behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

বিএনপির কী উপকার করলেন খালেদা জিয়া?

হাসান মামুন১৭:০৫, ডিসেম্বর ২৮, ২০১৫

Hasan Mamunঅনেকের মধ্যেই এমন ধারণা কিন্তু রয়েছে যে, এত কিছুর পরও একটা 'ফেয়ার ইলেকশন' হলে বিএনপি হয়তো জিতে যাবে। 'এত কিছু' বলতে কী বোঝাচ্ছি, তা আশা করি বুঝতে কারও সমস্যা হবে না। এর মধ্যে অবশ্যই রয়েছে দু' দুটো সহিংস আন্দোলনে ব্যর্থ এবং বর্তমান শাসনামলে দল হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়। এর আগেও বিএনপি বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ওয়ান-ইলেভেনের পর। বাংলা ট্রিবিউনসহ বিভিন্ন পত্রিকায় এ বিষয়ে আমিও কিছু অভিমত ব্যক্ত করেছি।
ঠিকঠাক নির্বাচন হলেও সেটা কিন্তু হবে বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষে। ক্ষমতাসীন দল ও সরকারের নীতিনির্ধারকরা এটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন অনেক আগে। এ অবস্থায় বিএনপির সামনে পথ দুটি। এক. পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত দল গোছানো এবং রাজনীতিটা ঠিকমতো করা। দুই. পারলে সরকারের কাছ থেকে আগাম নির্বাচন আদায় করে নেওয়া। তবে দুই ক্ষেত্রেই  'ফেয়ার ইলেকশন' আদায় করতে হবে। সরকার যদি বুঝতে পারে, এ ধরনের নির্বাচনে বিএনপির জিতে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি, তাহলে কিন্তু তারা 'ফেয়ার ইলেকশন' দিতে চাইবে না।
বিএনপির সবচেয়ে শক্ত মিত্র জামায়াতে ইসলামী এখন চরম  সংকটে রয়েছে। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে একের পর এক ফাঁসি হয়ে যাচ্ছে দলটির প্রথম সারির নেতাদের। সম্প্রতি বিএনপির এক নেতারও ফাঁসি হয়ে গেল, যিনি দলের চেয়ারপারসনকেও কেয়ার করে কথা বলতেন না। তার সঙ্গে একই দিন ফাঁসি হলো জামায়াতের এমন একজনের, যিনি ২০০১-পরবর্তী বিএনপি সরকারে পূর্ণমন্ত্রী ছিলেন। তারা জাতীয় পতাকা তুলে দিয়েছিলেন জামায়াতের আরও একজনের গাড়িতে।
এটাও দলটির সংকটের জায়গা। বিচারিক প্রক্রিয়াতেই জামায়াত নাকি নিষিদ্ধ হয়ে যাবে অচিরেই। ইতোমধ্যে দলটি দুর্বল হয়ে পড়েছে। জামায়াতের ঘাঁটি বলে পরিচিত অঞ্চলেও তারা রয়েছে প্রশাসনিক চাপে। প্রশাসনে তাদের লোকজন রয়েছে বলে শোনা যায়; কিন্তু সৃষ্ট পরিস্থিতিতে তারাও মনে হয় সুবিধা করতে পারছেন না। এমনও হতে পারে, নিষ্ক্রিয় হয়ে যাচ্ছেন বা রঙ পাল্টাচ্ছেন। জামায়াতের অনেকে তো ক্ষমতাসীন দলেও যোগ দিচ্ছেন বলে খবর মিলছে।
এ অবস্থায় এমন প্রশ্নও রয়েছে, জামায়াত এমন একটা অবস্থায় থাকলে বিএনপি কী পারবে ফেয়ার ইলেকশন হলেও তাতে জিতে আসতে? তার সমর্থকগোষ্ঠী কি আগের মতোই রয়েছে দলটির পেছনে? মাঝে, এমনকি ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর তারা সার্বিকভাবে যে আচরণ করেছেন, তাতে দলটির ভোট কমেছে কিনা? বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে আসতে পারবে, এমন আশাবাদও কি বহাল রয়েছে?
এসব নিয়ে দলটির নীতিনির্ধারকদের যখন সিরিয়াসলি চিন্তা করার কথা, প্রয়োজন এমনকি দলের রাজনীতির নীতি ও কাঠামোগত সংস্কার, তখন তারা কী করছেন? বিজয়ের মাসে দলটির চেয়ারপারসন প্রশ্ন তুলছেন শহীদের সংখ্যা নিয়ে। এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বিএনপির রাজনীতির কোন উপকারটা করলেন? সমালোচনার মুখে পড়ে নেত্রীকে সমর্থন করে আবার বক্তব্য দিলেন আরেক নেতা। তিনি শহীদ বুদ্ধিজীবীদের সম্বন্ধেও কটূক্তি করলেন।
খালেদা জিয়া ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় যেসব প্রশ্ন তুলেছেন, একাডেমিক পর্যায়ে সেসব নিয়ে আলোচনা যে একেবারে নেই, তা নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, বিশেষত ফেসবুকেও এসব প্রশ্ন অনেককে তুলতে দেখা যায়। এর সবগুলোর যে তৈরি সদুত্তর রয়েছে, তাও বলা যাবে না। প্রশ্ন সেটা নয়। প্রশ্ন হলো, সংকটগ্রস্ত বিএনপি নেতৃত্ব বিজয়ের মাসে এসব প্রশ্ন তুলে কোন লক্ষ্য হাসিল করতে চায়? আদৌ কি দলটির কোনও লক্ষ্য রয়েছে?

অনেকে বলবেন, এর মধ্যে বলেছেনও, বরাবরের মতোই মুক্তিযুদ্ধ ও তার ইতিহাসকে তারা বিতর্কিত করতে চান। একজন পর্যবেক্ষক হিসেবে বলব, সময়ে সময়ে বিএনপি এটি করে আসলেও এবার তারা কিন্তু একটা ভয়ঙ্কর অবস্থান নিলেন, বুঝে বা না বুঝে। মানবতাবিরোধী অপরাধীদের সংগঠন জামায়াতও এমন তাচ্ছিল্যভরে প্রশ্ন তুলেছে বলে মনে পড়ে না। টকশোয়ও এভাবে কথা বলা আজকের দিনে কিন্তু কঠিন। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি ও চেতনার একটা সংহত অবস্থান কি বিএনপি নেতৃত্ব দেখতে পাচ্ছে না?

আর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি নিজেও তো দু'তিনবার রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল? তখন তারাও কি 'ত্রিশ লাখ শহীদের' কথা বক্তৃতা-বিবৃতিতে বলেননি? নাকি তারা শহীদের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণে কোনও উদ্যোগ নিয়েছিলেন? শহীদের তালিকা না করে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা প্রণয়ন এবং তাদের নানা সুযোগ-সুবিধা দেওয়া নিয়ে একটা জটিল কর্মযজ্ঞে ঢুকে পড়ার বিষয়ে অবশ্যই কথা আছে। কিন্তু বিএনপি সরকারও তো এ কর্মযজ্ঞে ছিল, নাকি? তারা তো আর যা-ই হোক, শহীদের তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেননি।

১৪ ডিসেম্বরে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসও তো তারা পালন করতেন রাষ্ট্রীয় ও দলীয়ভাবে, নাকি? তখন কি তারা কে 'নির্বোধের মতো' নিহত হয়েছেন, আর কে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে, তার তফাৎ করেছিলেন? আমরা জানি, অনেকে এমন প্রশ্নও তোলেন যে, একাত্তরে সারাবছরই তো বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড হয়েছে; তাহলে ১৪ ডিসেম্বর কেন দিবস পালন? এর উত্তরে বলা হয়ে থাকে, ওই সময়টায় বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড হয়ে উঠেছিল সুপরিকল্পিত। সিংহভাগ ও সেরা বুদ্ধিজীবীরা তখন নিহত বা গুম হন।
তাদের একটা শ্রদ্ধার আসন রয়েছে জাতির মননে, তা কি বিএনপি নেতৃত্ব জানে না? খালেদা জিয়ার প্রবাসী ছেলে ও দলের দ্বিতীয় নেতা তারেক রহমান মাঝে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কিছু উটকো প্রশ্ন তুলেছিলেন। তার প্রশ্ন তোলার ধরনটিও ছিল খারাপ। আর সবচেয়ে বড় কথা, এসব প্রশ্ন তোলার কী দরকার? বিএনপির কি আর কিছু বলার নেই? এমনকি দেশ এখন যে অবস্থায় রয়েছে বা যেভাবে চলছে, সে বিষয়ে?

পরিবর্তিত অবস্থায় বিএনপির এখন বরং উচিত ছিল জামায়াতের সঙ্গে তার গড়ে ওঠা সম্পর্কটা 'রিভিউ' করা এবং মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এতদিন তারা যা বলে এসেছেন, সেখান থেকে বেরিয়ে আসা। আমরা দেখলাম, মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার নিয়েও দলটি কোনও পরিষ্কার অবস্থান নিতে পারল না। সেদিনও বেগম জিয়া বললেন, এটা 'আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন' হতে হবে। এদিকে তার দলের এক নেতারও ফাঁসি কার্যকর হয়ে গেল!

এসব তিনি ও তারা ঠিক তখন বলছেন, যখন পাকিস্তান সরকার, পার্লামেন্ট ও রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে প্রায় একই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হচ্ছে। তাতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এটা বলার সুযোগ পাচ্ছে যে, খালেদা জিয়া 'পাকিস্তানি এজেন্ট'। মুক্তিযুদ্ধকালে  তার অবস্থান ও ভূমিকার প্রশ্নটা এ অবস্থায় নতুন করে সামনে চলে আসছে। এটা কি ভালো হচ্ছে বিএনপির জন্য? আর গয়েশ্বর রায় যা বললেন, সেটা খালেদা বলিয়েছেন বলেই কিন্তু সবাই ধরে নেবেন।

এরই মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া বিষয়ে একটু ইতিবাচক বক্তব্য রেখেছিলেন বলে মনে পড়ছে। তার কিছুদিন যেতে না যেতেই দলীয় চেয়ারপারসন যে 'পজিশন' নিলেন, সেটাকেই লোকে কিন্তু বিএনপির পজিশন হিসেবে নেবে। আর দলটি পড়বে নতুন করে সমালোচনার মুখে। বিএনপি না এখন পৌর নির্বাচনে রয়েছে? সেটা ভালোভাবে মোকাবিলা করাই কি তার কর্তব্য নয়?

বিএনপি পৌর নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে বলুক। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মত দিক এবং তাতে থাকুক নতুন কিছু। দেশে যে জঙ্গিবাদের নতুন ধরনের উত্থান হচ্ছে, সে বিষয়ে বিএনপির ভাবনা প্রকাশিত হোক। কিন্তু না, খালেদা জিয়া হুট করে বলে দিলেন, বর্তমান সরকার পদ্মা সেতু করতে পারবে না। আমরা ক'জন সেদিন মাওয়া গিয়ে কিন্তু দেখে এলাম, সেতুটি দিব্যি হয়ে যাচ্ছে। না হওয়ার তো কিছু নেই। হ্যাঁ, আপনারা এর কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলুন। সহজ ঋণের সুযোগ কেন নিতে পারল না সরকার, সেটা জানতে চান।

একাত্তর নিয়ে অগ্রহণযোগ্য ভাষা ও ভঙ্গিতে নিত্যনতুন প্রশ্ন তুলছেন; এদিকে যে ভারত সরকার ও প্রশাসনের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়তে হত্যা দিয়ে পড়ে ছিলেন, তার ব্যাখ্যা কী? কী না করেছেন আপনারা তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে! ধারণা করা যায়, বিএনপির সে নীতি এখনও পরিত্যক্ত হয়নি। কারণ ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে তারা বুঝতে পেরেছেন, ভারত এদেশে কত বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে। এটা বুঝতে পারা খারাপ নয়। এও বুঝতে পারতে হবে যে, একাত্তর নিয়ে বিএনপিকে তার রাজনীতিটা পুনর্বিবেচনা করতে হবে।

আর কিছু হোক না হোক, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হয়ে যেতে থাকার ভেতর দিয়ে জামায়াত সংকটগ্রস্ত হয়ে পড়ার যথাযথ মূল্যায়ন কি করতে হবে না বিএনপিকে? বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান মুখে কিছু না বলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী রাজনীতির গোড়াপত্তন করে গেছেন সন্দেহ নেই। কিন্তু একটা পর্যায়ে এসে সেটা তো আবার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে, নাকি? এটা বিচার করে না দেখে আগের ধারাতেই কি এগোবেন খালেদা জিয়া?

হতে পারে, তিনি মনে করছেন, আওয়ামীবিরোধী গোটা জনগোষ্ঠী এটাকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করবে। বিএনপির ভোটব্যাংক অক্ষত থাকবে এতে। ভোট হয়তো আরও বাড়বে। কিন্তু পুরনো এসব হিসাব কি ঠিক আছে? বিএনপি কি জরিপ করে দেখেছে এটা? নাকি অন্য কাউকে দিয়ে করিয়েছে? বিএনপি নেতৃত্বকে কিন্তু খতিয়ে দেখতে হবে যে, ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচনের পরও আওয়ামী লীগ সরকার দেশটা চালিয়ে যাচ্ছে কীভাবে? তার নিজের কোন কোন ব্যর্থতা এজন্য দায়ী?
দু' দুটি সহিংস আন্দোলনে শোচনীয় ব্যর্থতা একটা বড় কারণ সন্দেহ নেই। বহু মানুষ মনে করেন, এর মধ্য দিয়ে বিএনপির জনসমর্থন হ্রাস ও সাংগঠনিক ক্ষয় দুটোই হয়েছে। আর সরকার এটাকে চিত্রিত করতে পেরেছে এভাবে যে, মানবতাবিরোধী অপরাধী ও জামায়াতকে রক্ষায় তারা ওইসব কর্মকাণ্ডে মেতেছিলেন। অতঃপর খালেদা জিয়া ও তার অনুগতরা একাত্তর নিয়ে 'রাজনৈতিকভাবে ভুল' প্রশ্ন তুলে সেটাই প্রমাণ করে দিচ্ছেন। এটা আত্মঘাতী নয়?

আবারও বলছি, খালেদা জিয়া যে প্রশ্ন তুলেছেন বা গয়েশ্বর যা সমর্থন করলেন, তা অনেকের মনেই হয়তো আছে। কিন্তু কথা হলো, এখন এ প্রশ্ন তোলার প্রয়োজন কী? এটা কেন হঠাৎ প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠল? যদি কোনও গবেষক এ নিয়ে কাজ করেন বা কোনও লেখক এ প্রশ্ন তুলে কিছু লিখেন, সেটা ভিন্ন ব্যাপার। কিন্তু বিএনপি নেতৃত্ব কেন বিশেষত বিজয়ের মাসে এসব প্রশ্ন তুলবে? এটা তো ঝুঁকিপূর্ণও। কারণ এসব প্রশ্ন তুলে এতদিন ধরে গড়ে ওঠা জাতীয় আবেগের সামনে টেকা কঠিন।
মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ যে একটি অপরিবর্তনীয় সত্য, এটা জামায়াত কিছুটা বুঝে নিতে পারলেও একাত্তরে পরাজিত পাকিস্তান পারেনি। এখনও পারছে না। আইএসআইয়ের তহবিল সংকট নিয়ে কথা শোনা যায়। কিন্তু বাংলাদেশে তারা নাকি এখনও তৎপর। বাংলাদেশস্থ পাকিস্তান দূতাবাসের কারও কারও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তাদের পাঠিয়েও দেওয়া হচ্ছে নিজ দেশে। সেই সঙ্গে আওয়ামী লীগ এমন আওয়াজ তোলার সুযোগ পাচ্ছে যে, খালেদা জিয়াকেও পাকিস্তান পাঠিয়ে দেওয়া দরকার!

তাকে পাকিস্তান পাঠানো বা জেলে পোরা মুখের কথা নয়। দেশে খালেদা জিয়ার পেছনে লোকজন কম নেই। পেছনে লোকজন থাকাটাই আবার শেষ কথা নয়। আর তাদের ৮০ শতাংশই কি একাত্তর বিষয়ে এ ধরনের প্রশ্ন উত্থাপনে আনন্দিত? দলে সিনিয়র, জুনিয়র মিলিয়ে নেতৃত্বে যারা আছেন, তাদের অর্ধেকের বেশি কি একে সমর্থন বা প্রয়োজনীয় মনে করছেন? তারা কি মনে করেন, একাত্তর নিয়ে এভাবে প্রশ্ন তুলে এদেশে রাজনীতি করে এগিয়ে যাওয় সম্ভব?

প্রশ্নটা বিএনপির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্তদের কাছেই প্রথমে রাখলাম। তারা কি মনে করেন, দলীয় চেয়ারপারসন এসব প্রশ্ন তুলে বিএনপির উপকার করছেন; একে মজবুত ও নিরাপদ করে তুলছেন? নাকি বিএনপির ভিন্ন কিছু করা উচিত? এমনও কিন্তু নয় যে, ভিন্ন কিছু করার পাশাপাশি বিএনপি এসব প্রশ্ন তুলছে। দলটি কার্যত কিছুই করছে না; সময়ে সময়ে একাত্তর নিয়ে কেবল বেঠিক প্রশ্ন তুলছে।


বিএনপি সার্কেলে খুব শোনা যায়, মুক্তিযুদ্ধ 'বেচে' সরকার নাকি খাচ্ছে। খালেদা জিয়ার বক্তব্য হয়তো তারই একটা খাপছাড়া প্রতিক্রিয়া, যাতে স্পষ্ট কোনও রাজনৈতিক লক্ষ্য নেই। গায়ের ঝাল মেটানোর একটা ব্যাপার এতে থাকলেও থাকতে পারে। কোনও রাজনীতি নেই। কোনও চেষ্টা নেই পরিবর্তিত পরিস্থিতি বুঝে ওঠার। নেতৃত্বের কোনও গুণ নেই এতে। দলটিতে ন্যূনতম গণতন্ত্র থাকলেও এ নিয়ে প্রশ্ন উঠতো হয়তো। খালেদা জিয়া ও তার ছেলে  সেটা বানচাল করে বসে আছেন বলে প্রশ্নটা উঠছে না। কিন্তু মনে হয়, প্রশ্ন রয়েছে।

জামায়াত নাকচ হয়ে গেলেও বিএনপি থাকছে এবং এর নেতৃত্বকে একাত্তর বুঝেই পথ চলতে হবে। নইলে এটা ঘিরে তার মধ্যে বাড়বে বিভ্রান্তি এবং বিভক্তিও আসতে পারে। আর সরকার পক্ষ একে উৎসাহিত করলে কি অবাক হওয়া যাবে? রাগের মাথায় খালেদা জিয়া তারই সুযোগ করে দিচ্ছেন না তো?


লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune

কলামিস্ট

টপ