behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনার নিরপেক্ষ বিচারের 'হ্যাডম' কি সরকারের আছে?

প্রভাষ আমিন১৩:২৩, জানুয়ারি ১৬, ২০১৬

Probhash Aminপত্রিকায় পড়েছি, পুলিশ আর ছাত্রলীগের হামলায় গত সোমবার রাতে মাসুদ নামে এক মাদ্রাসা ছাত্র মারা গেছে। তার প্রতিক্রিয়ায় গত মঙ্গলবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদ্রাসা ছাত্রদের তাণ্ডবে ৭০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এই ৭০ কোটি টাকা নিয়ে আমার ৭০ পয়সার টেনশনও নেই। আর্থিক ক্ষতিপূরণ করা যায়। কিন্তু মাদ্রাসা ছাত্ররা আগুন দিয়েছে সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সঙ্গীতাঙ্গনে। তাতে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে সুরসম্রাটের ব্যবহৃত বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র, তাঁর লেখা চিঠি ও দুর্লভ কিছু ছবি। এই ক্ষতি টাকার অঙ্কে মাপা যাবে না, কোনওভাবেই পূরণ করা যাবে না।
মাদ্রাসা ছাত্ররা বেছে বেছে হামলা চালিয়েছে, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্মৃতি পাঠাগার, ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বরে থাকা সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যালয়, তিতাস সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শিশু নাট্যম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাহিত্য একাডেমি, তিতাস ললিতকলা একাডেমিতে।
তার মানে হামলাটা আসলে সুপরিকল্পিতভাবে আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের সংস্কৃতির ওপর। হামলাকারীদের ফুটেজ আছে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে। দাবি জানাচ্ছি, খুঁজে খুঁজে এদের শাস্তির আওতায় আনার। কিন্তু আমার শঙ্কা, সরকার হয়তো মাদ্রাসার স্পর্শকাতরতা বিবেচনা করেই পিছিয়ে যাবে। অতীতে এমন উদাহরণ আছে। ঢাকায় তাণ্ডব চালানো হেফাজতের কারও বিচার হয়নি। তারা এখন সরকারের শুভাকাঙ্ক্ষী। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ক্ষেত্রে যেন এমন কিছু না ঘটে।
একই সঙ্গে আমি শাস্তি দাবি করছি মাদ্রাসা ছাত্র মাসুদ হত্যায় জড়িতদেরও। মানুষের জীবনও অমূল্য। বিজ্ঞান অনেক কিছুই দিতে পারে, মানুষের জীবন দিতে পারে না। কিন্তু আমার শঙ্কা হলো ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঘটনায় কেউ সাজা পাবে না। মাদ্রাসা ছাত্রকে হত্যার ঘটনায় পুলিশ ও ছাত্রলীগ জড়িত। 
আরেকটা কথা, আমি তো জানি মাদ্রাসায় শান্তির ধর্ম ইসলামের বাণী পড়ানো। যে ধর্মে মহানবী (স.) পথে প্রতিদিন কাঁটা বিছানো বুড়িকে খুঁজতে তার বাড়ি চলে গিয়েছিলেন। সারাদিন এমন সহনশীল বাণী পড়ে মুহূর্তেই এমন জঙ্গিরূপ ধারণ করা কিভাবে সম্ভব?
আরেকটা কথা অনেকেই বলেছেন, সংঘর্ষের মূল কারণ খুঁজতে। খুঁজতে গিয়ে দেখলাম, একজন বয়স্ক ইজিবাইক চালকের সঙ্গে এক তরুণ মাদ্রাসা ছাত্রের বেয়াদবি থেকেই ঘটনার সূত্রপাত। মাদ্রাসায় কি জঙ্গিপনার সঙ্গে বেয়াদবিও শেখানো হয়?
রাজপথে কোরআন পোড়ানো হেফাজতের সঙ্গে সরকার এখন আমে দুধে মিশে গেছে। হয় তো দুদিন পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জঙ্গি বেয়াদব ছাত্রদের সঙ্গেও সরকারের ভাব হয়ে যাবে। মাদ্রাসা ছাত্রের খুনি পুলিশ বা ছাত্রলীগের বিচার করার 'হ্যাডম' সরকারের নাই!

আর তাণ্ডব চালানো মাদ্রাসা ছাত্রদের চুল ছেড়ার সামর্থ্যও সরকারের নেই। বরং তারা চাইবে এই উছিলায় হেফাজতের মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাদ্রাসা ছাত্রদেরও কোলে টেনে নিতে। দেশটা আসলে মগের মুল্লুক হয়ে যাচ্ছে। তাণ্ডব চালিয়ে দাবি আদায় করা যায়, সরকারের কাছে যাওয়া যায়।

লেখক:  অ্যাসোসিয়েট হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ।

 ইমেল: probhash2000@gmail.com

 

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune

কলামিস্ট

টপ