behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

প্লিজ পাকিস্তান ক্রিকেটের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় অবদান রাখবেন না

প্রভাষ আমিন১১:১২, ডিসেম্বর ২৭, ২০১৫

Probhash Aminএকাত্তরের পর পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সবচেয়ে খারাপ সম্পর্ক যাচ্ছে এখন। এটা ঠিক পাকিস্তান কখনও মন থেকে বাংলাদেশের অস্তিত্ব মেনে নেয়নি। বরাবরই তারা বাংলাদেশকে হেয় করতে চেয়েছে। কিন্তু মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের প্রক্রিয়া শুরুর পর পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া সব সভ্যতা-ভব্যতা, রীতি-নীতি, কূটনৈতিক শিষ্টাচারকে ছাড়িয়ে গেছে। পাকিস্তান শুধু যে আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছে তাই নয়, দেশটি একাত্তরের গণহত্যার দায়ও অস্বীকার করেছে। তাদের এই অতি প্রতিক্রিয়ার পাল্টা হিসেবে দাবি উঠেছে পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নের, দাবি উঠেছে ১৯৫ পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর, দাবি উঠেছে পাকিস্তানের কাছ থেকে আমাদের ন্যায্য পাওনা বুঝে নেওয়ার, দাবি উঠেছে আটকেপড়া পাকিস্তানিদের ফিরিয়ে দেওয়ারও।
পাকিস্তান শুধু যে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারেই ‘ডিস্টার্বড’ হয়েছে তাই নয়, তারা বরাবরই বাংলাদেশকে ডিস্টার্ব করে গেছে। বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চেয়েছে। জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে গত সপ্তাহে পাকিস্তান কূটনীতিক ফারিনা আশফাককে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এর আগে গত জানুয়ারিতেও পাকিস্তান প্রত্যাহার করে নিয়েছিল মাঝহার খানকে। একই বছরে একই অভিযোগে দুজন কূটনীতিককে প্রত্যাহার করে নেয়ার নজির খুব বেশি নেই। বাংলাদেশ আসলে এই দুজনের প্রতি অনেক উদার আচরণ করেছে। বাংলাদেশের উচিত ছিল তাদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে বহিষ্কার করা। প্রত্যাহার করার সুযোগ পেয়ে এখন পাকিস্তান আবার ঔদ্ধত্য দেখিয়েছে। তারা বলছে, ফারিনার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। পাকিস্তান যতই ঔদ্ধত্য দেখাক, বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশে পাকিস্তান হাইকমিশন হলো, বাংলাদেশবিরোধী সব ষড়যন্ত্রেও আখড়া। কূটনৈতিক বর্ম ব্যবহার করে আইএসআই বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটাচ্ছে। দুঃখজনক হলো, এক সময় তারা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছে। তাই তারা তাদের কাজ অনেকদূর এগিয়ে নিতে পেরেছে। ষড়যন্ত্রের শেকড়ের বিস্তার ঘটিয়েছে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। হয়তো মাত্র দুজন চিহ্নিত হয়েছে। কিন্তু আমি নিশ্চিত, গোটা পাকিস্তান হাইকমিশনই বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ বিস্তারের মিশন নিয়ে কাজ করছে। মসজিদে বোমা হামলার ঘটনা এতদিন পাকিস্তানে ঘটত। পাকিস্তান কৌশলে সেই বিষ আমাদের দেশে চালান করে দিয়েছে। ৪৪ বছরে বাংলাদেশ অনেকদূর এগিয়েছে। সব সূচকেই বাংলাদেশ এখন পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে। দেখে এখন নিশ্চয়ই পাকিস্তানিদের ঈর্ষা হয়। এখন তাদের সামনে দুটি পথ—নিজেদের বাংলাদেশের পর্যায়ে তুলে আনা অথবা বাংলাদেশেকে তাদের কাতারে নামিয়ে নেওয়া। প্রায় ব্যর্থ রাষ্ট্র পাকিস্তানের পক্ষে প্রথমটি আর কোনওদিনই সম্ভব নয়। তাই তারা বেছে নিয়েছে দ্বিতীয় পথ। জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটিয়ে বাংলাদেশকেও ব্যর্থ করতে চায় তারা। কিন্তু বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের যে মোমেন্টামে আছে, তাতে বাংলাদেশকে আটকে রাখার ক্ষমতা এখন পাকিস্তান কেন, কারও নেই। বাংলাদেশ এখন বিশ্বব্যাংকের মুখের ওপর না করে দিয়ে পদ্মা সেতু বানাতে পারে। এই বাংলাদেশকে রোখার সাধ্য কারও নেই।

মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার শুরুর পর পাকিস্তানের নানা প্রতিক্রিয়ার পরও আমি কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখে আলোচনা মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সমস্যা সমাধানের পক্ষে ছিলাম। কিন্তু গণহত্যার দায় অস্বীকার করার পর আমিও মনে করি পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার কোনও মানে হয় না। তারপর ফারিনা আশরাফের জঙ্গি সম্পৃক্ততার পর আমার বিশ্বাস দৃঢ় হয়েছে, দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে, উন্নয়নের স্বার্থেই যত দ্রুত সম্ভব পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা উচিত। নইলে তারা কূটনৈতিক ঢাল ব্যবহার করে জঙ্গি তৎপরতা চালিয়েই যাবে। ইসরায়েলের মতো গুরুত্বপূর্ণ, শক্তিশালী, ক্ষমতাশালী রাষ্ট্রের সঙ্গে  সম্পর্ক না রেখে যদি বাংলাদেশের চলে; পাকিস্তানের মতো ব্যর্থ রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখলে কী এমন ক্ষতি? পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত নেই, গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্কও নেই। তাহলে কেন আমরা এমন ব্যর্থতার দায় বয়ে বেড়াব। পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবি জোরালো হচ্ছে। ইতোমধ্যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পাকিস্তানের সঙ্গে সবধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে। দাবি উঠেছে পাকিস্তানের সঙ্গে ক্রিকেটীয় সম্পর্কও ছিন্ন করার। ক্রিকেটটা পাকিস্তান ভালোই খেলত। কিন্তু গত একবছরে আমরা পাকিস্তানকে অনেক পেছনে ফেলে এসেছি। ক্রিকেট ভালো খেললেও নিরাপত্তার প্রশ্নে পাকিস্তান ক্রিকেটবিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন। শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারদের ওপর হামলার পর থেকে কোনও দেশ পাকিস্তান যায় না। পাকিস্তানের খেলা হয় নিরপেক্ষ ভেন্যুতে। পাকিস্তান এখন আর ক্রিকেট পরাশক্তি নয়। ক্রিকেট রাজনীতিতেও তাদের কোনও ভূমিকা নেই। বাংলাদেশের ক্রিকেটের উত্থানে ভারতের কিছু হলেও অবদান আছে, পাকিস্তানের একরত্তিও নেই। পাকিস্তান বরং এখন আমাদের ক্রিকেটকে আকড়ে ধরে নিজেদের অস্তিত্ব বজায় রাখতে চাইছে। এই সময় পাকিস্তানের মত একটি বাংলাদেশবিদ্বেষী রাষ্ট্রের পাশে দাঁড়ানোর কোনও মানে হয় না।

পাকিস্তান নিয়ে এই যখন বাংলাদেশের মানুষের আবেগ, তখন পত্রিকায় একটি খবর দেখে মনটা খারাপ হয়ে গেল। বাংলাদেশের চার ক্রিকেটার পাকিস্তান সুপার লিগ খেলতে যাচ্ছেন। পাকিস্তানের ঘরোয়া এই টি-২০ টুর্নামেন্টের ভেন্যু অবশ্য শারজাহ। বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান খেলতে যাচ্ছেন করাচি কিংসে, একই দলে খেলবেন মুশফিকুর রহিম। তামিম ইকবাল খেলবেন পেশোয়ার জালমিতে আর মুস্তাফিজুর রহমান লাহোর কালান্দার্সে। কয়েকবছর আগে হলেও এই খবরে আমি উল্লসিত হতাম। বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা সুযোগ পেয়েছেন, এটাই আনন্দ দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল। কিন্তু গত একবছরে বাংলাদেশ এখন এমন এক জায়গায় পৌঁছে গেছে, যে পাকিস্তান সুপার লিগ নিয়ে মাথা ঘামানোর টাইম নেই আমাদের। পত্রিকায় দেখলাম, পিএসএল-এ খেলার জন্য সাকিব পাবেন এক কোটি টাকা, তামিম ও মুস্তাফিজ পাবেন ৪০ লাখ টাকা করে মুশফিক পাবেন মাত্র ২০ লাখ টাকা। সাকিব-তামিম-মুশফিক-মুস্তাফিজরা আমাদের মাথার তাজ, নয়নের মনি। বাংলাদেশের সবকিছু মিলিয়ে ক্রিকেটাররাই সবচেয়ে বড় তারকা। আমরা তাদের মাথায় তুলে নাচি নিছক তারা ভালো খেলেন বলে নয়, তারা বাংলাদেশের হয়ে খেলেন বলে। আমরা আসলে বাংলাদেশকে ভালোবাসি। আর যারা বাংলাদেশের মর্যাদাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরেন, তাদের আমরা মাথায় তুলে নাচি। এখন তারা যদি পেশাদারিত্বেও দোহাই দিয়ে আমাদের আবেগের মূল্য না দেন আমরা কষ্ট পাই। যে দেশটির সেনারা একাত্তরে আমাদের ৩০ লাখ লোককে মেরেছে নির্মম নিষ্ঠুরতায়, ২ লাখ মা-বোন নির্যাতন করেছে; যারা ৪৪ বছর পরে এসেও ক্ষমা না চেয়ে উল্টো গণহত্যার দায় অস্বীকার করছে; আমরা চাই না আমাদের নয়নের মনিরা সেই দেশের ক্রিকেট টুর্নামেন্টে খেলুক। সাকিব-তামিম-মুশফিকরা দেশে-বিদেশে খেলে, বিজ্ঞাপন করে অনেক টাকা আয় করেন। এক কোটি, ৪০ লাখ, ২০ লাখ টাকা তাদের কাছে এমন কোনও টাকা হওয়ার কথা নয়। আর সবসময় টাকাটাই সব নয়। দেশের মানুষের আবেগ-ভালোবাসার মূল্যও কম নয়। আমরা ভালোবাসি বলেই তোমরা তারকা। সাকিব-তামিম-মুশফিক-মুস্তাফিজের কাছে আমাদের হৃদয়ের অর্ঘ্য তুলে দেওয়া নিবেদন, প্লিজ আপনারা সব জায়গায় খেলুন, পাকিস্তানে নয়। পাকিস্তান কখনও আমাদের বন্ধু ছিল না, বন্ধু হবেও না। তাই আমরা চাই না, পাকিস্তানের ক্রিকেটের কোনও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় অবদান রাখুক আমাদের তারকারা। বিজয়ের মাসে এই দাবিটুকু নিশ্চয়ই তারা রাখবেন। যদি সত্যি সত্যি তাদের অনেক টাকার দরকার হয়, প্রয়োজনে আমরা ফান্ড করে টাকা তুলব।

লেখক:  অ্যাসোসিয়েট হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ।

 ইমেল: probhash2000@gmail.com

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune

কলামিস্ট

টপ