behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

২০১৫: যে বছরে ফাঁস হলো তাদের পাকিস্তান-প্রেম

নাদীম কাদির১২:৫৫, ডিসেম্বর ৩১, ২০১৫

Nadeem Qadirএএফপিতে কাজ করার সময় একটা কাজের ভার আমার ঘাড়েই পড়তো- বছর শেষে বাংলাদেশের সালতামামি। ওই এজেন্সি ছাড়ার ১১ বছর পর এখন আবার ভাবছি, যখন আমি দেশের বাইরে, তখন আবার চেষ্টা করে দেখা যাক নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে দেশের এক বছরের ঘটনাগুলোকে দেখার।
দুটো বিষয় বেশ পরিষ্কার ধরা পড়লো। একটি হলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের উত্থান; আরেকটি হলো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির স্বাধীনতা-বিরোধী ও পাকিস্থানপন্থী অবস্থান।
এ নিয়ে পর পর দুটো উপলক্ষে পশ্চিমের লোকজন আমাকে বলেছে, ‘তোমাদের প্রধানমন্ত্রী মোটেও ননসেন্স নেতা নন। তিনি বেশ টাফ।’ ব্রিটেনের প্রভাবশালী পত্রিকা গার্ডিয়ানও আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে একই কথা বলেছে।
আর ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হওয়ার লক্ষ্য অর্জনের জন্য বাংলাদেশের এমনই একটি নেতৃত্ব দরকার।
বিশ্ব ব্যাংক এখন দেখেও না দেখার ভান করছে যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে মাল্টি বিলিয়ন ডলারের পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করে দিয়েছেন। ২০১৯ সাল নাগাদ যা শেষ হবে।
এবার আসা যাক আদালতের নির্দেশে জঘন্য যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও মুজাহিদের ফাঁসির দণ্ড কার্যকর প্রসঙ্গে। ওয়াশিংটন থেকে পাকিস্তান, পাকিস্তান থেকে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, সবাই আহ্বান ও আবেদন জানিয়েছিল; তবে সবই হয়েছে নিস্ফল। প্রধানমন্ত্রী সম্মান দেখিয়েছেন দেশের ৯০.৯ শতাংশ মানুষের ইচ্ছার প্রতি এবং রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ করেছেন তিনি যেন ১৯৭১ সালে সংঘটিত অপরাধের স্বীকারোক্তি ও ক্ষমা প্রার্থনার ফর্মে স্বাক্ষর না করেন।
শত চাপ মোকাবেলা করে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী আগামী দিনগুলোতেও অনেক অনেক স্যালুট পাওয়ার দাবিদার।
বিএনপির প্রসঙ্গে আসলে প্রথমেই বলতে হয় একটি ঘটনার কথা। সেটা কাকতালীয় নাও হতে পারে। দুই যুদ্ধাপরাধীর দণ্ড কার্যকরের দিন আচমকা খালেদা জিয়ার বাড়িতে ফেরার ঘটনাটা আমাদের মনে বহুকাল প্রশ্ন জাগিয়ে রাখবে।
তিনি ও তার বিএনপি ক্রমাগতভাবে অপরাধী সংগঠন জামায়াতে ইসলামীর প্রতি নিজেদের সমর্থন বজায় রেখেছেন। পাশাপাশি ‘ত্রুটিপূর্ণ বিচার’ ও ‘ন্যায়বিচার’-এর ছুতো দেখিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের প্রতি প্রদর্শন করে যাচ্ছেন নমনীয়তা।
স্বাধীনতার পর যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসনের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতিকে বিষাক্ত করা ও ইসলামের কার্ড ব্যবহার করে ক্ষমতা ধরে রাখার যে অন্ধকার ইতিহাস তৈরি করেছেন জিয়াউর রহমান, সেটা কেউ ভুলতে পারবে না। ওই ধারাই অব্যাহত রেখেছেন বেগম জিয়া। যিনি মুজাহিদ ও নিজামীকে তার কেবিনেটের পূর্ণ মন্ত্রী বানিয়েছিলেন।
এখানেই শেষ নয়, বিএনপি ও এর বেগম এটা নিশ্চিত করে ছেড়েছেন যে তারা মূলত সাবেক পূর্ব পাকিস্তান ও বর্তমান বাংলাদেশে বসে পাকিস্তানেরই স্বার্থরক্ষা করে চলেছে। দলটি এখন ইসলামাবাদেরই প্রক্সি পার্টি।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে ঠিকই লিখেছেন, ‘আমি ক্ষুব্ধ যে বিজয়ের মাসে খালেদা জিয়া এবং তার দল বিএনপি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাচ্ছে। খালেদা নৃশংস পাক আর্মি ও তাদের সহযোগী খুনি জামায়াতে ইসলামী কর্তৃক আমাদের নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের হত্যাকাণ্ডের সংখ্যাকে পাকিস্তানিদের মতোই কমিয়ে বলে আসছে। সে দাবি করছে মাত্র কয়েক শত হাজার হত্যা হয়েছে। আজ বিএনপি এমনকি সেই মৃতের সংখ্যার ওপর জনমত জরিপ করতে বলছে! স্বীকৃত সত্য সব সময়ই সত্য। সেটা কখনও জরিপ দিয়ে প্রমাণিত হয় না।’
লন্ডনে সাপ্তাহিক সুরমা নামের সংবাদপত্রটি নিজেদের নিরপেক্ষ দাবি করলেও এর সঙ্গে বিএনপি ও জামায়াতের অন্তরঙ্গ সম্পর্কের কথা সবাই জানে। আর তাই বিজয় দিবসের দিন পত্রিকাটির সম্পাদকীয় ছিল, বিএনপি-জামায়াতের বক্তব্যের মতোই লজ্জাজনকভাবে বিকৃত ইতিহাসে ভরপুর।
এরা লিখেছে, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ জিয়াউর রহমানের ঘোষণার পর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আঘাত হানে ইত্যাদি ইত্যাদি। ২৫ মার্চ ঢাকা ও এর প্রাণকেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার কিছু সময় পরই যে নৃশংস ঘটনা ঘটেছে সেটা কেউ কী করে ভুলতে পারে!
সাপ্তাহিকটি শেখ হাসিনার সরকারকে ‘অনির্বাচিত’ বলে থাকে এবং তাকে অপসারণ করার কূটকৌশলে রত। এটা এও লিখেছেন, ‘মানুষ সত্যিকারের বিজয়ের স্বাদ পাবে যখন তারা অনির্বাচিত সরকারের হাত থেকে রেহাই পাবে।’
হ্যাপি নিউ ইয়ার!

লেখক: সাংবাদিকতায় জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারসোল্ড স্কলার এবং লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune

কলামিস্ট

টপ