behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

ফেসবুক বন্ধ নাকি নিষিদ্ধ?

উদিসা ইসলাম১৮:৩০, নভেম্বর ২৯, ২০১৫

Udisa Islamঠিক যখন আমি ফেসবুক নিয়ে লিখছি তখন আমি খবর পেলাম- ধানমণ্ডির আবাহনী মাঠের পাশে বসে একজন কোনওরকম বিকল্প পথ ছাড়াই ফেসবুকে ঢুকতে পেরেছেন। কিভাবে? সে মুহূর্তে আরেক বন্ধু দাবি করলেন, সিলেটে বসে তিনি বেশ সাবলীলভাবেই চালাচ্ছেন ফেসবুক। আবার আরেকজন বাংলামোটরে কোনও ভিপিএন বা টর ছাড়াই ফেসবুকে ঢুকতে পেরে আনন্দিত, রীতিমতো উল্লাস করছেন ফেসবুকে। করারই কথা। যখন মানুষ তার যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে ফেসবুককে বেছে নিয়েছে, তখন সেই মাধ্যম বন্ধ থাকলে দম আটকানো অনুভূতিই হবে, এটাই স্বাভাবিক।

দেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। কিন্তু কোথাও কোথাও সেটা বন্ধ হয়নি এবং কোথাও কোথাও বিকল্প পথে এর ব্যবহার চলছে। আর সরকার বলছেন, যারা বিকল্প পথে ব্যবহার করছেন তারা নজরদারিতে আছেন, তারা আইনের লঙ্ঘন করছেন। কিন্তু যারা এমনি এমনি ঢুকতে পারছেন, তারা? তারা কী করবেন? এমনিতে ঢুকতে পারছেন জেনেও ঢুকবেন না? তার চেয়েও বড় প্রশ্ন- ফেসবুক কি সরকার বন্ধ করে রেখেছে নাকি নিষিদ্ধ করেছে? শুরু থেকেই এ বিষয় নিয়ে স্পষ্ট কোনও বক্তব্য না থাকায় যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে সে নিয়ে স্পষ্ট বক্তব্যের সময় এখন এসেছে।

যদি সরকারের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কথা বলে কোনও ঘোষণা ছাড়া ফেসবুক অ্যাকসেস বন্ধ করে দেওয়া হয়, সেক্ষেত্রে যে কেউ তাদের নিজেদের মতো করে সেটা ব্যবহারের পথ খুঁজে বের করতে পারেন, যেমনটা ইতোমধ্যে করেছেন।

আর যদি সেটা নিষিদ্ধ করা হয় তবে বিকল্প পথে ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। নিয়ম তাই বলে। কিন্তু এখন পযন্ত নিষিদ্ধ না বলায় বিকল্প পথে অনায়াসে ফেসবুকিং চলছে এবং ব্যবহারকারীরা নিজেরাও মনে করেন না যে তারা আইনের লঙ্ঘন করছেন না।

এই জনপ্রিয় মাধ্যমটি বন্ধ হওয়ার পর থেকে যে নানা শঙ্কা তৈরি হয়েছে সেটা সরকারের পক্ষ থেকে পরিষ্কার না করে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের একের পর এক বক্তব্য আরও বিভ্রান্তি তৈরি করছেন। শুরু থেকেই তিনি বলছেন, বিকল্প পথে ব্যবহারকারীরা নজরদারিতে আছেন। কিন্তু কেন? কেবল বলে দিলেই হতো- ফেসবুক বাংলাদেশে নিষিদ্ধ। এবং এরপরও কেউ ব্যবহার করলে তার দায় সরকার নেবে না এবং তাদেরকে নজরদারিতে রাখবে। তা না করে গণহারে নজরদারিতে আসল সন্ত্রাসীরা আবার পার পেয়ে যাচ্ছে না তো? সে ভয় তো ষোলআনা থেকেই যাচ্ছে।

রবিবার প্রতিমন্ত্রী বলেছেন দেশে বিকল্প পথে যারা ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করছেন, তারা আইন লঙ্ঘন করছেন। এবং বিকল্প ব্যবস্থায় যারা ফেসবুক ব্যবহার করছেন, তাদের সবারই তথ্য গোয়েন্দা সংস্থার কাছে আছে। গোয়েন্দা সংস্থা তাদের কাউকে কাউকে গ্রেফতার করেছে, আবার অনেককেই করছে না।

দেশের নিরাপত্তার কথা ভেবে যখন কোনও কিছু ব্যবহারে বাধা দেওয়া হয় সেটাকেই নিষেধাজ্ঞা হিসেবে ধরে নেওয়ার কোনও রেওয়াজ নেই। সেক্ষেত্রে বিকল্প পথে যারা ব্যবহার করছেন ফেসবুক, তারা ঠিক জানেন না কখন, কে তাদের নজরদারিতে রাখছেন এবং কেন রাখছেন।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সরকারের পক্ষ থেকে ফেসবুক বন্ধ করে দেওয়ার পরও বিকল্প পথ খুঁজে বের করতে হলো কেন? এটি দুটো কারণে ঘটেছে। এক. মানুষ ফেসবুকের মাধ্যমে তার প্রতি মুহূর্তের অনুভূতি জানাতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। তার যে যে সমাজ সেখানে এখন সবচেয়ে বড় হাতিয়ার ফেসবুক। সেটি যখন বন্ধ হয় তখন সে নিজেকে প্রকাশের আর কোনও মাধ্যম খুঁজে পায়নি। আর দ্বিতীয়ত সে জানে না, যদি সে কোনও উপায়ে ফেসবুক অ্যাকসেস পায় সেটা আইনত দণ্ডনীয় কিনা।

যখন ব্যক্তির কাছে তথ্য নেই তখন সে সবাই যা করে সেই পথেই এগুতে চায়। কারণ সে নিজে জানে না কী করলে কী হতে পারে। এই দায় যারা বিকল্প পথে ফেসবুক ব্যবহার করছেন তাদের না, এ দায় নিতে হবে তাদেরকে যারা সুনির্দিষ্ট করে প্রথম দিন স্বীকার করেননি ফেসবুক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

পরবর্তীতে স্বীকার করে নেওয়ার পর যে ভয়ভীতি দেখিয়ে ফেসবুক ব্যবহার বন্ধ রাখার চেষ্টা চলছে, পদ্ধতি হিসেবে সেটি বিপদজনক হতে পারে।

প্রতিমন্ত্রী দশম দিন পার হয়ে যাওয়ার পর বলছেন, ইন্টারনেট সম্পূর্ণ শাটডাউন না করে ফেসবুক বন্ধ করা সম্ভব নয়। তবে আমরা চাই না, ইন্টারনেট সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে। এর পাশাপাশি দেশের মানুষের জানার অধিকার আছে, যদি সবাই ব্যবহার করছে ভেবে সেও ব্যবহার করতে চায় তখন তাকে কী কী প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে।

এদিকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব ফাইজুর রহমান চৌধুরী বলেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাদের গোয়েন্দাগিরির স্বার্থেই ফেসবুক খোলা রেখেছে। এর মানে কি এই দাঁড়ালো, এটাকে ফাঁদ হিসেবে রাখা হয়েছে। সন্ত্রাসীদের ধরার জন্য বা দেশের সাধারণ নাগরিকদের জন্য এ ধরনের ফাঁদ আদৌ কি তৈরি করে রাখা উচিত?

ভুলে গেলে চলবে না, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে ফেসবুক বন্ধ করা হয়েছে বলা হলেও এ দাবি কিন্তু আজকের নয়। গত জুলাই মাসে সামাজিক অবক্ষয় রোধ করতে ফেসবুক-টুইটার বন্ধ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি চীনের উদাহরণ টেনে বলেছিলেন, চীনে ফেসবুক নেই। আমাদেরও ফেসবুক-টুইটার বন্ধ করে দেওয়া উচিত। যদি সরকার মনে করেন এসব যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া ‘উচিত’ তাহলে কেন ‘উচিত’ , কমপক্ষে সেই তথ্য জনগণকে দিয়ে দিলে শঙ্কা ভীতি কেটে যাবে এবং ওসব ভেঙে এসব যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের প্রক্রিয়ায় ওই নাগরিক আর নিজেকে জড়াবে না।

ভয়-ভীতি না দেখিয়ে আসল বিষয়টি কী ঘটছে জনগণকে জানান। আর ভেবে দেখবেন কেবলমাত্র ফেসবুকের কাঁধে ভর করে বাংলাদেশের হাজার হাজার উদ্যোক্তা তাদের ব্যবসা পরিচালনা করতেন। গত ১১টা দিন তারা প্রতিনিয়ত চেয়েছেন কখন ফেসবুক খোলা হবে। হুট করে এধরনের একটা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ফলে তাদের ব্যবসায়িক যে ক্ষতিসাধন হলো সে ক্ষতিপূরণ সে কোথাও চাইতে পারবে না। আর আগামীতে ঠিক কতদিন ফেসবুক বন্ধ থাকবে বা আদৌ খুলে দেওয়া হবে কিনা সে বিষয়ে উত্তর তার জানা না থাকলে পরবর্তী কার্যসূচি নির্ধারণইবা করবে কী করে।

ফলে সে চেয়েছে কোনও না কোনও উপায়ে ফেসবুকে ঢুকতে। সরকারি প্রেসনোট জারি করে যদি বলা হতো ঠিক কীসের ভয়ে ফেসবুক, ভাইবার বন্ধ হলো আর বিকল্প পথে কেউ ব্যবহার করলে কী শাস্তি দেওয়া হবে তাহলে কেউই ব্যবহার করতেন বলে মনে হয় না। এমনকি নানা ভয়ভীতি দেখানোরও দরকার হতো না। ভুলে গেলে চলবে না, নির্বাচনের সবচেয়ে বড় প্রচারমাধ্যম হিসেবেও কাজ করেছে এই ফেসবুক। আর সাধারণ জনগণ তথ্য থেকে বিচ্ছিন্ন হতে ততটাই ভয় পায় যতটা ভয় সে আসলে নজরদারিতে পায় না। কারণ সে জানে, কোনও সন্ত্রাসী কার্যকলাপে সে যুক্ত না, যোগাযোগ অবিরাম রাখতেই তার ফেসবুকের ব্যবহার।

লেখক: সাংবাদিক

 *** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune

কলামিস্ট

টপ