behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

মহাসড়কে আবারও বিপজ্জনক বাহন!

তুষার আবদুল্লাহ১৪:০৬, ডিসেম্বর ১৯, ২০১৫

Tushar Abdullahসবার নজর এখন পৌরসভার দিকে। বাঙালি যেন বরাবরই একচোখা। যেদিকে নজর দেবে, সেদিকেই তাকিয়ে রইবে। যতক্ষণ আবেগ ও হুজুগ থাকবে ততক্ষণ। আবেগ, হুজুগ শেষ হলে নজর পাল্টে চলে গেল অন্যদিকে। যতক্ষণ না পৌর নির্বাচনের আমেজ শেষ না হচ্ছে, ততক্ষণ আর অন্যদিকে নজর ফেরাবে না। গণমাধ্যমও একই রোগে আক্রান্ত। তারাও হুজুগেপনার পন্থী। না হলে কোনও ঘটনার ফলোআপ রিপোর্টের বেলায় তাদের শীতলতা থাকার কথা নয়।

যে প্রসঙ্গের অবতারণা করতে চাচ্ছি, তা হলো মহাসড়কে ধীরগতির যান চলাচল। গত ঈদুল ফিতরের সময় মহাসড়কে সিএনজি অটোরিকশা, নাসিমন-করিমনের মতো বাহনের চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়। ওই ঈদ মৌসুমে দেশের প্রায় প্রতিটি মহাসড়ক থেকে এমন কোনও দিন নেই যে, দুর্ঘটনার খবর আসেনি। গড়ে প্রতিদিনই ১২ থেকে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে সড়ক দুর্ঘটনায়। আর দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ধীরগতির বাহনই দুর্ঘটনার কারণ তৈরি করেছে। দূরপাল্লার বাস, লোকাল বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ নসিমন বা সিএনজি অটোরিকশার। কখনও সংঘর্ষ ঘটে ট্রাকের সঙ্গেও।

আবার ধীরগতির বাহনের নিজেদের মধ্যেও ঘটেছে সংঘর্ষ। এই বাস্তবতায় উচ্চ আদালতের পক্ষ থেকে, সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশনা আসে মহাসড়কে ধীরগতির বাহন বন্ধের জন্য। সিদ্ধান্তটি যখন আচমকা আসে তখনই বলা হয়েছিল, জেলা-উপজেলা সড়কে চলাচলকারী বাহনগুলো কীভাবে মহাসড়ক ডিঙাবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পরিবহন চাহিদাই মিটবে কী করে? এ প্রশ্নের সমাধান না এলেও মহাসড়কে ধীরগতির বাহনের চলাচল বন্ধ হয়েছিল সত্যি। সড়ক দুর্ঘটনাও কমে গিয়েছিল সত্যি।

তিনমাস প্রশাসনের নজরদারি ছিল, গণমাধ্যমেরও চোখ ছিল, ধীরে-ধীরে সেই নজর আলগা হতে থাকে। মহাসড়কে আবারও ভিড় বাড়তে থাকে সিএনজি অটোরিকশা, নসিমন-করিমনের। বাড়তে শুরু করে দুর্ঘটনাও। গত এক সপ্তাহে মহাসড়কে ধীরগতির বাহনরা আবারও বেপরোয়া।

আমি নিজেই গত কয়েকদিনে টেকনাফ থেকে সিরাজগঞ্জ যাতায়াত করেছি। নিঃসন্দেহে বলতে পারি শতভাগ ঝুঁকি নিয়ে পথ চলতে হয়েছে। দিনে-রাতে ধীরগতির বাহনের ভিড় একই। দুই বেলাতেই তাদের গতি ও চলাচলের ঢং দুর্ঘটনার উপলক্ষ্য তৈরি করে মুহূর্তেই। রাতে এরা আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। কোনও বাতি না জ্বালিয়ে এদের চলাচল।

সম্প্রতি সময়ের পথযাত্রায় টেকনাফ, কক্সবাজার, পটিয়া, সীতাকুণ্ড, মিরসরাই, চান্দিনা, দাউদকান্দি, আশুলিয়া, মির্জাপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ কোথাও দেখিনি যে প্রশাসন বা পুলিশ- নসিমন, সিএনজি অটোরিকশার পথরোধ করছে। বরং ট্রাফিক ও হাইওয়ে পুলিশের নাকের ডগা দিয়েই মহাসড়ক দখল করে তারা এলোপাতাড়ি ছুটতে থাকে।

জানি না যোগাযোগমন্ত্রী এই মুহূর্তে কোথায় মনোযোগ দিয়ে রেখেছেন। তিনি বিশ্রামেই আছেন কিনা? আবার কোনও মৌসুমে তিনি পথে নামবেন। এই কুয়াশা ও হিমেল দিনে তিনি হয়তো মহাসড়কে নামবেন না। তিনি পথে নামলেই প্রশাসন, পুলিশ সক্রিয় থাকবে, অন্য সময় তারা হাত গুটিয়ে, চোখ লুকিয়ে বসে থাকবেন। এটা প্রশাসনিক অসুস্থতা।

মন্ত্রীকে পাইক-পেয়াদা নিয়ে মাঠে নামতে হবে কেন, তার নির্দেশনায় সদা সজাগ থাকবে মাঠের কর্মীরা। কিন্তু এখন সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে সড়কের গর্ত ভরাটের কাজ থেকে শুরু করে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, সবকিছুই মন্ত্রীকে মাঠে নেমে করতে হয়। এই যখন বাস্তবতা তখন মহাসড়ক বিপদজনক থেকে আরও বিপদজনক হয়ে উঠবে, এটাকেই নিয়তি মেনে চলতে হবে। দুর্ঘটনার খবর সইতে হবে। তারপরও যাত্রা নিরাপদ রাখতে, যোগাযোগমন্ত্রীর কাছে বায়না ধরতেই পারি- পৌষ, মাঘে-রোদ পোহাতে কি একটু পথে নেমে দেখবেন মহাসড়ক আবারও কতটা ভয়াবহ হয়ে উঠেছে!

লেখক: বার্তা প্রধান, সময় টিভি

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune

কলামিস্ট

টপ