behind the news
Vision  ad on bangla Tribune

ফেসবুক: মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের কাছে আশা

আরিফ জেবতিক১৮:৫২, জানুয়ারি ০২, ২০১৬

Arif Jebtikমেয়েটি আমার খুব চেনা, তার গল্পটিও আহামরি কিছু নয়। ১৭ বছর বয়সে বিয়ে হয়েছিল, বিয়ের অল্পদিন পরেই মোহমুক্তি ঘটে। তরুণ স্বামী বেকার-মাদকাসক্ত। ইচ্ছামতো মারধোর করেন। যেহেতু পরিবারের আয়োজনে বিয়ে, তাই সংসার থাকবে কি থাকবে না, এ নিয়ে টানাপড়েন চলে কিছুদিন। তবে একসময় মেয়েটির পক্ষে আর সংসার করা সম্ভব হয় না। কয়েকমাস অসহায় জীবনযাপনের পর আমাদেরই এক সহকর্মীর চেষ্টায় উত্তরায় এক অফিসে মধ্যমমানের চাকরি। সেই চাকরিতে বিধবা মা'কে নিয়ে মোটামুটি চলে যাচ্ছে—এটুকুই জানতাম আমি।
কয়েকমাস আগে একটা কাজের ছুঁতোয় আমাকে ফোন দিয়েছিলেন, কথা প্রসঙ্গে জানাল চাকরিটা সে ছেড়ে দিচ্ছেন, কারণ মাস্টার্সে ভর্তি হবেন এবার। বেসরকারি অফিসের চাপ সামলে উত্তরা থেকে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস করা সম্ভব হবে না, তাই চাকরিটা তিনি স্বেচ্ছায় ছেড়ে দিচ্ছেন। আমি হা-হা করে উঠলাম, চাকরি ছেড়ে দিলে খাবেন কী? জবাবে মেয়েটি যা জানালেন, তা আমার জন্য রীতিমতো চমকানোর বিষয়। তিনি প্রায় বছরখানেক ধরে ফেসবুকে একটি অনলাইন পেজের মাধ্যমে প্রোডাক্ট বিক্রি করেন, সেটা দিয়ে তার যা আয় হয়, তিনি এখন আত্মবিশ্বাসী যে, চাকরি ছাড়াও ভালোমতোই খেয়ে পরে বেঁচে থাকবেন।
সত্যি বলতে কি, বিষয়টির কথা শুনে আমার এত্ত ভালো লেগেছিল, সেটি লিখে বোঝাতে পারব না।
ঘটনাটি আবার মনে পড়ল ইংরেজি নববর্ষের শুরুর দিন।
ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যার আমার নমস্য। স্যার নববর্ষে তার ১০টি চাওয়া-পাওয়ার কথা লিখেছেন, তার মাঝে ৯ নম্বরটি হচ্ছে ‘ফেসবুক থেকে মোহমুক্তি’। স্যারের এই ৯ নম্বরটি পড়ে আমার ওপরের ঘটনাটি মনে পড়ল।
স্যার লিখেছেন, ‘খবরের কাগজের সংবাদ এই দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ দিনে এক ঘণ্টা থেকে বেশি সময় ফেসবুক করে (শুদ্ধ করে বলতে হলে, সামাজিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে)। খবরটার আরও ভয়ঙ্কর অংশটি হচ্ছে, ২৩ শতাংশ মানুষ দিনে ৫ ঘণ্টার থেকে বেশি সময় ফেসবুক করে কাটায়। কি ভয়ঙ্কর ব্যাপার! অল্প কয়দিনের একটা জীবন নিয়ে আমরা সবাই পৃথিবীতে এসেছি। সেই জীবনে কত কী দেখার আছে, কত কিছু করার আছে! তার কিছুই না দেখে, কিছুই না করে ফেসবুকের স্ট্যাটাসের পেছনে কয়টা লাইক পড়েছে, সেটা গুনে গুনে জীবন কাটিয়ে দেব?’
ফেসবুক সম্পর্কে স্যারের এক ধরনের অনীহার কথা আমরা সবাই জানি। স্যারের নিজের কোনও ফেসবুক একাউন্ট নেই। স্যার আগেও একবার 'লাইক গোনা' প্রজন্ম হিসেবে আমাদের প্রজন্মকে চিহ্নিত করেছিলেন। তারপর যখন এই ব্লগ-ফেসবুকের সূত্রেই ২০১৩ সালে শাহবাগে এক অদ্ভুত সুন্দর গণজাগরণের সূচনা হলো, তখন স্যার সেখানে গিয়ে তার কথা প্রত্যাহার করেছিলেন। তিনি সেদিন বুঝতে পেরেছিলেন যে, এখানে সবাই লাইক গোনায় ব্যস্ত নন, এখানে দেশের ইতিহাস, বর্তমান আর ভবিষ্যত নিয়ে তরুণদের মাঝে রীতিমতো তথ্যের আদানপ্রদান হয়, ঝগড়াবিবাদ হয়, কিন্তু শেষ বিচারে সবাই এখানে তর্কবিতর্ক করে এগিয়ে যান। ইতিহাস ও বর্তমানের তথ্য বিকৃতি এখানে একতরফা আর করা সম্ভব নয়, আমরা পরস্পরের কাছ থেকে শিখি, জানি এবং এভাবেই এগিয়ে যাই।
কিন্তু নববর্ষের লেখাটি পড়ে যা বুঝলাম, স্যার এখনও ২০১৩ সালের গোড়ার দিকের ধারণা থেকে খুব একটা সরে আসেননি। তার কাছে মনে হয়েছে ফেসবুকে মানুষের ব্যাপক সময়ের অপচয় হচ্ছে। স্যার লিখেছেন, ‘অল্প কয়দিনের একটা জীবন নিয়ে আমরা সবাই পৃথিবীতে এসেছি। সেই জীবনে কত কী দেখার আছে, কত কিছু করার আছে!’
আমি স্যারকে ‘কত কিছু করার’ হাজারটা গল্প বলতে পারি।
এবার নাম ধরে ধরেই বলি। মুক্তার ইবনে রফিক নামের একজন আমার ফ্রেন্ডলিস্টে আছে। এই ছেলের ফোন দেখলে আমি ভয়ে ফোন ধরি না। সে কোনওদিন নিজের জন্য কিছু চায় না, কিন্তু সবসময়ই সে আর তার বন্ধুরা বড় বড় সব কাজকর্ম নিয়ে তারা ব্যস্ত এবং সে নিয়ে নিত্য নতুন পরিকল্পনা। তাদের গ্রুপটার নাম লাইটার, ফেসবুকের মাধ্যমেই তারা এক হয়েছে। মুক্তার এবং তার বাকি বন্ধুরা ( ওদের সবার নাম আমি বলতে পারছি না কারণ ওরা ফোন করে ত্যক্ত করে না)  নিয়মিত সেই লাইটার নিয়ে ক্লান্তিহীন কাজ করে যাচ্ছে। এই তো গত ডিসেম্বরেই অসহায় চা শ্রমিক মুক্তিযোদ্ধা নিমাই রায়কে বানিয়ে দিয়েছে একটা মুদি দোকান। চট্টগ্রামে একেবারে গ্রামের একটা প্রাইমারি স্কুলে গিয়ে সবাইকে নিয়ে একটা শহীদ মিনার গড়ে ফেললেন এই তরুণরা!
ফেসবুকের আরেকটা গ্রুপ ছিল 'আমরা খাটি গরিব।' এটার নেতৃত্বে রাকিব কিশোরের মতো তরুণরা। তারাও অনেক কাজকর্ম করে, তবে আমার নজর কেড়েছে তাদের আম উৎসব। গ্রীষ্মে যখন আমরা মধুমাসের আম খাওয়া নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি, তখন পথের ধারের গরিব শিশুরা যে আম খেতে পারেন না, সেটা দেখে খাটি গরিব তরুণদের খুব মন খারাপ। তারপর নিজের মতো করে চাঁদা তুলে এই শিশুদের আম খাওয়ানোর চেষ্টা। ৫ বছর আগের এই ছোট চেষ্টাটাই গতবছর পর্যন্ত বেশ বড় হয়ে গিয়েছিল। সারাদেশের বিভিন্ন শহরের ফেসবুক ব্যবহারকারী তরুণরা এই গ্রুপের সদস্য, একযোগে সারাদেশে এখন হাজার হাজার বাচ্চাকে গ্রীষ্মের আম দেওয়া হয়েছে। আম হাতে নিয়ে এসব বঞ্চিত শিশুরা হাসিমুখে পোজ দিচ্ছে এমন ছবিতে ফেসবুক সয়লাব। দুঃখের বিষয় এই গ্রুপটি এখন আর এই কাজ করবে না বলে জানিয়েছে, সম্ভবত তাদের ধারণা হচ্ছে—এভাবে একদিনের আম বিলিতে কাজ হবে না, পথশিশুদের উপকারের জন্য আরও টেকসই কিছু করতে হবে। তবে, এই যে ফেসবুককে কেন্দ্র করে সারাদেশে এত বড় করে সংগঠিত হলেন তরুণরা, সেই সাংগঠনিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে তারা ভবিষ্যতে বড় কিছু করে ফেলবেন—এটা আমার বিশ্বাস।
পথশিশুদের জন্য টেকসই কিছু করার ক্ষেত্রে আমি নাম বলতে পারি বন্দনা কবীর আর জামান পায়েলদের। ময়মনসিংহের ছিন্নমূল শিশুদের জন্য স্বেচ্ছাসেবায় আস্ত একটা স্কুল দাঁড় করিয়ে ফেলেছেন তাদের 'ঘাসফুল' নামের ফেসবুক কেন্দ্রিক যূথবদ্ধতায়। সেই স্কুলে বাচ্চাদের ভালোভাবে লেখাপড়া শেখানো হয়, বই দেওয়া হয়, এমনকি শীতের কাপড়ও দিচ্ছেন তারা। তাদেরও নিজেদের বড়সড়ো কোনও ফান্ড নেই, নিজেরা নিজেরা মিলে এই কাজ করে ফেলছেন। ফেসবুক এখানে সমমনাদের একত্রিত হওয়ার প্লাটফরম তৈরি করে দিচ্ছে।
আরেকটা গ্রুপের নাম 'পরিবর্তন চাই।' তাদের বড় প্রজেক্ট হচ্ছে 'দেশটাকে পরিষ্কার করি।' আজকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির রাস্তা ঝাড়ু দেওয়ার ছবি নিয়ে মিডিয়ায় লোফালুফি হয়, কিন্তু এর অনেক  আগে থেকেই পরিবর্তন চাই—এই কাজটি করে যাচ্ছে। তারা দলবেঁধে রাস্তা পরিষ্কার করেন। এই কাজটি ঢাকায় শুরু হয়েছিল, এখন তারা বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছেন। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার প্রতি জনসচেতনা তৈরির এই প্লাটফরমেও কিন্তু দলে দলে তরুণরা যুক্ত হয়েছেন এই ফেসবুকের মাধ্যমেই।
একটা ছোট্ট গ্রুপ ছিল ফেসবুকে। গ্রুফটির সদস্যারা হাসপাতালে ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুদের পাশে বসে গল্পের বই পড়ে শোনাতেন। কি মহতি চিন্তা, কি অদ্ভুত সুন্দর তাদের হৃদয়!
ফেসবুকে তরুণ উদ্যোক্তাদের একটা গ্রুপের নাম 'চাকরি খুঁজব না, চাকরি দেব'। এখানে বড় বড় করপোরেট এন্টারপ্রেনিউর নেই, সবাই একেবারে তৃণমূলের ব্যবসায়ী। কেউ খুলনা থেকে মধু এনে বিক্রি করছেন, কেউ টিশার্ট তৈরি করেন বা কেউ হয়তো মাশরুম চাষ করে সাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করেন। এই ছোট ছোট উদ্যোক্তাদের প্রতিনিয়ত যে কী পরিমাণ হেনস্থার মুখোমুখি হতে হয় সে শুধু তারা নিজেরাই জানেন। ফেসবুকে তাদেরই সম্মিলিত প্লাটফরম 'চাকরি খুঁজব না, চাকরি দেব'। এখানে পরস্পরের সঙ্গে তারা আইডিয়া শেয়ার করেন, বিভিন্ন প্রতিকূলতা সম্পর্কে তথ্য আদানপ্রদান করেন—সবাই মিলে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এই গ্রুপের সদস্যরা।
স্যার যে সাইকেল লেনটি চাইলেন, দেশে সাইকেল ব্যবহারের এই বিপ্লবও কিন্তু শুরু হয়েছিল এই ফেসবুকের মাধ্যমেই। বিডিসাইক্লিস্ট গ্রুপ চোখের সামনে বাইসাইকেল চালানোটাকে নতুন প্রজন্মের নতুন ফ্যাশনে পরিণত করে ফেলল। তাদের হাজার হাজার সদস্য এখন সারাদেশে সাইকেল চালিয়ে বেড়ান, নিজেদের মতো করে উৎসব করেন, রাইড করেন, তথ্যের আদানপ্রদান করেন। লাইক গোনায় তারা সময় নষ্ট করেন না।
সম্প্রতি আরেকটি উদ্যোগ আমার নজর কেড়েছে। সেটি হচ্ছে , ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র থেকে বলছি’— ফেসবুকের কয়েকজন তরুণ মিলে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সবগুলো দলিলকে ইউনিকোডে টাইপ করে অনলাইনে সহজলভ্য করে দিচ্ছেন। কথাটা বলা যত সহজ, কাজ তত সহজ নয়। ১৫টি বড় বড় খণ্ডকে দিনরাত টাইপ করে যাচ্ছেন ২৫/৩০ জন তরুণ, শুধু দেশকে ভালোবেসে তারা নিজেদের সব অবসরকে উৎসর্গ করছেন।
সরকারি কর্মকর্তারা অনেকে ফেসবুককে ব্যবহার করে অপ্রত্যাশিত জনসেবা দিয়ে থাকেন। তরুণ পুলিশ কর্মকর্তা মাশরুফ হোসেইন উত্তরা জোনের জন্য একটি ফেসবুক পেজ করেছিলেন। উত্তরার কোথাও কোনও অনাচার দেখা গেলে সেটা শুধু তাদের পেজে জানানোর অপেক্ষা, পুলিশ দ্রুত গিয়ে ব্যবস্থা নেবে। সাধারণ মানুষ এই পেজ থেকে অনেক উপকার পেয়েছেন। এমনিতে কেউ থানার বারান্দায় গিয়ে কোনও অসঙ্গতি নিয়ে হয়তো অভিযোগ করার সাহস করবেন না, কিন্তু পথের কোন কোনায় মাদক বিক্রি হয়, সেটি ফেসবুকের পেজে গোপনে দিয়ে দেয়ার মতো নাগরিক আমাদের কম নয়।
আরেকটি আলোচিত পেজ হচ্ছে এয়ারপোর্ট ম্যাজিস্ট্রেটদের পেজ। আমাদের প্রবাসীরা প্রতিনিয়ত বিমানবন্দরে হয়রানির শিকার হতেন। বিমানবন্দরে যে এসবের প্রতিকার পাওয়া যায়, এ কথা কেউ জানতই না। এয়ারপোর্টের তরুণ ম্যাজিস্ট্রেটরা ফেসবুক পেজ তৈরি করলেন। সেখানে প্রতিদিন হয়রানির শিকার যাত্রীরা অভিযোগ জানাতে পারেন—সঙ্গে-সঙ্গে প্রতিকার পাওয়া যায়। এয়ারপোর্টের আর্মড পুলিশ ব্যাটিলিয়নের পেজটিও খুব জনপ্রিয়, বিমানবন্দরে কোনও ধরনের বেআইনি কাজ তারাও বরদাশত করেন না। অথচ মধ্যপ্রাচ্যের একজন দেশফেরত নিরীহ শ্রমিকের পক্ষে ম্যাজিস্ট্রেট অথবা পুলিশ অনেক বড় ব্যাপার, ফেসবুক ছাড়া তাদের পাওয়ার কোনও উপায় তাদের জানা নেই।
একইভাবে কাজ করছে ভ্যাট-এর একটি গোয়েন্দা দলও। নগরীর অভিজাত রেস্তোরাঁগুলোয় খাবার বিলের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত করা হয়, কিন্তু সেই ভ্যাট আদতেই সরকার পায় কি না, সেটা জানার কোনও উপায় নেই। কোথাও এরকম হলেই ফেসবুক ব্যবহারকারীরা সেই পেজে জানিয়ে দিচ্ছেন, ভ্যাট গোয়েন্দারা সঙ্গে-সঙ্গেই হানা দিচ্ছেন সেই রেস্তোরাঁয়।
বিলের কাগজের ছবি মোবাইলে তুলে ওই পেজে আপলোড করার নাম দিয়েছি আমি 'ভ্যাট ফি'। সরকারের পক্ষে ভ্যাট ফাঁকি রোধে পেজটি যে কত লাখ টাকার উপকার করছে দেশের, সেটি সংশ্লিষ্টরা ভালো বলতে পারবেন, তবে পরিমাণ যে মন্দ নয়, সেটি ধারণা করতে পারি।
ব্যক্তিগত পর্যায়ে ফেসবুক যে মানুষের কী উপকার করে, সেটির তালিকা অনেক দীর্ঘ। আমি রাত দুটোতে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েও অনায়াসে রক্ত যোগাড় করেছি। সেদিন আমাদের বন্ধু হাসান মোরশেদ একাত্তরে শরীরে গুলি থেকে যাওয়া আহত মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্রোপচার করিয়ে ফেললেন সিলেটে, সমর্থন যোগাল তার ফেসবুক বন্ধুরা।
আমি যদি তালিকা করতে চাই, তাহলে এই তালিকা অনেক দীর্ঘ হবে, আমি সেই প্রয়াস নিচ্ছি না।
আমি শুধু স্যারকে উপরের কিছু  উদাহরণ দিয়ে 'লাইক গোনায়' ব্যস্ত প্রজন্মের কিছু খবর জানাচ্ছি।
মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যার আমাদের বাতিঘর, তিনি দেশের অযুত কিশোর-তরুণের অনুপ্রেরণা। স্যার সবসময় আমাদের যুক্তি দিয়ে বিচার করতে শেখান। দেশের হাজার হাজার মানুষ কেন ফেসবুক ব্যবহার করে, সেটা জানার জন্য কৌতূহল নিয়েও তিনি ফেসবুকে আসবেন—এমনটা আশা করেছিলাম। অথচ স্যারের নিজের ফেসবুক একাউন্ট নেই। একটা নতুন ধরনের সামাজিক যোগাযোগ তৈরি হচ্ছে, এখানে সাধারণ মানুষ নিজেদের  মানসিকতার অন্য মানুষকে খুঁজে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে, সাধারণের শক্তি বিকশিত হচ্ছে—এটা অভূতপূর্ব ব্যাপার। ভালোরা এখানে কাজ করছেন, মন্দ মানুষরাও এখান থেকে যোগাযোগ তৈরি করে অন্যদের কোপাচ্ছেন, কেউ নিজে দান করছেন, আবার অনেক খারাপ মানুষ হয়তো প্রতারণাও করছেন—কিন্তু সব মিলিয়ে ফেসবুক আসলে অনেক বড় এক কর্মযজ্ঞ। একজন লেখক হিসেবে স্যার আগ্রহ ভরে বিষয়টি দেখবেন, এমনটাই আশা করেছিলাম আমি। কিন্তু স্যার সেটি এখনও করেননি, নিজে ফেসবুকে না থেকে, নিজে বিচার না করে তিনি পূর্বধারণা করছেন যে ফেসবুকে বসে বসে আমরা সবাই লাইক গুনে দিন পার করি—এ বড় হতাশার কথা।
নতুন বছরে আমার আশা স্যারের নিজের একটা ফেসবুক একাউন্ট হবে। ভার্চুয়াল যে জীবন আছে, সেখানেও বন্ধুত্ব হচ্ছে, শত্রুতা হচ্ছে; অনেক ভালো কাজও হচ্ছে। স্যার নিজে ফেসবুকে লগইন করে সামাজিক যোগাযোগ তৈরির এই নতুন অধ্যায়টি নিজে আগ্রহ ভরে দেখবেন, এ আশা তো আমি করতেই পারি।

লেখক: ব্লগার অ্যান্ড অ্যাকটিভিস্ট

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

Global Brand  ad on Bangla Tribune

লাইভ

টপ