behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে!

হারুন উর রশীদ১৭:৩২, ডিসেম্বর ২১, ২০১৫

Harun Ur Rashid_01পৃথিবীব্যাপী জঙ্গি তৎপরতার খবর রাখা প্রতিষ্ঠান সাইট ইন্টেলিজেন্স-এর প্রধান রিটা কাৎজ ওয়াশিংটন পোস্ট-এ একটি আলোচিত ব্লগ লিখেছেন ১৭ ডিসেম্বর। অনলাইনে যোগাযোগের সূত্র ধরে সেই লেখার একটি লিঙ্ক তিনি আমাকেও পাঠিয়েছেন। রিটা তার লেখায় প্রশ্ন তুলেছেন- ‘জিহাদিরা প্রকাশ্যেই তাদের পরিকল্পনা করছে, তাহলে এফবিআই তাদের ধরছে না কেন?’

জঙ্গি বিশেষ করে আইএস সংক্রান্ত রিটা কাৎজের সাইট-এর খবরাখবর নিয়ে নানা বিতর্ক আছে। বাংলাদেশে তো আছেই, খোদ যুক্তরাষ্ট্রেই তিনি বিতর্কের মুখে। তারপরও এবার তিনি তার লেখায় মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন তুলেছেন।

তিনি লিখেছেন, ‘এফবিআই পরিচালক জেমস কমি প্যারিস এবং ক্যালিফোর্নিয়া হামলার পর দাবি করেছেন, ৩ মে টেক্সাসে স্কুলে হামলার আগে হামলাকারীর দেশের বাইরে সন্ত্রাসীদের কাছে ১০৯টি ম্যাসেজ পাঠিয়েছে। কিন্তু এফবিআই তা ঠিকমতো পড়তে পারেনি। আইসএস টুইটারসহ আরও অনেক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের পরিকল্পনা এবং আক্রমণের কথা জানায়। তাহলে এফবিআই তাদের ধরতে পারছে না কেন?’ আর এই ‘কেন’র জবাব রিটা নিজেই দিয়েছেন- ‘যোগ্যতা ও দক্ষতার অভাব।’

বাংলাদেশে আইএস নয়, এই সময়ে জামায়াতুল মুজাহেদিন বাংলাদেশ বা জেএমবির উত্থান ঘটেছে। তবে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং শুক্রবার বলেছেন, ইসলামিক স্টেট (আইএস) বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানে অবস্থান জোরদারের তৎপরতা চালাচ্ছে। ভারতেও আইএসের কর্মকাণ্ডের কিছু নমুনা দেখা গেছে।’

বাংলাদেশেও একদা আইএস ছিল। তবে এখন নেই। বিশেষ করে ঢাকা ও রংপুরে ইতালি এবং জাপানি নাগরিক হত্যার পর আইএস উধাও হয়ে যায়! এর আগে দেড় বছরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগ বিভিন্ন সময় সংবাদ সম্মেলন করে অন্তত ৫০ জন আইএস সমর্থক গ্রেফতারের খবর দিয়েছে। তারা ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কীভাবে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখে তার খবরও দিয়েছে সংবাদ সম্মেলন করে। তাদের আটকের মামলাগুলো দেখলে কাগজপত্রেও আইএস নাম পাওয়া যাবে। এমনকি আইএস-এ যোগ দেওয়ার জন্য এক তরুণ এবং এক তরুণীর বাংলাদেশ ছাড়ার খবরও প্রকাশ হয়েছে সংবাদ মাধ্যমে।

এখন যে বাংলাদেশে আইএস নেই তার কারণ কী? তারা পালিয়ে গেছে, না জেএমবিতে যোগ দিয়েছে? এটা কি গোয়েন্দাদের দক্ষতার কারণে ঘটেছে? না এফবিআই-এর মতো অদক্ষতার কারণে?

২০০৫ সালে বাংলাদেশের মানুষ প্রথম জেএমবির নাম জানে। দেশের ৬৪ জেলার ৬৩টিতে একযোগে বোমা হামলা চালিয়ে তারা তখন তাদের শক্তির জানান দেয়। এরপর বিচারক হত্যাসহ ব্যাপক নাশকতা চালানোর পর আটক হন শীর্ষ নেতা শায়েখ আব্দুর রহমান এবং বাংলা ভাই। তাদের ফাঁসিও হয়েছে। তখন আমাদের জানানো হয়েছিল জেএমবি মৃতপ্রায়! কিন্তু এখন দেখছি তারা বেশ সবল এবং সক্রিয়।

আমরা জানতে পেরেছি দুই বিদেশি নাগরিক হত্যা, পাবনায় যাজক হত্যা প্রচেষ্টা, মন্দিরে হামলাসহ গত কয়েকমাসে উগ্রবাদী সব হামলার পেছনে জেএমবি। হোসেনি দালান এলাকায় আশুরার মিছিলে বোমা হামলায়ও জেএমবি। এর আগে আমরা দেখেছি ব্লগার হত্যায় আছে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম।

অবাক করা ব্যাপার হলো- এফবিআই পরিচালক জেমস কমির মতো বাংলাদেশের গোয়েন্দারাও তাদের ষড়যন্ত্র এবং ষড়যন্ত্রের পদ্ধতি নিয়ে অনর্গল বলে যাচ্ছেন। বলছেন তাদের নানা পরিকল্পনার কথা। তবে ঘটনা ঘটার আগে আমাদের গোয়েন্দারা একটি পরিকল্পনাও ফাঁস করতে পারছেন না। বা অপরাধ সংঘটনের আগে তাদের আটক করা যাচ্ছে না। এমনকি ঘটনার পরেও নিরীহ মানুষকে লাইন ধরে আটক করা হয়। পরে যদিও তদন্তকারীরা জানতে পারেন এটা জেএমবির কাজ। তারপরও আটক নিরীহ মানুষের হয়রানি শেষ হয় না।

আর তা বোঝার জন্য সোমবার একটি শীর্ষস্থানীয় বাংলা দৈনিকের প্রকাশিত খবরের সারাংশ জানাচ্ছি। প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ১৩ বছর আগে জয়পুরহাটে এক পীরের খানকায় পাঁচজন খুন হওয়ার পর জেএমবির তখনকার আমির শায়েখ আবদুর রহমান টিএফআই সেলে জিজ্ঞাসাবাদে অন্য আরও অনেক ঘটনার পাঁচ খুনেও জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তারপরও পুলিশ এই মামলায় আগে গ্রেফতার করা সাত শ্রমজীবীসহ ১৩ জন স্থানীয় বাসিন্দাকে আসামি করে অভিযোগপত্র দিয়েছে। দীর্ঘদিন কারাভোগ করে ওই ১৩ জন জামিনে মুক্ত হলেও এখনও মামলার ঘানি টানতে হচ্ছে।

বোঝা গেল পুলিশ না বুঝে যাদের ধরে, পরে যখন বুঝতে পারে জঙ্গিদের কাজ- তখনও তাদের বুঝ হয় না। তখন যেটা করে- গড়ে সবাইকে জঙ্গি বানিয়ে দেয়। আর এই সময়ে হলে তারা জেএমবি।

এখন আমার প্রশ্ন হল: আগে আইএস নামে যাদের আটক করা হয়েছে তারা কি এখনও আইএস হিসেবে আটক আছেন না তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রে আইসএস শব্দটি বাদ যাবে। সংবাদ মাধ্যমেরই খবর: এই সময়ে কোনও মালায় যেন আইএস শব্দটি ব্যবহার করা না হয় সেজন্য থানায় থানায় নির্দেশনা পাঠিয়েছে পুলিশ সদর দফতর।

সর্বশেষ শুক্রবার চট্টগ্রামে নৌবাহিনীর ঘাঁটি ঈশা খাঁর দুটি মসজিদে বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। এই ঘটনা এখন ককটেল বিস্ফোরণে পরিণত হয়েছে। বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় আটক নৌবাহিনীর ‘ব্যাটম্যান’ রমজান আলী ও ‘বলকিপার’ আবদুল মান্নান সম্পর্কে পুলিশ এখন নীরব।

আর আইএসপিআর ঘটনার দিন জানিয়েছে, ‘শুক্রবার জুমার নামাজের পর দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়েছে। ওই বিস্ফোরণে পাঁচ থেকে ছয়জন সামান্য আহত হন।’ এরপর এখন পর্যন্ত আর কোনও আপডেট দেয়নি আইএসপিআর।

আমরা অপেক্ষায় থাকলাম এই ঘটনা কারা ঘটিয়েছে এবং কী তাদের পরিচয় তা জানতে।

 

লেখক: সাংবাদিক

 

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune

কলামিস্ট

টপ