Vision  ad on bangla Tribune

জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ এখনই

তুষার আবদুল্লাহ১২:২৬, ডিসেম্বর ২৬, ২০১৫

Tushar Abdullah২০১৫ সালের শেষ শুক্রবার ছিল ধর্মীয় সম্প্রীতির উদাহরণ। বাংলাদেশে একই দিনে পালিত হচ্ছিল হজরত মুহাম্মদ (স.) এবং যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন। এখানকার মানুষ এরইমধ্যে সব ধর্মীয় উৎসব সবাই মিলে উদযাপন করতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। ঈদ কেবলই এখন আর মুসলমানদের একক আনন্দের দিন নয়। দুর্গা পূজা শুধুই সনাতন ধর্মের অনুসারীদের উৎসব নয়, বৌদ্ধ পূর্ণিমা যেমন সবার উৎসব, তেমনি বড়দিনও সবাই মিলে আনন্দে মেতে ওঠার দিন। ২৪ ডিসেম্বর রাত থেকে উৎসব সেই রঙেই রাঙা হতে থাকে। ২৫ ডিসেম্বর এসে পৌষের হিম সকালে তা আরও উষ্ণতা ছড়িয়ে যাচ্ছিল। মুসলমানরা ঈদে মিলাদুন্নবীর মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন, খৃষ্ট ধর্মের অনুসারীরা গির্জায় প্রার্থনায়। দিনটি শুক্রবার থাকায় মুসলমানরা মিছিল শেষে এসে যোগ দেন মসজিদে। জুন্মার নামাজের সময়ই উৎসবের রঙে কালো আঁচড় এসে পড়ে। সম্প্রীতির আবহে বদ হাওয়া বয়ে যায়। রাজশাহীর বাগমারার মচমইল গ্রামে আহমদিয়া বা কাদিয়ানিদের মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলা হয়। হামলাকারী নিজেই নিহত হয়। আহত হয় সাতজন। তাৎক্ষণিকভাবে এলাকাবাসী জানিয়েছে হামলাকারী এলাকায় অপরিচিত। এর আগে শিয়া সম্প্রদায়ের তাজিয়া মিছিলে হামলা এবং বগুড়ার শিয়া মসজিদে নামাজ পড়ারত অবস্থায় গুলি করে একজন মুয়াজ্জিনকে হত্যা করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন চার্চের যাজকদের ওপর হামলা ও হত্যার হুমকি তো চলমান ছিলই। তারই বাস্তবতায় এবার বড়দিন উপলক্ষে চার্চের আচার-অনুষ্ঠানে খানিক পরিবর্তন ও বিশেষ নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছিল। সবার মনোযোগ যখন চার্চের দিকে তখনই আহমেদিয়াদের মসজিদে হামলা করা হলো।
ঘটনা কে বা কারা ঘটিয়েছে তার হয়তো দাবিদার পাওয়া যাবে। পুলিশ হয়তো শনাক্তও করতে সক্ষম হবে তাদের। কিন্তু যারা ঘটনা ঘটাচ্ছে তাদের অপরাধের ধরন বিশ্লেষণ করলে সাদা চোখেই দেখা যাবে- প্রথমত তারা মুসলমানদের অভ্যন্তরে একটি বিরোধের আগুন জ্বালাতে চাচ্ছে। মুসলমানদের একে অপরের বিরুদ্ধে সাংঘর্ষিক অবস্থানে যেতে উস্কানি দিচ্ছে। যে সাংঘর্ষিক অবস্থানে বাংলাদেশকে তারা নিয়ে যেতে চাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশ নেই। এখানে প্রত্যেকে প্রত্যেকের ধর্ম নিজ আচার মতে করে যাচ্ছে। মাঝে আহমাদিয়াদের নিষিদ্ধের একটি দাবি উঠেছিল, সেটাও আন্তর্জাতিক ও রাজনৈতিক উস্কানিতে। কিন্তু নিকট অতীতে এ নিয়ে আর সরগোল শোনা যাচ্ছিল না। একইভাবে বাংলাদেশে খ্রিস্টান সম্প্রদায় কখনও জঙ্গিদের টার্গেটে ছিল না। এখন তারাও পরিণত হয়েছে টার্গেটে। তবে মূলকথা হলো ঘটনার যারা নকশাকার, তাদের লক্ষ্য হচ্ছে আতঙ্ক তৈরি করা। আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়ে আলোচনায় আসা। তাই আহমেদিয়া বা শিয়া সম্প্রদায় আসলে মূল লক্ষ্য নয়, চার্চও নয়। মূল বিষয় হলো অস্থিতিশীলতা তৈরি করা। মসজিদ, গির্জা যেকোনও ধর্মানুসারীর কাছেই স্পর্শকাতর ও পবিত্র স্থান। এ কারণেই তারা অস্থিরতা তৈরির জন্য মসজিদকে বেছে নিয়েছে। এক সপ্তাহ আগে চট্টগ্রামেও মসজিদে বিস্ফোরণ ঘটেছে।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তোরণের ‘এক রাত্রি’র সমাধান নেই। কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে এর মোকাবেলাও সম্ভব নয়। মোকাবেলা করতে হবে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে। রাজনৈতিক সহিষ্ণু পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে পারস্পরিক দোষারোপের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে, এই জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে একই দর্শনে কাজ করতে হবে। রাষ্ট্রকে নজর রাখতে হবে তৃণমূলের রাজনৈতিক ও সামাজিক বিকাশের দিকে। ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি, সামাজিক ব্যবস্থার বিপরীতে রাষ্ট্রকে অবস্থান নিতে হবে। এখানে মূল ব্যবস্থাপত্র হচ্ছে শিক্ষার সংস্কার। মাদ্রাসা শিক্ষাকে রাষ্ট্রের নজরদারীর বাইরে রাখা যাবে না। সব মাধ্যমের শিক্ষার পাঠ্যক্রমে সাম্যতা আনতে হবে। এই কাজগুলো এখনও আমরা শুরু করতে পারিনি। এজন্য যেই রাজনৈতিক শুদ্ধতার প্রয়োজন, তার অনুপস্থিতি রয়েছে। সেই সুযোগেই জঙ্গিবাদ, মৌলবাদের অনুপ্রবেশ ঘটছে। এখনই সময় সেই প্রবেশ প্রতিহতের। তবে তা হতে হবে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে। তবেই তা হবে ফলদায়ক।

লেখক: বার্তা প্রধান, সময় টিভি

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

samsung ad on Bangla Tribune

লাইভ

টপ