behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

মজা লস!

হারুন উর রশীদ১৯:০৯, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৫

Harun Ur Rashid‘মজা লস-এই নামে ফেসবুকে জনপ্রিয় একটি পেজ আছে। আর সেই পেজের ফলোয়ার সোমবার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ৭ লাখ ৬ হাজার ৬৬৩। এর অ্যাডমিনকে গ্রেফতার করা হয় ১১ ডিসেম্বর। দু’দিনের রিমান্ড খেটে তিনি সোমবার বিকেলে আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। শুধু দেশে নয় আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমেও এখন আলোচিত মজা লস-এর অ্যাডমিন রিফায়েত আহম্মেদ।

রিফায়েতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণায় লিপ্ত ছিলেন। আর তার বিরুদ্ধে মামলাটি হয়েছে যোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায়। যে ধারা নিয়ে আছে ব্যাপক বিতর্ক এবং সমালোচনা।

মজা লস নামের ফেসবুক পেজটিকে কেউ বলছেন ‘বিদ্রুপ পেজ’। আবার কেউ বলছেন ‘ব্যঙ্গ পেজ’। অ্যাডমিনকে একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম বলেছে ‘ব্যঙ্গনবিশ’। তার মানে হলো নানা বিষয় নিয়ে ব্যঙ্গ করাই পেজটির কাজ। এটা তিনি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে করছেন। পৃথিবীতে ব্যঙ্গবিদ্রুপের বিষয়টি স্বীকৃত। এজন্য ম্যাগাজিন আছে। আছে কার্টুন ম্যাগাজিন। বাংলাদেশে জনপ্রিয় দৈনিকগুলোও এরকম স্যাটায়ার ম্যাগাজিন বের করে নানা নামে। আর সেখানেও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে নানা ব্যঙ্গবিদ্রুপ করা হয়। আর আমরা বিখ্যাত ‘শার্লি এবদো’র নামতো সবাই জানি। ফ্রান্সের বিদ্রুপাত্মক ম্যাগাজিনটি রাষ্ট্রীয় অবরোধের মুখে না পড়লেও সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছে।

মজা লস পেজে কী থাকে? আমি এই পেজটির সঙ্গে পরিচিত হই মাস দু’এক আগে। এই পেজের মাধ্যমে সাবেক সংসদ সদস্য ডা. এইচ বিএম ইকবালের কিশোর ভাতিজা ফারিজের বেপরোয়া গাড়ি চালানোর ঘটনা ফাঁস করা হয়েছিল। পথচারীদের আহত করার পরও পুলিশ কীভাবে ফারিজকে রক্ষা করার অপচেষ্টা করে তার ছবিও প্রকাশ করে। পরে অবশ্য উচ্চ আদালতের নির্দেশে থানায় ফারিজের বিরুদ্ধে মামলা হয়।

এই পেজে সরকারের সমালোচনা করেও পোস্ট দেওয়া হয়। সরকারের সাবেক এবং বর্তমান মন্ত্রীদের নিয়েও বিদ্রুপাত্মক পোস্ট দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ফেসবুক বন্ধ হওয়ার পর সরকারের মন্ত্রী, এমপি, সরকারের নানা প্রতিষ্ঠান এবং শাসক দল যে ফেসবুক ব্যবহার অব্যাহত রাখে তাও ফাঁস করে দেয়। একাধিক পোস্টের মাধ্যমে তারা প্রমাণ ও বিদ্রুপ করে।

কিন্তু এই পোস্ট বা বিদ্রুপ রাষ্ট্রবিরোধী কীভাবে হয় তা আমি বুঝে উঠতে পারছি না। বাংলাদেশে শুধু এখন নয় আমরা অতীতেও দেখেছি- সরকারবিরোধিতা আর রাষ্ট্রবিরোধিতাকে এক করে দেখা হয়। সরকারের কোনও কাজের সমালোচনা করলে বা কোনও ভুল-ত্রুটি ধরিয়ে দিলে তা সহ্য না করে সরকার-বিরোধিতা বলে সংজ্ঞায়িত করা হয়। তাইতো আমরা দেখতে পাই রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা শেষ পর্যন্ত টেকে না। কেউ শাস্তি পেয়েছে বলেও আমার জানা নেই। তবে হয়রানির মোক্ষম অস্ত্র। আর এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি আইন। কেউ হেয় হয়েছেন মনে করলেই হলো। তবে সাধারণ মানুষ এই আইনের সুবিধা পান না। পান এমপি মন্ত্রীরা।

রবিবার রাতে এক চরম খবর দিল তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক সাংবাদিক হিটলার এ হালিম। ২২ দিন পর ফেসবুক খুলে দেওয়া হলেও এখন থেকে টুইটার, স্কাইপ এবং ইমো বন্ধ থাকবে। ব্যস বন্ধ হয়ে গেল। সার্ভিস প্রোভাইডার একজনকে ফোন করে জানলাম বন্ধের নির্দেশে কোনও কারণ ব্যাখ্যা করা হয়নি। আর পরদিন সোমবার বিকেলে হিটলারই খবর দিল টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেছেন- সব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখনই খুলে যাচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানালেন, ‘নতুন করে টুইটারসহ কয়েকটি অ্যাপস বন্ধের নির্দেশ তিনি দেননি।’ তাহলে নির্দেশটি কে দিল। কেন দিল? এই মজা করার দরকারই বা কী ছিল। মজা লস-এর অ্যাডমিনতো তখনও কারাগারেই ছিলেন। এই মজা লওয়ার সুযোগ তাহলে কে দিল?

১৮ নভেম্বর বাংলাদেশে ফেসবুক, ভাইবার, হোয়াটস অ্যাপসহ বেশ কিছু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয় নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে। ২২ দিন পর ফেসবুক খুলে দেওয়া হয়। আর সোমবার সব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম খুলে দেওয়া হয়। আমার প্রশ্ন- যদি বিষয়টি নিরাপত্তা নিয়েই হয় তাহলে সেটা কতটা রক্ষা হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ করে তা সরকারের পরিষ্কার করা উচিৎ। আর এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের নিরাপত্তা সিস্টেমে কী অভাবিত উন্নতি হয়েছে যে খুলে দেওয়া হলো তাও জানান দরকার। তা না হলে কেউ যদি প্রশ্ন করেন- মজা লস? এর জবাব কী দেবেন সরকারের কর্তারা? আটক করতে পারবেন জানি। কিন্তু জবাবটা অত সহজ নয়। যারা এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে দেশে বিদেশে নানা অর্থকরি আয়ের কাজ করেন তারা মজা টের পেয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আসলে মানুষের মত প্রকাশ ও যোগাযোগের একটি ভার্চ্যুয়াল প্লাটফর্ম। সরকার এখান থেকে চাইলে সাধারণ মানুষের পালস বুঝতে পারেন। কিন্তু এই পালস যদি তারা বুঝতে না চান তাহলে আলাদা কথা। ডিজিটাল বাংলাদেশ যদি অ্যানালগ স্টাইলে এগোবে বলে তারা মনে করেন তাহলে আমাদের দর্শক হওয়া ছাড়া আর উপায় কী?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গত ২৭ এপ্রিল হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারে প্রতিপক্ষ রাজনীতিক, সংবাদ মাধ্যম ও নিজেকে নিয়ে ব্যঙ্গ-কৌতুক করেন। ওবামা নিজের সম্পর্কে কৌতুক করে বলেন, 'আজকাল আয়নায় মুখ দেখি, আমাকে স্বীকার করতে হয়, আমি আর সেই তরুণ মুসলিম সমাজতন্ত্রী নই।’ এরপর তিনি কয়েকটি ছবির একটি মন্তাজ দেখান, যেখানে তার চুলের ছাঁট স্ত্রী মিশেল ওবামার মতো করে দেখানো হয়েছে।

অন্যদের নিয়ে ওবামা কী কৌতুক করেছেন তা নাইবা বললাম। শুধু এইটুকু বলি- ব্যঙ্গ, কৌতুক বা বিদ্রুপে উত্তেজিত হওয়ার কিছু নেই। বরং নির্মল আনন্দ নেওয়াই ভাল। ওবামাও তাই করছেন। খালি বিপদ আমাদের মজা লস-এর।

লেখক: সাংবাদিক

ইমেইল: swapansg@yahoo.com

 

 *** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune

কলামিস্ট

টপ