প্রধানমন্ত্রীকে স্যালুট, সুবিচার হলো

Send
নাদীম কাদির
প্রকাশিত : ১২:০৫, নভেম্বর ২২, ২০১৫ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৩৭, ডিসেম্বর ২৩, ২০১৫

Nadim Qaderবাড়ি থেকে বহুদূরে আছি। আর তাই দুই জঘন্য যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির যাবতীয় উদযাপনে অংশ নিতে না পারাটা আমার জীবনে অনেক বড় আফসোস হয়ে থাকবে। তবে বারকয়েক আমি যখন ‘জয় বাংলা’ বলে চিৎকার করলাম, তখন হয়তো রাস্তায় থাকা কণকণে শীতের মধ্যে রাস্তায় থাকা হাতেগোনা কয়েকজন বুঝতে পেরেছেন আমার আনন্দের কারণ, শেয়ারও করেছেন। অতঃপর এটা ঘটলো।

আরটিভিতে থাকা আমার বন্ধুকে ধন্যবাদ আমাকে একটা ‘ম্যাজিক বাক্স’ দেওয়ার জন্য। যার মাধ্যমে লন্ডনে বসে আমি ঢাকার লাইভ আপডেট দেখছিলাম। ভাগ্যকে ধন্যবাদ যে কোনও না কোনওভাবে আমি এই ইতিহাসের অংশ হতে পেরেছি। এ এক অনাবিল আনন্দের ও ন্যায়বিচার চাক্ষুষ করার তৃপ্তিময় মুহূর্ত।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্যালুট, সেই কাঙ্ক্ষিত বিচারটি চালানোর জন্য যে বিচার ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ঝুলে ছিল।

ভুতুড়ে সময়টার সূত্রপাত ২০০১ সালে, যখন খালেদা জিয়ার বিএনপি-জামায়াত জোটে নিজামির সঙ্গে আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদও পূর্ণ মন্ত্রী হয়ে যান। আর সালাউদ্দিন কাদের ছিলেন বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা ও খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা।

আমার এক বন্ধু ঢাকা থেকে টেলিফোন করে চিৎকার করে বলল ‘জয় বাংলা’ আর বলল, আমি ও আমার প্রয়াত মা-সহ আরও হাজার হাজার মানুষ যে যুদ্ধটা শুরু করেছিল, তা শেষ পর্যন্ত পরিপূর্ণতা পেয়েছে; যদিও নিজামীসহ আরও কিছু লোক তাদের ভাগ্যবরণের অপেক্ষায় আছে এখনও।

আর হ্যাঁ, এই দিনে আমরা শহীদ জননী জাহানারা ইমাম ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির মহান ভূমিকার কথা স্মরণ না করে থাকতে পারি না।

পাকিস্তানি দালাল সাকা চৌধুরী ও মুজাহিদের গল্প কারও অজানা নয়। ১৯৭১-এর অন্ধকার রাতে স্বাধীনতাকামী নিরস্ত্র মানুষ ও বুদ্ধিজীবীদের তারা ঠাণ্ডা মাথায় খুন করেছিল। তারা আমাদের নারীদের ধর্ষণ করে ‘হিন্দু’ ও ‘ভারতীয় দালালদের’ নিশ্চিহ্ন করার নামে পাক আর্মির সঙ্গে উল্লাস করেছিল। তারা চলে গেলেও তাদের অপরাধের কথা বাংলার মানুষ কখনও ভুলবে না।

এটা বলাই হয় যে সত্যের জয় নিশ্চিত ও সুবিচার আটকে থাকে না। তবে বাংলাদেশে ১৯৭৫ সালের পর থেকে ন্যায়বিচার আটকে ছিল। ওই সময়ের পর একদিকে যেমন বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার আটকে রাখা হয়েছিল, তেমনি পাশাপাশি সাকা চৌধুরী ও মুজাহিদদের মতো বাংলাদেশ-বিরোধী ও পাকিস্তানপন্থীদের পুনর্বাসন করা হয়। অবশেষে গত ২১ নভেম্বর তারা বাস্তবতার মুখোমুখি হয় এবং তাদের কৃতকর্মের শাস্তি পাওয়াটা ছিল সময়ের ব্যাপার মাত্র। এমনকি তথাকথিত চড়া গলার সাকা চৌধুরী ও মুজাহিদ তাদের অপরাধ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনাও করেছিল।

হতে পারে জন কেরি ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল আরেকটি বিবৃতি দেবে। যা কিনা বরবারের মতো প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশের জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে।

এখনই সময়- যুক্তরাষ্ট্র ও অ্যামনেস্টি সত্যের পক্ষ নিয়ে মিথ্যেকে ত্যাগ করবে।

প্রার্থনা করি, আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, এক বন্ধু যার নাম দিয়েছেন ‘প্লাটিনাম লেডি’- তিনি দীর্ঘজীবী হউন। দীর্ঘজীবী হোক বাংলাদেশ। জয় বাংলা! বাংলার জয়!

লেখক: সাংবাদিকতায় জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারসোল্ড স্কলার এবং লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

লাইভ

টপ