behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

বিরোধী দল কারে কয়?

তুষার আবদুল্লাহ১৪:৫১, জানুয়ারি ০৩, ২০১৬

Tushar Abdullahবিরোধী দল বলতে আমরা কী বুঝি? এই প্রশ্ন উঠেছিল পৌর নির্বাচনের মাঠে। পৌর শহরগুলোতে ভোটাররা নাকি বিরোধী দলকে খুঁজেও তাদের হদিস পাননি। ভোট দেওয়ার জন্য বিরোধী দলের খোঁজ করা হয়েছে এমন নয়। ভোটারদের ধারণা ছিল নির্বাচনের মাঠে উত্তাপ ছড়াতে ক্ষমতাসীন দলের প্রতিদ্বন্দ্বী হবে বিরোধী দল। পৌর ভোটারদের দোষ নেই। তাদের দাবিতে যৌক্তিকতা আছে। কারণ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে-পরে তারা শুনে আসছে জাতীয়পার্টি নামের একটি দল উচ্চস্বরে বলে যাচ্ছে- আমরা সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দল হবো।
সংসদে প্রবেশ করে, আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধী দলের আসনে বসে, সরকারে যুক্ত হয়ে তারা বার-বার উচ্চস্বরে বলে গেছেন- আমরা বিরোধী দলের ষোলআনা পারফরমেন্স দেখাবো। সরকারের দুই বছরে তারা আওয়াজ দিয়ে একাধিকবার বলেছেন- যেকোনও সময় মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করবে, বিরোধী দলের পারফরমেন্স দেখাবার স্বার্থে। না, এই আওয়াজ আর বক্তব্য সংসদ ও দলীয় কার্যালয়ের বাইরে গিয়ে মাঠে গড়ায়নি। বরং বিরোধী দলের নেতার দায়িত্বে থাকা রওশন এরশাদ, দলের চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদসহ নেতারা যার যেমন খুশি কথা বলে গেছেন। তাদের কথায় পরস্পর বিরোধী অবস্থানও ছিল, আছে। তারা সরকার ও রাজনীতি নিয়ে হাস্যকর মন্তব্য করেছেন লাগাতার। সর্বশেষ পৌর নির্বাচন নিয়েও তারা গোছালো বক্তব্য দিতে পারেননি। যার প্রভাব পৌর নির্বাচনের মাঠে দেখা গেছে।
মহাজোটভুক্ত হয়ে, সরকারের সঙ্গে দুই বছর থেকে, সংসদে প্রধান বিরোধীদলের ভূমিকায় থেকে একটি দল তার তৃণমূলকে গুছিয়ে নেবে এমন প্রত্যাশা করাই যায়। তৃণমূলের সংগঠন শক্তিশালী করার একটি বড় সুযোগ ছিল জাতীয় পার্টির। কিন্তু পৌর নির্বাচনে দেখা গেলো দলের কেন্দ্রের বিশৃঙ্খলতার শিকার তৃণমূলও। তারা ২৩৪টি পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী দিতে পারেনি। প্রার্থী দিতে পেরেছে মাত্র ৯৩টি পৌরসভায়। শেষপর্যন্ত নির্বাচনের মাঠে ছিলেন মাত্র ৭৩ জন প্রার্থী। সেখান থেকে জিতে আসতে পেরেছেন একজন। সেটা কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী পৌরসভা থেকে।
মনোনয়ন দেওয়ার সময়ই শোনা যাচ্ছিল লাঙল প্রতীক নিয়ে যারা নির্বাচন করার ছাড়পত্র পাচ্ছেন, তারা জাতীয় পার্টির তৃণমূলের প্রকৃত নেতা নন। দশ হাজার টাকার বিনিময়ে অনেক মৌসুমী নেতাকর্মীর হাতে লাঙল প্রতীক ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে ক্ষুদ্ধ হয়েছে এরশাদের সঙ্গে দীর্ঘসময় থাকা তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। রাজনৈতিক মেরুকরণের দিক দিয়েও নির্বাচনের মাঠে জাতীয় পার্টি সুবিধাজনক অবস্থায় ছিল না। কারণ মহাজোটের সব দল নিজ নিজ প্রতীকে নির্বাচন করেছে। আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা নৌকায় ভোট দেবেন, বিএনপির কর্মীরা ধানের শীষে ভোট দেবেন এটাই সূত্র। আর সরকারে রুষ্ট যে ভাসমান ভোটার, তাদের ভোট নিশ্চয়ই মহাজোটের সঙ্গীর কাছে যাবে না? সেই ভোট যাওয়ার কথা ধানের শীষ বা অন্য কোনও স্বতন্ত্র প্রতীকের কাছে। ফলে লাঙল মাঠে বিরোধদলের ইমেজ তৈরি করতে না পারায়, তাকে বিরোধী দলের স্বীকৃতি দেয়নি ভোটাররা। যদিও নির্বাচনের আগে বিরোধীদলের ইমেজ নেওয়ার প্রাণান্ত চেষ্টা করেছেন এরশাদ নিজে। তিনি নির্বাচন কমিশনকে মেরুদণ্ডহীন বলেছেন। নির্বাচনে কারচুপির কথা বলেছেন এবং পূর্বাভাস দিয়েছিলেন ভোটগ্রহণ সকাল ৯টার মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। প্রধান বিরোধীদলীয় নেত্রী অবশ্য স্বামীর সাফাই গেয়ে বলেছেন- এরশাদকে অনেক কথাই বলতে হয়। কেন বলতে হয়? এই প্রশ্নটি এখন সাধারণের দিক থেকে ওঠতে পারে। হয়তো রওশন এরশাদ প্রধান বিরোধী নেত্রী হয়ে ওঠার অভ্যাস তৈরি করতে পারেননি বলেই, এরশাদকে এ ধরনের মন্তব্য করে জাতীয় পার্টির গায়ে বিরোধী দলের স্টিকারের আঠা ভিজিয়ে রাখতে হচ্ছে। কিন্তু প্রবীণ এই নেতার হাঁকডাকেও সাড়া মাত্র একটি পৌরসভা। এখন এরশাদ, রওশনের কাছে জানতে চাইতেই পারেন- সখি বিরোধী দল কারে কয়? তুমি বলো বিরোধী-বিরোধী, লোকে কেন কয় না!

লেখক: বার্তা প্রধান, সময় টিভি

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune

কলামিস্ট

টপ