড়নাও বটে— ব্রিটেন এবং জার্মানি, দুই দেশই আইএস-এর সম্ভাব্য লক্ষ্য। কিন্তু স্বার্থবুদ্ধিতে দোষ নেই, বরং স্বার্থবুদ্ধির কঠিন ভিত্তিতেই বহুজাতিক সংহতি সুপ্রতিষ্ঠিত হতে পারে। বস্তুত, ভ্লাদিমির পুতিনের রাশিয়াকে এই সংহতির শরিক করে নিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার পেছনে স্বার্থের সংঘাতই প্রধান কারণ। আপাতত আইএস কার্যত সবার স্বার্থের পক্ষে বিপজ্জনক বলেই ৬৫ দেশ একজোট হয়েছে তার মোকাবিলায় ।
প্রশ্ন হলো, এ ভাবে কি ইসলামিক স্টেট নামক বিপদটিকে নির্মূল করা সম্ভব? তার ঘাঁটি, সৈন্য এবং পরিকাঠামো ধ্বংস করতে পারলেই কি সংগঠনটি অন্তর্হিত হবে? তেমন ভরসা যৎসামান্য। প্রথমত, বোমা এবং ক্ষেপণাস্ত্র কেবল জঙ্গিদের বিনাশ করে না, তার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের সাধারণ নাগরিকদেরও সর্বনাশ করে। সরাসরি বোমার আঘাতে অনেকে হতাহত হন, পাশাপাশি আ়ঞ্চলিক অর্থনীতি ও সমাজ সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হওয়ার ফলে জনজীবনে দুর্গতির সীমা থাকে না। তার পরিণামে স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে আক্রমণকারীদের প্রতি তীব্র বিরাগ ও ক্রোধ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক, জঙ্গিরা সেই ক্ষোভকে আপন স্বার্থসিদ্ধির কাজে লাগায়। আফগানিস্তানে ও ইরাকে এই প্রক্রিয়া দেখা গেছে, এখনও যাচ্ছে। সিরিয়ায় এই আশঙ্কা অনেক বেশি প্রবল, তার কারণ সেখানে একটি যথার্থ বিকল্প প্রশাসনের কোনও সম্ভাবনা নেই। প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ নিজেই দুর্বৃত্ত বিশেষ। তাঁর ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ অনিশ্চিত। সিরিয়ার মানুষের পক্ষে এই অনিশ্চয়তার অর্থ এক কথায় ভয়ানক। বোমারু বিমান সেই সমস্যার উত্তর হতে পারে না।সবচেয়ে বড় কথা, এক দল লোক যখন কোনও আদর্শের নামে ঠাণ্ডা মাথায় হত্যাকাণ্ড চালায়, নিজেদের জীবনেরও তোয়াক্কা করে না, কী ভাবে জাতীয় নিরাপত্তার প্রচলিত কাঠামোয় তাদের মোকাবিলা করা যাবে? কী ভাবে ঠেকানো যাবে এই আত্মঘাতি ‘ফিদাইন’ হামলা? লাগাতার নজরদারি চালিয়ে এবং বিপুলসংখ্যক গোয়েন্দা ও পুলিশ লাগিয়ে সমস্ত নাগরিককে নিরাপত্তা দেওয়া কি আদৌ সম্ভব?

নিরাপত্তা এই সব আয়োজন নিশ্চয়ই সন্ত্রাসের সম্ভাবনা কমাতে সাহায্য করবে, কিন্তু যত দিন পৃথিবীর কিছু এলাকায় ফিদাইনদের প্ররোচনা, প্রশিক্ষণ এবং প্রকরণ দেওয়ার বিশদ ব্যবস্থা চালু থাকবে, তত দিন সেই বিপদ পুরোপুরি দূর করা অসম্ভব।

দেখা যাচ্ছে পশ্চিমা দেশগুলো তাদের নিজেদের স্বার্থ ও সুবিধা অনুযায়ী ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ অভিযান পরিচালনা করছে। বর্তমানে ধর্মের নামে যে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস চলছে, সিরিয়া, ইরাক, আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানের কিছু এলাকা তার প্রধান সূতিকাগার। সন্ত্রাসবাদীদের এই নিরাপদ ঘাঁটিগুলি ধ্বংস না হলে পৃথিবী নিরাপদ হবে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় সহযোগীরা কিছু কিছু ক্ষেত্রে এসব দেশে হস্তক্ষেপ করেছে। সে সব দেশে তারা সরকার বদলানোর জন্য বদ্ধপরিকর হয়েছে। কিন্তু পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব কিংবা তুরস্কের মতো দেশগুলো কোনও না কোনওভাবে সন্ত্রাসের আগুনে ইন্ধন জোগালেও সেখানে কোনও হস্তক্ষেপের চেষ্টা দেখা যায়নি, কারণ তারা আমেরিকা ও ইউরোপের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

মনে রাখা দরকার, আমেরিকা ও ইউরোপ মধ্য প্রাচ্যের এবং এশিয়া ও আফ্রিকার অন্য নানা অঞ্চলের রাজনীতিতে গোলমাল বাধিয়ে রাখার জন্য সর্বদা মগ্ন থেকেছে। সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে উৎখাত করার জন্য যখন জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দিয়ে লড়াইয়ে পাঠানো হয়েছিল তখন তারা ছিল ‘ভাল’ সন্ত্রাসবাদী। আবার, তুরস্কের কাছে তারাই ‘ভাল’, যারা প্রতিবেশী সিরিয়া ও ইরাকে কুর্দিদের বিরুদ্ধে লড়ছে। এরাই পরে ইসলামিক স্টেটের জঙ্গি হচ্ছে! তেমনই, সৌদি আরব ও কাতারের ওয়াহাবি শাসকরা বাগদাদে ও দামাস্কাসে বিধর্মীদের গদি থেকে টেনে নামানোর জন্য ‘ভাল’ জঙ্গিদের নিয়োগ করেছিল। এক কথায়, যে যার নিজের স্বার্থ ও সুবিধে মাফিক ‘ভাল’ জঙ্গিদের চিহ্নিত করে তাদের সাহায্য করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্সসহ কিছু ইউরোপীয় রাষ্ট্র এত দিন এই অনৈতিক খেলা চালিয়ে এসেছে। তারা কি এখন নিজেদের বদলাতে পারবে?

সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জটি হচ্ছে সাংস্কৃতিক। আমেরিকা, ফ্রান্সসহ আধুনিক ইউরোপের অন্য দেশগুলোর নাগরিকরা প্যারিসের ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের পর পশ্চিম এশিয়ার বধ্যভূমি থেকে আসতে থাকা শরণার্থীদের বিরুদ্ধে আরও বেশি খড়্গহস্ত হয়ে উঠেছেন। অবিভাসনের বিরুদ্ধে তাঁদে

র অবস্থান ক্রমেই কঠোর হচ্ছে। করুণ পরিহাস এই যে, প্যারিস যে জঙ্গিদের শিকার হলো, অধিকাংশ শরণার্থী তাদের তাড়নাতেই দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। তাঁদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। ইউরোপে দক্ষিণপন্থীদের বিরাগের অন্য লক্ষ্যটি হলো সেখানকার মুসলিম মানুষজন। আর, এই বিরাগের ফলে তাঁদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবোধ এবং অসন্তোষ আরও বাড়বে, সেটা আবার এশিয়া এবং আফ্রিকার চরমপন্থী ইসলামি জঙ্গিদের শক্তি বৃদ্ধি করবে।

সবচেয়ে উদ্বেগের কারণ হলো, ধর্মীয় ও জাতিগত অসহিষ্ণুতা ইউরোপের উদার সংস্কৃতির ক্ষয় ঘটাবে। যে মানসিকতা আধুনিক ইউরোপকে তার আত্মিক শক্তি দিয়েছে, এই ক্ষয় তার পক্ষে বিপজ্জনক। ৯/১১-র আক্রমণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আগের চেয়ে নির্মম এবং সংকীর্ণ করে তুলেছে। নিরাপত্তার খাতিরে প্রণীত নতুন আইন নাগরিকদের ব্যক্তিগত পরিসরের মর্যাদা লঙ্ঘন করেছে, গোটা দেশে বিমানবন্দরগুলোতে তল্লাশি অস্বাভাবিক পর্যায়ে পৌঁছেছে, কুখ্যাত ‘ফিংগার টেস্ট’-এর আশঙ্কা থেকে কোনও বিদেশি অতিথিই মুক্ত নন। মার্কিন নাগরিকরা নিরাপত্তার খাতিরে এ সবই মেনে নিয়েছেন। কিন্তু তার ফলে এক অর্থে তাঁদের জীবনসংগীত থেমে গিয়েছে। ইউরোপেও কি তা-ই হবে?

ওদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সিরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে আইএএস বিরোধী অভিযানে হাজার হাজার মানুষ উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়ে চলছে। এই উদ্বাস্তুরা দলে দলে ইউরোপ-এবং আমেরিকায় প্রবেশ করছে। গোটা বিশ্বে এখন মধ্যপ্রাচ্যের উদ্বাস্তুরা গলার কাঁটা হয়ে দেখা দিয়েছে। ইউরোপ জুড়ে চলছে তোলপাড়। কেবল ইউরোপেই সিরিয় উদ্বাস্তুদের নিয়ে অশান্তির ঝড় বইছে না। আটলান্টিকের অন্য পারেও দুর্যোগের মেঘের ঘনঘটা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এই ঝড়ের মুখে সম্ভবত এই মুহূর্তে সবচেয়ে বিপন্ন রাষ্ট্রনায়কদের অন্যতম। কয়েক মাস আগে পর্যন্তও মনে হচ্ছিল, তাঁর দ্বিতীয় প্রেসিডেন্ট সময়কাল ভালয় ভালয় শেষ হতে চলেছে। পর পর তিন বার প্রেসিডেন্ট হওয়া যায় না, তাই তাঁকে ব্যক্তিগত ভাবে মঞ্চ থেকে প্রস্থান করতেই হবে। কিন্তু পরিস্থিতি যেমন ছিল, তাতে মনে হইতেছিল, উপযুক্ত রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বীর অভাবে, কিংবা যথেষ্ট ঝাঁঝালো রিপাবলিকান প্রচারের অভাবে হয়তো অন্য কোনও ডেমোক্র্যাট নেতা সহজেই হোয়াইট হাউসের বাসিন্দা হয়ে যাবেন। সিরিয়া ও প্যারিস ছবিটি দ্রুত পাল্টে দিয়েছে। ওবামাবিরোধী রিপাবলিকান প্রচার দ্রুত তুঙ্গে উঠেছে। প্যারিস-সন্ত্রাসের পরিপ্রেক্ষিতে সন্ত্রাসবিরোধিতার হুঙ্কার সর্বত্র গর্জে উঠছে, সেই সূত্রে ইসলামবিরোধিতা ও (সিরীয়) উদ্বাস্তু-বিরোধিতা তীব্র হচ্ছে। আমেরিকার প্রদেশগুলো সাফ জানিয়ে দিচ্ছে, প্রেসিডেন্ট যতই প্রতিশ্রুতি দিন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দশ হাজার সিরীয় উদ্বাস্তুকে পুনর্বাসন দিবে, প্রাদেশিক সরকারগুলো কিছুতেই এতে রাজি হবে না। কেন্দ্রীয় সরকারেও উদ্বাস্তু প্রশ্নে ওবামা সংকটে। ভিসাবিহীন প্রবেশের 

নীতিটির সাম্প্রতিক পরিবর্তন সাধনই তা বুঝিয়ে দেয়। উদ্বাস্তুর প্রবেশ আটকাতে এই নীতিটির পরিবর্তন করে প্রতিটি প্রবেশকারীর ভিসা আবশ্যক করা হয়েছে। ‘সিনেট’ এবং ‘হাউস’— পার্লামেন্টের দু কক্ষেই রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, হাউস অর্থাৎ নিম্নকক্ষে তাদের নেতা ক্যালিফোর্নিয়ার প্রতিনিধি কেভিন ম্যাকার্থি প্রেসিডেন্টের ঘুম ছোটাতে যথেষ্ট সক্ষম।

ওবামা যথাসাধ্য এই উদ্বাস্তু-বিরোধিতার প্লাবন ঠেকানোর চেষ্টায় আছেন। শিশুবোধ্য অঙ্কের মতো বোঝাচ্ছেন, সন্ত্রাসবাদীদের ঠেকানোর অর্থ উদ্বাস্তুদের ঠেকানো নয়, কেননা উদ্বাস্তুরা ওই সন্ত্রাসবাদীদের দাপটেই উদ্বাস্তু হয়েছেন! কঠোর ভর্ৎসনাও ওবামা কণ্ঠে শোনা গিয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ধর্ম বিচার করে তবে বিপন্ন উদ্বাস্তুদের প্রতি সমবেদনা দেখানোর আদর্শে বিশ্বাস রাখতে পারে না। মুশকিল এই যে, ওবামা ইতিমধ্যে সে দেশে একটু অতিরিক্ত ইসলাম-সহমর্মী হিসেবে পরিচিতি কুড়িয়েছেন, সুতরাং তাঁর লিবারাল উদ্বাস্তু নীতির মধ্যে সেই ‘অতিরিক্ত’ শৈথিল্যের চিহ্ন আশঙ্কা করে আতঙ্কিত রক্ষণশীল আমেরিকা। সেই সুযোগে, হঠাৎ ধূমকেতুর মতো দ্রুত মধ্যগগনে উঠে এসেছেন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী-পদকাঙ্ক্ষী বেন কারসন। তাঁর খ্রিস্টবাদী রক্ষণশীলতার গুরুত্ব দেশময় যে ভাবে ব্যাপ্ত হচ্ছে, কয়েক মাস আগেও তাহা অভাবনীয় ছিল।

লেখক: কলামিস্টএই দ্রুত বিভাজনশীল সমাজের ছবিটি অপরিচিত নয়। ‘নাইন-ইলেভন’-এর পরও দেখা গিয়েছিল, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার প্রশ্নে সাধারণ মার্কিন ভোটাররা কতটা অধৈর্য। ইরাক আফগানিস্তান সিরিয়া, কিছু নিয়েই তাঁদের মাথাব্যথা নেই, যদি না দেশের ভেতরে নিরাপত্তা আক্রান্ত হয়। সেই আক্রমণ ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে প্রতি-আক্রমণে অসহিষ্ণুতার বিস্ফোরণ ঘটে। ইতিমধ্যেই শোনা যাচ্ছে, বস্টন বিস্ফোরণ কাণ্ডে মুসলিম উদ্বাস্তুরাই জড়িত ছিল, তাই ভালমন্দ বিচার শিকেয় তুলে উদ্বাস্তু আটকাতেই হবে। এই অধৈর্য অসহিষ্ণুতার ফাঁদ থেকে সমাজকে বের করা সহজ কথা নয়। কিন্তু এই ফাঁদে তলিয়ে গেলে কেবল মার্কিন দেশের নয়, তার সঙ্গে গোটা বিশ্বের লিবারাল আদর্শেরই অপূরণীয় ক্ষতি হবে।

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune

কলামিস্ট

টপ