behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

গভীর ষড়যন্ত্রের খাদে বাংলাদেশ

আনিস আলমগীর১৭:৩৩, নভেম্বর ২৭, ২০১৫

Anis Alamgir২৬ নভেম্বর বগুড়ার শিবগঞ্জে শিয়া মসজিদে হামলা হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি জঘন্যতম ঘটনা। শিয়া মসজিদে হামলা এর আগে কখনও দেখিনি আমরা। পাকিস্তান, ইরাকে অহরহ ঘটছে এসব। সম্প্রতি সৌদি আরব, কুয়েতেও দেখলাম। এর আগে ঢাকা ও রংপুরে দুই বিদেশি নাগরিককে হত্যা এবং পুরান ঢাকায় তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতিকালে হামলাসহ কয়েকটি ঘটনার দায় ‘স্বীকার’ করার মতো বগুড়ার হামলায় দায়ও স্বীকার করেছে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। বাংলাদেশ স্বীকার করে না এখানে আইএস আছে। তারপরও মনে হচ্ছে তারা বার বার উঠেপড়ে লেগেছে বাংলাদেশে আইএস আছে এটা স্বীকার করাতে হবে। বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীর ইন্টারনেটভিত্তিক তৎপরতা নজরদারির যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওয়েবসাইট ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ’ তৎপর রয়েছে এই খবর দিতে।

এর কয়েকদিন আগে, আমেরিকার শীর্ষস্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল এনবিসি ইসলামিক স্টেট-এর ‘দাবির’ নামক এক সাময়িকীর উদ্বৃতি দিয়ে রিপোর্ট করেছে -আইএস নাকি বাংলাদেশে তার কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে ইচ্ছুক। কারণ কৌশলগত কারণে নাকি বাংলাদেশকে আইএস রণক্ষেত্র বানাতে চায়। আইএস-এর অস্তিত্ব বাংলাদেশে আছে কি নেই তা এখনও প্রমাণিত হয়নি। প্রমাণিত হলেও একটা নন-স্টেট প্রতিষ্ঠান একটা স্টেটকে রণক্ষেত্র বানাবার অভিলাষ পোষণ করে কিভাবে? এ রিপোর্টে আইএস-এর নামে চালানো হলেও তা আদৌ আইএস-এর বলে কেউ স্বীকার করবে বলে মনে হয় না।

মধ্যপ্রাচ্যে আইএস বকলমে আমেরিকা আর ইসরাইলের এজেন্ডা বাস্তাবায়ন করছে। ফ্রান্স রাশিয়ার সঙ্গে তার যোগাযোগ বাড়িয়ে দিয়েছিল। গত ১৩ নভেম্বর তার ফলভোগ করেছে। আমেরিকার বকলমে আইএস প্যারিস নগরীকে সন্ত্রস্ত করে তুলেছে। ১২৯ জন লোকের প্রাণ সংহার করেছে। গত ২০ বছরব্যাপী আমেরিকায় মধ্যম মেধার রাজ চলছে। একটা বৃহৎ শক্তির রাষ্ট্রযন্ত্র যখন মধ্যমেধার হাতে গিয়ে পড়ে তখন বিশ্বের অবস্থা সুষ্ঠু সুন্দরভাবে চলার উপায় থাকে না। সুতরাং পুরো বিশ্বটাই এখন নিরাপদ নয়। আমেরিকার আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য যারা লড়াই করছেন, মিডিয়ায় তাদের কথাবার্তা শুনলে এই শঙ্কা আরও বেড়ে যাবে যে কারও।

আমেরিকার প্রিন্ট মিডিয়া আর ইলেকট্রনিক মিডিয়া সব সময় সিআইএ বা শক্তিশালী লবিগুলোর, বিশেষ করে ইহুদি লবির এজেন্ডা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে থাকে। আমেরিকার মিডিয়াগুলো যখন হামাসের কথা বলে তখন সন্ত্রাস শব্দটা বারবার উল্লেখ করে এবং হামাসের হামলাকে সন্ত্রাসী হামলা বলে আর ইসরায়েলের প্রতিটি হামলাকে সন্ত্রাস দমনের উদ্যোগ বলে বর্ণনা করে। এখন একটা নতুন শব্দ তারা ব্যবহার করছে ‘কোলেটারেল ড্যামেজ’ অথাৎ ত্রিশজন সন্ত্রাসীকে হত্যা করতে তারা আক্রমণ চালালো হয়তোবা এ আক্রমণে দশজন সন্ত্রাসী নিহত হলো আর ৩০০ জন নারী শিশু বৃদ্ধ নিহত হলো, একটা জনপথ বিধ্বস্থ হলো। ৩০০ নারী-শিশু-বৃদ্ধের মৃত্যু এবং জনপথ বিধ্বস্থ হওয়াকে তারা বলছে কোলেটারেল ড্যামেজ। অভিনব এক প্রতারণা। এ হচ্ছে আমেরিকার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদ পরিবেশনের নমুনা।

এখন সিআইএ বাংলাদেশকে নিয়ে কী গভীর খেলায় মেতেছে। আইএস দমনের ব্যাপারে বাংলাদেশকে সাহায্য করার জন্য তারা খুবই উদগ্রীব। তারা বারবার বলছে আইএস বাংলাদেশে আছে আর এই কথাটা তারা বাংলাদেশকে দিয়ে স্বীকার করানোর চেষ্টাও করছে। রাষ্ট্রদূত মন্ত্রীদের সঙ্গেও কথা বলছেন।

আমেরিকার ইন্টিলিজেন্স এজেন্সি সিআইএ-তে মোটামাথার মানুষের সমাবেশ বেশি। প্রেসিডেন্ট আইজেনহাওয়ার (১৯৫৬-১৯৬১) সিআইএর কর্মকাণ্ডকে অ্যাখ্যায়িত করেছিলেন “অরুচিকর তবে অত্যন্ত প্রয়োজনী “ বলে। সিআইএ সম্পর্কে আমেরিকার বহু প্রেসিডেন্টের অভিযোগ রয়েছে যে তাদের পরিকল্পনা সব সময় অপরিপক্ক হয়। লিন্ডন-বি-জনসন, রিচার্ড নিক্সন, রেজাল্ড ফোর্ড ও জিমি কার্টারের সময় এজেন্সিকে তাদের অপরিপক্কতার জন্য অবজ্ঞার শিকার হতে হয়েছিল। আইজেনহাওয়ার এজেন্সিকে বলতেন লিগাসি অফ অ্যাশেজ তথা ভষ্মের উত্তরাধিকার বলে (CIA by Tim Weiner)।

আমেরিকার সরকার সিআইএ-এর খাতে কোটি কোটি ডলার ব্যয় করে। আসলে অর্থবিত্তের জোরে সিআইএ সচল রয়েছে। সিআইএ জর্ডানের বাদশা হোসেনকেও মাসোহারা দিতো। এক ভারতীয় আমেরিকান পদার্থবিজ্ঞানী প্রণব বর্ধন তার জীবনীমূলক গ্রন্থ ‘স্মৃতি কোন্ডুয়ান’-এ আমেরিকানদের বহু সহজ সরল ও বোকামির কাহিনী লিখেছেন। তিনি এটাও সংশয় প্রকাশ করেছেন যে এই কর্মবুদ্ধির লোকগুলো কখন যে পৃথিবীটা ধ্বংস করে দেয়, কারণ বোতাম কোনটা টিপতে কোনটা টিপে দেয়! যুদ্ধতো এখন ভিডিও গেমের একটা বর্ধিত সংস্করণ। টিম ওয়েইনার ৬০ বছরের অবমুক্ত হওয়া সিআইএ-এর দলিল দস্তাবেজ অবলম্বন করে তার বই লিখেছেন। সেখানে সিআইএ-এর বহু নির্বুদ্ধিতার কাহিনী লিপিবদ্ধ হয়েছে।

চীনের অভ্যন্তরে একটা বিদ্রোহ সংঘটিত করার কথা বলে তাইওয়ানের চীনারা একশ মিলিয়ন ডলার খেয়ে ফেলেছিল, এ কাহিনীও লিপিবদ্ধ করেছেন টিম ওয়েইনার তার গ্রন্থে। সিআইএ মানেই ডলারের বিলিবণ্টন। এখন অবশ্য আমেরিকার আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। অঢেল অর্থ যোগানোর ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে।

এখন সিআইএ বাংলাদেশকে নিয়ে কী গভীর খেলায় মেতেছে। আইএস দমনের ব্যাপারে বাংলাদেশকে সাহায্য করার জন্য তারা খুবই উদগ্রীব। তারা বারবার বলছে আইএস বাংলাদেশে আছে আর এই কথাটা তারা বাংলাদেশকে দিয়ে স্বীকার করানোর চেষ্টাও করছে। রাষ্ট্রদূত মন্ত্রীদের সঙ্গেও কথা বলছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও কোনও দেশের নাম উল্লেখ না করে সংসদের অষ্টম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে বলেছেন, মুসলিম-অধ্যুষিত দেশে কিছু না কিছু গোলমাল লাগানো হচ্ছে। একমাত্র বাংলাদেশ এখনও নিরাপদ আছে। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ নিরাপদ না অনিরাপদ, এ নিয়ে সরকারকে যথেষ্ট কথা শুনতে হয়েছে। একটা পর্যায়ে এমন অবস্থার সৃষ্টি করা হচ্ছে যে জোর-জবরদস্তি করে বাংলাদেশে আইএস আছে, জঙ্গি আছে- এ ধরনের একটা ঘোষণা দেওয়ার পাঁয়তারা করা হচ্ছিল।

এলিয়াস ডেভিডসন তার বিভিন্ন গ্রন্থে বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন যে  ইসলামিক টেরোরিজম একটা মিথ । এর ছাত্রছায়ায় পশ্চিমা শক্তিগুলো তাদের বিভিন্ন ইভিল ডিজাইন বাস্তবায়িত করে। আমেরিকা এক অদ্ভুত দেশ, নাইন ইলেভেনের এখনও পর্যন্ত কোনও ক্রিমিনাল রিপোর্ট প্রকাশ করেনি। কোনও সুষ্ঠু তদন্ত হয়নি।

এনবিসি ইসলামিক স্টেটের ‘দাবির’ সাময়িকীর উদ্ধৃতি দিয়ে যে রিপোর্ট করেছে সেটা ষড়যন্ত্ররই অংশ কিনা বিতর্ক হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকা যুদ্ধপরাধীদের বিচারের স্বচ্ছতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। এসব বিষয় বিএনপি জামায়াতের নিয়োগকৃত লবিস্ট ফার্মের কর্মকাণ্ডের ফলাফল না অন্য কোনও নতুন ষড়যন্ত্রের ডিজাইন বাস্তবায়নের তৎপরতা- তা সরকারকে খুবই গভীরভাবে নিরীক্ষণ করতে হবে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে অন্য বন্ধুদের সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতায় খুবই সক্রিয় থাকতে হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে চুলকানি শুরু হয়েছে পাকিস্তানেরও। তাই বিশ্লেষকরা মনে করেন আইএস থেকেও বাংলাদেশের জন্য বড় হুমকি পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একজন খ্যাতিমান বিশ্লেষক এলিয়াস ডেভিডসন তার বিভিন্ন গ্রন্থে বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন যে  ইসলামিক টেরোরিজম একটা মিথ । এর ছাত্রছায়ায় পশ্চিমা শক্তিগুলো তাদের বিভিন্ন ইভিল ডিজাইন বাস্তবায়িত করে। আমেরিকা এক অদ্ভুত দেশ, নাইন ইলেভেনের এখনও পর্যন্ত কোনও ক্রিমিনাল রিপোর্ট প্রকাশ করেনি। কোনও সুষ্ঠু তদন্ত হয়নি। কংগ্রেসের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে একটা তদন্ত কমিটি হয়েছিল যার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান একটা বই প্রকাশ করেছেন এবং এই বইটিতে তারা স্বীকার করেছেন যে তাদের নেতৃত্বে কমিশন গঠন করা হয়েছিল। ব্যর্থতার জন্য সরকারি এজেন্সিগুলো তাদেরকে কোনও তথ্য দেয়নি। তারা নাকি সরকারি এজেন্সিগুলো দ্বারা প্রতারিত হয়েছিল।

নাইন ইলেভেনের সময় আমেরিকার এর্টনি জেনারেল ছিলেন ক্র্যাশক্রাফট। ১২ সেপ্টেম্বর তিনি বলেছিলেন এফবিআই-এর কাজ হচ্ছে এ ঘটনার তদন্ত নয়, অনুরূপ ঘটনা থেকে দেশকে বাঁচানোর জন্য ক্লু সন্ধান করে বেড়ানো। এটা নিশ্চয়ই ছিল স্টেট অথারাইজড অপারেশন থেকে এজেন্সির দৃষ্টি ফিরিয়ে দেওয়া। সরকারি অপরাধ না জানার ব্যবস্থা জার্মানিতে নাৎসি আমলে ছিল। কিন্তু নাইন ইলেভেনের বেলায় আমেরিকার সরকারের এ ডিনায়েল আমেরিকার জনগণের সঙ্গে একটা বিরাট প্রতারণা। তোরাবোরা পাহাড়ের গুহা হতে ইসলামিক টেরোরিস্ট ওসামা-বিন-লাদেন এত বড় একটা টেরোরিস্ট প্ল্যান বাস্তবায়িত করেছিল- এটা কি একটা বিশ্বাসযোগ্য কথা?

অনেক বিশ্লেষক বলেছেন বোন্বের ঘটনাতেও আমেরিকা জড়িত। ১০ জন তরুণ চারভাবে বিভক্ত হয়ে ভারতীয় এক হাজার এলিট ফোর্সকে মোকাবেলা করেছে তিন দিন। এ হামলা চলেছিল স্টেশনে, একটি হাসপাতালে, একটি জনপ্রিয় ক্যাফে ও বিলাসবহুল তাজ হোটেলে। ১৬২ লোক মারা গিয়েছিল। এটা কি কখনও ১০ জন যুবকের পক্ষে সম্ভব! এই হামলায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাকিস্তান। লাভবান হয়েছে আমেরিকা। আমেরিকার জন্য ভারতের দরজা খুলে দিয়েছিলেন মনমোহন সিং। নরেন্দ্র মোদি এসে সেই দ্বার আরও অবারিত করেছেন।

দৃশ্যত বাংলাদেশকে নিয়ে সিআইএ একটা নকশা করে অগ্রসর হবার চেষ্টা করছে। আইএসআই তাতে সংযুক্ত না হলেও তারাও তৎপর একই কাজে। দেশের অভ্যন্তরে সচল হয়েছে জেএমবি। তাদের তৎপরতায় নিজেদের লাভবান মনে করছে জামায়াত-বিএনপি। সরকারকে শুধু সতর্ক হলে হবে না- জনসাধারণকেও সতর্ক হতে হবে। সরকারের সতর্কতার সঙ্গে ইরানকে বাঁচিয়ে রেখেছে সেই দেশের জনগণের সচেতনতা। বাংলাদেশকে সে পথে এগুতে হবে। প্রধানমন্ত্রীও সেই আহ্বান জানিয়েছেন সংসদের বক্তৃতায়।

 

লেখক: সাংবাদিক ও শিক্ষক

anisalamgir@gmail.com

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune

কলামিস্ট

টপ