behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

বেঁচে থাকুক রাজনীতি

হারুন উর রশীদ১১:৪৫, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৫

Harun Ur Rashidবাংলাদেশের মানুষের একটি অভিনব বৈশিষ্ট্য আমি খেয়াল করেছি। তারা দেশের গণতন্ত্রের জন্য অন্তপ্রাণ। কিন্তু রাজনীতিকে সুযোগ পেলেই গালি দেন। আবার তাদের আলোচনার প্রিয় বিষয়ই হলো রাজনীতি। সবমিলিয়ে যেটা দাঁড়ালো তাহলো—বাংলাদেশের মানুষ গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে থাকতে চান।

বলতে পারেন, হঠাৎ কী এমন হলো যে, আমি আপনাদের রাজনীতি নিয়ে ভারী-জ্ঞানগর্ভ কথা শোনাচ্ছি। মাফ করবেন ভারী-জ্ঞানগর্ভ কথা শোনানোর যোগ্যতা ও ইচ্ছা আমার কোনওটিই নেই। আমি এখন পৌর নির্বাচনের রাজনৈতিক আঁচে তপ্ত। তাই, সে কথাই বলতে চাই।

এবার পৌর নির্বাচনের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, দলীয় প্রতীকে নির্বাচন। আর এই নির্বাচনে বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। যাদের প্রতীক নেই, যারা নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নয়, অথবা যারা নিবন্ধন হারিয়েছেন, তারাও স্বতন্ত্র প্রার্থী দিয়েছেন। কেউ-কেউ আবার অন্যদলের প্রতীক নেওয়ার জন্য দেন-দরবার করে ব্যর্থ হয়ে ক্ষান্ত দিয়েছেন।

আমার কাছে মনে হচ্ছে, ২০০৮ সালের পর এই প্রথম বাংলাদেশে সর্বদলীয় বা সবদলের অংশগ্রহণে একটি নির্বাচন হচ্ছে। তাই, আমার কাছে এই মাসেরই ৩০ তারিখে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচন একটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। আরও সুর্নিষ্ট করে বললে বলতে হয়, দীর্ঘদিন পর এই প্রথম আওয়ামী লীগ ও বিএনপি একটি রাজনৈতিক নির্বাচনের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।

দলীয় প্রতীকে নির্বাচন নিয়ে নানা সমালোচনা আছে। কেউ-কেউ বলার চেষ্টা করেছেন, স্থানীয় সরকারের নির্বাচন দলীয় ভিত্তিতে হলে স্থানীয় সরকার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সেখানে ‘রাজনীতি’ ঢুকে যাবে। তাদের সমালোচনাকে গ্রহণ করেই বলছি, আমি স্থানীয় সরকার নির্বাচন রাজনৈতিকভাবে হওয়ার পক্ষে। আমার যুক্তিগুলো পরে দিচ্ছি। তবে, তার আগে বলছি, যারা বলেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় রাজনীতি ঢুকে যাবে, তারা মূলত রাজনীতিকে খারাপ অর্থে ব্যবহার করছেন। যেমন কেউ ষড়যন্ত্র করলে  আমরা বলি, ‘প্লিজ রাজনীতি করবেন না।’

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ছিল একপাক্ষিক। সবদলের অংশগ্রণের নির্বাচন হয়নি। বোদ্ধারা বলেন, নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হতে হলে সবদলকে নির্বাচনে আসতে হবে তেমন নয়। তবে, সরকারে থাকা ও  বিরোধী দলে থাকা—দুই দলের অংশগ্রহণ জরুরি। আর বিরোধী দল বলতে ভোটের হিসাবটা তারা বিবেচনায় নেন। হিসাবটা হলো, সর্বশেষ নির্বাচনে ভোটের হিসাবে প্রথম এবং দ্বিতীয় যারা, তাদের অংশ নেওয়ার বিষয়টা গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের একটা অন্যতম শর্ত।

গত বছরের জানুযারির নির্বাচনের পর সারাদেশে উপজেলা পরিষদের নির্বাচন এবং এর পরপর তিন সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আমরা দেখেছি। এ দু’টি নির্বাচন ছিল স্থানীয় সরকারের কিন্তু দলীয় ভিত্তিতে হয়নি। তারপরও সবদলই সাধ্যমতো প্রার্থীদের সমর্থন দিয়েছে। যদিও বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীরা সিটি নির্বাচনের দিন নির্বাচন শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নির্বাচন বর্জন করেন।

এবার পৌরনির্বাচন দলীয় ভিত্তিতে হওয়ায় রাখ-ঢাকের সুযোগ নেই। কোন-কোন দল অংশ নিচ্ছে তা স্পষ্ট। তারা প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে প্রার্থী মনোনয়নের ব্যাপারে জানিয়েছে। আর মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন পার হওয়ার পর বিভিন্ন স্থানে ব্যাপকভাবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের কথাও জানা যাচ্ছে। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে কোনও কোনও প্রার্থী তার সমর্থকদের নিয়ে এলকায় হরতালও করেছেন। আবার হরতাল করে কেউ সফলও হয়েছেন। বাগিয়ে নিয়েছেন দলের মনোনয়ন।

আমি এ সব তৎপরতাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখি। দলীয় প্রতীকে নির্বাচন না হলে পৌর নির্বাচনের এত গরম হাওয়ার খবর আমি আপনাদের দিতে পারতাম না। আরও খবর হলো, তিনজন সংসদ সদস্য এরইমধ্যে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে শোকজ খেয়েছেন নির্বাচন কমিশনের। বিএনপি’র চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যেহেতু সংসদ সদস্য নন, তাই তিনি পৌর নির্বাচনে তার প্রার্থীদের প্রচার চালাবেন বলে জানা গেছে। আর সেই সুবিধা পেতে চাইছিলেন এমপিরাও। কিন্তু নির্বাচন কমিশন সম্মত হয়নি।

বিতর্ক আরও আছে। মেয়র পদে বিএনপির ১০ জনের মনোনায়ন বাতিল হয়েছে। আওয়ামী লীগের মাত্র তিনজন। বাতিলের শীর্ষে আছেন স্বতন্ত্ররা। কিন্তু এই সব খবর মিলিয়ে দেখলে বোঝা যায়, সব রাজনৈতিক দলই পৌরনির্বাচনকে গুরুত্ব দিচ্ছে। যেন এটা জাতীয় নির্বাচন। আর এটা হয়েছে দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের কারণেই। নির্বাচন নিয়ে চাঙ্গা হয়েছে রাজনীতি। আর রাজনীতি চাঙ্গা হলেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এগিয়ে যায়। রাজনীতি ছাড়া গণতন্ত্র হয় না। আর সেটা যদি নির্বাচনমুখী রাজনীতি হয়, তাহলে আরও ভালো।

তাই, রাজনীতির এই বন্ধ্যাকালে পৌরনির্বাচন নিয়ে চাঙ্গা রাজনীতিতে আমিও বেশ চাঙ্গা। বহুদিন পর বাংলাদেশে ভোটের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ-বিএনপি মুখোমুখি হচ্ছে। আর এই নির্বাচন যদি ঠিকঠাকমতো হয়, তাহলে রাজনীতির বন্ধ্যাকাল ক্রমশ কেটে যাবে বলেই আমার আশা।

কেউ-কেউ বলতে পারেন, এটা তো জাতীয় নির্বাচন নয়। তার জবাবে আমার কথা, নির্বাচন নির্বাচনই। সব নির্বাচনেই পরীক্ষা দিতে হয় প্রার্থীকে। আর এবার প্রার্থীর সঙ্গে দলকেও পরীক্ষা দিতে হবে। জনপ্রিয়তা প্রমাণ করতে হবে। দেশে ৩২০টি পৌরসভার ২৩৪টিতে এবার নির্বাচন হবে। আর এই পৌরসভাগুলো যে সব শহরকেন্দ্রিক তা কিন্তু নয়। সব বিভাগেই নির্বাচন হচ্ছে। ফলে এটা দিয়ে ভাত টেপার মতো একটা তথ্য পাওয়া যাবে বলে আমি মনে করি।

তবে সব কিছুর ওপরে একটি শর্ত আছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩৬তম প্রেসিডেন্ট বি. জনসনের একটি কথা সেই শর্তকে স্পষ্ট করে। তার কথা হল, ‘ভোটাধিকারবিহীন একজন মানুষ হলো নিরাপত্তাহীন একজন মানুষ।’ তাই সবার আগে এই নির্বাচনে সবদলের অংশগ্রহণের সঙ্গে ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে রাজনীতিও নিরাপত্তা পাবে।

আর তাই যদি হয় তাহলে আমার আশা পূরণ হবে। বেঁচে থাকবে রাজনীতি। এগিয়ে যাবে গণতন্ত্র। চাঙ্গা রাজনীতি ছাড়াতো আর চাঙ্গা গণতন্ত্র হবে না!

লেখক: সাংবাদিক

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune

কলামিস্ট

টপ