Vision  ad on bangla Tribune

পর নিন্দা পর চর্চা

মাহমুদুর রহমান১১:৪০, জানুয়ারি ১৫, ২০১৬

Mahmudur Rahmanবাঙালি মাত্রই গল্প-গুজবে মেতে থাকতে পছন্দ করে। বলার অপেক্ষা রাখে না যে গল্প করার কল্পরাজ্যে অন্যের দোষ-গুণ নিয়ে তাতে ভাবের মসলা যোগ করে ডাল বাগাড় দেওয়ার মতো নাড়াচাড়া ছাড়া গল্পটি ঠিক জমে না। এক সময়ে যে পরশ্রীকাতরতা গর্হিত অপরাধ ছিল, মিথ্যে কথার মতো তা আজ হাস্যরসে পর্যভূষিত। মুঠোফোনের বদৌলতে মিছে কথার যেমন গ্রহণযোগ্য প্রসার ঘটেছে, তেমনি নারীকূল তীর্যক সহাস্যতায় মিষ্টি করেই বলে ওঠে ‘আমরা একটু পিএনপিসি করব’।
হ্যাঁ, বাংলা আবারও জলাঞ্জলী দেওয়া হলো। পিএনপিসি’র বিষয়বস্তু যাই হোক না কেন, যে ব্যক্তি নিয়ে আলোচনা, তার কোনও ভাল গুণ কিছুই রচিত হয় না। তা কী করে হয়! তাহলে আলোচনার সংজ্ঞা পরিবর্তন করতে হবে যে। আর যারা বাংলার এই বিভ্রাট নিয়ে কিঞ্চিত কুণ্ঠাবোধ করেন, তারা এই জেনে স্বান্ত্বনা পাবেন যে পিএনপিসি বৈশ্বিক আকার ধারণ করেছে। সত্যিই তো। যে মূল্যবোধ জ্ঞানী-গুণীজন অল্প বয়স থেকে গড়ে তোলার পক্ষে, তাদের অনেকের হাতে লেখা হয়েছে ছেলে ভোলানো অর্থহীন ছড়া। চাঁদ মামা আকাশেই থাকেন, কখনই শিশুর কোমল কপলে টিপ দিয়ে যান না। মামদোভূতের ভয় কোমল শিশু মনে অযাচিতভাবেই প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হয়, তা পৃথিবীর যে প্রান্তেই হোক না কেন। তাছাড়া যে শিশু জেনে বড় হবে অশেষ শ্রদ্ধাভাজন দাদা তার কলম ছুড়ে মেরেছে, তার কাছে কলমের পরিবর্তে ইট পাটকেল ছোড়া অন্যায় হতে যাবে কেন?
পিতৃকূল, মাতৃকূল নির্বিশেষে পিএনপিসি করার সময় সম্ভবত ভুলে যান যে পাশেই কোমলমতি মনের শিশু হা করে সব কথাই গিলছে।
বিদেশ বিভুইয়ে যারা থাকেন তারা দেশে নিকট আত্মীয় বা বন্ধু-বান্ধবদের কুশল বিনিময়ের পর যে অবধারিত প্রশ্নটি করেন তা হলো- ‘এবার বল, দেশের খবর কী’।
দু’দণ্ড কথার পর শুরু হবে পিএনপিসি। দেশ নিম্ন-মধ্যম আয়ের তালিকায় যুক্ত হওয়া, ঢাকার ফ্লাইওভার নির্মাণের অগ্রগতি এমন কি ভাল? কোনও নতুন বই প্রকাশের খবর যেন তেল ছাড়া রান্নার মতো স্বাদহীন। বাঙালি মন তো, তাই চাই রসালো কিছু! যা পড়ে বেশ করে তেল মসলা দিয়ে মন মতো ভেজা-ভুজে উপভোগ করা যাবে পরম তৃপ্তিতে।
ইংরেজদের বেলায় বলা হয়ে থাকে তাদের সব চাইতে প্রিয় আলোচ্য বিষয় হচ্ছে আবহাওয়া। দ্বীপে বাস করা এই জাতি যে ভোর হতেই আকাশ পানে চেয়ে থাকেন। যুক্তরাষ্ট্রে একে অন্যের নিজস্ব ভূবনে সহজে বা সহসা নাক গলায় না। সে কারণে হয়তো কেউ একাকিত্বের নিভৃতিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলে তাদের মৃতদেহ অনেক ক্ষেত্রে পাওয়া যায় অনেক পরে।
তবে পিএনপিসি’র মন্দ দিক যাই হোক, এতে মুঠোফোন কোম্পানি যেমন লাভবান হয়, তেমনি আড্ডায় নাস্তার আয়োজনে ছোটখাটো ব্যবসাগুলো ভাল ভাবেই বেঁচে আছে। থাক না অনুত্তরিত সেই ছেলেবেলার প্রশ্ন ‘মাগো আমার শোলক বলার কাজাল দিদি কই?’



লেখক: কমিউনিকেশন বিশেষজ্ঞ

 

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

samsung ad on Bangla Tribune

লাইভ

টপ