জঙ্গিবাদের বাজার...

Send
শুভ কিবরিয়া
প্রকাশিত : ১১:৪০, ডিসেম্বর ২৮, ২০১৫ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:৪৩, ডিসেম্বর ২৮, ২০১৫

Shuvo Kibriaএক.
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আর বাড়েনি। বরং কমতে-কমতে তা তলানিতে এসে ঠেকেছে। প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০৪ মার্কিন ডলার থেকে এখন তা ৪০ মার্কিন ডলারের নিচে এসে নেমেছে। ইসলামিক স্টেট যেদিন থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে বড় জায়গা নিয়েছে, সেদিন থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের এই পতন শুরু হয়েছে। কাজেই আইএস টিকে থাকলে তেলের দাম যে বাড়ছে না, বাজার বীক্ষণ সেই কথাই বলছে। তেলের দাম কম থাকলে পশ্চিমা দুনিয়ার বেজায় লাভ। পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে যারা যুগের পর যুগ সামরিক-বেসামরিক নানান কায়দা চালিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর দখলদারিত্ব কায়েমের চেষ্টা চালিয়েছে,  তারা আইএসের ঘাড়ের ওপর চড়ে এখন সস্তা তেলের বড় মওকা নিচ্ছে। আমেরিকা ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা সম্প্রতি যে অর্থনৈতিক মন্দা দশার কবলে পড়েছিল, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের এই দরপতন তাদের খুব সুবিধা দিয়েছে। মনে  থাকতে পারে, গ্রিস অর্থনৈতিকভাবে দেউলিয়া দেশে পরিণত হয়েছিল। ইতালি, স্পেনের অর্থনীতি ডুবতে ডুবতে দিশা হারিয়েছিল প্রায়। আইএস বাজারে আসার পর ইউরোপীয় দুর্দশাগ্রস্ত অর্থনীতির দেশগুলোর সেই মন্দাদশা অনেকটাই কেটেছে। জ্বালানির ওপর নির্ভর করে পুষ্ট হতে শুরু করেছিল রাশিয়ার অর্থনীতি। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করার ফলে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা এসেছে রাশিয়ার অর্থনীতির ওপর। আমেরিকা ও পশ্চিমা দুনিয়ার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বীকে কাবু করার জন্য সেটাও একটা বড় মওকা বটে,
দুই.
সিরিয়ার সংকট যখন শুরু হলো, তখন ইউরোপীয় মিত্ররা অনেকেই আমেরিকার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এখানে জঙ্গিবিরোধী যুদ্ধজোটে প্রত্যক্ষভাবে যোগ দিতে রাজি হয়নি। বিশেষত ব্রিটেন, ফ্রান্সের আপত্তি ছিল প্রত্যক্ষ যুদ্ধে নতুন করে জড়াতে। ইরাক, আফগানিস্তান, লিবিয়ায় প্রত্যক্ষ যুদ্ধের নানারকম নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তাদের স্মৃতিতে তখনও জাগুরক। ইরাক, লিবিয়া, আফগানিস্তানে মার্কিন আগ্রাসনের সঙ্গী হয়ে, নিজেদের দেশে জঙ্গিবাদের বিপদকে টেনে এনেছে ব্রিটেন, ফ্রান্স। দু’দেশের জনগণ, রাজনৈতিক দল তাই নতুন করে আমেরিকার যুদ্ধ ফাঁদে প্রত্যক্ষভাবে পা দিতে রাজি হয়নি। এরই মধ্যে ফ্রান্সে ঘটল জঙ্গি হামলা। পশ্চিমা মিডিয়ার কল্যাণে জানা গেল আইএস সেখানে হামলা চালিয়েছে। ১২৯ জনের প্রাণহানি নানান দেশের অভিবাসী নিয়ে কসমোপলিটন সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের দেশ ফ্রান্সকে হঠাৎ করে অধিকতর সরব করে তুলল। ফলে ফ্রান্স সিরিয়ায় প্রত্যক্ষ বিমান হামলা চালাতে শুরু করে। নিজেদের দেশে জরুরি অবস্থা জারি করে। বন্ধু ইউরোপীয় দেশকে আইএসবিরোধী যুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করে। ব্রিটেনও উত্তেজিত হয়ে ওঠে। গোটা ইউরোপ সিরিয়ায় বিমান হামলাসহ আইএসবিরোধী যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দ্রুতই রাজি হয়ে যায়।
জার্মানি ছাড়া  গোটা ইউরোপের অন্য দেশগুলোর অর্থনীতি খুব শক্তিমত্ত আছে এমন কথা বলা যায় না। বেকারত্ব, চাকরির সুযোগহীনতাসহ অর্থনীতি নানানভাবে মন্দাদশার পথেই হাঁটছিল ইউরোপের দেশে-দেশে। এসব দেশের জনগণের নানান অভাব-অভিযোগ, অনুযোগ ছিল। ইউরোপের অনেক দেশেই সামাজিক কল্যাণ খাতে সরকারি বরাদ্দ কমেছে। অনেক দেশে শিক্ষা ব্যয় কয়েকগুণ বেড়েছে।

গোটা ইউরোপের অর্থনৈতিক-সামাজিক এই সংকট যখন উত্তুঙ্গ, তখনই আইএসকে কেন্দ্র করে তৈরি জঙ্গিবাদী আলোচনা, ইউরোপের প্রতিটি সরকারকে নতুন করে প্রাণ দেয়। জনগণের দৃষ্টি সরিয়ে দেবার নতুন ইস্যু হাতে পেয়ে যায় সরকারগুলো।

তিন.

জঙ্গিবাদ গোটা পৃথিবীতে নতুন করে হামলে পড়েছে। জঙ্গিবাদের সেই উতল হাওয়া পৃথিবীর অনেক দেশকেই উলট-পালট করে ফেলছে। অনেক দেশে সরকার, জঙ্গিবাদকে উসিলা করে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করছে। অনেক দেশ জঙ্গিবাদকে ঠেকানোর অভিপ্রায়ে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে বর্জন করেছে। সবচেয়ে বড় আতঙ্ক ও আশঙ্কার বিষয়, জঙ্গিবাদকে আশ্রয় করে আমেরিকা ও রাশিয়া দুজনেই মাঠে নেমে পড়েছে। সিরিয়ায় আইএসকে ঠেকাতে একই রণক্ষেত্রে আমেরিকার নেতৃত্বে পশ্চিমা দুনিয়া এবং রাশিয়ার সমরাস্ত্র সরবরাহ ও বিমান আক্রমণ চলছে। এক আইএসকে ঠেকাতে পৃথিবীতে নিত্যনতুন সামরিক জোট গঠন অব্যাহত আছে। ফলে সৌদি আরব খুব আচানকভাবে, ব্যাপক আলাপ আলোচনা ছাড়াই হঠাৎ করে জঙ্গিবাদবিরোধী মুসলিম দেশগুলোর এক সামরিক জোটের নাম ঘোষণা করেছে। চীন, রাশিয়া সেই জোটকে সমর্থন করেছে। আমেরিকার সামরিক ও রাজনৈতিক মিত্র সৌদি আরবের সেই মুসলিম সামরিক জোটে বাংলাদেশও নাম লিখিয়েছে।

চার.

জঙ্গিবাদী প্রচারণা নিজেই সামরিক ভাবাপন্ন। জঙ্গিরা কথায়, কাজে, আচরণে, ব্যবহারে সর্বত্রই সামরিকীকরণ সংস্কৃতির চর্চা করে। বোকো হারাম, আল কায়েদা, তালেবান, আইএস থেকে শুরু করে কলম্বিয়ার ফার্ক বিদ্রোহী, ভারতের মাওবাদী গেরিলা সবারই লড়াইয়ের মাধ্যম সশস্ত্র জঙ্গিপনা। সুতরাং পৃথিবীব্যাপীই জঙ্গিপনার বড় আশ্রয় অস্ত্র। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, এই অস্ত্র তারা পায় কোথায়? পৃথিবীতে অস্ত্র উৎপাদনকারী বৃহত্তম দেশ আমেরিকা, রাশিয়া, ফ্রান্স, ব্রিটেন, জার্মানি, চীন...। পৃথিবীর আনাচে কানাচে যত ধরনের, যত মতের, যত পথের জঙ্গিবাদী সংগঠন আছে, তারা কেউই নিজেরা অস্ত্র উৎপাদন করে না। অস্ত্র উৎপাদনকারী দেশগুলোর অস্ত্রই তাদের হাতে ঘুরতে থাকে। জঙ্গিরা যেসব লজিস্টিক ব্যবহার করে, যেমন গাড়ি, সামরিক সরঞ্জাম, পোশাক ইত্যাদি। সে সবের প্রস্তুতকারী পৃথিবীর ক্ষমতাবান দেশগুলোই। কাজেই জঙ্গিবাদের বাজার, সামরিকীকরণ আর সমরাস্ত্রের বাজারের অন্য পিঠ। একে অন্যকে বাঁচিয়ে রাখে নিজেদের স্বার্থেই। এটা যেমন একটা দিক, ঠিক তেমনি জঙ্গিবাদী ভীতি থেকে বাঁচতে হলে দরকার উন্নত অস্ত্র, উন্নত প্রশিক্ষণ, উন্নত বাহিনী। কাউন্টার টেররিজম—নিজেই সামরিক বাজারের বড় উপকরণ। পৃথিবীর দেশে-দেশে জঙ্গিবাদী ভীতি যত ছড়ানো যাবে, ততই কাউন্টার টেররিজম ব্যবসার প্রসার ঘটবে। শুধু হার্ডওয়ার সামগ্রী নয়, প্রশিক্ষণ ও কনসালটেন্সির ক্ষেত্রেও জঙ্গিবাদ, জঙ্গিবাদ মোকাবিলা কৌশল—দুটোই সামরিক বাজারের বড় বিস্তার। এসব ক্ষেত্রেও পশ্চিমা দুনিয়ার সঙ্গে রাশিয়া ও চীন এগিয়ে আছে। কাজেই, যারা ভাবছেন জঙ্গিবাদ ইস্যুতে সিরিয়ায়,  রাশিয়া ও আমেরিকার নেতৃত্বে পশ্চিমা দুনিয়া প্রত্যক্ষ যুদ্ধে লিপ্ত হবে , তারা ভুল ভাবনার জগতে বাস করছেন। সমরাস্ত্র উৎপাদনকারী, সমরাস্ত্র সরবরাহকারী এই দুই পক্ষ কখনোই মুখোমুখি যুদ্ধে লিপ্ত হবে না, তবে যুদ্ধের টেনশন সর্বোচ্চ পর্যায়ে বজায় রাখবে।

উদ্দেশ্য, জঙ্গিবাদের বাজার বিস্তার। জঙ্গিবাদী ভীতি শুধু সমরাস্ত্রের বাজারই বাড়ায় না। প্রযুক্তির বাজারকেও বিস্তৃত করে। ঘরে ঘরে, বাড়িতে বাড়িতে, রাস্তায় রাস্তায় সিসিটিভি ক্যামেরা, গোয়েন্দা নজরদারির প্রাযুক্তিক উপাদানের ব্যবহার যত বিস্তৃত হবে— ভীতি তাড়ানো প্রযুক্তি উৎপাদনকারী এসব দেশের বাণিজ্য তত বাড়বে।

 পাঁচ.

ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী। তিনি রিপাবলিকান দলের প্রার্থিতা পেতে লড়ে চলেছেন। ট্রাম্প ধনকুবের ব্যবসায়ী। ব্যবসার আবহাওয়া তার অজানা নয়। আমেরিকা-ইসরাইল লবির জন্য নতুন ব্যবসার ক্ষেত্র কোনটি সেটিও তিনি ভালোই জানেন। সে কারণেই তার খুব দরকার উত্তেজনা বাজারজাত করার। খুব ভেবেচিন্তেই ডোনাল্ড ট্রাম্প এই কাজটি করেছেন। হাজার হাজার মিসাইলের গোলা যা করতে পারেনি, ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি জঙ্গিবাদী বক্তব্যই সেই কাজ সেরেছে। পৃথিবীজুড়ে ‘ইসলামিক স্টেট’ ভীতি চলছে। ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে মুসলমানদের সম্পৃক্ততা আছে, পশ্চিমা মিডিয়া এটা প্রতিষ্ঠা করতে সার্থকভাবে সক্ষম হয়েছে। সে কারণেই ট্রাম্প নির্বাচনি প্রচারণায় মোক্ষ অস্ত্র ছুড়ে যথার্থই বলেছেন, ‘আমেরিকায় মুসলমানদের ঢোকা নিষিদ্ধ করা উচিত’। উল্টো দিকে শান্তশিষ্ট, স্থিতধী, মিষ্টভাষী হিলারি ক্লিনটন, ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী লড়াইয়ে হাজির। তিনিও কম যান না। আমেরিকার হাজারো সমস্যা নিয়ে নির্বাচনি প্রচারণায় কথা যত থাকার কথা, তা কিন্তু নেই। হিলারি ক্লিনটন নিজেও জঙ্গিবাদের বাজার বাড়াতে ট্রাম্পকে আঘাত হানলেন। বললেন, ‘ট্রাম্পই আইএসের পক্ষে নতুন সদস্য সংগ্রহের সবচেয়ে বড় অস্ত্র’। কাজেই জঙ্গিবাদী প্রচারণাই তুঙ্গে থাকল। দুপক্ষই, আমেরিকান জনগণকে বোঝাচ্ছে, জঙ্গিবাদ বড় সংকট। দরকার এর মোকাবিলা করছে। মার্কিন জনগণ যদি এই বুঝে সায় দেয়, তবে জঙ্গিবাদের বিশ্বব্যাপী বাজারে চাঙ্গা হবে আমেরিকার অর্থনীতি। জঙ্গিবাদের ভয় জাগিয়ে আমেরিকা অস্ত্র বেচবে, প্রশিক্ষণ বেচবে, অন্যের পয়সায় সামরিক ঘাঁটি পুষবে। চলবে সামরিক বাণিজ্য।

ছয়.

সামরিক বাণিজ্যের নয়া ক্ষেত্র হচ্ছে বিকাশমান অর্থনীতির এশিয়া মহাদেশ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারতে যে বিনিয়োগ সম্ভাবনা হাজির করেছে, নরেন্দ্র মোদির আমেরিকা সফরের মধ্য দিয়ে—তার বড় ক্ষেত্র হচ্ছে ‘যৌথ উদ্যোগে সামরিক সমরাস্ত্র উৎপাদন’। ভারত-আমেরিকা যৌথ উদ্যোগে সমরাস্ত্র বানাবে। সেই অস্ত্রের বাজার কারা হবে? নেপাল, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, মায়ানমার, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া—দেশগুলোর রাজনীতির অস্থিরতাসহ জঙ্গিবাদী ভীতির দিকে চোখ রাখলে বোঝা যায়, এ অঞ্চলে আতঙ্ক, আশঙ্কা সহসা কাটছে না। নানাবিধ ‘কনফ্লিক্ট’ জিইয়ে থাকছে। আবার এসব দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও বাড়ছে। প্রবৃদ্ধি বাড়লে দেশের শিক্ষা ও সামাজিক খাতে ব্যয় বাড়ার কথা। ভালো করে দেখলে বোঝা যাবে, এশিয়ার ছোট দেশগুলোর সামরিক খাতে ব্যয় যে হারে বাড়ছে শিক্ষা ও সামাজিক খাতে ব্যয় সেই হারে বাড়ছে না। কাজেই উন্মুক্ত ও বিকাশমান হচ্ছে এসব দেশের সামরিক বাজার।

সাত.

লেখাটি শেষ করতে চাই বাংলাদেশের প্রসঙ্গ দিয়ে। বৈশ্বিক জঙ্গিবাদী প্রজেক্টের নয়াক্ষেত্র বাংলাদেশ। তার বড় প্রমাণ পশ্চিমা বিশ্ব জোরেশোরে প্রমাণ করতে চায়, বাংলাদেশে আইএস আছে। অন্যদিকে সরকার আরও জোরে আওয়াজ তুলতে চায়, এখানে ‘আইএস’ মাপের বড় জঙ্গি নেই, তবে জেএমবি আছে। এই কথা চালাচালির ফাঁকেই বাংলাদেশ সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন আইএসবিরোধী সামরিক জোটে অংশ নিয়েছে। ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলা হয়েছে। নৌবাহিনীর সুরক্ষিত সীমানায় জঙ্গিরা হামলা চালিয়েছে। আমাদের রাজনীতিবিদদের সকল পক্ষের কথা ও আচরণে ‘জঙ্গিপনা’ সরব হয়েছে। রাজনীতির ভাষা এখন যতটা উন্নয়ন, শিক্ষা, সামাজিক ভাবনামুখী তার চাইতে অনেক বেশি জঙ্গিবাদ ভীতি ও জঙ্গিবাদ মোকাবিলামুখী। সুতরাং আমাদের মনোজগতে, ভাবনাবিশ্বে ‘জঙ্গিবাদ’ বড়ভাবে জায়গা নিয়েছে। বাস্তবেও মাঝেমধ্যে নানান জায়গায় জঙ্গি হামলা প্রমাণ করছে আমরা জঙ্গিভীতির মধ্যেই আছি। সুতরাং আমাদের সামরিকীকরণ সংস্কৃতিকে পুষ্ট করতে হচ্ছে। রাষ্ট্র এখন এই সামরিক প্রবণতার দিকে ঝুঁকছে। যত আগ্রহসহকারে, ব্যাগ্রভাবে আমরা সিসিটিভি ক্যামেরা কিনতে চাইছি, তত আগ্রহে আমাদের শিক্ষায়তনের ব্যয় বাড়াতে আমরা উৎসাহী নই। ফলে, আমাদের সরকারি, বেসরকারি, ব্যক্তিগত সামগ্রিক ব্যয় বরাদ্দ এখন সামরিকীকরণ খাতের উপকরণ ক্রয়ের ব্যাপারেই উদ্যমী। জঙ্গিবাদের বড় বাজারে আমরাও এখন ছোটখাটো ক্রেতা আর নই।

জঙ্গিবাদী বিশ্বায়নের এই নয়াসংস্কৃতি আমাদের কোথায় নেবে আমরা জানি না। তবে, একটা প্রশ্নের উত্তর আমি খুঁজে পাই না। ইসলামিক স্টেট যদি প্রাণবান ইসলামি খেলাফত তৈরি করতেই চায়, ইসলামের শত্রুদের বিনাশ করতে আত্মাহুতি পর্যন্ত দিতে চায়—তবে তারা কেন ইসরাইলে একটা তীরও ছোড়ে না!

লেখক: নির্বাহী সম্পাদক, সাপ্তাহিক

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

লাইভ

টপ